সোমবার, ৮ মার্চ, ২০১০

বাঁশখালীতে কৃষিঋণের অর্থ আত্মসাৎ

বাঁশখালীতে কৃষিঋণের অর্থ আত্মসাৎ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সোনালী ব্যাংকের এক শাখায় ব্যাংক কর্মকর্তারা কৃষকের নামে কৃষিঋণ তুলে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। বিদেশী ত্রাণের লোভ দেখিয়ে দুই ব্যাংক কর্মকর্তা দুইজন কৃষকের নামে শস্য ঋণের টাকা তুলে মেরে দিয়েছেন। দুই কৃষককে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ৩০ হাজার টাকা কর্মকর্তা ও দালালরা নিয়ে নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এই ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কৃষক হরি রঞ্জন দে ও রাশিকা রঞ্জন দেকে বিদেশী ত্রাণের লোভ দেখিয়ে বাঁশখালীর সোনালী ব্যাংকের কেবি বাজার শাখায় আনা হয়। তাদেরকে শস্য ঋণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়। তাদেরকে না জানিয়েই তাদের নামে ৪০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মঞ্জুর করে সোনালী ব্যাংক। ঋণের সেই টাকাও জমা করা হয় অন্যের হিসাব নম্বরে। সেখান থেকে হরি রঞ্জন ও রাশিকা রঞ্জনের প্রত্যেককে ‘বিদেশী ত্রাণ’ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। বাকি ৩০ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছে শাখাটির দুই কর্মকর্তা ও দালালচক্র। একই শাখায় কৃষিঋণ বিতরণে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের পাঁচ নং ওয়ার্ডের হরি রঞ্জন দে ও রাশিকা রঞ্জন দে’র সঙ্গে এ প্রতারণা করেছেন সোনালী ব্যাংকের কেবি বাজার শাখার মাঠ কর্মকর্তা দিদারউদ্দীন আহমেদ, ক্যাশিয়ার আনোয়ার, হিসাবধারী শাহ আলম ও আনসার সদস্য মফিজ। ঋণ বিতরণের সময় তাদের যে আবাদী জমির কথা বলা হয়েছে তাও ভুয়া। মাঠকর্মী দিদারউদ্দীন তাদের ঋণ প্রাপ্তির জন্য সুপারিশ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনালী ব্যাংকের মাঠকর্মী দিদারউদ্দীন আহমেদ ওই শাখায় যোগদানের এক মাসের মধ্যেই গত ২২ অক্টোবর অভিযুক্ত শাহ আলমকে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলান। ওই সঞ্চয়ী হিসাবের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ঋণ বিতরণের তথ্য মিলেছে।

শাখাটি কৃষিঋণ নীতিমালা অনুসরণ না করে নির্ধারিত এলাকা ছাড়াও এখতিয়ার বহির্ভূত অন্যান্য এলাকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কৃষিঋণ বিতরণ করছে। ব্যাংক কর্মকর্তা আর স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি দুষ্টচক্র।

এ অবস্থায় ৩০ হাজার টাকা মাঠকর্মী দিদারউদ্দীন, ক্যাশিয়ার আনোয়ার, হিসাবধারী শাহ আলম, আনসার সদস্য মফিজ ও কেবি বাজার শাখার ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে আদায় করার সুপারিশ করেছেন তদন্ত দল। ওই টাকা দিয়ে ঋণ দুইটি সমন্বয় করার কথা বলেছেন তারা।

সোনালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শিগগিরই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তথ্য সূত্র: ইত্তেফাক


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন