পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি মালিকানা নিয়ে বিরোধ
নিরসনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি মন্ত্রণালয়
মিথুন মাহফুজ: আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিরসনে বৃহস্পতিবারও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ভূমি মন্ত্রণালয়। ওই এলাকায় ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে গতকাল সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে আগামী মধ্যএপ্রিলে পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য সভায় এ ব্যাপারে কৌশল নির্ধারণসহ ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা। সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি জরিপ কার্যক্রমের কৌশল নির্ধারণ সংক্রান্ত সভাশেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, সচিব আতাহারুল ইসলাম ও পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীসহ সংশিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাশেষে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। এটি নিরসনে সরকার শিগগির জরিপ কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আজকের (বৃহস্পতিবার) সভায় কখন থেকে এবং কোন কৌশলে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এ ব্যাপারে আবারো সভা আহ্বান করা হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার যেকোনো একটিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব চূড়ান্ত করা হবে। এরপরই জরিপ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০
খাগড়াছড়ির মেয়র জয়নাল আবেদীন দ্বিতীয়বারের মতো দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত
খাগড়াছড়ির মেয়র জয়নাল আবেদীন দ্বিতীয়বারের মতো দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত
অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসের অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক আদেশে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মোঃ জয়নাল আবেদীনকে গতকাল সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, তাঁর (জয়নাল) বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর কর্র্তৃক আনীত অভিযোগসমূহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় মন্ত্রণালয় এ আদেশ প্রদান করেছে। ২০০৭ সালেও তিনি আরো একবার সাময়িক বরখাস্ত হলে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের মাধ্যমে রক্ষা পান।
বরখাচ্চ আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, জয়নাল আবেদীন’র দ্বারা পৌরসভার মেয়র হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ, পৌরসভার জন্য স্বার্থহানিকর এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ হতে সমীচীন নয় এবং ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার আইনের ৩১ ধারার বিধান অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জয়নাল আবেদীন’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।
একই আইনের ৩১(২নং উপধারা) অনুযায়ী এ বরখাস্ত আদেশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে প্যানেল মেয়র-১’র কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০০৪ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে প্রহসনমূলক ও জোর জবরদস্তির নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থেকে জয়নাল আবেদীন পৌর মেয়র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলে ওয়ান- ইলেভেন সরকার প্রাথমিকভাবে তাকে একবার সাময়িক বরখাস্ত এবং অনিয়ম- দুর্নীতির তদন্ত শুরূ করলে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী অংশের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বহাল তবিয়তে খাগড়াছড়িতে অবস্থান করেন। জয়নাল আবেদীন’র রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে ওয়াদুদ ভূইয়া’র ভূমিকা থাকলেও ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে জয়নাল সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া’র সাথে রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ বরখাস্ত’র পেছনে পৌরসভার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মেয়রের নিজ দলীয় কয়েকজন কাউন্সিলরের ইন্ধন রয়েছে বলে মেয়রপন্থী একজর কাউন্সিলর মন্তব্য করেছেন।খাগড়াছড়ির মেয়র জয়নাল আবেদীন দ্বিতীয়বারের মতো দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:
অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসের অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক আদেশে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মোঃ জয়নাল আবেদীনকে গতকাল সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, তাঁর (জয়নাল) বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর কর্র্তৃক আনীত অভিযোগসমূহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় মন্ত্রণালয় এ আদেশ প্রদান করেছে। ২০০৭ সালেও তিনি আরো একবার সাময়িক বরখাস্ত হলে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের মাধ্যমে রক্ষা পান।
বরখাচ্চ আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, জয়নাল আবেদীন’র দ্বারা পৌরসভার মেয়র হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ, পৌরসভার জন্য স্বার্থহানিকর এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ হতে সমীচীন নয় এবং ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার আইনের ৩১ ধারার বিধান অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জয়নাল আবেদীন’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।
তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত
একই আইনের ৩১(২নং উপধারা) অনুযায়ী এ বরখাস্ত আদেশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে প্যানেল মেয়র-১’র কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০০৪ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে প্রহসনমূলক ও জোর জবরদস্তির নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থেকে জয়নাল আবেদীন পৌর মেয়র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলে ওয়ান- ইলেভেন সরকার প্রাথমিকভাবে তাকে একবার সাময়িক বরখাস্ত এবং অনিয়ম- দুর্নীতির তদন্ত শুরূ করলে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী অংশের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বহাল তবিয়তে খাগড়াছড়িতে অবস্থান করেন। জয়নাল আবেদীন’র রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে ওয়াদুদ ভূইয়া’র ভূমিকা থাকলেও ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে জয়নাল সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া’র সাথে রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ বরখাস্ত’র পেছনে পৌরসভার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মেয়রের নিজ দলীয় কয়েকজন কাউন্সিলরের ইন্ধন রয়েছে বলে মেয়রপন্থী একজর কাউন্সিলর মন্তব্য করেছেন।
অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসের অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক আদেশে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মোঃ জয়নাল আবেদীনকে গতকাল সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, তাঁর (জয়নাল) বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর কর্র্তৃক আনীত অভিযোগসমূহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় মন্ত্রণালয় এ আদেশ প্রদান করেছে। ২০০৭ সালেও তিনি আরো একবার সাময়িক বরখাস্ত হলে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের মাধ্যমে রক্ষা পান।
বরখাচ্চ আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, জয়নাল আবেদীন’র দ্বারা পৌরসভার মেয়র হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ, পৌরসভার জন্য স্বার্থহানিকর এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ হতে সমীচীন নয় এবং ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার আইনের ৩১ ধারার বিধান অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জয়নাল আবেদীন’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।
একই আইনের ৩১(২নং উপধারা) অনুযায়ী এ বরখাস্ত আদেশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে প্যানেল মেয়র-১’র কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০০৪ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে প্রহসনমূলক ও জোর জবরদস্তির নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থেকে জয়নাল আবেদীন পৌর মেয়র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলে ওয়ান- ইলেভেন সরকার প্রাথমিকভাবে তাকে একবার সাময়িক বরখাস্ত এবং অনিয়ম- দুর্নীতির তদন্ত শুরূ করলে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী অংশের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বহাল তবিয়তে খাগড়াছড়িতে অবস্থান করেন। জয়নাল আবেদীন’র রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে ওয়াদুদ ভূইয়া’র ভূমিকা থাকলেও ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে জয়নাল সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া’র সাথে রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ বরখাস্ত’র পেছনে পৌরসভার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মেয়রের নিজ দলীয় কয়েকজন কাউন্সিলরের ইন্ধন রয়েছে বলে মেয়রপন্থী একজর কাউন্সিলর মন্তব্য করেছেন।খাগড়াছড়ির মেয়র জয়নাল আবেদীন দ্বিতীয়বারের মতো দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:
অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সন্ত্রাসের অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক আদেশে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মোঃ জয়নাল আবেদীনকে গতকাল সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ হারুনুর রশিদ স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়, তাঁর (জয়নাল) বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর কর্র্তৃক আনীত অভিযোগসমূহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় মন্ত্রণালয় এ আদেশ প্রদান করেছে। ২০০৭ সালেও তিনি আরো একবার সাময়িক বরখাস্ত হলে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের মাধ্যমে রক্ষা পান।
বরখাচ্চ আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, জয়নাল আবেদীন’র দ্বারা পৌরসভার মেয়র হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ, পৌরসভার জন্য স্বার্থহানিকর এবং প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ হতে সমীচীন নয় এবং ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার আইনের ৩১ ধারার বিধান অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জয়নাল আবেদীন’র বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন।
তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত
একই আইনের ৩১(২নং উপধারা) অনুযায়ী এ বরখাস্ত আদেশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে প্যানেল মেয়র-১’র কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য ২০০৪ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে প্রহসনমূলক ও জোর জবরদস্তির নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থেকে জয়নাল আবেদীন পৌর মেয়র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলে ওয়ান- ইলেভেন সরকার প্রাথমিকভাবে তাকে একবার সাময়িক বরখাস্ত এবং অনিয়ম- দুর্নীতির তদন্ত শুরূ করলে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী অংশের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বহাল তবিয়তে খাগড়াছড়িতে অবস্থান করেন। জয়নাল আবেদীন’র রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে ওয়াদুদ ভূইয়া’র ভূমিকা থাকলেও ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ে জয়নাল সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া’র সাথে রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ বরখাস্ত’র পেছনে পৌরসভার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মেয়রের নিজ দলীয় কয়েকজন কাউন্সিলরের ইন্ধন রয়েছে বলে মেয়রপন্থী একজর কাউন্সিলর মন্তব্য করেছেন।
দেওয়ানবাজারে জলাবদ্ধতাই অন্যতম প্রধান সমস্যা

দেওয়ানবাজারে জলাবদ্ধতাই অন্যতম প্রধান সমস্যা
স্বপন মল্লিক
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একবারে সন্নিকটে অবস্থিত ২০ নাম্বার দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। ওয়ার্ডটি অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় হওয়ায় এনায়েতবাজার, লালখানবাজারসহ উঁচু স্থানের ওয়ার্ডগুলোর পানি এ ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে বর্ষাকালে এখানে গুরুতর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে ওয়ার্ডের বিশেষ করে বলুয়ার দিঘীর পাড়, মাছুয়া ঝর্ণা ও রুমঘাটা জেলেপাড়াসহ বেশকিছু নিম্ন এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।।
দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের প্রথম কমিশনার (চেয়ারম্যান) ছিলেন মরহুম আকবর আলী। ওয়ার্ডটির সীমানা-পশ্চিমে সিরাজুদ্দৌল্লা রোড, দক্ষিণে টেরীবাজার, পূর্বে- চাক্তাই খাল ও উত্তরে চকবাজার। আয়তন .১৫০ বর্গমাইল। লোকসংখ্যা- ১ লাখ ২০ হাজার। মহল্লা পাঁচটি। ভোটারসংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। ছোট-বড় রাস্তা আটটি। প্রাইমারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন কয়েকটি। উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলুয়ারদিঘীপাড় উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে কোনো বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৬০ শতাংশ।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়ও এ ওয়ার্ড পিছিয়ে নেই। এতদঞ্চলের প্রাচীনতম হাসপাতাল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি ২০ নাম্বার ওয়ার্ডেই। এখানে রয়েছে প্রসূতিসহ মহিলাদের চিকিৎসায় জেমিসন মাতৃসদন হাসপাতাল, দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড কার্যালয়েই রয়েছে মাত্র ২০ টাকা ফি-তে ব্যবস্থাপত্রসহ বিনামূল্যে ওষুধের আয়োজন। দাতব্য চিকিৎসালয়ের সামান্য পূর্বদিকে অগ্রসর হতেই পাওয়া যাবে আরবান হেলথ ক্লিনিক। তাছাড়া চট্টগ্রামের অন্যতম টিবি (যক্ষা) চিকিৎসা কেন্দ্রটিও দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডে অবস্থিত।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এ ওয়ার্ডে মোটামুটি সন্তাষজনক, তবে মাঝেমধ্যে ছিঁচকে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে ওয়ার্ডের কুয়ারপাড় ও সাব এরিয়া এলাকার চৌমুহনীতে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এ ওয়ার্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এ ২০ নাম্বার ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মোহাম্মদ হাসনী। এ ওয়ার্ডে পরিবারপিছু ১৫ টাকা চাঁদা নিয়ে তিনি যে বিশেষ পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু করা হয়েছে তাতে এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা পাচ্ছে- এমন মন্তব্য করেছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার বিশ্বাস। যদি ও ১৫ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করতে গিয়ে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও শিকার হতে হচ্ছে কাউন্সিলরের চাঁদা কালেক্টরদের।
কাউন্সিলর যা বলেছেন, কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মোহাম্মদ হাসনী বলেন, জলাবদ্ধতা আমার ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা হলেও চাক্তাই খাল নিয়মিত খনন ও অপেক্ষাকৃত উঁচুতে অবস্থিত লালখানবাজার, এনায়েতবাজার ও জামালখান ওয়ার্ড থেকে নালা উপচেপরা পানি গড়িয়ে আসা রোধ করা গেলে- সমস্যা কিছুটা সমাধান হতো। যেমন গত দুবছর চাক্তাই খাল খনন হওয়াতে জলাবদ্ধতা কোন কোন স্থানে হয়নি।
দিদার মার্কেটের সামনে তথা ওয়ার্ডের কোনো কোনো স্থানে ময়লা জমে থাকা এবং সিসিসির পরিচ্ছন্নতা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দায়িত্বে থাকলেও দায়িত্ব পালনের আনুষঙ্গিক সহযোগিতা পাচ্ছি না বেশ কিছুদিন থেকে। ফলে কর্তব্যকর্ম যথাযথভাবে পালন সম্ভব হচ্ছে নাÑ এতে দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর ক্ষতি হচ্ছে। অদৃশ্য কারো ইঙ্গিতে কমিটির মিটিং আহ্বান করলে সংশ্লিষ্টরা অসহযোগিতা করেন। তবে আমার বক্তব্য হলোÑ আমাকে অপছন্দের কারণে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখেÑ পক্ষান্তরে নগরবাসীকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। এ অচলাবস্থার অবসান চাই। এখানে আরো একটি সমস্যাÑ এ ওয়ার্ডে কোনো ডাকঘর নেই, ফলে জেনারেল পোস্ট অফিস অথবা জামালখান ওয়ার্ডের আন্দরকিল্লা ডাকঘরে গিয়ে অধিবাসীদের চিঠিপত্র পাঠাতে করতে হয়
চন্দনাইশ কৃষকের মুখে হাসি-স্ট্রবেরি চাষে সফলতা

চন্দনাইশ কৃষকের মুখে হাসি-স্ট্রবেরি চাষে সফলতা
চন্দনাইশে স্ট্রবেরি চাষ করে সফল হয়েছেন ষাটোর্ধ্ব কৃষক আহমদ কবির তালুকদার। ১৯৭২ সালে বিএ পাস করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ছাত্রজীবনে তিনি একজন ভালো ফুটবল খেলোয়াড়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি বয়সের ভারে নুয়ে না পড়ে নিজ পৈতৃক জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। বিশেষ করে চ্যানেল আইতে মাটি ও মানুষ কৃষিভিত্তিক এ অনুষ্ঠান দেখে চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় তার। তিনি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্ট্রবেরি চাষে হাত দেন। স্ট্রবেরি চাষ ব্যয়বহুল এবং এ চাষে সফল হবেন কি না দ্বিধায় ছিলেন প্রথমদিকে। বিশেষ করে আবহাওয়া ও মাটির রকমভেদ নিয়ে শঙ্কায় ছিল। এরপরও তিনি স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন এবং সফলতার মুখ দেখেনÑ কথাগুলো একনাগাড়ে স্ট্রবেরি ক্ষেতে বসে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলেন আহমদ কবির তালুকদার। উপজেলার দুর্গম এলাকা ধোপাছড়ি ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংজুরী এলাকায় আলু, টম্যাটো চাষের পাশাপাশি ৮ শতক জমিতে তিনি স্ট্রবেরি চাষ করেন। পরে উপজেলার পাঠানদ-ি ও কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের মিলখান ও রাফি নামে দু’ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শেয়ারভিক্তিক চাষাবাদ শুরু করেন।
গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে তিনি ৮ শতক স্ট্রবেরি (১ হাজার চারা), ১৬০ শতক আলু, ১৬০ শতক টম্যাটো ও ৫ শতক মিষ্টি কুমড়ার চারা রোপণ করেন। বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদের করলে ফলনও ভালো হয়। ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬০ শতক আলু মাঠে থাকা অবস্থায় ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেন। অন্যদিকে স্ট্রবেরি বিক্রি করেও ১ লাখ টাকা লাভের আশা করেন বৃদ্ধ আহমদ কবির। স্ট্রবেরি ও অন্যান্য ফসলের এ ব্যাপক সফলতা আহমদ কবির ও তার দুই সঙ্গীর জীবনে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে। বর্তমানে স্ট্রবেরি চাষে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে তিনজনই রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৮০ শতক জমি স্ট্রবেরি চাষের জন্য উপযোগী করে তুলেছেন। স্ট্রবেরি চাষের জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোরঞ্জন ধর, কর্মকর্তা ড. সাবজল উদ্দীন তাকে সহযোগিতা করেন বলে জানান। ধোপাছড়িতে তাদের এ ব্যাপক সফলতা দেখে আশপাশের কৃষক ও ছাত্ররা স্ট্রবেরি চাষে এগিয়ে আসছেন। এতে জনসাধারণের অর্থনৈতিক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোরঞ্জন ধর জানান, এদেশের কৃষকরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সমাজ ও দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে।
তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন
চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকাবাসীর দুর্ভোগ

চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকাবাসীর দুর্ভোগ
ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিবেশের প্রতিকূলতায় চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান বাস টার্মিনাল -যাযাদি
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের দু’পাশের ময়লা ও কাদাযুক্ত পানিতে সয়লাব হয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকা পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। সড়ক ব্যবহারকারী বাসযাত্রী, সাধারণ পথচারী এবং ব্যবসায়ীরা এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
জানা যায়, সড়ক ও জনপদ বিভাগের এ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে পানি নিষ্কাশনের জন্য উভয় পাশে নালা নির্মাণ করা হলেও নালা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা এবং বাসা-বাড়ির বর্জ্য নিষ্কাশনে রাস্তার দুপাশের নালাগুলো ব্যবহার হচ্ছে অবাধে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন আবর্জনায় আটকা পড়ে ময়লাযুক্ত কাদাপানি। অনেক সময় নালা উপচে সড়কে সয়লাব হয়ে যায়। কাদাপানিতে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে পড়লে যান ও পথচারী চলাচলে সীমাহীন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এদিকে সড়কে যানবাহন চলাচল করার সময় ছিটকে নালার ময়লাযুক্ত দূষিত পানি বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। কখনো পথচারীদের গায়ে পড়ে পথচারীরা নাজেহাল এবং দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।।
চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক ছাড়াও রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানÑ এ তিন পার্বত্য জেলায় যোগাযোগের বাসস্ট্যান্ড ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রাবিরতির স্থান হিসেবে এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ।। এসব কেন্দে এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ঘটে। নালা উপচানো কাদাপানির সয়লাবে এলাকার সার্বিক পরিবেশ প্রতিকূলতা ছাড়াও সাধারণ পথচারীরা অহরহ দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে।
এতে সড়কও ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সড়ক ছাড়াও নিকটস্থ বাস টার্মিনালটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্যাঁতস্যাঁতে ময়লা-আবর্জনা ও কাদাপানিতে একাকার এ অবস্থায় টার্মিনালে বাসযাত্রী ও অন্যান্য মানুষ খুবই কষ্টে চলাফেরা করছে।
তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন তাছাড়া ময়লা ও কাদাযুক্ত নালার পচা পানির দুর্গন্ধে এলাকাজুড়ে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে এখানে গড়ে উঠেছে দোকানপাটসহ হরেক পণ্যের ব্যবসা কেন্দ্র
চিনি সিন্ডিকেটের মাথায় হাত
চিনি সিন্ডিকেটের মাথায় হাত
মঈন সৈয়দ
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে চিনির দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি কমে গেছে প্রায় ৪০০ টাকা। মঙ্গলবার প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) চিনি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারেদর পতনের কারণে পাইকারি বাজারেও প্রতিদিন দাম কমছে। বাজারের এ পরিস্থিতিতে এখন চিনি সিন্ডিকেটের মাথায় হাত পড়ার অবস্থা।
ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে চিনির বাজারের নিয়ন্ত্রক হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী। মিলের পাশাপাশি পাইকারি বাজার থেকে ডিও কিনে তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পরিস্থিতি বুঝে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে এ সিন্ডিকেট। দাম কমলে মজুদ, বাড়লে বিক্রিÑ এ কৌশলে চলে ব্যবসা।
বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বাড়িয়ে দেয়া হয় দাম। গত বছরজুড়ে বাজারে ছিল সিন্ডিকেটের এ ধরনের কারসাজি।
আন্তর্জাতিক দাম কমছে এমন ইঙ্গিত পেয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে বেড়ে যায় সিন্ডিকেটের তৎপরতা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির মিথ্যা প্রচার চালিয়ে তারা চিনির কেজি ৬০ টাকায় নিয়ে যান। অন্যদিকে কমদামে চিনি আমদানি করতে বেড়ে যায় দৌড়ঝাঁপ।
দাম কমা শুরু হওয়ায় অনেকে মজুদ গড়ায় চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম প্রতিদিন কমতে থাকায় এখন তারা হতাশ হয়ে মজুদ থাকা চিনি কমদামে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে দিন দিন দাম কমছে বলে ব্যবসায়ী সূত্র জানায়।
আমদানিকারকরা জানান, একমাস আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটন চিনির বুকিং রেট ছিল সাড়ে ৮০০ ডলার। মঙ্গলবার তা নেমে আসে ৬৫০ ডলারে। অর্থাৎ বুকিং রেট কেজিতে কমেছে প্রায় ১৪ টাকা। দাম কমায় গত মাসের মাঝামাঝি থেকে আমদানিও বেড়ে যায়। বর্তমানে অশোধিত চিনি নিয়ে ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার অপেক্ষায় আছে। প্রায় ৫০ হাজার টন অশোধিত চিনি নিয়ে মঙ্গলবার ভিড়েছে একটি জাহাজ। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী ক’দিনে দাম আরো কমবে।
চিনির পাইকারি বিক্রেতা খাতুনগঞ্জ লোকমান ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ লোকমান বলেন, দু’সপ্তাহ আগে চিনির মণ ছিল দুই হাজার টাকার বেশি। এখন সবচেয়ে দামি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬২০ টাকায়। সরবরাহ বেড়েছে, চাহিদা কম। আগামীতে দাম আরো কমতে পারে। খাতুনগঞ্জে চিনির অন্যতম ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম কমছে।
সূত্র জানায় বর্তমানে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১২ থেকে ১৩ লাখ মেট্রিকটন। আখের অভাবে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের চিনিকলগুলো। ১৫টির মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে আটটি। গত অর্থবছরে দেশে উৎপাদন ছিল মাত্র ৭৯ হাজার মেট্রিকটন। এ কারণে চিনির জন্য দেশ এখন পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বাজার-নির্ভর।
তবে রেডি চিনিতে টনপ্রতি ৩ হাজার টাকা শুল্ক থাকায় অশোধিত চিনি আমদানি করে দেশীয় মিলগুলোতে শোধন করে তা বাজারজাত হচ্ছে বেশি।
বর্তমানে চিনি পরিশোধনে পাঁচ মিলের হাতে রয়েছে একক নিয়ন্ত্রণ। সেগুলো হলো সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, দেশবন্ধু ও ঈগলু রিফাইনারি।
গত বছর চিনি আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে শোধিত চিনি এসেছে মাত্র ৫০ হাজার টনের মতো। বছরের শেষ পাঁচ মাসে সবচেয়ে বেশি অশোধিত চিনি এনেছে সিটি সুগার।
মঈন সৈয়দ
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে চিনির দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি কমে গেছে প্রায় ৪০০ টাকা। মঙ্গলবার প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) চিনি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারেদর পতনের কারণে পাইকারি বাজারেও প্রতিদিন দাম কমছে। বাজারের এ পরিস্থিতিতে এখন চিনি সিন্ডিকেটের মাথায় হাত পড়ার অবস্থা।
ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে চিনির বাজারের নিয়ন্ত্রক হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী। মিলের পাশাপাশি পাইকারি বাজার থেকে ডিও কিনে তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পরিস্থিতি বুঝে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে এ সিন্ডিকেট। দাম কমলে মজুদ, বাড়লে বিক্রিÑ এ কৌশলে চলে ব্যবসা।
বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বাড়িয়ে দেয়া হয় দাম। গত বছরজুড়ে বাজারে ছিল সিন্ডিকেটের এ ধরনের কারসাজি।
আন্তর্জাতিক দাম কমছে এমন ইঙ্গিত পেয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে বেড়ে যায় সিন্ডিকেটের তৎপরতা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির মিথ্যা প্রচার চালিয়ে তারা চিনির কেজি ৬০ টাকায় নিয়ে যান। অন্যদিকে কমদামে চিনি আমদানি করতে বেড়ে যায় দৌড়ঝাঁপ।
দাম কমা শুরু হওয়ায় অনেকে মজুদ গড়ায় চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম প্রতিদিন কমতে থাকায় এখন তারা হতাশ হয়ে মজুদ থাকা চিনি কমদামে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে দিন দিন দাম কমছে বলে ব্যবসায়ী সূত্র জানায়।
আমদানিকারকরা জানান, একমাস আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটন চিনির বুকিং রেট ছিল সাড়ে ৮০০ ডলার। মঙ্গলবার তা নেমে আসে ৬৫০ ডলারে। অর্থাৎ বুকিং রেট কেজিতে কমেছে প্রায় ১৪ টাকা। দাম কমায় গত মাসের মাঝামাঝি থেকে আমদানিও বেড়ে যায়। বর্তমানে অশোধিত চিনি নিয়ে ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার অপেক্ষায় আছে। প্রায় ৫০ হাজার টন অশোধিত চিনি নিয়ে মঙ্গলবার ভিড়েছে একটি জাহাজ। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী ক’দিনে দাম আরো কমবে।
চিনির পাইকারি বিক্রেতা খাতুনগঞ্জ লোকমান ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ লোকমান বলেন, দু’সপ্তাহ আগে চিনির মণ ছিল দুই হাজার টাকার বেশি। এখন সবচেয়ে দামি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬২০ টাকায়। সরবরাহ বেড়েছে, চাহিদা কম। আগামীতে দাম আরো কমতে পারে। খাতুনগঞ্জে চিনির অন্যতম ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম কমছে।
সূত্র জানায় বর্তমানে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১২ থেকে ১৩ লাখ মেট্রিকটন। আখের অভাবে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের চিনিকলগুলো। ১৫টির মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে আটটি। গত অর্থবছরে দেশে উৎপাদন ছিল মাত্র ৭৯ হাজার মেট্রিকটন। এ কারণে চিনির জন্য দেশ এখন পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বাজার-নির্ভর।
তবে রেডি চিনিতে টনপ্রতি ৩ হাজার টাকা শুল্ক থাকায় অশোধিত চিনি আমদানি করে দেশীয় মিলগুলোতে শোধন করে তা বাজারজাত হচ্ছে বেশি।
বর্তমানে চিনি পরিশোধনে পাঁচ মিলের হাতে রয়েছে একক নিয়ন্ত্রণ। সেগুলো হলো সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, দেশবন্ধু ও ঈগলু রিফাইনারি।
গত বছর চিনি আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে শোধিত চিনি এসেছে মাত্র ৫০ হাজার টনের মতো। বছরের শেষ পাঁচ মাসে সবচেয়ে বেশি অশোধিত চিনি এনেছে সিটি সুগার।
রিফিল কার্ডের সূত্র ধরে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পটিয়া পুলিশ
রিফিল কার্ডের সূত্র ধরে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পটিয়া পুলিশ
মোবাইল ফোনের রিফিল কার্ডের সূত্র ধরে পটিয়া থানা পুলিশ দুই ডাকাতকে মালামালসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পটিয়া থানা পুলিশ দিনাজপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো দিনাজপুরের সুলতান আহমদের পুত্র মোহাম্মদ রাসেল (২২) ও মোশারফ হোসেনের পুত্র মেহেদী হাসান (২৮)।
জানা গেছে, গত ৬ মার্চ ভোরে পশ্চিম পটিয়ার শিকলবাহা এলাকার সোনা মিয়া ফোরম্যানের বাড়ির কর্মচারী রাসেল বাড়ির মালিক সোনা মিয়া (৭৫), হাসনা বানু (৭০) ও সোনা মিয়ার শাশুড়ি ফাতেমা খাতুনকে (৯৫) কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ঘরের আলমারি ভেঙে মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় বাড়ির দারোয়ান বাদি হয়ে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম ডাকাত রাসেলের ফেলে যাওয়া একটি রিফিল কার্ডের সূত্র ধরে তাকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বের করে। এরই সূত্র ধরে দিনাজপুর এলাকায় পটিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও শফি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল স্বীকার করে, বাড়ির মালিক সোনা মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। পুলিশ দিনাজপুরের পীরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে।
তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত
মোবাইল ফোনের রিফিল কার্ডের সূত্র ধরে পটিয়া থানা পুলিশ দুই ডাকাতকে মালামালসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পটিয়া থানা পুলিশ দিনাজপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো দিনাজপুরের সুলতান আহমদের পুত্র মোহাম্মদ রাসেল (২২) ও মোশারফ হোসেনের পুত্র মেহেদী হাসান (২৮)।
জানা গেছে, গত ৬ মার্চ ভোরে পশ্চিম পটিয়ার শিকলবাহা এলাকার সোনা মিয়া ফোরম্যানের বাড়ির কর্মচারী রাসেল বাড়ির মালিক সোনা মিয়া (৭৫), হাসনা বানু (৭০) ও সোনা মিয়ার শাশুড়ি ফাতেমা খাতুনকে (৯৫) কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ঘরের আলমারি ভেঙে মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় বাড়ির দারোয়ান বাদি হয়ে পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করলে থানার ওসি মহিউদ্দিন সেলিম ডাকাত রাসেলের ফেলে যাওয়া একটি রিফিল কার্ডের সূত্র ধরে তাকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং তার পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বের করে। এরই সূত্র ধরে দিনাজপুর এলাকায় পটিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও শফি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল স্বীকার করে, বাড়ির মালিক সোনা মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। পুলিশ দিনাজপুরের পীরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে।
তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত
বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি, পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট হচ্ছেই
বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি, পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট হচ্ছেই
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর সাথে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলেছেন আলোচনায় কোন ফলাফল আসেনি। পক্ষান্তরে বিপিসি’র কর্মকর্তারা বলেছেন আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে তবে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে ১৪ মার্চ দেশের পেট্রোল পাম্প মালিকদের ডাকা ধর্মঘট পালিত হবে।
উল্লেখ্য, দেশের প্রায় ৪ হাজার পেট্রোল পাম্প মালিক ও ট্যাংক লরি শ্রমিকরা তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি, ডাকাতি রোধ ও পাম্পের নিরাপত্তা প্রদান, ট্যাংক লরি শ্রমিকদের জন্য দুর্ঘটনা বীমা চালুসহ ১৩ দফা দাবিতে ১৪ মার্চ ধর্মঘট ডেকেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের আহ্বান জানায়।
গতকাল এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পেট্রোল পাম্প মালিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় বিপিসি’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিপিসি ও বিপিসিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও প্রত্যেক বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হক সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে ডাকায় আমরা আলোচনায় গিয়েছি। কিন্তু সকাল ১১ টা থেকে বিকাল সোয়া ৪ টা পর্যন্ত আলোচনা করেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। তবে বৈঠকে বিপিসির পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়। এও বলা হয় তাদের যৌক্তিক দাবিসমূহ বিবেচনা করে সরকার মেনে নেবে। কিন্তু এ ধরনের আশ্বাসে কারো পক্ষে ধর্মঘট প্রত্যাহার করার কোন সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বিপিসি’র চেয়ারম্যান আনোয়ারুল করিম বলেন, আলোচনা অনেকটা সফল হয়েছে। আমরা সরকারের উচ্চমহলকে বিষয়টি অবহিত করব সাথে সাথে মালিকদেরকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি। আশাকরি তারা ধর্মঘট থেকে বিরত থাকবেন।
তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর সাথে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলেছেন আলোচনায় কোন ফলাফল আসেনি। পক্ষান্তরে বিপিসি’র কর্মকর্তারা বলেছেন আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে তবে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে ১৪ মার্চ দেশের পেট্রোল পাম্প মালিকদের ডাকা ধর্মঘট পালিত হবে।
উল্লেখ্য, দেশের প্রায় ৪ হাজার পেট্রোল পাম্প মালিক ও ট্যাংক লরি শ্রমিকরা তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি, ডাকাতি রোধ ও পাম্পের নিরাপত্তা প্রদান, ট্যাংক লরি শ্রমিকদের জন্য দুর্ঘটনা বীমা চালুসহ ১৩ দফা দাবিতে ১৪ মার্চ ধর্মঘট ডেকেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের আহ্বান জানায়।
গতকাল এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পেট্রোল পাম্প মালিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকায় বিপিসি’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিপিসি ও বিপিসিভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও প্রত্যেক বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হক সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে ডাকায় আমরা আলোচনায় গিয়েছি। কিন্তু সকাল ১১ টা থেকে বিকাল সোয়া ৪ টা পর্যন্ত আলোচনা করেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। তবে বৈঠকে বিপিসির পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়। এও বলা হয় তাদের যৌক্তিক দাবিসমূহ বিবেচনা করে সরকার মেনে নেবে। কিন্তু এ ধরনের আশ্বাসে কারো পক্ষে ধর্মঘট প্রত্যাহার করার কোন সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বিপিসি’র চেয়ারম্যান আনোয়ারুল করিম বলেন, আলোচনা অনেকটা সফল হয়েছে। আমরা সরকারের উচ্চমহলকে বিষয়টি অবহিত করব সাথে সাথে মালিকদেরকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি। আশাকরি তারা ধর্মঘট থেকে বিরত থাকবেন।
তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত
মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ ঘাঁটি ছিল পাঠানটুলীর বড়ণ্ডয়া পাড়া
মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ ঘাঁটি ছিল পাঠানটুলীর বড়ণ্ডয়া পাড়া
রিটন আহসান
পাঠানটুলী বড়ণ্ডয়া পাড়ার জয়মোহন বড়ণ্ডয়ার বাড়ির সামনে একটি মাদারগাছে (পারিজাত) বড়বড় হরফে লেখা ছিল “চাইনিজপন্থী বুড্ডিস্ট”। এটি আমাদের নিরাপত্তা বেষ্টনি হিসেবে কাজ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়। বড়ণ্ডয়া সম্প্রদায়ের লোকজন এই সাইনবোর্ডটির কারণে একদিকে তারা যেমন নিরাপদে ছিল, অন্যদিকে আমরাও এখানে থেকে নানা অভিযান পরিচালনা করেছি কিছুটা স্বস্তিতে।
কথাগুলো বলছিলেন, আগ্রাবাদ আনন্দিপুর মুন্সিবাড়ির বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হারিস। মুক্তিযুদ্ধের সময় বড়ণ্ডয়া পাড়ার জয়মোহন বড়ণ্ডয়ার বাড়ির শাক্যপদ বড়ণ্ডয়ার বাসায় বড় একটি সময় কাটিয়েছিলেন মোহাম্মদ হারিস ও তার সহযোদ্ধারা।
মোহাম্মদ হারিসের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সিডিএ’র তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় একবার পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি তার জুনিয়র অফিসার ইঞ্জিনিয়ার মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানকে জানান, তিনি যেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, মাঈনুদ্দিন খান বাদল এবং আমাকে দ্রুত চট্টগ্রাম ত্যাগ করতে বলেন। নয়তো পাকবাহিনী আমাদের বাঁচতে দেবে না।
আজিজুর রহমান এ বার্তা পেয়ে জুলাই মাসের শেষের দিকে আমাদের তিনজনকে নিয়ে যান পাঠানটুলী বড়ণ্ডয়াপাড়ার জয়মোহন বড়ণ্ডয়ার বাড়িতে। এখানে থেকেই আমরা দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের নানা অপারেশন চালাই। অপারেশন জ্যাকপটের সময়ও তারা এই বাড়িতেই ছিলেন।
জানা যায়, জয়মোহন বড়ণ্ডয়া ছিলেন জেমস ফিনলের কর্মকর্তা শাক্যপদ বড়ণ্ডয়ার ছাত্র। তিনি জয়মোহনদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পাশের বাসায় থাকতেন হৃদয় বড়ণ্ডয়া ঝন্টু এবং কল্পনা বড়ণ্ডয়া। এ সময় শাক্যপদর বাসায় কমিউনিস্ট পার্টি নেতা দেবেন সিকদার থাকতেন। রেলওয়ের আরো এক কর্মচারীও থাকতেন একই বাসায়। ইতোমধ্যে একদিন জয়মোহন শাক্যপদকে বলে তার বাসায় কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দিতে হবে। এ প্রস্তাব পেয়ে শাক্যপদ কমিউনিস্ট নেতা দেবেন সিকদার ও আশ্রয়ে থাকা অন্য পরিবারটিকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন।
তারপর তার বাসায় প্রথম দফায় আসেন মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হারিস, হাজী পাড়ার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এবং বোয়ালখালীর মাঈনুদ্দিন খান বাদল বর্তমানে সংসদ সদস্য।
এ তিনজন নিয়মিতভাবে থাকতেন উক্ত বাড়িতে। তাছাড়াও আরো আসতেন মরহুম এসএম জামাল উদ্দিন, জিন্নাহসহ বিভিন্ন গ্রুপের কমাণ্ডররা।
আশ্রয়দাতা শাক্যপদ বড়ণ্ডয়া সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার বাসায় মুক্তিযোদ্ধারা থাকতেন। তবে যোদ্ধাদের খাবার তৈরির বিষয়টি দেখতেন পাশ্ববর্তী বাসার হৃদয় বড়ণ্ডয়া ও কল্পনা বড়ণ্ডয়া। তিনি বলেন, সেই কঠিন সময়ে কল্পনা আমাদের মায়ের কাজটি করেছিলেন।
যোদ্ধাদের নানাবিধ খরচাপাতির বিষয়ে সহযোগিতা করতেন জয়মোহন বড়ণ্ডয়া এবং হৃদয় বড়ণ্ডয়া ঝন্টু। ঝন্টু চাকরি করতেন ওয়াপদায়। তার বাড়ি ছিল বোয়ালখালীর আহল্লা গ্রামে। যুদ্ধের সময় বেশ দীর্ঘ সময় তিনি টাকা পাঠাতে পারেননি গ্রামের বাড়িতে বাবা-মার কাছে। ফলে বেতনের পুরো টাকাটাই খরচ করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের পেছনে।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ হারিস জানান, ঝন্টু আর কল্পনার কাছে আমরা চিরকাল ঋণী হয়ে থাকলাম। তারা কখনোই আমাদের তাদের অভাব বুঝতে দেননি। একবার মোহাম্মদ জালাল কিছু চা পাতা এবং কনডেন্সড মিল্ক নিয়ে গেলে তারা খুবই মনক্ষুন্ন হন। তিনি জানান, সেই কঠিন সময়েও এতটা আন্তরিকতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে রীতিমত।
শাক্যপদ মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়কার অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সবকিছুই কেমন যেন সয়ে গিয়েছিল। তবে একবার রাতে পাঞ্জাবিরা বাড়ি আক্রমণ করবে বলে খবর পেয়ে বাড়ির সবাই কিছুটা আতংকিত হয়ে পড়ি। সবাই প্রস্তুতি নিই দা, ছুুরি, লাঠিসোটা, মরিচের গুড়ো ইত্যাদি দিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ হয়নি।
যোদ্ধাদের গতিবিধি এবং অস্ত্র সম্পর্কে ঝন্টু বলেন, তারা দিনের বেলায় বাইরে থাকতো রাত হলে বের হয়ে পড়তো। তবে কোথায় যেত কী করে আসতো তা ঘুনাক্ষরেও টের পাইনি কখনো। তবে মাঝে মাঝে তাদের কোমরে পিস্তল দেখতাম।
রিটন আহসান
পাঠানটুলী বড়ণ্ডয়া পাড়ার জয়মোহন বড়ণ্ডয়ার বাড়ির সামনে একটি মাদারগাছে (পারিজাত) বড়বড় হরফে লেখা ছিল “চাইনিজপন্থী বুড্ডিস্ট”। এটি আমাদের নিরাপত্তা বেষ্টনি হিসেবে কাজ করেছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়। বড়ণ্ডয়া সম্প্রদায়ের লোকজন এই সাইনবোর্ডটির কারণে একদিকে তারা যেমন নিরাপদে ছিল, অন্যদিকে আমরাও এখানে থেকে নানা অভিযান পরিচালনা করেছি কিছুটা স্বস্তিতে।
কথাগুলো বলছিলেন, আগ্রাবাদ আনন্দিপুর মুন্সিবাড়ির বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হারিস। মুক্তিযুদ্ধের সময় বড়ণ্ডয়া পাড়ার জয়মোহন বড়ণ্ডয়ার বাড়ির শাক্যপদ বড়ণ্ডয়ার বাসায় বড় একটি সময় কাটিয়েছিলেন মোহাম্মদ হারিস ও তার সহযোদ্ধারা।
মোহাম্মদ হারিসের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সিডিএ’র তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকারিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় একবার পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি তার জুনিয়র অফিসার ইঞ্জিনিয়ার মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমানকে জানান, তিনি যেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, মাঈনুদ্দিন খান বাদল এবং আমাকে দ্রুত চট্টগ্রাম ত্যাগ করতে বলেন। নয়তো পাকবাহিনী আমাদের বাঁচতে দেবে না।
আজিজুর রহমান এ বার্তা পেয়ে জুলাই মাসের শেষের দিকে আমাদের তিনজনকে নিয়ে যান পাঠানটুলী বড়ণ্ডয়াপাড়ার জয়মোহন বড়ণ্ডয়ার বাড়িতে। এখানে থেকেই আমরা দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তিযুদ্ধের নানা অপারেশন চালাই। অপারেশন জ্যাকপটের সময়ও তারা এই বাড়িতেই ছিলেন।
জানা যায়, জয়মোহন বড়ণ্ডয়া ছিলেন জেমস ফিনলের কর্মকর্তা শাক্যপদ বড়ণ্ডয়ার ছাত্র। তিনি জয়মোহনদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পাশের বাসায় থাকতেন হৃদয় বড়ণ্ডয়া ঝন্টু এবং কল্পনা বড়ণ্ডয়া। এ সময় শাক্যপদর বাসায় কমিউনিস্ট পার্টি নেতা দেবেন সিকদার থাকতেন। রেলওয়ের আরো এক কর্মচারীও থাকতেন একই বাসায়। ইতোমধ্যে একদিন জয়মোহন শাক্যপদকে বলে তার বাসায় কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দিতে হবে। এ প্রস্তাব পেয়ে শাক্যপদ কমিউনিস্ট নেতা দেবেন সিকদার ও আশ্রয়ে থাকা অন্য পরিবারটিকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন।
তারপর তার বাসায় প্রথম দফায় আসেন মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হারিস, হাজী পাড়ার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এবং বোয়ালখালীর মাঈনুদ্দিন খান বাদল বর্তমানে সংসদ সদস্য।
এ তিনজন নিয়মিতভাবে থাকতেন উক্ত বাড়িতে। তাছাড়াও আরো আসতেন মরহুম এসএম জামাল উদ্দিন, জিন্নাহসহ বিভিন্ন গ্রুপের কমাণ্ডররা।
আশ্রয়দাতা শাক্যপদ বড়ণ্ডয়া সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার বাসায় মুক্তিযোদ্ধারা থাকতেন। তবে যোদ্ধাদের খাবার তৈরির বিষয়টি দেখতেন পাশ্ববর্তী বাসার হৃদয় বড়ণ্ডয়া ও কল্পনা বড়ণ্ডয়া। তিনি বলেন, সেই কঠিন সময়ে কল্পনা আমাদের মায়ের কাজটি করেছিলেন।
যোদ্ধাদের নানাবিধ খরচাপাতির বিষয়ে সহযোগিতা করতেন জয়মোহন বড়ণ্ডয়া এবং হৃদয় বড়ণ্ডয়া ঝন্টু। ঝন্টু চাকরি করতেন ওয়াপদায়। তার বাড়ি ছিল বোয়ালখালীর আহল্লা গ্রামে। যুদ্ধের সময় বেশ দীর্ঘ সময় তিনি টাকা পাঠাতে পারেননি গ্রামের বাড়িতে বাবা-মার কাছে। ফলে বেতনের পুরো টাকাটাই খরচ করতেন মুক্তিযোদ্ধাদের পেছনে।
এ ব্যাপারে মোহাম্মদ হারিস জানান, ঝন্টু আর কল্পনার কাছে আমরা চিরকাল ঋণী হয়ে থাকলাম। তারা কখনোই আমাদের তাদের অভাব বুঝতে দেননি। একবার মোহাম্মদ জালাল কিছু চা পাতা এবং কনডেন্সড মিল্ক নিয়ে গেলে তারা খুবই মনক্ষুন্ন হন। তিনি জানান, সেই কঠিন সময়েও এতটা আন্তরিকতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে রীতিমত।
শাক্যপদ মুক্তিযুদ্ধের সেই সময়কার অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সবকিছুই কেমন যেন সয়ে গিয়েছিল। তবে একবার রাতে পাঞ্জাবিরা বাড়ি আক্রমণ করবে বলে খবর পেয়ে বাড়ির সবাই কিছুটা আতংকিত হয়ে পড়ি। সবাই প্রস্তুতি নিই দা, ছুুরি, লাঠিসোটা, মরিচের গুড়ো ইত্যাদি দিয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত আক্রমণ হয়নি।
যোদ্ধাদের গতিবিধি এবং অস্ত্র সম্পর্কে ঝন্টু বলেন, তারা দিনের বেলায় বাইরে থাকতো রাত হলে বের হয়ে পড়তো। তবে কোথায় যেত কী করে আসতো তা ঘুনাক্ষরেও টের পাইনি কখনো। তবে মাঝে মাঝে তাদের কোমরে পিস্তল দেখতাম।
মহাজনের কাছে জিম্মি উখিয়ার জুমচাষিরা
মহাজনের কাছে জিম্মি উখিয়ার জুমচাষিরা
রতন কান্তি দে
উখিয়ার চাকমা আদিবাসীরা অনেক কষ্টে রোদে পুড়ে পাহাড়ি জমিতে জুমচাষ করেন। কিন্তু তাঁদের ফসল ও সবজি বিক্রির চার ভাগের তিন ভাগ টাকাই দিতে হয় দাদন ব্যবসায়ীদের। শুধু তা-ই নয় সুদের টাকা না দিলে মহাজনেরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। জমিও কেড়ে নেয়। ভুক্তভোগী চাকমারা এসব ভোগান্তির কথা জানান।
সরেজমিনে জানা যায়, পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা, পার্শ্ববর্তী মুছারখোলা ও জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী, মাদাবানিরা গ্রামের প্রায় ৫০০ জুমচাষি দাদন ব্যবসায়ী-মহাজনদের কাছে জিম্মি।
মুছারখোলার পাদিকুমার চাকমা (৫৭) ও রাজু চাকমা (৫২) জানান, তাঁরা অনেক হাড়িভাঙা পরিশ্রম করে পাহাড়ে জুমচাষ করেন। জুমচাষ থেকে পাওয়া সেই ফসল বিক্রি করে যা পান তার বেশির ভাগই দাদন ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান। মাদারবানিয়ার সজল চাকমা (৪৫) ও মনখালীর মুমবাউচা চাকমা জানান, মাথারঘাম পায়ে ফেলে জুম করছি। অথচ এত কষ্টের কোনো সুফল নিজেরা ভোগ করতে পারি না। প্রায় সবই দাদন ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে যায়।
এসব গ্রামের ভুক্তভোগী চাকমারা আরও জানান, স্থানীয় ১৫-২০ জন মহাজনের কাছ থেকে প্রতি বছর জুমচাষ শুরুর অন্তত মাস দেড়েক আগে জমির প্রস্তুতি নিতে চড়াসুদে টাকা নেন। টাকা দেওয়ার সময় মহাজনেরা তাঁদের কাছ থেকে দেড় শ টাকার খালি স্টাম্পে সই নেন। সুদের টাকা নিয়ে তাঁরা পাহাড়ে ধান, মরিচ, বেগুন, মাসকলাই, ভুট্টাসহ বিভিন্ন জাতের ফসল ও সবজির আবাদ করেন। চার-পাঁচ মাস পর বিশেষ করে ভাদ্রে মহাজনদের আসলসহ দ্বিগুণ থেকে চারগুণ সুদ পরিশোধ করতে হয়। তাঁরা এই চার-পাঁচ মাসের জন্য ১০, ১৫, ২০, ২৫ হাজার টাকা নেন।
তেলঘোনার স্থানীয় হেডম্যান লাইক্য চাকমা, সবুচিং মাস্টার ও মুছারঘোনার কার্বারি সবিন্ন চাকমা জানান, দুই গ্রামে তোফাইল আহামদ, ছৈয়দ মিয়া, জাফর আহমেদ, শামশুল আলম, রহিম উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, নূর আলম এবং মাদারবনিয়ার হেডম্যান চিংতং চাকমা ও মনকালীর চাকমাদের সমাজ সর্দার রইচাইন চাকমা বলেন, তাঁদের গ্রামের দুদুমিয়া, মিরাজান শফিক আহামদ, কাদের হোছন, নুরু বলী, খোরশেদ আলম, আব্দুল গফুর, আবুল হোসেন, আবুল কাশেম, জানে আলম, বক্তার আহামদ চৈত্রের শেষদিক থেকে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে চাকমাদের সুদে ২০-২৫ লাখ টাকা দেন। সুদের টাকা দিতে না পারলে তাঁরা জমি কেড়ে নেন।
উল্লিখিত মহাজনেরা জানান, চাকমারা তাঁদের কাছ থেকে চুক্তি করে সুদে টাকা নেন। তিন-চারগুণ সুদ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, ওই নিয়ম ১৫-২০ বছর ধরে চলে আসছে। টাকা দিতে না পারলে তাঁরা চাকমাদের জমিও দখল করে নেন। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাযহারুল আনোয়ার চৌধুরী সীফাত ও জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, স্থানীয় ২০-২৫ মহাজনের চক্র সহজ সরল চাকমাদের নীরবে শোষণ করছে। প্রতিবছর জুমের শেষে পরিষদে জমি ও টাকাসংক্রান্ত বিষয়ে পাঁচ-ছয়টি করে বিচার সালিস সমাধান করতে হয়। চাকমাদের বিষয়টি মানবিক। তাঁদের ঘামের ফসল অধিকাংশই ঘরে নিতে পারেন না।
লিটন চাকমা, মংকিউ চাকমা বলেন, কোনো সরকারি বা বেসরকারি এনজিও সংস্থা ধান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জুমচাষের সময় সহজ শর্তে ধান দিলে তাঁদের উপকার হতো। বিশেষ করে সরকারিভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁরা আর দাদন ব্যবসায়ীদের শোষণের শিকার হতেন না।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর জুমচাষের শেষে চাকমাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ঘটনা নিয়ে মারামারি হয় এবং এসব ঘটনার ব্যাপারে অভিযোগও আসে। অনেক সময় ঘটনা জটিল আকার ধারণ করলে মামলাও রেকর্ড করতে হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ গোলামুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে তো চাকমাদের ওপর সুদ ব্যবসায়ী মহাজনেরা জুলুম করছে। বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমিতি করে চাকমাদের ধান পাওয়ার ব্যবস্থা করব। এ ছাড়া তদন্ত করে দাদন ব্যবসায়ী মহাজনদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, উপজাতীয়দের ওপর মহাজনদের অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতন ও সুদের ব্যবসার বিরুদ্ধে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রতন কান্তি দে
উখিয়ার চাকমা আদিবাসীরা অনেক কষ্টে রোদে পুড়ে পাহাড়ি জমিতে জুমচাষ করেন। কিন্তু তাঁদের ফসল ও সবজি বিক্রির চার ভাগের তিন ভাগ টাকাই দিতে হয় দাদন ব্যবসায়ীদের। শুধু তা-ই নয় সুদের টাকা না দিলে মহাজনেরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। জমিও কেড়ে নেয়। ভুক্তভোগী চাকমারা এসব ভোগান্তির কথা জানান।
সরেজমিনে জানা যায়, পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা, পার্শ্ববর্তী মুছারখোলা ও জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী, মাদাবানিরা গ্রামের প্রায় ৫০০ জুমচাষি দাদন ব্যবসায়ী-মহাজনদের কাছে জিম্মি।
মুছারখোলার পাদিকুমার চাকমা (৫৭) ও রাজু চাকমা (৫২) জানান, তাঁরা অনেক হাড়িভাঙা পরিশ্রম করে পাহাড়ে জুমচাষ করেন। জুমচাষ থেকে পাওয়া সেই ফসল বিক্রি করে যা পান তার বেশির ভাগই দাদন ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান। মাদারবানিয়ার সজল চাকমা (৪৫) ও মনখালীর মুমবাউচা চাকমা জানান, মাথারঘাম পায়ে ফেলে জুম করছি। অথচ এত কষ্টের কোনো সুফল নিজেরা ভোগ করতে পারি না। প্রায় সবই দাদন ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে যায়।
এসব গ্রামের ভুক্তভোগী চাকমারা আরও জানান, স্থানীয় ১৫-২০ জন মহাজনের কাছ থেকে প্রতি বছর জুমচাষ শুরুর অন্তত মাস দেড়েক আগে জমির প্রস্তুতি নিতে চড়াসুদে টাকা নেন। টাকা দেওয়ার সময় মহাজনেরা তাঁদের কাছ থেকে দেড় শ টাকার খালি স্টাম্পে সই নেন। সুদের টাকা নিয়ে তাঁরা পাহাড়ে ধান, মরিচ, বেগুন, মাসকলাই, ভুট্টাসহ বিভিন্ন জাতের ফসল ও সবজির আবাদ করেন। চার-পাঁচ মাস পর বিশেষ করে ভাদ্রে মহাজনদের আসলসহ দ্বিগুণ থেকে চারগুণ সুদ পরিশোধ করতে হয়। তাঁরা এই চার-পাঁচ মাসের জন্য ১০, ১৫, ২০, ২৫ হাজার টাকা নেন।
তেলঘোনার স্থানীয় হেডম্যান লাইক্য চাকমা, সবুচিং মাস্টার ও মুছারঘোনার কার্বারি সবিন্ন চাকমা জানান, দুই গ্রামে তোফাইল আহামদ, ছৈয়দ মিয়া, জাফর আহমেদ, শামশুল আলম, রহিম উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, নূর আলম এবং মাদারবনিয়ার হেডম্যান চিংতং চাকমা ও মনকালীর চাকমাদের সমাজ সর্দার রইচাইন চাকমা বলেন, তাঁদের গ্রামের দুদুমিয়া, মিরাজান শফিক আহামদ, কাদের হোছন, নুরু বলী, খোরশেদ আলম, আব্দুল গফুর, আবুল হোসেন, আবুল কাশেম, জানে আলম, বক্তার আহামদ চৈত্রের শেষদিক থেকে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে চাকমাদের সুদে ২০-২৫ লাখ টাকা দেন। সুদের টাকা দিতে না পারলে তাঁরা জমি কেড়ে নেন।
উল্লিখিত মহাজনেরা জানান, চাকমারা তাঁদের কাছ থেকে চুক্তি করে সুদে টাকা নেন। তিন-চারগুণ সুদ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, ওই নিয়ম ১৫-২০ বছর ধরে চলে আসছে। টাকা দিতে না পারলে তাঁরা চাকমাদের জমিও দখল করে নেন। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাযহারুল আনোয়ার চৌধুরী সীফাত ও জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, স্থানীয় ২০-২৫ মহাজনের চক্র সহজ সরল চাকমাদের নীরবে শোষণ করছে। প্রতিবছর জুমের শেষে পরিষদে জমি ও টাকাসংক্রান্ত বিষয়ে পাঁচ-ছয়টি করে বিচার সালিস সমাধান করতে হয়। চাকমাদের বিষয়টি মানবিক। তাঁদের ঘামের ফসল অধিকাংশই ঘরে নিতে পারেন না।
লিটন চাকমা, মংকিউ চাকমা বলেন, কোনো সরকারি বা বেসরকারি এনজিও সংস্থা ধান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জুমচাষের সময় সহজ শর্তে ধান দিলে তাঁদের উপকার হতো। বিশেষ করে সরকারিভাবে এই উদ্যোগ নেওয়া হলে তাঁরা আর দাদন ব্যবসায়ীদের শোষণের শিকার হতেন না।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর জুমচাষের শেষে চাকমাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের ঘটনা নিয়ে মারামারি হয় এবং এসব ঘটনার ব্যাপারে অভিযোগও আসে। অনেক সময় ঘটনা জটিল আকার ধারণ করলে মামলাও রেকর্ড করতে হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহম্মদ গোলামুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে তো চাকমাদের ওপর সুদ ব্যবসায়ী মহাজনেরা জুলুম করছে। বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমিতি করে চাকমাদের ধান পাওয়ার ব্যবস্থা করব। এ ছাড়া তদন্ত করে দাদন ব্যবসায়ী মহাজনদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী বলেন, উপজাতীয়দের ওপর মহাজনদের অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতন ও সুদের ব্যবসার বিরুদ্ধে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ
ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ
রুহুল বয়ান
মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তদারকি কর্মকর্তার (এসও) অনুপস্থিতিতে নির্মাণকাজ করার অভিযোগে ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি (নোটিশ) দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে নানা অনিয়মের সত্যতা পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
জানা গেছে, কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ গত ডিসেম্বরে শুরু হয়। ঠিকাদার নির্মাণকাজের শুরুতেই কাজের ধীরগতির পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আসছেন। এলাকার লোকজনের বাধা উপেক্ষা করে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে নেন। পরে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়ায় ২০০৬ সালে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর এগুলোর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গত বছরের জুলাইতে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। সড়কের নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স আবুল কাসেম কনস্ট্রাকশন। আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। তবে নির্মাণকাজ তদারকি কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী নুর আহমদ জানান, ‘শুরুতেই ধীরগতির কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গার বাসিন্দা হাবিব উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে বালু দেওয়া হয়েছে। বালুর ওপর বসানো হয়েছে নিম্নমানের ইট।’
এলাকাবাসীর অভিযোগের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউসার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘ঠিকাদারকে নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়কে মাটি ফেলার জন্যও বলা হয়েছে। কারণ বালু দিয়ে সড়ক তৈরি করা যাবে না।’
তবে ঠিকাদার আবুল কাসেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সড়কের কাজ করা হচ্ছে। এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষীমহল হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
উপজেলা প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ জানান, ‘নির্মাণকাজের তদারকি কর্মকর্তা ছাড়াই ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো কাজ চালিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।’
সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউসার হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রুহুল বয়ান
মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তদারকি কর্মকর্তার (এসও) অনুপস্থিতিতে নির্মাণকাজ করার অভিযোগে ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি (নোটিশ) দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে নানা অনিয়মের সত্যতা পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
জানা গেছে, কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ গত ডিসেম্বরে শুরু হয়। ঠিকাদার নির্মাণকাজের শুরুতেই কাজের ধীরগতির পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আসছেন। এলাকার লোকজনের বাধা উপেক্ষা করে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে নেন। পরে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়ায় ২০০৬ সালে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর এগুলোর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গত বছরের জুলাইতে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। সড়কের নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স আবুল কাসেম কনস্ট্রাকশন। আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। তবে নির্মাণকাজ তদারকি কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী নুর আহমদ জানান, ‘শুরুতেই ধীরগতির কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গার বাসিন্দা হাবিব উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে বালু দেওয়া হয়েছে। বালুর ওপর বসানো হয়েছে নিম্নমানের ইট।’
এলাকাবাসীর অভিযোগের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউসার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘ঠিকাদারকে নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়কে মাটি ফেলার জন্যও বলা হয়েছে। কারণ বালু দিয়ে সড়ক তৈরি করা যাবে না।’
তবে ঠিকাদার আবুল কাসেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সড়কের কাজ করা হচ্ছে। এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষীমহল হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
উপজেলা প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ জানান, ‘নির্মাণকাজের তদারকি কর্মকর্তা ছাড়াই ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো কাজ চালিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।’
সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউসার হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চকরিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেখা মেলে না
চকরিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেখা মেলে না
চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ আলম প্রায় সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি অনুপস্থিত থাকলেও অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যান না। ফলে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন জন্ম নিয়ন্ত্রণের সেবা নিতে আসা রোগীরা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ অতিরিক্ত আরও দুজন স্বাস্থ্যকর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। এই বিভাগে ৬৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
দুইজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘স্যার বেশির ভাগ সময় অফিস করেন না।’ এতে তাঁরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে আসা রোগীদের সেবা দিতে পারেন না। এ ছাড়া দাপ্তরিক কাজেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
গত রোববার সকালে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা গেছে, তাঁর কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। বারান্দায় ২৫-২৬জন নারীর কেউ দাঁড়িয়ে আর কেউ বসে আছেন।
কার্যালয় সহকারী জাকিয়া বেগম জানান, ‘স্যার বিভাগীয় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকায় গেছেন।’ কেউ তাঁর এই দায়িত্বে নেই বলে জানান তিনি।
প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম বদরখালী ইউনিয়নের মগনামাপাড়া থেকে এসেছেন গৃহবধূ হোসনে আরা বেগম (৪২)। তিনি বন্ধ্যাকরণ করার জন্য আসেন। এর আগে তিনি আরও একবার এসে কর্মকর্তা না থাকায় ফিরে যান। তাঁর মতো প্রায় সময় জন্ম নিয়ন্ত্রণের সেবা নিতে আসা রোগীরা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ আলম প্রথম আলোকে জানান, ‘আমি বিভাগীয় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ছুটি নিয়ে ঢাকায় এসেছি।’ কাউকে দায়িত্ব দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তা ডিডি (উপপরিচালক) স্যার দেখবেন।’ তবে তিনি প্রায় সময় দাপ্তরিক কাজ ও প্রশিক্ষণে কর্মস্থলের বাইরে থাকেন বলে স্বীকার করেন।
এই কর্মকর্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার আরও নজির দেখা গেছে উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভার উপস্থিতি খাতা থেকে। ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি মাত্র নয়টি সভায় উপস্থিত ছিলেন। নিয়মানুযায়ী এ সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতে না পারলে ওই দপ্তরের কোনো একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে হয়।
এ প্রসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কক্সবাজারের উপপরিচালক দীপক তালুকদার চৌধুরী মোর্শেদ ছুটিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘তাঁর স্থলে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’ এই কর্মকর্তা প্রায় সময় অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলের বাইরে থাকলে অধীনস্থ অন্য কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হয়। এর কোনো বিকল্প নেই।’
একই মন্তব্য করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজ কর্মস্থল কিংবা উপজেলার বাইরে যেকোনো কাজে গেলেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হয়।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ আলম প্রায় সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি অনুপস্থিত থাকলেও অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যান না। ফলে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন জন্ম নিয়ন্ত্রণের সেবা নিতে আসা রোগীরা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ অতিরিক্ত আরও দুজন স্বাস্থ্যকর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। এই বিভাগে ৬৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
দুইজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘স্যার বেশির ভাগ সময় অফিস করেন না।’ এতে তাঁরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে আসা রোগীদের সেবা দিতে পারেন না। এ ছাড়া দাপ্তরিক কাজেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
গত রোববার সকালে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা গেছে, তাঁর কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। বারান্দায় ২৫-২৬জন নারীর কেউ দাঁড়িয়ে আর কেউ বসে আছেন।
কার্যালয় সহকারী জাকিয়া বেগম জানান, ‘স্যার বিভাগীয় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকায় গেছেন।’ কেউ তাঁর এই দায়িত্বে নেই বলে জানান তিনি।
প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম বদরখালী ইউনিয়নের মগনামাপাড়া থেকে এসেছেন গৃহবধূ হোসনে আরা বেগম (৪২)। তিনি বন্ধ্যাকরণ করার জন্য আসেন। এর আগে তিনি আরও একবার এসে কর্মকর্তা না থাকায় ফিরে যান। তাঁর মতো প্রায় সময় জন্ম নিয়ন্ত্রণের সেবা নিতে আসা রোগীরা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ আলম প্রথম আলোকে জানান, ‘আমি বিভাগীয় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ছুটি নিয়ে ঢাকায় এসেছি।’ কাউকে দায়িত্ব দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তা ডিডি (উপপরিচালক) স্যার দেখবেন।’ তবে তিনি প্রায় সময় দাপ্তরিক কাজ ও প্রশিক্ষণে কর্মস্থলের বাইরে থাকেন বলে স্বীকার করেন।
এই কর্মকর্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার আরও নজির দেখা গেছে উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভার উপস্থিতি খাতা থেকে। ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি মাত্র নয়টি সভায় উপস্থিত ছিলেন। নিয়মানুযায়ী এ সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতে না পারলে ওই দপ্তরের কোনো একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে হয়।
এ প্রসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কক্সবাজারের উপপরিচালক দীপক তালুকদার চৌধুরী মোর্শেদ ছুটিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘তাঁর স্থলে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’ এই কর্মকর্তা প্রায় সময় অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলের বাইরে থাকলে অধীনস্থ অন্য কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হয়। এর কোনো বিকল্প নেই।’
একই মন্তব্য করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজ কর্মস্থল কিংবা উপজেলার বাইরে যেকোনো কাজে গেলেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হয়।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
সোহরাওয়ার্দী দু শ টাকা বকশিশ দিয়েছিলেন
সোহরাওয়ার্দী দু শ টাকা বকশিশ দিয়েছিলেন
মো. শাহ বাঙালি
আসল নাম মো. শফিউল্লাহ। পাকিস্তান আমলের সেই আন্দোলনমুখর দিনগুলোতে বাংলা ও বাঙালির পক্ষে গান গেয়ে নাম হয়েছে মো. শাহ বাঙালি। পথে-প্রান্তরে, জনসভায় গান গেয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন তিনি। সান্নিধ্যে এসেছেন অনেক বিখ্যাত রাজনীতিকের। তাঁর নানা রঙের দিনগুলির কথা বলেছেন মুহাম্মদ শামসুল হককে
শৈশব কেটেছে গ্রামেই। পড়ালেখার সময় এলাকায় পুঁথিপাঠ ও জারি গানের আসর বসত। অন্যের দেখাদেখি আমিও পুঁথিপাঠে অংশ নিই। অল্পদিনের মধ্যেই এলাকায় আমার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রাবস্থায় আমি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। ওই সময় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো নেতাদের নাম-গুণ শুনে তাঁদের নামের সঙ্গে কথা মিলিয়ে গান লেখা ও গাওয়া শুরু করি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পর একদিন সন্দ্বীপে একটি বড় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে শিল্পী এমএ সালামকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গান করার জন্য। স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট করিম সাহেব এমএ আজিজের কাছে আমাকে নিয়ে বললেন, ‘আমাদের শফির একটা গান শুনে দেখুন।’
অনুমতি পেয়ে আমি গাইলাম, ‘ওরে বাঙালির দল, নিজের পায়ে নিজে হেঁটে চল। বসত করি স্বাধীন রাষ্ট্রে, দিন কাটে যে দুঃখ-কষ্টে, আমরা বেঁচে থাকি কেমনে বল। খানেরা যেমন, আমরাও তেমন, ভয় করব না হুমকি-ধমকি, থাকতে বুকের বল।’ আমার গান করার পর সালাম সাহেব চলে গেলেন। অন্যদিকে গান শুনে তাজ্জব বনে যান এমএ আজিজ। তিনি আমাকে শহরে এসে গান করার কথা বলেন। মনে মনে খুবই খুশি হলাম। কারণ কোনো বড় নেতার উপস্থিতিতে এলাকার বড় কোনো সমাবেশে এটাই আমার প্রথম গান গাওয়া। এরপর থেকে গানকেই বিশেষ করে দেশের জন্য, দেশের মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলার জন্য ধ্যান-জ্ঞান হিসেবে জেনেছি।
আমার আসল নাম মো. শফিউল্লাহ। বাবা খুরশিদ আলম মিয়া এবং মা উম্মে খায়রুন ফাতেমা-দুইজনই প্রয়াত। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে আমি ছোট। সন্দ্বীপের হরিশপুর গ্রামে আমার জন্ম। জন্মতারিখ সুনির্দিষ্ট মনে না থাকলেও বয়স ৭৮-৮০ বছরের কম হবে না। আমার তিন স্ত্রীর প্রথম জন মারা গেছে। এরপর দ্বিতীয় জনও চলে যায়। তৃতীয় জন বর্তমানে সংসারের দেখাশোনা করছে। সাত ছেলে ছয় মেয়ের মধ্যে এক ছেলে মারা গেছে, মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলেদের কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা করছে।
পড়ালেখা সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয়েই করেছি। তবে স্থানীয়ভাবে সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে পড়ালেখায় তেমন এগোতে পারিনি।
পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার সভা-সমাবেশে আমার ডাক আসতে শুরু করে। আমিও গিয়ে সরকারের নানা অপকর্মের ওপর লেখা গান গাইতে থাকি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক মারা যাওয়ার পর আইউববিরোধী মোর্চা এনডিএফ গঠন করা হয়। মোর্চার উদ্যোগে লালদিঘি মাঠে আয়োজিত সমাবেশে আসতে বলা হয় আমাকে। ওই সমাবেশ গান করতে পারাটা ছিল আমার জীবনের প্রথম ও অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। কারণ সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তত্কালীন পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। এমএ আজিজ আমাকে সোহরাওয়ার্দী এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আমার গান শুনে সবাই হাততালি দিলেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব খুশি হয়ে আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি গরিব আছ, নাও এই ২০০ টাকা বকশিশ দিলাম।’ সন্দ্বীপের মানুষ জেনে একদিকে তাজ্জব, অন্যদিকে আত্মহারা।
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা আমার মনে পড়ে প্রায় সময়। আমার বড় ভাই ছিলেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা। ছোট কাল থেকেই যে আমি পুঁথি-গান ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম তিনি তা পছন্দ করতেন না। তাই গান না করার জন্য একদিন আমাকে তিনি ঝাড়ু দিয়ে মেরেছিলেন। লালদিঘির মাঠে আমার গানের সুনাম এবং সোহরাওয়ার্দী টাকা দিয়েছেন জেনে তিনিও অবাক হন। বলেন, ‘আরে আমি কারে মাইরলাম। যারে মারি সে রাজা-উজিরের পিছে গান গায়, আর আমি ওনাদের ডিউটি করি।’
১৯৬৬ সালের কথা। আমি তখন সন্দ্বীপের ইজ্জতপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এমএ আজিজ তখন বন্দী। লালদিঘি মাঠে জনসভায় গান গাওয়ার জন্য আমার ডাক পড়ল। বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে গেয়েছিলাম ‘বিশ্ববাসী একবার আসিয়া সোনার বাংলা যাও দেখিয়ারে।’ সভা শেষে বঙ্গবন্ধু আমাকে নিয়ে গেলেন সদরঘাট হোটেল শাহজাহানে। সেখানে কলা-মুড়ি খাইয়ে বললেন, ‘এখন থেকে তুমি আমার সঙ্গে থাকবে।’ আমি চেয়ারম্যানশিপের কী হবে জানতে চাইলে বললেন, ‘ওসব বাদ দাও। আমার সঙ্গে থাক, কিছু লাগবে না।’ আমি বাড়ি গিয়ে আমার স্ত্রীকে সব খুলে বললাম। সে বলল, ‘প্রয়োজনে ভিক্ষা করে খাব, তবু তুমি এই মহান নেতাকে ছাড়িও না।’ সেই থেকে তাঁর জীবদ্দশার বেশির ভাগ সময় তাঁর সঙ্গে ঘুরে ঘুরে গান তৈরি এবং গাওয়ার নেশায় মত্ত থেকেছি। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের এমন কোনো মাঠ নেই যেখানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যাইনি এবং গান গাইনি। এ ছাড়া, এমএ আজিজ, এমআর সিদ্দিকী, আতাউর রহমান খান, আখতারুজ্জামান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক মো. খালেদ, মির্জা আবু মনসুরসহ কতজনের নির্বাচনী সমাবেশে গান গেয়ে মানুষের মনে জাগরণের ঢেউ তুলেছি তার ইয়ত্তা নেই। বিশেষ করে ৭০-এর নির্বাচনের আগে রাতের ঘুম বলতে গেলে হারাম হয়ে গিয়েছিল।
মনে আছে, বঙ্গবন্ধুর অনেক জনসভায় বক্তৃতা শুরুর আগে শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি বলতেন, ‘ভাইয়েরা, আমি খুবই ক্লান্ত। আমার সঙ্গে স্বর্ণদ্বীপের একজন কবি আছে। প্রথমে তাঁর গান শোনেন, তারপর আমি বক্তৃতা দেব।’ আমার নির্বাচনী গানের অন্যতম একটি হচ্ছে ‘মুজিব বাইয়া যাওরে...নিপীড়িত দেশের মাঝে জনগণের নাওরে মুজিব বাইয়া যাওরে। মুজিবরে... আকাশ কাঁদে বাতাস কাঁদে...কাঁদেরে বাঙালি..., নির্যাতিত মানুষ কাঁদে মুজিব মুজিব বলিরে মুজিব বাইয়া যাওরে।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবার-পরিজন ছেড়ে ভারতে গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে নিয়মিত গান গেয়েছি, পুঁথি পড়েছি, আর এমআর আখতার মুকুলকে চরমপত্র তৈরিতে সহযোগিতা করেছি। গান গেয়েছি কলকাতার লেলিন স্মরণী, কলেজ স্ট্রিট, শ্যামবাজার ও বউবাজারসহ অনেক জায়গায়। আকাশবাণীতেও গেয়েছি অনেক। যেমন ‘ও আমার ভারত ভূমি মাগো তুমি ওগো আমার প্রাণ/একটি বৃন্দে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান। তোমার স্নেহের আঁচল পাতি বাঁচছে ৩৬ জাতি/হিন্দু-মুসলিম প্রেমের গীতি গাহি সাম্যের গান।’
অনেক দিন আগের কথা। সব কথা মনে পড়ে না। তবে ভুলিনি শান্তি নিকেতনে বাংলা এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে হিন্দি গান গাওয়ার মধুর স্মৃতি। শান্তি নিকেতনের অনুষ্ঠানে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে স্লোগান ধরার কথাও ভুলিনি। ভারতে টাটার এক কর্মকর্তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পী-দম্পতি আজিম-সুজাতা একদিন আমাকে খবর দেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার হোসেন আলী আমাকে খোঁজ করছেন। শান্তি নিকেতনে একটি সংগীতানুষ্ঠান হবে, সেখানে গান গাইতে হবে। তিন-চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষ আর মানুষ। বহু নামীদামি, জ্ঞানীগুণী মানুষ আর রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীর সমাবেশ সেখানে। ছিলেন কবিগুরুর মেয়েও। সেই স্মরণীয় অনুষ্ঠানে আমি গাইলাম ‘আমার মন ভুলালো, দিল জুড়ালো, কেড়ে নিল মন/কবিগুরুর শান্তি নিকেতন। সাঁওতালেরা নাশতা করে খোঁপায় খোঁপায় ফুল/বাউলের বাঁশির সুরে প্রাণ করে আকুল।’ অনুষ্ঠানে অনেকে জানতে চেয়েছিলেন আমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কোন বিষয়ে পড়ালেখা করেছি। বলেছিলাম, ‘আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জ্ঞান বিতরণ করেছেন। যাঁরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়েছেন তাঁরা কোন কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন? আমি সৃষ্টিকর্তার কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়েছি।’
পৌষের এক দিন হাইকমিশনার হোসেন আলীর অনুরোধে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে এক অনুষ্ঠানে গান গাই। অবশ্য হিন্দিতে। সেদিন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি হোসেন আলীর হাতে তিন লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন বাঙালিদের সাহায্যের জন্য।
এ পর্যন্ত সাত হাজারের মতো গান করেছি। দুঃখের বিষয় হলো, একান্নব্বইয়ের ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেশির ভাগ গান হারিয়ে গেছে। হাজার তিনেক গান এখনো আছে। রাজনৈতিক সমাবেশ ছাড়াও বেতারে গেয়েছি প্রচুর। ১৯৯৬ সালের শেষ দিক থেকে টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ও ঢাকা কেন্দ্রেও কিছু গান গেয়েছি। তবে আওয়ামী লীগ সরকার যাওয়ার পর আমার গান প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় আমি মুজিব ভক্ত হওয়ার অপরাধে। বর্তমানে মাসে দুই-একটা গানের সুযোগ দেয় চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র। অবশ্য বয়স এবং রোগশোকের কারণে আগের মতো ভালো করে গাইতেও পারি না। তাই আয় রোজগার বলতেও তেমন কিছু নেই। বঙ্গবন্ধু বা এমএ আজিজ বেঁচে থাকলে হয়তো আজ আমার কোনো চিন্তা ছিল না। এ দুজনের স্নেহ আর গুণের কথা এখনো ভুলতে পারি না। বঙ্গবন্ধু আমাকে একটি মাজেদা গাড়ি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে টাকা দিয়েও সাহায্য করেছেন। তাঁর ইচ্ছাতেই বেতারে আমাকে সর্বোচ্চ সম্মানী দেওয়া হয়। তিনি বেঁচে থাকলে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু এখন কেউ খবরও রাখেন না। সব শেষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশে আমার একটি গানের চরণ শুনিয়ে বিদায় নিতে চাই ‘দারুণ বিধিরে সদা উঠে মনে, জাতির জনক বীর মুজিবকে ভুলি কেমনে ।
মো. শাহ বাঙালি
আসল নাম মো. শফিউল্লাহ। পাকিস্তান আমলের সেই আন্দোলনমুখর দিনগুলোতে বাংলা ও বাঙালির পক্ষে গান গেয়ে নাম হয়েছে মো. শাহ বাঙালি। পথে-প্রান্তরে, জনসভায় গান গেয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করেছেন তিনি। সান্নিধ্যে এসেছেন অনেক বিখ্যাত রাজনীতিকের। তাঁর নানা রঙের দিনগুলির কথা বলেছেন মুহাম্মদ শামসুল হককে
শৈশব কেটেছে গ্রামেই। পড়ালেখার সময় এলাকায় পুঁথিপাঠ ও জারি গানের আসর বসত। অন্যের দেখাদেখি আমিও পুঁথিপাঠে অংশ নিই। অল্পদিনের মধ্যেই এলাকায় আমার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রাবস্থায় আমি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। ওই সময় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো নেতাদের নাম-গুণ শুনে তাঁদের নামের সঙ্গে কথা মিলিয়ে গান লেখা ও গাওয়া শুরু করি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পর একদিন সন্দ্বীপে একটি বড় জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে শিল্পী এমএ সালামকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গান করার জন্য। স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট করিম সাহেব এমএ আজিজের কাছে আমাকে নিয়ে বললেন, ‘আমাদের শফির একটা গান শুনে দেখুন।’
অনুমতি পেয়ে আমি গাইলাম, ‘ওরে বাঙালির দল, নিজের পায়ে নিজে হেঁটে চল। বসত করি স্বাধীন রাষ্ট্রে, দিন কাটে যে দুঃখ-কষ্টে, আমরা বেঁচে থাকি কেমনে বল। খানেরা যেমন, আমরাও তেমন, ভয় করব না হুমকি-ধমকি, থাকতে বুকের বল।’ আমার গান করার পর সালাম সাহেব চলে গেলেন। অন্যদিকে গান শুনে তাজ্জব বনে যান এমএ আজিজ। তিনি আমাকে শহরে এসে গান করার কথা বলেন। মনে মনে খুবই খুশি হলাম। কারণ কোনো বড় নেতার উপস্থিতিতে এলাকার বড় কোনো সমাবেশে এটাই আমার প্রথম গান গাওয়া। এরপর থেকে গানকেই বিশেষ করে দেশের জন্য, দেশের মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলার জন্য ধ্যান-জ্ঞান হিসেবে জেনেছি।
আমার আসল নাম মো. শফিউল্লাহ। বাবা খুরশিদ আলম মিয়া এবং মা উম্মে খায়রুন ফাতেমা-দুইজনই প্রয়াত। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে আমি ছোট। সন্দ্বীপের হরিশপুর গ্রামে আমার জন্ম। জন্মতারিখ সুনির্দিষ্ট মনে না থাকলেও বয়স ৭৮-৮০ বছরের কম হবে না। আমার তিন স্ত্রীর প্রথম জন মারা গেছে। এরপর দ্বিতীয় জনও চলে যায়। তৃতীয় জন বর্তমানে সংসারের দেখাশোনা করছে। সাত ছেলে ছয় মেয়ের মধ্যে এক ছেলে মারা গেছে, মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলেদের কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা করছে।
পড়ালেখা সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয়েই করেছি। তবে স্থানীয়ভাবে সুযোগ-সুবিধা ও উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে পড়ালেখায় তেমন এগোতে পারিনি।
পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার সভা-সমাবেশে আমার ডাক আসতে শুরু করে। আমিও গিয়ে সরকারের নানা অপকর্মের ওপর লেখা গান গাইতে থাকি। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক মারা যাওয়ার পর আইউববিরোধী মোর্চা এনডিএফ গঠন করা হয়। মোর্চার উদ্যোগে লালদিঘি মাঠে আয়োজিত সমাবেশে আসতে বলা হয় আমাকে। ওই সমাবেশ গান করতে পারাটা ছিল আমার জীবনের প্রথম ও অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। কারণ সেই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তত্কালীন পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা। এমএ আজিজ আমাকে সোহরাওয়ার্দী এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। আমার গান শুনে সবাই হাততালি দিলেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব খুশি হয়ে আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি গরিব আছ, নাও এই ২০০ টাকা বকশিশ দিলাম।’ সন্দ্বীপের মানুষ জেনে একদিকে তাজ্জব, অন্যদিকে আত্মহারা।
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা আমার মনে পড়ে প্রায় সময়। আমার বড় ভাই ছিলেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা। ছোট কাল থেকেই যে আমি পুঁথি-গান ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম তিনি তা পছন্দ করতেন না। তাই গান না করার জন্য একদিন আমাকে তিনি ঝাড়ু দিয়ে মেরেছিলেন। লালদিঘির মাঠে আমার গানের সুনাম এবং সোহরাওয়ার্দী টাকা দিয়েছেন জেনে তিনিও অবাক হন। বলেন, ‘আরে আমি কারে মাইরলাম। যারে মারি সে রাজা-উজিরের পিছে গান গায়, আর আমি ওনাদের ডিউটি করি।’
১৯৬৬ সালের কথা। আমি তখন সন্দ্বীপের ইজ্জতপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এমএ আজিজ তখন বন্দী। লালদিঘি মাঠে জনসভায় গান গাওয়ার জন্য আমার ডাক পড়ল। বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে গেয়েছিলাম ‘বিশ্ববাসী একবার আসিয়া সোনার বাংলা যাও দেখিয়ারে।’ সভা শেষে বঙ্গবন্ধু আমাকে নিয়ে গেলেন সদরঘাট হোটেল শাহজাহানে। সেখানে কলা-মুড়ি খাইয়ে বললেন, ‘এখন থেকে তুমি আমার সঙ্গে থাকবে।’ আমি চেয়ারম্যানশিপের কী হবে জানতে চাইলে বললেন, ‘ওসব বাদ দাও। আমার সঙ্গে থাক, কিছু লাগবে না।’ আমি বাড়ি গিয়ে আমার স্ত্রীকে সব খুলে বললাম। সে বলল, ‘প্রয়োজনে ভিক্ষা করে খাব, তবু তুমি এই মহান নেতাকে ছাড়িও না।’ সেই থেকে তাঁর জীবদ্দশার বেশির ভাগ সময় তাঁর সঙ্গে ঘুরে ঘুরে গান তৈরি এবং গাওয়ার নেশায় মত্ত থেকেছি। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের এমন কোনো মাঠ নেই যেখানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যাইনি এবং গান গাইনি। এ ছাড়া, এমএ আজিজ, এমআর সিদ্দিকী, আতাউর রহমান খান, আখতারুজ্জামান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক মো. খালেদ, মির্জা আবু মনসুরসহ কতজনের নির্বাচনী সমাবেশে গান গেয়ে মানুষের মনে জাগরণের ঢেউ তুলেছি তার ইয়ত্তা নেই। বিশেষ করে ৭০-এর নির্বাচনের আগে রাতের ঘুম বলতে গেলে হারাম হয়ে গিয়েছিল।
মনে আছে, বঙ্গবন্ধুর অনেক জনসভায় বক্তৃতা শুরুর আগে শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি বলতেন, ‘ভাইয়েরা, আমি খুবই ক্লান্ত। আমার সঙ্গে স্বর্ণদ্বীপের একজন কবি আছে। প্রথমে তাঁর গান শোনেন, তারপর আমি বক্তৃতা দেব।’ আমার নির্বাচনী গানের অন্যতম একটি হচ্ছে ‘মুজিব বাইয়া যাওরে...নিপীড়িত দেশের মাঝে জনগণের নাওরে মুজিব বাইয়া যাওরে। মুজিবরে... আকাশ কাঁদে বাতাস কাঁদে...কাঁদেরে বাঙালি..., নির্যাতিত মানুষ কাঁদে মুজিব মুজিব বলিরে মুজিব বাইয়া যাওরে।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবার-পরিজন ছেড়ে ভারতে গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে নিয়মিত গান গেয়েছি, পুঁথি পড়েছি, আর এমআর আখতার মুকুলকে চরমপত্র তৈরিতে সহযোগিতা করেছি। গান গেয়েছি কলকাতার লেলিন স্মরণী, কলেজ স্ট্রিট, শ্যামবাজার ও বউবাজারসহ অনেক জায়গায়। আকাশবাণীতেও গেয়েছি অনেক। যেমন ‘ও আমার ভারত ভূমি মাগো তুমি ওগো আমার প্রাণ/একটি বৃন্দে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান। তোমার স্নেহের আঁচল পাতি বাঁচছে ৩৬ জাতি/হিন্দু-মুসলিম প্রেমের গীতি গাহি সাম্যের গান।’
অনেক দিন আগের কথা। সব কথা মনে পড়ে না। তবে ভুলিনি শান্তি নিকেতনে বাংলা এবং দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে হিন্দি গান গাওয়ার মধুর স্মৃতি। শান্তি নিকেতনের অনুষ্ঠানে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে স্লোগান ধরার কথাও ভুলিনি। ভারতে টাটার এক কর্মকর্তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পী-দম্পতি আজিম-সুজাতা একদিন আমাকে খবর দেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার হোসেন আলী আমাকে খোঁজ করছেন। শান্তি নিকেতনে একটি সংগীতানুষ্ঠান হবে, সেখানে গান গাইতে হবে। তিন-চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষ আর মানুষ। বহু নামীদামি, জ্ঞানীগুণী মানুষ আর রবীন্দ্রসংগীতশিল্পীর সমাবেশ সেখানে। ছিলেন কবিগুরুর মেয়েও। সেই স্মরণীয় অনুষ্ঠানে আমি গাইলাম ‘আমার মন ভুলালো, দিল জুড়ালো, কেড়ে নিল মন/কবিগুরুর শান্তি নিকেতন। সাঁওতালেরা নাশতা করে খোঁপায় খোঁপায় ফুল/বাউলের বাঁশির সুরে প্রাণ করে আকুল।’ অনুষ্ঠানে অনেকে জানতে চেয়েছিলেন আমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কোন বিষয়ে পড়ালেখা করেছি। বলেছিলাম, ‘আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন, জ্ঞান বিতরণ করেছেন। যাঁরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বানিয়েছেন তাঁরা কোন কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন? আমি সৃষ্টিকর্তার কলেজ থেকে শিক্ষা নিয়েছি।’
পৌষের এক দিন হাইকমিশনার হোসেন আলীর অনুরোধে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে এক অনুষ্ঠানে গান গাই। অবশ্য হিন্দিতে। সেদিন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি হোসেন আলীর হাতে তিন লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন বাঙালিদের সাহায্যের জন্য।
এ পর্যন্ত সাত হাজারের মতো গান করেছি। দুঃখের বিষয় হলো, একান্নব্বইয়ের ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেশির ভাগ গান হারিয়ে গেছে। হাজার তিনেক গান এখনো আছে। রাজনৈতিক সমাবেশ ছাড়াও বেতারে গেয়েছি প্রচুর। ১৯৯৬ সালের শেষ দিক থেকে টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ও ঢাকা কেন্দ্রেও কিছু গান গেয়েছি। তবে আওয়ামী লীগ সরকার যাওয়ার পর আমার গান প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় আমি মুজিব ভক্ত হওয়ার অপরাধে। বর্তমানে মাসে দুই-একটা গানের সুযোগ দেয় চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র। অবশ্য বয়স এবং রোগশোকের কারণে আগের মতো ভালো করে গাইতেও পারি না। তাই আয় রোজগার বলতেও তেমন কিছু নেই। বঙ্গবন্ধু বা এমএ আজিজ বেঁচে থাকলে হয়তো আজ আমার কোনো চিন্তা ছিল না। এ দুজনের স্নেহ আর গুণের কথা এখনো ভুলতে পারি না। বঙ্গবন্ধু আমাকে একটি মাজেদা গাড়ি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে টাকা দিয়েও সাহায্য করেছেন। তাঁর ইচ্ছাতেই বেতারে আমাকে সর্বোচ্চ সম্মানী দেওয়া হয়। তিনি বেঁচে থাকলে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু এখন কেউ খবরও রাখেন না। সব শেষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশে আমার একটি গানের চরণ শুনিয়ে বিদায় নিতে চাই ‘দারুণ বিধিরে সদা উঠে মনে, জাতির জনক বীর মুজিবকে ভুলি কেমনে ।
সীতাকুণ্ডের ২৪ হাজার জেলে পরিবারে দুর্দিন
সীতাকুণ্ডের ২৪ হাজার জেলে পরিবারে দুর্দিন
লিটন কুমার চৌধুরী
ইলিশ প্রজনন মৌসুমে সরকার নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত উপকূলীয় নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় সীতাকুণ্ড এলাকার প্রায় ২৪ হাজার ক্ষুদ্র জেলে পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দিন। এতে প্রায় ৩০ হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব জেলের কেউ কেউ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। আবার অনেকে অর্থাভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় জেলে অধ্যুষিত গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে এসব গ্রামের জেলেরা নদীতে জাল ফেলছেন। কিন্তু আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। নিরুপায় এসব জেলে জানান, বিকল্প কাজ না থাকায় তাঁরা বাধ্য হয়ে নদীতে জাল ফেলেন। সরকার ছয় মাস মাছধরা নিষিদ্ধ করলেও বিপুলসংখ্যক জেলের এই সময়ে বিকল্প কোনো কাজের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্দশার সীমা থাকে না। এই ছয় মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জেলেরা সরকারি সহযোগিতাও পাচ্ছেন না।
১ মার্চ দুপুরে বড়কুমিরা জেলেপাড়ায় দেখা যায়, মাঝবয়সী জেলে গোপাল গালে হাত দিয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন। কথা বলে জানা গেল, মহাজনী দাদন ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা গড়েছেন। কিন্তু নদীতে মাছ না পাওয়ায় ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুবেলা খাবারও জুটছে না ঠিকমতো।
কুমিরা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার বাস করে। কাজীপাড়ার জেলে বলরাম (৪৮) হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘পোলাপান লইয়া দুগ্গা ভাত খাওনেরও উপায় নাই। ক্যামনে যে বাঁচমু কইতে পারি না।’ এসময় দেখা গেল ছোট ছোট নৌকাগুলো একে একে কুমিরাঘাটে ভিড়ছে। ছোট ছোট ঝাঁপির তলায় অল্প মাছ নিয়ে জেলেরা নিরস মুখে কিনারে অপেক্ষমাণ পাইকারদের দিকে এগিয়ে আসছেন।
জেলে সুবল জলদাস পেয়েছেন ছোট ছোট পোয়া মাছ। তা বিক্রি করেন ৬০ টাকায়। তিনি জানান, ‘হারাদিন নদীতে খাইট্টা ৬০ টেহা পাইছি। ছয়জনের সংসারে তিন কেজি চাইল লাগে। অন কন, এই টাকা দিয়া কী করমু।’ গুলিয়াখালী জেলে গ্রামের প্রিয়লাল জলদাস বলেন, ‘অনতক মাত্র সাত কেজি চাল পাইছি। সাত কেজি চাল তিন দিন চলছে। পোলা-মাইয়া, বউ-ঝিরে ছামনের আড়াই মাস কী খাওয়ামু, নিজে কী খামু, আমাগো কাম-কাইজ ঠিক না করি সরকার জাল ফেলা বন্ধ করল ক্যান।’ জেলেরা জানান, তাঁরা ২০০৮ সালে সরকারের কাছ থেকে নামমাত্র অর্থ ও খাদ্য (চাল) সহায়তা পেয়েছেন।
বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন বলেন, সংস্থার পক্ষ থেকে সৌহার্দ্য কর্মসূচির আওতায় আটটি গ্রামে মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। জেলেদের চাল, ডাল ও তেল দেওয়া হয়েছে। তবে এ সহযোগিতা অপ্রতুল।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে জানান, ‘কাজহীন জেলেদের পুনর্বাসনে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। গত দুবছর ধরে এ এলাকার জেলেদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা উন্নয়ন সভায় জেলেদের জন্য অর্থ ও খাদ্য (চাল) বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
লিটন কুমার চৌধুরী
ইলিশ প্রজনন মৌসুমে সরকার নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত উপকূলীয় নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় সীতাকুণ্ড এলাকার প্রায় ২৪ হাজার ক্ষুদ্র জেলে পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দিন। এতে প্রায় ৩০ হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব জেলের কেউ কেউ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। আবার অনেকে অর্থাভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় জেলে অধ্যুষিত গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে এসব গ্রামের জেলেরা নদীতে জাল ফেলছেন। কিন্তু আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। নিরুপায় এসব জেলে জানান, বিকল্প কাজ না থাকায় তাঁরা বাধ্য হয়ে নদীতে জাল ফেলেন। সরকার ছয় মাস মাছধরা নিষিদ্ধ করলেও বিপুলসংখ্যক জেলের এই সময়ে বিকল্প কোনো কাজের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্দশার সীমা থাকে না। এই ছয় মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জেলেরা সরকারি সহযোগিতাও পাচ্ছেন না।
১ মার্চ দুপুরে বড়কুমিরা জেলেপাড়ায় দেখা যায়, মাঝবয়সী জেলে গোপাল গালে হাত দিয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন। কথা বলে জানা গেল, মহাজনী দাদন ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা গড়েছেন। কিন্তু নদীতে মাছ না পাওয়ায় ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুবেলা খাবারও জুটছে না ঠিকমতো।
কুমিরা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার বাস করে। কাজীপাড়ার জেলে বলরাম (৪৮) হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘পোলাপান লইয়া দুগ্গা ভাত খাওনেরও উপায় নাই। ক্যামনে যে বাঁচমু কইতে পারি না।’ এসময় দেখা গেল ছোট ছোট নৌকাগুলো একে একে কুমিরাঘাটে ভিড়ছে। ছোট ছোট ঝাঁপির তলায় অল্প মাছ নিয়ে জেলেরা নিরস মুখে কিনারে অপেক্ষমাণ পাইকারদের দিকে এগিয়ে আসছেন।
জেলে সুবল জলদাস পেয়েছেন ছোট ছোট পোয়া মাছ। তা বিক্রি করেন ৬০ টাকায়। তিনি জানান, ‘হারাদিন নদীতে খাইট্টা ৬০ টেহা পাইছি। ছয়জনের সংসারে তিন কেজি চাইল লাগে। অন কন, এই টাকা দিয়া কী করমু।’ গুলিয়াখালী জেলে গ্রামের প্রিয়লাল জলদাস বলেন, ‘অনতক মাত্র সাত কেজি চাল পাইছি। সাত কেজি চাল তিন দিন চলছে। পোলা-মাইয়া, বউ-ঝিরে ছামনের আড়াই মাস কী খাওয়ামু, নিজে কী খামু, আমাগো কাম-কাইজ ঠিক না করি সরকার জাল ফেলা বন্ধ করল ক্যান।’ জেলেরা জানান, তাঁরা ২০০৮ সালে সরকারের কাছ থেকে নামমাত্র অর্থ ও খাদ্য (চাল) সহায়তা পেয়েছেন।
বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন বলেন, সংস্থার পক্ষ থেকে সৌহার্দ্য কর্মসূচির আওতায় আটটি গ্রামে মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। জেলেদের চাল, ডাল ও তেল দেওয়া হয়েছে। তবে এ সহযোগিতা অপ্রতুল।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে জানান, ‘কাজহীন জেলেদের পুনর্বাসনে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। গত দুবছর ধরে এ এলাকার জেলেদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা উন্নয়ন সভায় জেলেদের জন্য অর্থ ও খাদ্য (চাল) বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গণ ছিনতাই দোল উৎসব হয়নি
চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গণ ছিনতাই দোল উৎসব হয়নি
সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গণছিনতাই হয়েছে। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ১৫ তীর্থযাত্রী আহত হয়েছেন। ছিনতাই আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ফিরে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী দোল পূর্ণিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই স্থানে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মেলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দোল পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথধামে বিভিন্ন স্থান থেকে তীর্থযাত্রীরা সমবেত হতে থাকেন। ওইদিন সকাল থেকে তাঁরা পাদদেশ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ বেয়ে পাহাড়চূড়ার চন্দ্রধাম মন্দির দর্শন করতে উঠতে থাকেন। সকাল সাতটার দিকে ১৫-২০জন ছিনতাইকারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পৃথক দলে ভাগ হয়ে ছিনতাই শুরু করে। তারা তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে মুঠোফোন, গলার চেন, ঘড়িসহ নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গিয়ে সাত নারীসহ ১৫ জন তীর্থযাত্রী আহত হন। এ ঘটনার পরপরই সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির সদস্য ও পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিলেও তীর্থযাত্রীরা চন্দ্রনাথ মন্দিরে না উঠে ফিরে যেতে শুরু করেন। পঞ্জিকামতে, পূর্ণিমা তিথিতে দুদিনব্যাপী দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই সময়ে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন চন্দ্রনাথ মন্দিরে পুণ্য সঞ্চয়ের আশায় পূজা-অর্চনা করেন।
পটিয়া থেকে আসা তীর্থযাত্রী সুবাস ভৌমিক, নকুলচন্দ্র সাহা ও নাথুরাম সাহা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও মেলা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারাধন চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, ‘ছিনতাইকারীদের ভয়ে তীর্থযাত্রী ফিরে যাওয়ায় দোল মেলা হয়নি। এখানে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য স্থায়ীভাবে পুলিশ ফাঁড়ি করা খুবই প্রয়োজন।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গহিন পাহাড় হওয়ায় পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গণছিনতাই হয়েছে। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ১৫ তীর্থযাত্রী আহত হয়েছেন। ছিনতাই আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ফিরে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী দোল পূর্ণিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই স্থানে প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মেলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দোল পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথধামে বিভিন্ন স্থান থেকে তীর্থযাত্রীরা সমবেত হতে থাকেন। ওইদিন সকাল থেকে তাঁরা পাদদেশ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ বেয়ে পাহাড়চূড়ার চন্দ্রধাম মন্দির দর্শন করতে উঠতে থাকেন। সকাল সাতটার দিকে ১৫-২০জন ছিনতাইকারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পৃথক দলে ভাগ হয়ে ছিনতাই শুরু করে। তারা তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে মুঠোফোন, গলার চেন, ঘড়িসহ নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিতে গিয়ে সাত নারীসহ ১৫ জন তীর্থযাত্রী আহত হন। এ ঘটনার পরপরই সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির সদস্য ও পুলিশ প্রশাসন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিলেও তীর্থযাত্রীরা চন্দ্রনাথ মন্দিরে না উঠে ফিরে যেতে শুরু করেন। পঞ্জিকামতে, পূর্ণিমা তিথিতে দুদিনব্যাপী দোল উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই সময়ে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন চন্দ্রনাথ মন্দিরে পুণ্য সঞ্চয়ের আশায় পূজা-অর্চনা করেন।
পটিয়া থেকে আসা তীর্থযাত্রী সুবাস ভৌমিক, নকুলচন্দ্র সাহা ও নাথুরাম সাহা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও মেলা কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারাধন চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, ‘ছিনতাইকারীদের ভয়ে তীর্থযাত্রী ফিরে যাওয়ায় দোল মেলা হয়নি। এখানে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য স্থায়ীভাবে পুলিশ ফাঁড়ি করা খুবই প্রয়োজন।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গহিন পাহাড় হওয়ায় পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
লোহাগাড়ায় কম্পিউটার শিক্ষার দুরবস্থা
লোহাগাড়ায় কম্পিউটার শিক্ষার দুরবস্থা
পুষ্পেন চৌধুরী
লোহাগাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষাব্যবস্থা থমকে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক ও কম্পিউটারের অভাব, অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব এ দুরবস্থার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন শিক্ষকেরা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালুর ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এ বছর কম্পিউটার শিক্ষার বইও বিতরণ করা হয়। আর তখন থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিষয়টি ঐচ্ছিক না আবশ্যিক? আবশ্যিক হলে প্রথমে প্রয়োজন ল্যাব, কম্পিউটার শিক্ষক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কিন্তু এসব ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নেই সংশ্লিষ্টদের।
জানা যায়, লোহাগাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৭টি। এর মধ্যে পাঁচটিতে কম্পিউটার শিক্ষা চালু রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়ে বেসরকারিভাবে কম্পিউটার থাকলেও কোনোটি অচল, কোনোটিতে বিদ্যুত্সংযোগের অভাব অথবা কম্পিউটার জানা লোকবলের অভাব রয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেব প্রথম আলোকে জানান, ইতিমধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন হাতে না এলেও শিক্ষামন্ত্রী কম্পিউটার শিক্ষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে বই বিতরণ করা হয়েছে। চুনতি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়দত্ত বড়ুয়া বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী তা স্বীকার করি। কিন্তু সরকারের কোনো নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি।’
আধুনগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, সরকার কম্পিউটার শিক্ষা চালু করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন ল্যাব ও কম্পিউটার শিক্ষক।
শাহপীর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেবুবা আনোয়ার ও ইসতিয়াক আহমদ কম্পিউটারের বই পেয়ে খুশি। তবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাইম ও আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়ে ৩০ নম্বর ব্যবহারিক রয়েছে। শিক্ষক ও ল্যাব না থাকলে ব্যবহারিক ক্লাস কীভাবে হবে বুঝতে পারছি না। পদুয়া উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক নয়ন মণি জানান, লোহাগাড়ায় মাত্র পাঁচটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালু রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও কম্পিউটার শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই বিপাকে পড়বে।
শিক্ষকেরা আলাপকালে জানান, প্রশিক্ষিত কম্পিউটার শিক্ষক ও ল্যাব প্রতিষ্ঠা করলে তবে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেই। তা না হলে কেবল সরকারের অর্থের অপচয় হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা। বোর্ড থেকে সরবরাহ করা বইতে বিষয়টি এখনো ঐচ্ছিক হিসেবে রয়েছে। তাঁরা বলেন, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে অদক্ষতার কারণে সরকারি-বেসরকারি অনেক কম্পিউটার অচল পড়ে আছে। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল সিংহ বলেন, ‘বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করছে। এ ব্যাপারে অচিরেই সরকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা পাঠাবে।’
চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ বছর কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে শিক্ষকের অভাব, কম্পিউটারসংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পুষ্পেন চৌধুরী
লোহাগাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষাব্যবস্থা থমকে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক ও কম্পিউটারের অভাব, অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব এ দুরবস্থার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন শিক্ষকেরা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালুর ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এ বছর কম্পিউটার শিক্ষার বইও বিতরণ করা হয়। আর তখন থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিষয়টি ঐচ্ছিক না আবশ্যিক? আবশ্যিক হলে প্রথমে প্রয়োজন ল্যাব, কম্পিউটার শিক্ষক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কিন্তু এসব ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নেই সংশ্লিষ্টদের।
জানা যায়, লোহাগাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৭টি। এর মধ্যে পাঁচটিতে কম্পিউটার শিক্ষা চালু রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়ে বেসরকারিভাবে কম্পিউটার থাকলেও কোনোটি অচল, কোনোটিতে বিদ্যুত্সংযোগের অভাব অথবা কম্পিউটার জানা লোকবলের অভাব রয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেব প্রথম আলোকে জানান, ইতিমধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন হাতে না এলেও শিক্ষামন্ত্রী কম্পিউটার শিক্ষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে বই বিতরণ করা হয়েছে। চুনতি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়দত্ত বড়ুয়া বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী তা স্বীকার করি। কিন্তু সরকারের কোনো নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি।’
আধুনগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, সরকার কম্পিউটার শিক্ষা চালু করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন ল্যাব ও কম্পিউটার শিক্ষক।
শাহপীর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেবুবা আনোয়ার ও ইসতিয়াক আহমদ কম্পিউটারের বই পেয়ে খুশি। তবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাইম ও আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়ে ৩০ নম্বর ব্যবহারিক রয়েছে। শিক্ষক ও ল্যাব না থাকলে ব্যবহারিক ক্লাস কীভাবে হবে বুঝতে পারছি না। পদুয়া উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক নয়ন মণি জানান, লোহাগাড়ায় মাত্র পাঁচটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালু রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও কম্পিউটার শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই বিপাকে পড়বে।
শিক্ষকেরা আলাপকালে জানান, প্রশিক্ষিত কম্পিউটার শিক্ষক ও ল্যাব প্রতিষ্ঠা করলে তবে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেই। তা না হলে কেবল সরকারের অর্থের অপচয় হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা। বোর্ড থেকে সরবরাহ করা বইতে বিষয়টি এখনো ঐচ্ছিক হিসেবে রয়েছে। তাঁরা বলেন, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে অদক্ষতার কারণে সরকারি-বেসরকারি অনেক কম্পিউটার অচল পড়ে আছে। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল সিংহ বলেন, ‘বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করছে। এ ব্যাপারে অচিরেই সরকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা পাঠাবে।’
চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ বছর কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে শিক্ষকের অভাব, কম্পিউটারসংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
পথ দেখালেন মঞ্জুর আলম
পথ দেখালেন মঞ্জুর আলম
মাইনউদ্দিন হাসান
চকরিয়ার বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়ারকুল গ্রামের মঞ্জুর আলম (৫২) সংসার চালাতে ছোট ব্যবসা, মুদির দোকান কত কিছুই না করেছেন। কিন্তু সব শ্রম ও পুঁজিই বৃথা যায় একসময়। পরিবার নিয়ে হিমশিম খেতে থাকেন। তাঁর ভাষায়, ‘সংসারের বোঝা সামলাতে আমি একসময় হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কত জায়গায় ধার-দেনা করে ছোট হয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না।’ অবশেষে সবজিচাষে হাত দেন মঞ্জুর। আসে সফলতা এবং আকাশছোঁয়া সেই সফল্যে বদলে যায় তাঁর আর্থিক অবস্থা। বদলে যেতে থাকেন আশপাশের মানুষগুলোও। মঞ্জুর আলমকে এখন বলা হয় ‘সবজিচাষের কারিগর’। কারণ তাঁকে দেখেই এগিয়ে এসেছেন অনেকে। পেয়েছেন সফলতা এবং স্বাচ্ছন্দ্য।
১৯৯৫ সালের কথা। এলাকার কৃষক আবু তাহের মঞ্জুর আলমকে সবজিচাষের পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই সময় তাঁর অবলম্বন বলতে ছিল কেবল ৪০ শতক জমি। এরপর তিনি কিছু জমি বর্গা নেন। ধার করে কিছু টাকাও জোগাড় করেন। পরে দেড় কানি জমিতে টমেটো ও মরিচ আবাদে নেমে পড়েন। প্রথম বছরেই লাভ হয় ৫২ হাজার টাকা। পরের বছর দ্বিগুণ চাষ করে দেড় লাখ টাকা আয় হয়। এভাবে ধারাবাহিক সাফল্যে তাঁর অবস্থা পাল্টে যেতে থাকে। প্রাচুর্য আসে সংসারে।
মঞ্জুর আলম জানান, সবজিচাষ করেই তিনি পাকা বাড়ি করেছেন, জমি কিনেছেন, বড় ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন, নিজের জন্য মোটরসাইকেল নিয়েছেন। চার ছেলের মধ্যে মেজ ছেলে মোহাম্মদ রিদুয়ান উচ্চমাধ্যমিক (আইএ) পাস করে বাবাকে চাষাবাদে সহযোগিতা করছেন। তৃতীয় ছেলে সাহাদাত্ হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। ছোট ছেলে মোহাম্মদ নওশেদ এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সব মিলিয়ে তাঁর সুখের সংসার। আর আজকের এই জায়গায় আসতে তাঁকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন স্ত্রী খালেদা বেগম। তিনিই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এগিয়ে নিয়েছেন তাঁকে।
মঞ্জুর আলম এ বছর নয় কানি জমিতে টমেটো, হাইব্রিড মরিচ, ফুলকপি, আলু, শিমসহ মিশ্র সবজির চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এ পর্যন্ত এক লাখ ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন বলে জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মঞ্জুরের দৃষ্টিনন্দন পাকা বাড়ি। চারপাশে সবজিবাগান। উঠোনে ঢুকতেই চোখে পড়ে গোয়াল ভরা গরু। সেখান থেকেই দেখা যায় তাঁর সবজিবাগানের কর্মযজ্ঞ। শ্রমিকেরা কেউ জমি থেকে টমেটো, কেউ মরিচ এনে উঠোনে মজুদ করছেন।
মঞ্জুর আলম জানালেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা উঠোন থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যাবেন। তবে এ বছর সবজির দাম কম। হিমাগারের অভাবে এখানকার কৃষকেরা সবজি সংরক্ষণ করতে পারছেন না।
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মঞ্জুর আলমকে এই এলাকায় সবজিচাষের কারিগর বলা যায়। তাঁকে দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং সবজিচাষে সাফল্য পেয়েছেন।’
বিএমচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ বলেন, ‘মঞ্জুর আলম সফল কৃষক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর সফলতা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে।
মাইনউদ্দিন হাসান
চকরিয়ার বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়ারকুল গ্রামের মঞ্জুর আলম (৫২) সংসার চালাতে ছোট ব্যবসা, মুদির দোকান কত কিছুই না করেছেন। কিন্তু সব শ্রম ও পুঁজিই বৃথা যায় একসময়। পরিবার নিয়ে হিমশিম খেতে থাকেন। তাঁর ভাষায়, ‘সংসারের বোঝা সামলাতে আমি একসময় হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কত জায়গায় ধার-দেনা করে ছোট হয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না।’ অবশেষে সবজিচাষে হাত দেন মঞ্জুর। আসে সফলতা এবং আকাশছোঁয়া সেই সফল্যে বদলে যায় তাঁর আর্থিক অবস্থা। বদলে যেতে থাকেন আশপাশের মানুষগুলোও। মঞ্জুর আলমকে এখন বলা হয় ‘সবজিচাষের কারিগর’। কারণ তাঁকে দেখেই এগিয়ে এসেছেন অনেকে। পেয়েছেন সফলতা এবং স্বাচ্ছন্দ্য।
১৯৯৫ সালের কথা। এলাকার কৃষক আবু তাহের মঞ্জুর আলমকে সবজিচাষের পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই সময় তাঁর অবলম্বন বলতে ছিল কেবল ৪০ শতক জমি। এরপর তিনি কিছু জমি বর্গা নেন। ধার করে কিছু টাকাও জোগাড় করেন। পরে দেড় কানি জমিতে টমেটো ও মরিচ আবাদে নেমে পড়েন। প্রথম বছরেই লাভ হয় ৫২ হাজার টাকা। পরের বছর দ্বিগুণ চাষ করে দেড় লাখ টাকা আয় হয়। এভাবে ধারাবাহিক সাফল্যে তাঁর অবস্থা পাল্টে যেতে থাকে। প্রাচুর্য আসে সংসারে।
মঞ্জুর আলম জানান, সবজিচাষ করেই তিনি পাকা বাড়ি করেছেন, জমি কিনেছেন, বড় ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন, নিজের জন্য মোটরসাইকেল নিয়েছেন। চার ছেলের মধ্যে মেজ ছেলে মোহাম্মদ রিদুয়ান উচ্চমাধ্যমিক (আইএ) পাস করে বাবাকে চাষাবাদে সহযোগিতা করছেন। তৃতীয় ছেলে সাহাদাত্ হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। ছোট ছেলে মোহাম্মদ নওশেদ এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সব মিলিয়ে তাঁর সুখের সংসার। আর আজকের এই জায়গায় আসতে তাঁকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন স্ত্রী খালেদা বেগম। তিনিই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এগিয়ে নিয়েছেন তাঁকে।
মঞ্জুর আলম এ বছর নয় কানি জমিতে টমেটো, হাইব্রিড মরিচ, ফুলকপি, আলু, শিমসহ মিশ্র সবজির চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এ পর্যন্ত এক লাখ ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন বলে জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মঞ্জুরের দৃষ্টিনন্দন পাকা বাড়ি। চারপাশে সবজিবাগান। উঠোনে ঢুকতেই চোখে পড়ে গোয়াল ভরা গরু। সেখান থেকেই দেখা যায় তাঁর সবজিবাগানের কর্মযজ্ঞ। শ্রমিকেরা কেউ জমি থেকে টমেটো, কেউ মরিচ এনে উঠোনে মজুদ করছেন।
মঞ্জুর আলম জানালেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা উঠোন থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যাবেন। তবে এ বছর সবজির দাম কম। হিমাগারের অভাবে এখানকার কৃষকেরা সবজি সংরক্ষণ করতে পারছেন না।
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মঞ্জুর আলমকে এই এলাকায় সবজিচাষের কারিগর বলা যায়। তাঁকে দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং সবজিচাষে সাফল্য পেয়েছেন।’
বিএমচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ বলেন, ‘মঞ্জুর আলম সফল কৃষক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর সফলতা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে।
উখিয়ায় পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির অভিযোগ
উখিয়ায় পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির অভিযোগ
উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা বন বিভাগের জায়গা জবরদখল ও পাহাড় কেটে রাস্তার তৈরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জামবাগান গ্রামের জামবাগান জামে মসজিদের পাশে বন বিভাগের হলদিয়াপালং বিটের আওতাধীন পাহাড়ি বনভূমিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার-পাঁচ কর্মী কাঁচাঘর তৈরি করেন। আবার দখল করা জায়গায় যাতায়াত করতে তাঁরা পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করছেন। এতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বাধা দিলে তাঁরা কমিটির সভাপতিকে হত্যা করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৬ মার্চ ঘটনাস্থলে দেখা যায়, পাহাড়ের ওপর সমতল মাঠের মাঝখানে দখলকারীরা কাঁচা বেড়ার ঘর তৈরি করেছেন। ঘরের ওপর এখনো ছাউনি দেওয়া হয়নি। সেখানে যাতায়াত করতে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদককে দেখে পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক পালিয়ে যান। জামবাগান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী নুর আহাম্মদ (৫০), যুবলীগকর্মী আবুল কাশেম (৩৫), আবুল কালাম (৩২) ও জাহাঙ্গীর আলম (৩০) মসজিদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে পাহাড়ের ওপর খোলা মাঠে কাঁচা ঝুপড়িঘর তৈরি করেন এবং অপর পাশে পাহাড় কেটে রাস্তা বানাচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দখলদারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তিনি এই ব্যাপারে চিহ্নিত চারজনের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তারপরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল জব্বর (৬০) বলেন, ‘পাহাড়ের মাঠে প্রতিবছর দুটি ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে বেদখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ঈদের নামাজের জায়গার সংকট দেখা দেবে।’ আওয়ামী লীগের কর্মী নুর আহামদ ও যুবলীগ কর্মী আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মসজিদের তো এত জমির প্রয়োজন নেই তাই ছোট একটা ঘর করেছি। তা ছাড়া অনেকে তো পাহাড় কাটছে আপনারা এগুলো দেখেন না। শুধু আমাদেরটা চোখে পড়ে।’
হলদিয়াপালং বিট কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলিউল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আসলে বিষয়টি বিস্তারিত জানতাম না। এখন আপনার মাধ্যমে জেনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা বলেন, ‘বনভূমি জবরদখল ও পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেব। লোকবলসংকটের কারণে একটু দেরি হচ্ছে।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা বন বিভাগের জায়গা জবরদখল ও পাহাড় কেটে রাস্তার তৈরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জামবাগান গ্রামের জামবাগান জামে মসজিদের পাশে বন বিভাগের হলদিয়াপালং বিটের আওতাধীন পাহাড়ি বনভূমিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার-পাঁচ কর্মী কাঁচাঘর তৈরি করেন। আবার দখল করা জায়গায় যাতায়াত করতে তাঁরা পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করছেন। এতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বাধা দিলে তাঁরা কমিটির সভাপতিকে হত্যা করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৬ মার্চ ঘটনাস্থলে দেখা যায়, পাহাড়ের ওপর সমতল মাঠের মাঝখানে দখলকারীরা কাঁচা বেড়ার ঘর তৈরি করেছেন। ঘরের ওপর এখনো ছাউনি দেওয়া হয়নি। সেখানে যাতায়াত করতে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদককে দেখে পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক পালিয়ে যান। জামবাগান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী নুর আহাম্মদ (৫০), যুবলীগকর্মী আবুল কাশেম (৩৫), আবুল কালাম (৩২) ও জাহাঙ্গীর আলম (৩০) মসজিদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে পাহাড়ের ওপর খোলা মাঠে কাঁচা ঝুপড়িঘর তৈরি করেন এবং অপর পাশে পাহাড় কেটে রাস্তা বানাচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দখলদারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তিনি এই ব্যাপারে চিহ্নিত চারজনের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তারপরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল জব্বর (৬০) বলেন, ‘পাহাড়ের মাঠে প্রতিবছর দুটি ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে বেদখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ঈদের নামাজের জায়গার সংকট দেখা দেবে।’ আওয়ামী লীগের কর্মী নুর আহামদ ও যুবলীগ কর্মী আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মসজিদের তো এত জমির প্রয়োজন নেই তাই ছোট একটা ঘর করেছি। তা ছাড়া অনেকে তো পাহাড় কাটছে আপনারা এগুলো দেখেন না। শুধু আমাদেরটা চোখে পড়ে।’
হলদিয়াপালং বিট কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলিউল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আসলে বিষয়টি বিস্তারিত জানতাম না। এখন আপনার মাধ্যমে জেনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা বলেন, ‘বনভূমি জবরদখল ও পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেব। লোকবলসংকটের কারণে একটু দেরি হচ্ছে।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
ইনানী সৈকতে অবৈধ স্থাপনা
ইনানী সৈকতে অবৈধ স্থাপনা
উখিয়া উপজেলার ‘পাথুরে সৈকত’ নামে পরিচিত অপরূপ ইনানী সৈকত দখল করে নানা স্থাপনা তৈরির হিড়িক পড়েছে। অনেকে হোটেল-মোটেল তৈরির জন্য সৈকতের বালুচর দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখছেন। আবার কেউ জমি দখলের জন্য সৈকতের সবুজ ঝাউবাগান উজাড় করছেন। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ-প্রতিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনে (১৯৯৫) সৈকতের এসব এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। এখানে কোনো ধরনের অবকাঠামো তৈরি, জমির পরিবর্তন, বেচাকেনা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, বন্যপ্রাণী নিধন ও শামুক ঝিনুক আহরণ, পরিবহন, সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো এক কিলোমিটারের সৈকতটি ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। মেরিন ড্রাইভ সড়ক থেকে ইনানী সৈকতে ঢোকার সময় নজরে পড়ে ঝুপড়িঘর। বন বিশ্রামাগারের সামনে, সৈকতে নামার সামনের পথে, কাঠের সাঁকোর পাশে, সৈকতের বালুচরে ঝুপড়িঘর (দোকান) তুলে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসা চালাচ্ছেন। অনেকে ফেরি করে ডাব, তরমুজ, চা-বিস্কুট, ডিম, চটপটি, চিপস, খনিজ পানির বোতল বিক্রি করছেন। বিশেষ করে ডাবের খোসাসহ নানা ময়লা আবর্জনায় পুরো সৈকতটি হতশ্রী হলেও পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থা বা উদ্যোগ নেই। সৈকতে নামার সময় কিছু তরুণ পর্যটকদের কাছ থেকে মাথাপিছু তিন টাকা হারে সাঁকো পারাপারের জন্য চাঁদা আদায় করেন। আর প্রতিটি গাড়ি থেকে ৪০-৮০ টাকা পর্যন্ত পার্কিং চার্জ আদায় করছেন ওই তরুণেরা। অথচ সেখানে পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। বন বিশ্রামাগারের সামনে ছোট্ট বালুচরে এবং নির্মীয়মাণ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ওপর এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখা হয়। এতে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব মহিলা কলেজের প্রভাষক নুরুল আমিন ওরফে ভুট্টু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ইনানী সৈকতটি ইজারা নিয়েছেন। তাঁর পক্ষ থেকেই পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা আদায়ে নিয়োজিত দুই তরুণ প্রায় সময় পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অতিরিক্ত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের গালমন্দ শুনতে হয়।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক তরুণ জানান, এনআর এন্টারপ্রাইজের মালিক ‘প্রফেসর ভুট্টু’ (নুরুল আমিন) টাকার বিনিময়ে সৈকতে অবৈধ দোকান নির্মাণে সহযোগিতা করেন। ভুট্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সৈকতে নামার জন্য কাঠের সাঁকো পারাপারে মাথাপিছু রসিদমূলে তিন টাকা ইজারা আদায় করা হয়। পার্কিংয়ের জন্য গাড়িপ্রতি আদায় করা হয় ৪০ টাকা।’
সৈকতের বন বিশ্রামাগারের দক্ষিণ পাশে গড়ে তোলা হয়েছে একটি আধুনিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ। হোটেল কর্তৃপক্ষ সৈকতে নামার জন্য বালুচরে বানিয়েছে একটি লোহার সাঁকো। আবার হোটেলের দক্ষিণ পাশে বিশাল বালিয়াড়ি দখল করে স্থায়ী সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছে টিকে গ্রুপ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি জমিতে সীমানাপ্রাচীর তৈরি বন্ধ করে দিলেও কয়েকদিন পর আবার তাঁরা নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁরা সৈকতের মধ্যভাগে পাহাড় থেকে নেমে আসা একটি খালের মাঝপথে আড়াআড়ি ভাবে পাকা দেয়াল তুলে পানি চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে টিকে গ্রুপ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, কাগজমূলে জমিটি স্থানীয় লোকজন থেকে কেনা হয়েছে। এখন ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যাপারে তিনি সরকারিভাবে কোনো বিজ্ঞপ্তি পাননি। কেউ কাজে বাধাও দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলামুর রহমান জানান, সরকারি জমি দখল করেই টিকে গ্রুপ সীমানাপ্রাচীর তৈরি করছে। এসব নির্মাণকাজ বন্ধ করার জন্য স্থানীয় ভূমি কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ইনানী হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত নির্মীয়মাণ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। সমপ্রতি সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয় ইনানী সৈকতে ‘বিশেষ পর্যটনপল্লি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। জেলা প্রশাসন ওই এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও জমি বেচাবিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু প্রশাসনের বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে একশ্রেণীর ভূমিগ্রাসীচক্র সৈকতের জমি দখল করে তাতে স্থায়ী দেয়াল ও কাঁটাতারের ঘেরা দিচ্ছে। অনেকে জমি দখলের জন্য ইট, বালু, সিমেন্ট, রড প্রভৃতি নির্মাণসামগ্রী মজুদ করে রেখেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে ভুয়া কাগজমূলে সৈকতের জমি বিক্রি করে অবৈধ সুবিধা আদায় করছেন। আর ধনাঢ্য ব্যক্তিরা সৈকতের জমি দখল করতে গিয়ে সাবাড় করছেন সবুজ ঝাউবাগানসহ বালিয়াড়ি। এতে পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
জেলা প্রশাসক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ জানান, ‘সৈকতের জমি দখল করে স্থাপনা তৈরির অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। যাঁরা সৈকত দখল করে রেখেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিগগির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
উখিয়া উপজেলার ‘পাথুরে সৈকত’ নামে পরিচিত অপরূপ ইনানী সৈকত দখল করে নানা স্থাপনা তৈরির হিড়িক পড়েছে। অনেকে হোটেল-মোটেল তৈরির জন্য সৈকতের বালুচর দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখছেন। আবার কেউ জমি দখলের জন্য সৈকতের সবুজ ঝাউবাগান উজাড় করছেন। এতে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশ-প্রতিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনে (১৯৯৫) সৈকতের এসব এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। এখানে কোনো ধরনের অবকাঠামো তৈরি, জমির পরিবর্তন, বেচাকেনা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, বন্যপ্রাণী নিধন ও শামুক ঝিনুক আহরণ, পরিবহন, সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো এক কিলোমিটারের সৈকতটি ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। মেরিন ড্রাইভ সড়ক থেকে ইনানী সৈকতে ঢোকার সময় নজরে পড়ে ঝুপড়িঘর। বন বিশ্রামাগারের সামনে, সৈকতে নামার সামনের পথে, কাঠের সাঁকোর পাশে, সৈকতের বালুচরে ঝুপড়িঘর (দোকান) তুলে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসা চালাচ্ছেন। অনেকে ফেরি করে ডাব, তরমুজ, চা-বিস্কুট, ডিম, চটপটি, চিপস, খনিজ পানির বোতল বিক্রি করছেন। বিশেষ করে ডাবের খোসাসহ নানা ময়লা আবর্জনায় পুরো সৈকতটি হতশ্রী হলেও পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থা বা উদ্যোগ নেই। সৈকতে নামার সময় কিছু তরুণ পর্যটকদের কাছ থেকে মাথাপিছু তিন টাকা হারে সাঁকো পারাপারের জন্য চাঁদা আদায় করেন। আর প্রতিটি গাড়ি থেকে ৪০-৮০ টাকা পর্যন্ত পার্কিং চার্জ আদায় করছেন ওই তরুণেরা। অথচ সেখানে পার্কিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। বন বিশ্রামাগারের সামনে ছোট্ট বালুচরে এবং নির্মীয়মাণ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ওপর এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখা হয়। এতে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, উখিয়া বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিব মহিলা কলেজের প্রভাষক নুরুল আমিন ওরফে ভুট্টু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ইনানী সৈকতটি ইজারা নিয়েছেন। তাঁর পক্ষ থেকেই পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা আদায়ে নিয়োজিত দুই তরুণ প্রায় সময় পর্যটকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অতিরিক্ত চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের গালমন্দ শুনতে হয়।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক তরুণ জানান, এনআর এন্টারপ্রাইজের মালিক ‘প্রফেসর ভুট্টু’ (নুরুল আমিন) টাকার বিনিময়ে সৈকতে অবৈধ দোকান নির্মাণে সহযোগিতা করেন। ভুট্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সৈকতে নামার জন্য কাঠের সাঁকো পারাপারে মাথাপিছু রসিদমূলে তিন টাকা ইজারা আদায় করা হয়। পার্কিংয়ের জন্য গাড়িপ্রতি আদায় করা হয় ৪০ টাকা।’
সৈকতের বন বিশ্রামাগারের দক্ষিণ পাশে গড়ে তোলা হয়েছে একটি আধুনিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ। হোটেল কর্তৃপক্ষ সৈকতে নামার জন্য বালুচরে বানিয়েছে একটি লোহার সাঁকো। আবার হোটেলের দক্ষিণ পাশে বিশাল বালিয়াড়ি দখল করে স্থায়ী সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছে টিকে গ্রুপ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভূমি কার্যালয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি জমিতে সীমানাপ্রাচীর তৈরি বন্ধ করে দিলেও কয়েকদিন পর আবার তাঁরা নির্মাণকাজ শুরু করেন। তাঁরা সৈকতের মধ্যভাগে পাহাড় থেকে নেমে আসা একটি খালের মাঝপথে আড়াআড়ি ভাবে পাকা দেয়াল তুলে পানি চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে টিকে গ্রুপ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, কাগজমূলে জমিটি স্থানীয় লোকজন থেকে কেনা হয়েছে। এখন ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যাপারে তিনি সরকারিভাবে কোনো বিজ্ঞপ্তি পাননি। কেউ কাজে বাধাও দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলামুর রহমান জানান, সরকারি জমি দখল করেই টিকে গ্রুপ সীমানাপ্রাচীর তৈরি করছে। এসব নির্মাণকাজ বন্ধ করার জন্য স্থানীয় ভূমি কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে ইনানী হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত নির্মীয়মাণ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। সমপ্রতি সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয় ইনানী সৈকতে ‘বিশেষ পর্যটনপল্লি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। জেলা প্রশাসন ওই এলাকায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও জমি বেচাবিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কিন্তু প্রশাসনের বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে একশ্রেণীর ভূমিগ্রাসীচক্র সৈকতের জমি দখল করে তাতে স্থায়ী দেয়াল ও কাঁটাতারের ঘেরা দিচ্ছে। অনেকে জমি দখলের জন্য ইট, বালু, সিমেন্ট, রড প্রভৃতি নির্মাণসামগ্রী মজুদ করে রেখেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে ভুয়া কাগজমূলে সৈকতের জমি বিক্রি করে অবৈধ সুবিধা আদায় করছেন। আর ধনাঢ্য ব্যক্তিরা সৈকতের জমি দখল করতে গিয়ে সাবাড় করছেন সবুজ ঝাউবাগানসহ বালিয়াড়ি। এতে পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।
জেলা প্রশাসক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদ জানান, ‘সৈকতের জমি দখল করে স্থাপনা তৈরির অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। যাঁরা সৈকত দখল করে রেখেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিগগির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে উপকূলের ২০ লাখ মানুষ
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে উপকূলের ২০ লাখ মানুষ
মোহাম্মদ রফিক
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন উপকূলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ। এসব এলাকায় এখনো গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও দরিদ্র জনসাধারণকে সহায়তার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচিরও বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন সময়ে তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও দুর্যোগ মোকাবিলার এসব কর্মপরিকল্পনা শুধু কাগজ-কলমে আটকে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে কালবৈশাখী ও নিম্নচাপের আশঙ্কার কথা জানা গেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে। মার্চ-এপ্রিলে দেশের ওপর দিয়ে মাঝারি ও তীব্র ঝড় বয়ে যেতে পারে। বঙ্গোপসাগরে চলতি মাসে একটি, এপ্রিলে দুটিসহ মোট তিনটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এপ্রিলে একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়বে দিনের তাপমাত্রাও। বৃষ্টিপাত হবে স্বাভাবিকের তুলনায় কম।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এখনো প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা কম। সূত্রমতে, নগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ৪৭৯টি। এর মধ্যে নগরে রয়েছে ৭২টি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে ৭ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখলেছুর রহমান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, ‘বর্তমানে ৪৭৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে চার লাখ ৫২ হাজার ৮৮০ জনকে আশ্রয় দেওয়া যাবে। নগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় আরও ২০১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’
উপকূলীয় যেসব এলাকায় আরও ২০১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এর মধ্যে সন্দ্বীপে ৯০টি, বাঁশখালীতে ২৪টি, আনোয়ারায় ১৮টি, সীতাকুণ্ডে ৩০টি, পটিয়ায় ১৫টি, মিরসরাইয়ে ২৪টি, পটিয়ায় ১৫টি ও নগরে ৩০টি। নাম প্রকাশ না করে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি শুধু কাগজ-কলমে রয়ে গেছে।’ তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের পরে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।’ ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা প্রণীত নাগরিক অধিকার অনুযায়ী, দুর্যোগজনিত ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচির আওতায় সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার মাধ্যমে দুস্থ ও দরিদ্র জনসাধারণের টেকসই আয় উত্পাদনমূলক কর্মবিনিয়োগ নিশ্চিত করার কথা থাকলে তা-ও রয়ে গেছে কাগজ-কলমে।
সূত্রমতে, ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলা ও বিজলীতে জেলার বাঁশখালী, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা ও সীতাকুণ্ডের প্রায় এক লাখ মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচির আওতায় একটি পরিবারকেও সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে দুর্যোগজনিত ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচির কার্যক্রম না থাকার কথা স্বীকার করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, ‘জোট সরকারের আমলে এই প্রকল্পের কাজ চালু ছিল। বর্তমানে তা নেই। তবে আমরা পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।’ সূত্রমতে, বর্তমানে বাঁশখালীতে ১১৭, সন্দ্বীপে ৬২, আনোয়ারায় ৫৮, সীতাকুণ্ডে ৫৯, পটিয়ায় ১৩, মিরসরাইতে ৭৫, বোয়ালখালীতে ৮, চন্দনাইশে ৫, সাতকানিয়ায় ৩, রাঙ্গুনিয়ায় ৩, রাউজানে ২ এবং নগরের ৭২টিসহ মোট ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, বিগত জোট সরকারের আমলে সন্দ্বীপে ১৮০টি, বাঁশখালীতে ২২০টি, আনোয়ারায় ৪৫টি, সীতাকুণ্ডে ৬৫টি, মিরসরাইয়ে ৫৫টি, নগরে ৭০টি, পটিয়ায় ৩০টিসহ মোট ৬৬৫টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর ও উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা ২০ লাখ মানুষের জন্য অন্তত এক হাজার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা দরকার।’ সূত্রমতে, বাঁশখালীতে আট লাখ, মিরসরাইয়ে চার লাখ, সন্দ্বীপ আড়াই লাখ, নগরে তিন লাখ, সীতাকুণ্ডে দেড় লাখ, আনোয়ারায় এক লাখ মানুষ দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। পতেঙ্গা লালদিয়ারচরের বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘বৈশাখ আসার আগেই বুক কেঁপে ওঠে। সাগরে মাছধরা আমার পেশা। কোনো রকমে সংসার চলে। ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেলে এক কিলোমিটার দূরে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে চলে যাই। আরও কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র এই এলাকায় হলে ভালো হতো।’
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মাসে দেশের উত্তর ও মধ্য অঞ্চলে দু-তিন দিন, একইভাবে এপ্রিল মাসে পাঁচ-সাত দিন মাঝারি বা তীব্র কালবৈশাখী এবং দেশের অন্যত্র চার-ছয়টি (এপ্রিলে) হালকা-মাঝারি কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এ ছাড়া মার্চ-এপ্রিলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দু-তিনটি মাঝারি তাপ প্রবাহ (৩৮-৪০ ডিগ্রি) এবং দেশের অন্যত্র দু-তিনটি মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৬-৩৮ ডিগ্রি) বয়ে যেতে পারে। এপ্রিলে বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণকেন্দ্রের উপপরিচালক শাহ আলম এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে এ মাসেই একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে।
মোহাম্মদ রফিক
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন উপকূলের প্রায় ২০ লাখ মানুষ। এসব এলাকায় এখনো গড়ে ওঠেনি পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও দরিদ্র জনসাধারণকে সহায়তার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচিরও বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন সময়ে তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও দুর্যোগ মোকাবিলার এসব কর্মপরিকল্পনা শুধু কাগজ-কলমে আটকে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে কালবৈশাখী ও নিম্নচাপের আশঙ্কার কথা জানা গেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে। মার্চ-এপ্রিলে দেশের ওপর দিয়ে মাঝারি ও তীব্র ঝড় বয়ে যেতে পারে। বঙ্গোপসাগরে চলতি মাসে একটি, এপ্রিলে দুটিসহ মোট তিনটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এপ্রিলে একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সেই সঙ্গে বাড়বে দিনের তাপমাত্রাও। বৃষ্টিপাত হবে স্বাভাবিকের তুলনায় কম।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এখনো প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা কম। সূত্রমতে, নগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ৪৭৯টি। এর মধ্যে নগরে রয়েছে ৭২টি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে ৭ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখলেছুর রহমান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, ‘বর্তমানে ৪৭৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে চার লাখ ৫২ হাজার ৮৮০ জনকে আশ্রয় দেওয়া যাবে। নগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় আরও ২০১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি।’
উপকূলীয় যেসব এলাকায় আরও ২০১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে এর মধ্যে সন্দ্বীপে ৯০টি, বাঁশখালীতে ২৪টি, আনোয়ারায় ১৮টি, সীতাকুণ্ডে ৩০টি, পটিয়ায় ১৫টি, মিরসরাইয়ে ২৪টি, পটিয়ায় ১৫টি ও নগরে ৩০টি। নাম প্রকাশ না করে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি শুধু কাগজ-কলমে রয়ে গেছে।’ তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক। তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের পরে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর জন্য চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।’ ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা প্রণীত নাগরিক অধিকার অনুযায়ী, দুর্যোগজনিত ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচির আওতায় সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার মাধ্যমে দুস্থ ও দরিদ্র জনসাধারণের টেকসই আয় উত্পাদনমূলক কর্মবিনিয়োগ নিশ্চিত করার কথা থাকলে তা-ও রয়ে গেছে কাগজ-কলমে।
সূত্রমতে, ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলা ও বিজলীতে জেলার বাঁশখালী, মিরসরাই, সন্দ্বীপ, আনোয়ারা ও সীতাকুণ্ডের প্রায় এক লাখ মানুষের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচির আওতায় একটি পরিবারকেও সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে দুর্যোগজনিত ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচির কার্যক্রম না থাকার কথা স্বীকার করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, ‘জোট সরকারের আমলে এই প্রকল্পের কাজ চালু ছিল। বর্তমানে তা নেই। তবে আমরা পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।’ সূত্রমতে, বর্তমানে বাঁশখালীতে ১১৭, সন্দ্বীপে ৬২, আনোয়ারায় ৫৮, সীতাকুণ্ডে ৫৯, পটিয়ায় ১৩, মিরসরাইতে ৭৫, বোয়ালখালীতে ৮, চন্দনাইশে ৫, সাতকানিয়ায় ৩, রাঙ্গুনিয়ায় ৩, রাউজানে ২ এবং নগরের ৭২টিসহ মোট ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, বিগত জোট সরকারের আমলে সন্দ্বীপে ১৮০টি, বাঁশখালীতে ২২০টি, আনোয়ারায় ৪৫টি, সীতাকুণ্ডে ৬৫টি, মিরসরাইয়ে ৫৫টি, নগরে ৭০টি, পটিয়ায় ৩০টিসহ মোট ৬৬৫টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর ও উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা ২০ লাখ মানুষের জন্য অন্তত এক হাজার আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা দরকার।’ সূত্রমতে, বাঁশখালীতে আট লাখ, মিরসরাইয়ে চার লাখ, সন্দ্বীপ আড়াই লাখ, নগরে তিন লাখ, সীতাকুণ্ডে দেড় লাখ, আনোয়ারায় এক লাখ মানুষ দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। পতেঙ্গা লালদিয়ারচরের বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘বৈশাখ আসার আগেই বুক কেঁপে ওঠে। সাগরে মাছধরা আমার পেশা। কোনো রকমে সংসার চলে। ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেলে এক কিলোমিটার দূরে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে পরিবার নিয়ে চলে যাই। আরও কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র এই এলাকায় হলে ভালো হতো।’
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মাসে দেশের উত্তর ও মধ্য অঞ্চলে দু-তিন দিন, একইভাবে এপ্রিল মাসে পাঁচ-সাত দিন মাঝারি বা তীব্র কালবৈশাখী এবং দেশের অন্যত্র চার-ছয়টি (এপ্রিলে) হালকা-মাঝারি কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এ ছাড়া মার্চ-এপ্রিলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দু-তিনটি মাঝারি তাপ প্রবাহ (৩৮-৪০ ডিগ্রি) এবং দেশের অন্যত্র দু-তিনটি মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৬-৩৮ ডিগ্রি) বয়ে যেতে পারে। এপ্রিলে বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণকেন্দ্রের উপপরিচালক শাহ আলম এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে এ মাসেই একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে পারে।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)