শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০১০

ইসলামপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব

ইসলামপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব


উপজেলার ইসলামপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। বনবিভাগের স্থানীয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে একটি চক্র পরিবেশ বিধ্বংসী একাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


জানা যায়, ইসলামপুর ইউনিয়নের নাপিতখালী বটতলীর পার্শ্বে ভিলেজার পাড়া বিট অফিসের পার্শ্ববর্তী পাহাড়সহ অন্তত ৯/১০টি স্পটে প্রতিদিন পাহাড় কাটা চলছে। পাহাড়ের মাটি বিক্রির একটি শক্তিশালী সিকিন্ডেট নাপিতখালী বিট ও ফুলছড়ি রেঞ্জের অসাধু কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীকে ম্যানেজ করে অবাধে এ ধরনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে নতুন অফিসের পাশ্বে অবস্থিত একটি পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক কাটা হয়ে গেছে।


পাহাড়কাটার কাজে নিয়োজিত দিনমজুর আবুল কাসেম, রহিমউল্লাহ ও আবদুল গফুরের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তারা বলেন, হেডম্যান নুরুল আলম আমাদের পাহাড়কাটার জন্য এনেছে। তবে এ ব্যাপারে হেডম্যানের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সূত্রে প্রকাশ, কয়েকজন বন জায়গীরদার ও হেডম্যান মিলে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।


এদিকে এ ঘটনার ব্যাপারে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা নেজামত উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তার এলাকার পাহাড় কাটা সংক্রান্ত কোন তথ্য তিনি জানেন না। খবর পেলে এর বিরুদ্ধে অ্যাকশানে যাবেন। তিনি আরো বলেন, আমি নতুন এসেছি। পুরনোরা এ ব্যাপারে ভাল জানবেন।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

মানিকছড়িতে নদী ভাঙন রোধে ব্লক তৈরির কাজে অনিয়মের অভিযোগ

মানিকছড়িতে নদী ভাঙন রোধে ব্লক তৈরির কাজে অনিয়মের অভিযোগ




খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় গচ্ছাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্লক তৈরির কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সড়ক ও জনপদের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে কোটি টাকার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্লক তৈরি কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় ব্লক নির্মাণ করার সময় বালু ও পাথর, সিমেন্ট, ব্লক মাপ ও ওজনে অনেক কম দিয়ে চলছে নির্মাণ কাজ। নিম্নমানের প্রায় ২৫০০ হাজার ব্লক তৈরি হয়েছে।


উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিম্নমানের কাজ হওয়ার ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার (এস ডি ও) মোঃ জাহাঙ্গীর চট্টগ্রাম বিভাগের সাথে কথা বললে তিনি জানান, কাজ ভাল না মন্দ হচ্ছে তা জেনে লাভ কি ? আমি ইঞ্জিনিয়ার আমিই ভাল মন্দ দেখব। এলাকার সচেতন মানুষের ধারণা কিছুদিন পরে ব্লকগুলো আবার ভেঙ্গে যাবে, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশে ভাঙ্গন প্রতিরোধে এই ব্লক কোন কাজে আসবেনা। ঝুকি নিয়েই চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি মহাসড়কে প্রতিনিয়ত চলাচল করবে অসংখ্য যানবাহন। ঝুকির মধ্যেই পরে থাকবে গচ্ছাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী ও এলাকা সংলগ্ম অসংখ্য মানুষ থাকবে চরম ঝুঁকিতে এলাকাবাসী নির্মাণ কাজের তদারকির জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

পাহাড়ি এলাকার পরোপকারী কৃষকের লাশ পাহাড়েই গুম?


পাহাড়ি এলাকার পরোপকারী কৃষকের লাশ পাহাড়েই গুম?


পাহাড়ের উঁচু ঢালুতে একটি টঙ ঘর। টঙ ঘরের দেয়ালে, ভাতের হাড়িতে এবং টঙ ঘরে পড়ে থাকা লুঙ্গি-শার্টে ছোপ ছোপ রক্ত। রান্না করা টক বেগুনের চাটনি আর ভাত পড়ে আছে। নেই দরিদ্র কৃষক মো. এয়াকুব। এই দৃশ্য দেখেই বাড়িতে খবর পাঠিয়েছে এয়াকুবের বন্ধু কৃষক জসিম। খবর পেয়ে দুই বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকাজুড়ে কমপক্ষে ৩ শত প্রতিবেশী ও গ্রামবাসী খোঁজাখুঁজি করেছেন তাকে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে শুধু রক্তের ছোপ ছোপ দাগ ছাড়া তারা কিছুই পাননি তারা। এতেই তারা নিশ্চিত হয়, কে বা কারা মো. এয়াকুবকে হত্যা করে তার লাশটি গুম করে ফেলেছে। ঘটানাটি ঘটেছে গত সোমবার দিন বা রাতের কোন এক সময় বাঁশখালীর পূর্বচাম্বল পাহাড়ি এলাকায় । গত বৃহস্পতিবার বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভায় চাম্বল ইউপি চেয়ারম্যান ফজল কাদের চৌধুরী ঘটনাটি বর্ণনা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।


কৃষক এয়াকুব পূর্ব চাম্বল ছাদেক ফকির পাড়ার জব্বর মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র। পরিবারের ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে এয়াকুব সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন। তরুণ কৃষক মো. এয়াকুব প্রকাশ লেডু ছিল খুবই পরিশ্রমী। পাহাড়ের বুকে শিম, বেগুন, কাকরোল ও ফল চাষাবাদ করে দরিদ্র পরিবারে কিছুটা সুখের সন্ধান খুঁজে পান তারা। সবজি আর ক্ষেত রক্ষার্থে এয়াকুব একাই পাহাড়ের উঁচু ঢালুতে টঙ ঘর তৈরি করে থাকতেন। শ্বাপদসংকুল পাহাড়ে অধিকাংশ রাত কাটাতেন তিনি। ঘটনার দিনও রাতে পাহাড়ে থাকার কথা। এ কারণেই পাহাড়ে ভাত তরকারি রান্না করেছিলেন। সেই রান্না আর খাওয়া হল না তার। এয়াকুবের পরিশ্রম আর সবজি ফলনের জন্য অন্য কৃষকদের কাছে খুবই প্রিয় ছিলেন। বৃদ্ধ কৃষকরা কাঁধে ভার করে পাহাড় থেকে কিছু আনার সময় এয়াকুব খালি হাতে থাকলেই মালামাল তিনি নিজেই কাঁধে করে পৌঁছে দিতেন। পরোপকারী মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সবার প্রিয়।


এয়াকুবের সত্তরোর্ধ্ব পিতা জব্বর মিয়া আর মা জোহরা বেগমের বিলাপ থামানো যাচ্ছে না। বুকভরা আর্তনাদ নিয়ে ছেলের লাশের খোঁজে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। পিতা জব্বর মিয়া জানান, ছেলেদের মধ্যে এয়াকুব ছিল অন্যরকম। লেখাপড়া করাতে না পারলেও এয়াকুব পরিশ্রম করে সংসারে সুখের প্রদীপ জ্বেলেছিল। প্রশাসনের নিকট তার দাবি ছেলের লাশটি অন্ততঃ খুঁজে দেয়া হোক।


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফজল কাদের চৌধুরী জানান, এয়াকুবকে কেউ হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলতে পারে। এলাকায় ঘটনাটি জানার পর থেকে লোক লাগানো হয়েছে তার লাশের সন্ধানে।


বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আতাউর রহমান বলেন, ঘটনাটি উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভায় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনেছি। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।



তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

স্থবির সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন

স্থবির সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন



সন্দ্বীপ উপজেলায় ২৩টি সরকারি বিভাগের মধ্যে ১৩টিই দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা শূন্য। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট জনবলের ঘাটতি রয়েছে ২৫৮ জনের মত। এমন অনেক সরকারি বিভাগ আছে যাদের কোন কর্মকাণ্ডই চোখে পড়ে না। এ তালিকায় আছে জনস্বাস্থ্য, পরিসংখ্যান, সড়ক ও জনপথ, মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন। মাঠ পর্যায়ে কাজের বিস্তৃতি রয়েছে এমন বিভাগের মধ্যে সমাজসেবা, সমবায়, কৃষি, বিআরডিপি এবং পশুপালন বিভাগেও লোকবল সংকট চরম।


সবচেয়ে বেশি কর্মীনির্ভর বিভাগ স্বাস্থ্য ওপরিবার পরিকল্পনা এবং কৃষিতে লোকবলের সংকট বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে মোট লোকবলের সংকট ৯৬ জন। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ৭০ জন এবং কৃষিতে ১৮ জন। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা বিভাগের অবস্থাও করুণ। এ বিভাগে পদশূন্য রয়েছে ৫৮টি। অন্যদিকে মৎস্য বিভাগে ৩ জন, এলজিইডিতে ৯জন, মহিলা বিষয়ক বিভাগে ২জন, পশুসম্পদ বিভাগে ২ জন, যুব উন্নয়নে ২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। এদিকে, প্রশাসনের শীর্ষ পদ ইউএনওসহ বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, কৃষি, হিসাবরক্ষণ, ভূমি অফিসার, আনসার-ভিডিপি, সমবায়, খাদ্য ও থানা কর্মকর্তাসহ ১০টি পদে কর্মকর্তা থাকলেও অন্য সব বিভাগের লোকবল সংকটের কারণে উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। জনবল সংকটে কারণে নিম্নপদের কর্মচারীরা কাজের চাপে হাঁফিয়ে উঠছেন। বিশেষ করে সমাজসেবার কাজের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা’র মত কার্যক্রম প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য ও মহিলা বিষয়ক বিভাগের কোন কার্যক্রমই সন্দ্বীপে দেখা যায় না। যুব উন্নয়ন দপ্তর ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে।


এদিকে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতেই সচিব পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। উপজেলার বেশির ভাগ সরকারি শূন্য পদের কয়েকটিতেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন নিম্ন পদস্থ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে উপজেলার শিক্ষা বিভাগে বর্তমানে শিক্ষা অফিসার, সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ ৪ জন কর্মকর্তাই সম্প্রতি বদলি হয়ে গেছেন, আছেন শুধু একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার। এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় দ্বীপের ২৮টি হাই স্কুলের দেখভাল করাও ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। অতি সম্প্রতি বদলি হয়ে গেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও। বর্তমানে এটিও চলছে সীতাকুণ্ড উপজেলার পিআইও’র অতিরিক্ত দায়িত্বে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদগুলো ভারপ্রাপ্ত দিয়ে পরিচালনা করায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ঢিলেঢালাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সময় মতো অফিসে না আসা, মধ্যাহ্ন বিরতির পর কর্মস্থল থেকে চলে যাওয়া, ইচ্ছে মতো ছুটি কাটানো সহ নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।


এ ব্যাপারে সন্দ্বীপ উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান বিএ জানান, নির্বাচিত হয়েই তিনি উপজেলার সার্বিক কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নিয়েছেন। একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা প্রশাসন চালাতে বিশেষ করে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের শূন্য পদগুলো পূরণে তিনি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন অচিরেই সরকার সন্দ্বীপ উপজেলায় শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা নেবে।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

নির্যাতিত হয়েছিলেন আলী আবদুল্লাহ


নির্যাতিত হয়েছিলেন আলী আবদুল্লাহ
রিটন আহসান


বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধা রাখা এবং নিজে মুক্তিযুদ্ধের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে নভেম্বরের ২ তারিখ ভোররাতে কয়েকজন পাকসেনা আমার বাড়ি থেকে আমাকে নিয়ে যায়। এসময় তাদের সাথে দেখা যায় প্রফেসর আমীর খসরু, সাবেক এমপি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম, আলবদর বাহিনীর সদস্য জালালসহ আরো একাধিক ব্যক্তিকে। অবশ্য ডালিম হোটেলে নির্যাতন চালানোর সময় নির্যাতনের মাত্রা কমানোর বিষয়ে সুপারিশ করেছিলেন সৈয়দ ওয়াহিদ।


আসকার দিঘীর দক্ষিণপাড়ের বাসিন্দা তৎকালীন কোতোয়ালী থানা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমাণ্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম আশ্রয়দাতা মোহাম্মদ আলী আবদুল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।


আশকার দিঘীর পূর্ব পাড়, কাজীর দেউরি ২ নম্বর গলি এবং আশকার দিঘীর দক্ষিনপাড় এই তিনটি এলকায় আলী আবদুল্লাহর তিনটি বাড়ি ছিল । এসব বাড়িতে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা চিন্তা করে মুক্তিযোদ্ধাদের রাখা হতো।


বাড়িতে আশ্রয়ে থাকা অন্যতম যোদ্ধা অরুণ দাশের কাছ থেকে জানা যায়, এই বাড়িতে নানাসময়ে ছিলেন রবিউল হোসেন কচি, কামরুল ইসলাম, ফখরুল আহসান মনি, অরুণ দাশ সাথী, জিন্নাহ গ্রুপের কিছু সদস্য, ডা. মাহবুবের গ্রুপের কয়েকজন সদস্য। তিনি জানান, আমরা আশকার দিঘীর দক্ষিণ পাড়ের বাড়ির কোণায় একটি বাংলো ঘরে থাকতাম। আলী আবদুল্লাহর মা সুনিয়ারা বেগম সবাইকে রান্না করে খাওয়াতেন। বাবা আহমদ কবিরও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছিলেন।


আলী আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ ফিরোজ কবির এবং মরহুম মোহাম্মদ সেলিম কবির তিনভাই স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন। তবে এদের মধ্যে মোহাম্মদ সেলিমের ভুমিকা বেশি। তিনি ছিলেন অসম্ভব সাহসী এবং আন্তরিক। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য হাসিমুখে প্রাণ দিতেও প্রস্তুত ছিলেন।


আলাপচারিতায় জানা যায়, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি দেশ স্বাধীন হবার পর প্রথম চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পান।


বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে যাই বলুক না কেন আমার মনে হয় না খুব সুখকর কিছু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দোহাই দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু এক্ষেত্রেও খুব বেশি আশার আলো দেখছি না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়তো হবে সেক্ষেত্রেও কিছু চুনোপুটি ছাড়া রাঘব বোয়ালদের কিছুই হবে না। কারণ গোটা বাংলাদেশটাই চলছে পরিকল্পনাবিহীন অবস্থায়।

বাজারে ন্যায্যমূল্য নেই, ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি, কৃষকের মাথায় হাত

বাজারে ন্যায্যমূল্য নেই, ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি, কৃষকের মাথায় হাত

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া


সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে উৎপাদিত নানা জাতের মৌসুমী সবজি এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকরা ক্ষেত থেকে সবজি উঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে মাঠে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে উৎপাদিত সবজি। অনেকেই পাইকারি বাজারে সবজি এনে বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে। আর দক্ষিণ চট্টগ্রামের কোথাও হিমাগার না থাকায় সবজি সংরক্ষণেরও কোন ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। চাহিদা না থাকায় সবজি চাষীরা এখন দিশেহারা। অনেকেই এখনো সবজি বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন। সাতকানিয়া ও চন্দনাইশের পাইকারী সবজি বাজারগুলো সরেজমিন পরিদর্শন ও চাষীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।


গতকাল শুক্রবার সকালে সাতকানিয়ার শিশুতলা ও চন্দনাইশের দোহাজারীসহ বেশ কয়েকটি সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম ও মুলাসহ নানা জাতের প্রচুর পরিমাণ মৌসুমী সবজি চাষীরা বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছে। কিন্তু বেশির ভাগই অবিক্রিত রয়ে গেছে। সাতকানিয়ার কালিয়াইশের সবজি চাষী আবদুল মালেক, ছবুর, নুরুল ইসলাম, দোহাজারীর নেয়ামত আলী, আবিদুর রহমানসহ অনেকে জানান, বাজারে বর্তমানে সবজির যে দাম তা দিয়ে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠবে না। তারা জানান, জমির খাজনা, সবজির বীজ, চারা ক্রয়, সার, কীটনাশক প্রয়োগ, মুজরি খরচ, বাজারজাত করতে পরিবহন খরচসহ প্রত্যেকটি ফুল কপি ও বাঁধাকপিতে প্রায় ৫/৬ টাকা করে খরচ পড়ছে। আর বাজারে ২/৩ কেজি ওজনের একটি কপি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে এক টাকা দরে। আবার অনেক সময় বিক্রিও হচ্ছে না। এছাড়াও শিম, বেগুন, মুলা ও টমেটো বিক্রি করেও ন্যায্যমুল্য পাচ্ছে না বলে কৃষকরা। গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজি বাজার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে বেগুন ও টমেটো বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৫০ পয়সা দরে। সবজি চাষী আবুল কালাম ও জেবর মুল্লক জানান, এখন আর ক্ষেত থেকে সবজি উঠাবে না। তাদের মতো আরো অনেকেই ক্ষেত থেকে সবজি উঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। অপরদিকে, সাতকানিয়ার ছদাহা, বাজালিয়া, পুরানগড়, চরতি, খাগরিয়া, নলুয়া এবং চন্দনাইশের দোহাজারী, ধোপাছড়ি, চাগাচর, বৈলতলী, বরমা, বরকলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার একর ক্ষেতে এখনো নানা জাতের সবজি রয়ে গেছে। এসব এলাকার কৃষকরা বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষেত থেকে সবজি উঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের সবজি মাঠে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চান মিয়া, লিয়াকত ও আবুল বশরসহ কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, বাজারে এখন প্রচুর পরিমাণ সবজি থাকায় দাম খুব কম। ফলে তারা সবজি নেয়া আপাতত বন্ধ করে দিয়েছেন। কৃষকরা জানান, এখানে কোন হিমাগার না থাকায় প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়ে যায়। একটি হিমাগার স্থাপন করা গেলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করতে পারতেন।

নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে

নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে



মাছ ও মাংস সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও বেড়ে গেছে। এছাড়া মৌসুমের শাক-সবজির দামও কম নয়।


নগরীর বেশ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সরবরাহ কম হওয়ায় মাছের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। একশ টাকার নিচে কোন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। রুই মাছ কেজি ১৪০-২০০ টাকা, কাতাল ১৫০-১৬০, চিংড়ি ২০০-৬০০ টাকা, কোরাল ৪৫০-৫৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০-১৪০ টাকা ও সিলভার কার্প ১৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।


গরুর মাংস ৩০০-৩২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মাংসের দাম আগের মতই আছে। তবে সাধারণের পক্ষে তা কেনা সম্ভব নয় বলে ক্রেতাদের অভিমত।


নগরীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা বিভিন্ন দামে পণ্য বিক্রি করছে। বিশেষ করে বাজারে যে দ্রব্যের সরবরাহ কম, তার দামেও হেরফের বেশি।


নগরীর চকবাজারের গতকালকের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম: মোটা চাল ৩৩-৩৫ টাকা, চিকন চাল ৩৫-৩৮, ডাল ১১৫-১২০, চিনি ৪৫-৪৮, লবণ ১৮-২০, ফার্মের মুরগির ডিম ডজন ৬৮, দেশি ডিম ডজন ৯৬, সয়াবিন তেল ১৮৫, আলু ৮-১২, বেগুন ১৫-২০, লাউ ১০-১২, কাঁচা মরিচ ৩৫-৪০, ধনেপাতা ৪০, মিষ্টি কুমড়া ১০, ঢেঁড়স ৩০, তিত করলা ৩০-৩২ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।


রেয়াজুদ্দিন বাজারে গতকালকে মোটা চালের দাম ছিল ২৮ টাকা, চিকন চাল ৩৫,আলু ১০ টাকা, টমেটো ৮, ফুলকপি ১৫, বাঁধাকপি ১০, ডাল ৮৬-৯০, লাউ ৭, বেগুন ৬, কাঁচামরিচ ২৫-২৮, পেঁয়াজ ১৬, দেশি মুরগির ডিম এক হালি ২৬-২৮, ফার্মের ২২, রসুন ৯০, গরুর মাংস ৩০০, দেশি মুরগি ২৩০ এবং ফার্মের মুরগি ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


গত সপ্তাহের তুলনায় ফার্মের মুরগির দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া ক্রেতার চাহিদা কমে যাওয়ায় শীতকালীন সবজির দাম আগের চেয়ে কমে গেছে । তবে নতুন যেসব সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে সেগুলোর দাম আপাতত বেশি। যেমন একটা লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪-৫ টাকায়, বেল ৩০-৪০ টাকায়।


চকবাজারের মাংস বিক্রেতা নুর মোহাম্মদ বলেন, মাংসের দাম আগে যা ছিল এখনো তাই আছে।


রেয়াজুদ্দিন বাজারের মাছ বিক্রেতা সালাম বলেন, চার-পাঁচ মাস মাছের দাম বেশি থাকার সম্ভাবনা আছে। বাজারে এখন চাহিদার তুলনায় মাছের সরবরাহ কম।


চাকরিজীবী ফজল আহমেদ একজন বিক্রেতার সাথে বেশ রেগে গিয়ে বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমাদের মত নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের চলাটা বড় কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দোকনদাররা ইচ্ছামত দাম দিচ্ছে। আমি না কিনলেও আর একজন ঠিকই কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কথা ভাববার কেউ নেই।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত


ওয়ার্ড কার্যালয় অন্য ওয়ার্ডে!


ওয়ার্ড কার্যালয় অন্য ওয়ার্ডে! মঈন সৈয়দ


আদালত ভবন থেকে হাতের বামে সামান্য এগুলে বান্ডেল রোড সেবক কলোনি। নেশার অন্ধকার জগত। এ কলোনি কয়েকমাস আগেও ছিল চট্টগ্রাম মহানগরীর নেশার এক বড় আখড়া। এখানকার মাদক আড্ডার কারণে সম্মানহানি হতো পুরো আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডবাসীর। নিজের পাঁচ বছরের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী শুরুতেই বললেন, মাদক আখড়া বন্ধ করার কথা।
গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে বন্ধ হয় সেবক কলোনির মাদকের কারবার। অন্ধকার জগতে আলোর আভা ছড়াতে সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে একটি ইবাদতখানা। সেবক কলোনির বাড়িগুলোর দুর্দশা ও নানা সমস্যা থেকে পশ্চাৎপদ এসব মানুষকে মুক্তি দিতে দুটি ছয়তলা হাইরাইজ ভবনের কাজ শুরু হয়েছে।
এক বর্গকিলোমিটারের বেশি আয়তন নিয়ে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড। এর জনসংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। যার মধ্যে ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার। ওয়ার্ডের অনেক সমস্যার মধ্যে বড় সমস্যাটি হলো অন্য ওয়ার্ডে কমিশনারের কার্যালয়টি বর্তমানে পার্শ্ববর্তী পাথরঘাটা ওয়ার্ডের আনসার ক্লাবে অবস্থিত। ওয়ার্ডের একেবারে পূর্বপ্রান্তে কার্যালয় হওয়ায় সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করতে স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হয়। কাউন্সিলরও বলেছেন, কার্যালয়টি সিটি করপোরেশনের সামনের সুপার মার্কেট অথবা করপোরেশনের পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। বর্তমানে হাজারী গলির ৬৫ নম্বর রণধীর বিল্ডিংয়ের অস্থায়ী একটি অফিস থেকে জম্ম ও নাগরিক সনদসহ নানা কাজ সম্পন্ন হয় বলে এলাকাবাসী জানান।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারীর মতে পানি সঙ্কট তার ওয়ার্ডের এক নাম্বার সমস্যা। রাজাপুকুর লেইন, সতীশ বাবু লেইন, টিএন্ডটি কলোনি, বদরপাতিতে চলছে পানির হাহাকার। তিনি বলেন, ওয়াসা পানি দিতে না পারায় কয়েকটি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। কিন্তু যত্রতত্র গড়ে ওঠা হাইরাইজ ভবনের মোটরের কারণে সেগুলো থেকে পর্যাপ্ত পানি মিলছে না।
তার দায়িত্বকালীন পাঁচ বছরে এলাকায় রাস্তাঘাট অনেক উন্নত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সমস্যার মধ্যেও আশার কথা হচ্ছে এলাকার সৌন্দর্য বাড়াতে লালদীঘিতে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল হতে যাচ্ছে। এজন্য দুই কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, সাড়ে ৩০০ বছর আগে ১৬৬৬ আলে মোগলদের চট্টগাম বিজয়ের পর সেনাপাতি উমেদ খান চট্টগ্রাম কিল্লার নাম দেন আন্দরকিল্লা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়, আদালত ভবন, কেন্দ্রীয় কারাগার, লালদীঘি, জেলা পরিষদ ভবন, বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ভবন, জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও), মুসলিম ইন্সটিটউট হল, ওষুধ ও স্বর্ণ ব্যবসার কেন্দ্র হাজারী গলি, হযরত শাহ আমানত (র.) ও হযরত বদর শাহর (র.) মাজারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে এ ওয়ার্ডে। বহুকাল আগে থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত। আন্দরকিল্লা দিন দিন হারিয়ে ফেলছে তার অভিজাত্য ও ঐতিহ্য।
যানজট ও ময়লা আবর্জনার স্তুপ এখানকার সুনাম ক্ষণœœ করছে। আন্দরকিল্লা থেকে বক্সিরহাট সড়কটি ওয়ানওয়ে করার পরও যানজট কমছে না। হাজারীগলির ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, যানজট নিরসনে বদরখাল থেকে লালদীঘির পূর্ব পাড়ের ওরিয়েন্টাল টাওয়ার পর্যন্ত খালের ওপর স্ল্যাব দিলে এবং একমুখী যানবাহন চলাচল করলে যানজট অনেকটা কমে আসবে।
আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে নিয়মিত আটটি ভ্যান গাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করলেও আবর্জনার স্তূপ কমছে না। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও নজির আহমদ চৌধুরী সড়কের আইন কলেজের সামনে এবং সিনেমা প্যালেসের মোড় ও লালদীঘির উত্তর পশ্চিম পাড় এলাকাসহ একাধিক স্থানে রাস্তার ওপর সব সময় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। আর এ আবর্জনা সঠিক সময়ে সরিয়ে না ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে সর্বত্র। এতে পথচারীসহ সর্বসাধারণের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে।

ফুল চাষে স্বাবলম্বী হাটহাজারীর সফি


ফুল চাষে স্বাবলম্বী হাটহাজারীর সফি



হাটহাজারীতে প্রথম ফুলচাষী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ সফি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ফুল চাষ করে সংসারের আর্থিক দৈন্য দূর করে এখন স্বচ্ছলতা ফিরে পেয়েছেন। ফুল চাষ তাকে স্বাবলম্বী করে তুলেছে। হাটহাজারী সদরের অনতি দূরে আলমপুর গ্রামে সফির ফুল বাগান। তার বাড়িও একই গ্রামে।
সরেজমিন তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৫ বছর আগে হাটহাজারীতে সর্বপ্রথম তিনিই ফুল চাষ শুরু করেন। প্রথমে শুধুমাত্র শখের বশে শুরু করলেও এখন সেটি তার ভাগ্য ফিরিয়ে দিয়েছে। এটাই এখন তার একমাত্র উপার্জনের উৎস। উপজেলা সদর আলমপুর ও মোহাম্মদ পুর গ্রামে এবার প্রায় ২০০ শতক জমিতে ফুল চাষ করেছেন তিনি। ফুল চাষে এখন প্রতি বছর তার আয় কয়েক লাখ টাকা। তিনি গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, ¯¦র্ণকুটি ছাড়াও পাঁচ-ছয় রকমের ফুলের চাষ করেন বলে জানিয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারিভাবে আর্থিক সাহায্যে সহযোগিতা ফেলে হয়তো আরো বেশি করে ফুল চাষ করতে পারবেন।
তিনি জানান, যদি কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না, ঘটে এবার অন্যান্য বার থেকে আরো বেশি লাভবান হবেন। চট্টগ্রাম নগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি ফুল সরবরাহ করে থাকেন। এ ব্যাপারে সরকারি বা বেসরকারি সাহায্য কামনা করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফুল চাষে চাষীদের আগ্রহ বাড়ছে। এ ব্যাপারে কৃষি অফিস থেকে চাষীদের তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সাহায্য প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে হাটহাজারীতে প্রায় ৭০ একর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের মোহাম্মদ সফি ছাড়াও নাঙ্গলমোড়া গ্রামের মোহাম্মদ জাহেদ, ছিপাতলী গ্রামের ডা. আবুল খায়ের ও ফতেয়াবাদের জসিমসহ অনেকেই ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

মদুনাঘাট ওয়াপদা সেতুটি এক দশক সংস্কারহীন


মদুনাঘাট ওয়াপদা সেতুটি এক দশক সংস্কারহীন


হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের মদুনাঘাট ওয়াপদা কলোনির সামনে হালদা নদীর শাখা খালের ধসে যাওয়া সেতুটি সংস্কার না করায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যার প্রবল স্রোতে সেতুটির একপ্রান্ত প্রায় ১৫ ফুট মাটিতে দেবে যায়। দীর্ঘদিন যাবত সেতুটি অকেজো হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
দক্ষিণ মাদার্শা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুর রহমান (৭৫) প্রতিবেদককে জানান, প্রায় আট বছর পূর্বে সেতুটি বন্যার প্রবল স্রোতে ধসে যায়। সেতুটির দক্ষিণ প্রান্তে সড়ক থেকে প্রায় ১৫ ফুট নিচে দেবে যায়। এতে উত্তর ও দক্ষিণ মাদার্শাসহ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এ সেতুটি অকেজো হয়ে থাকায় এলাকার হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এছাড়া সেতু সংলংগ্ন ওয়াপদা কলোনির বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বেশি, সেতুটি ভাঙা থাকায় যোগাযোগ ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির ওপর ছোট একটি সাঁকো দিয়ে এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হচ্ছে। কিন্তু কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয় আহমদুল হক, জসিম উদ্দীনসহ একাধিক এলাকাবাসী সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছ অনেক আবেদন-নিবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। সেতুটির দুরবস্থা নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। এলাকাবাসী অবিলম্বে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আকতারুল ইসলাম জানান, এ সেতুটি এলজিইডির আওতাভুক্ত না হওয়াতে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর এ সেতুর উন্নয়ন কাজ করেনি।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

চট্টগ্রামে ভাড়াটিয়াদের বিড়ম্বনার শেষ নেই

চট্টগ্রামে ভাড়াটিয়াদের বিড়ম্বনার শেষ নেই
স্বপন মল্লিক

নগরীর একশ্রেণীর বাড়িওয়ালা প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে আদায় করে যাচ্ছে ইচ্ছামতো বাড়িভাড়া। এতে করে ভাড়াটিয়া আর বাড়িওয়ালাদের মধ্যে মতবিরোধ লেগেই আছে। ফলে এ মতবিরোধের জের ধরে নিরুপায় হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আদালতে মামলা ঠুকে দিচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত তথা নিগৃহীত পক্ষ ভাড়াটিয়ারাই মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া দাবির যন্ত্রণা থেকে রক্ষার জন্যই আইনের আশ্রয় নিচ্ছে সংখ্যায় বেশি।
খবর নিয়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগীর ১২টি থানা এলাকার ঘরভাড়া সংক্রান্ত মামলা দায়ের করতে হয় প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, দ্বিতীয় সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, তৃতীয় সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ও পঞ্চম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে।
জানা গেছে, বিগত ২০০৯ সালে উল্লেখিত চারটি আদালতের শুধু একটিতেই দায়ের করা হয়েছে প্রায় শতাধিক অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগে মামলা। এ সময়ে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১০৬ ধারা মতে বাড়িওয়ালা কর্তৃক দায়ের হয় সর্বমোট মাত্র তিনটি মামলা। চট্টগ্রামের পঞ্চম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ভাড়াটিয়াদের দায়েরকৃত মামলার মাসওয়ারি এক হিসাবে দেখা গেছেÑ জানুয়ারিতে ১৯টি, ফেব্রুয়ারিতে একটি, মার্চে ১২টি, এপ্র্রিল তিনটি, মে মাসে তিনটি, জুনে চারটি, জুলাইয়ে দুটি, আগস্টে ১৯টি, সেপ্টেম্বরে ১০টি, অক্টোবর মাদেুধুটি, নভেম্বরে দুটি ও ডিসেম্বরে কোর্ট বন্ধের ফাঁকেও একটি মামলা দায়ের করা হয়।
চট্টগ্রাম মহাগরীতে প্রায় নব্বই শতাংশেরও বেশি লোকের বাস ভাড়াবাড়িতে। দিন দিন বাড়ছে এ সংখ্যা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপ্রতুল এমন অঞ্চলের অধিকাংশই লোক ছুটছে শহর পানে। মানুষের ক্রমবর্ধমান শহরমুখী প্রবণতার সঙ্গে সমানতালে বাড়ছে ভাড়াবাড়ির চাহিদা।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের ১০(ক) ধারায় বলা হয়েছেÑ বাড়ির মালিক অগ্রিম হিসেবে মাত্র এক মাসের ভাড়া নেবেন। একই আইনের ১৬ (১) ধারা অনুযায়ী এই ভাড়া বাড়িওয়ালা রসিদমূলে নিতে বাধ্য। রসিদে এও উল্লেখ থাকতে হবে, ভাড়াটিয়ার মাসিক ভাড়া এবং বিভিন্ন সেবা বিল আলাদা আলাদাভাবে নেয়া হচ্ছে। পরনো ভাড়াটিয়ার ভাড়া বৃদ্ধি সম্পর্কে ১৬(২) ধারায় বলা হয়েছে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে প্রতি তিন বছর পর ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা যাবে। কিন্তু পদে পদে লঙ্ঘন করা হচ্ছে সে আইন। স্বল্পসংখ্যক বাড়িওয়ালাই আছেন যারা কমপক্ষে এক বা দুই মাসের ভাড়া অগ্রিম গ্রহণ করেন।
কিন্তু চলমান প্রেক্ষাপটে তিনের অধিক মাসের ভাড়া অগ্রিম নেয়া নিয়ম হয়ে গেছে। অগ্রিম কর্তনের ক্ষেত্রেও সুবিধাভোগী বাড়ির মালিক। মানা হয় না সুনির্দিষ্ট নীতি। কর্তন শর্ত বাড়ির মালিকই নির্ধারণ করে দেন। ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাড়ির মালিকের। গ্রতি তিন বছরে একবার নয়, ভাড়া বাড়ানোর সময়টিও তার মর্জিমতো। ভাড়ার রশিদ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রায় সব মালিকই একই নিয়ম মেনে চলেন। প্রকৃত ভাড়া অপেক্ষা রসিদে কম লিখেন। এটি তারা করেন আয়কর ফাঁকি দিতে। প্রায় নিরানব্বই শতাংশ বাড়ি মালিকই তা অনুসরণ করেন।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে আলাপ করা হয়েছে কয়েকজন বাড়িওয়ালার সঙ্গে। তাদের একজন আগে থেকে আইনটি সম্পর্কে অবহিত অন্যরা এ প্রথম জানতে পেয়েছেন। সবারই অভিমত, আইনটি পরিবর্তন দরকার। প্রতি তিন বছর পর ভাড়া বাড়ানোর আইন মেনে চলা সম্ভব নয়। সবকিছুর দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এ মূূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাড়িওয়ালার ওপরও পড়ছে।
আইনটি সম্পর্কে অনেক ভাড়াটিয়ার অভিমত জানতে চাইলে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরে বলেন, যেখানে বাসা পাওয়াই সমস্যা। সেখানে আইন নিয়ে মাথা ঘামানো যায় না। বাড়িওয়ালার সাথে দরাদরি করে যত টা সম্ভব সুবিধা আদায় করার পক্ষে তিনি।
অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, নগরমুখী মানুষের স্রোত রোধ করা না গেলে যত কঠোর আইনই করা হোক, তা দিয়ে ভাড়াটিয়ার দুর্দশা লাঘব করা যাবে না। চাহিদার তুৃলনায় বাসস্থান সংখ্যা কম। বাসাভাড়া নিতে আগ্রহী লোকটিই বরং চাইবে মালিকের সাথে আলাপ আলোচনা করে একটি সমঝোতাতে পৌঁছাতে।
নগরমুখী জনস্রোত রোধ করতে সর্বাগ্রে নজর দিতে হবে সুবিধাবঞ্চিত এলাকার উন্নয়নের দিকে। কেবল গ্রাম বা উঁচু স্তরের লোক নয়, সিটির বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের ভিআইপি, সিআইপি তথা অবস্থাপন্ন লোকও নিজেদের স্থায়ী বাসস্থান শহরের উন্নত সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ ওয়ার্ডে রাখতেই আগ্রহী।
অনেক পরিবার আছে, সন্তানকে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াতেই তারা বাসা ভাড়া নিয়েছেন। অনেকেই গ্রাম ছেড়েছেন শুধু জান মালের নিরাপত্তার জন্যই।
তথ্যাভিজ্ঞ মহলের অভিমত শিক্ষা, নিরাপত্তা, যাতায়াত এ তিনটি সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে কোনো লোকই নিজ এলাকা ছাড়তেন না ।