শনিবার, ৬ মার্চ, ২০১০

অভিনব কৌশলে চট্টগ্রাম টি.এস.পি সার কারখানা থেকে সার পাচার

অভিনব কৌশলে চট্টগ্রাম টি.এস.পি সার কারখানা থেকে সার পাচার

মো. জালাল উদ্দিন

বাংলাদেশের সার কারখানাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম টি.এস.পি কমফ্লেক্স প্রধান কারখানাটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান। এই সার কারখানা থেকে টি.এস.পি ইউরিয়া ও জিপসাম সারা দেশের প্রতিটি জেলায় সরবরাহ করা হয়। এই সার কারখানা থেকে বিগত ২/৩ যুগ ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সার চুরি ও সুকৌশলে পাচার করে আসছে। এই চক্রের সাথে কর্তৃপক্ষের বিপণন ও বিতরণ বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা জড়িত। ইতোমধ্যে তাদের অনেকেই অবসরে গেছেন। সার পাচারকারীদের বেশির ভাগই জিপসাম কাটিং ঠিকাদারী কাজে নিয়োজিত।তারা তাদের নিজস্ব পরিবহন ট্রাকে করে টি.এস.পি থেকে সার পরিবহন করে থাকে। এরা আবার স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিও। দেশের বড় ক্ষমতাধর রাজনৈতিক দলের নেতা হিসাবে তারা পরিচিত। যার কারণে অনেক কর্মকর্তা জেনেও মুখ খুলতে রাজী নয়। এই চক্রটি তাদের নিজস্ব ট্রাকে করে ডিলারদের সারের সাথে প্রতি ট্রাকে ১০/২০ বস্তা করে ইউরিয়া সারের ব্যাগ অতিরিক্ত বের করে নিয়ে যায়। গেইটের বাহিরে এনে সারের বস্তাগুলি নামিয়ে তাদের নিজস্ব গুদামে নিয়ে রাখে। একই নিয়মে ট্রাকে জিপসাম খোলা সার ট্রাক ভর্তি করে ওজন সেতু ৮.০ মে. টন চালান করে অতিরিক্ত আরও ২.০ মে. টন জিপসাম ভর্তি করে কারখানার বাহিরে এনে ট্রাকগুলি প্রথমে খালপাড় নামক স্থানে নিয়ে অতিরিক্ত জিপসামগুলি নামিয়ে ফেলা হয়। পরে জমাকৃত ঐগুলি সার চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। কয়েকদিন আগে ৫ (পাঁচ) ব্যাগ ইউরিয়া সার গেইটে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে ২২৪৫ নং ট্রাকসহ আটক হয়। ৪ দিন পর ঐ চক্রটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আপোষ করে গাড়ি ছাড় করে নেয়। বর্তমানে ট্রাকে সার ভর্তি করার আগে অভিনব কৌশলে ৮/১০ ব্যাগ ইউরিয়া সারের ব্যাগ ছিঁড়ে ট্রাকে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তার উপর সারের ব্যাগ ভর্তি করা হয়। এই ভাবে প্রতিদিন গড়ে হাজার হাজার টাকা ইউরিয়া ও জিপসাম সার পাচার হয়ে আসছে।


নিয়ম উপেক্ষা করে ট্রাকে লবণ পরিবহন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে ঝুঁকির সম্মুখীন

নিয়ম উপেক্ষা করে ট্রাকে লবণ পরিবহন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে ঝুঁকির সম্মুখীন

আবেদুজ্জমান আমিরী

নীতিমালা না মেনে ট্রাকে করে লবণ পরিবহনের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রোড দুর্ঘটনার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাইওয়ে পুলিশ এসব লবণবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট অংকের টাকা নিয়ে এসব গাড়ি চলাচলে সাহায্য করে থাকে। ফলে লবণের পানির সাথে সড়কে গাদ জমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ সড়ক। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে প্রথম কাল বৈশাখীর ঝড়ের কারণে রাসত্মার উপর জমে থাকা লবণের আস্তরণ ও তৈরী হওয়া গাদ অনেকটা ধুয়ে গেছে। সড়ক থেকে চলে গেছে জমে থাকা গাদের তেলতেলে ভাব। ফলে আপাতত লবণাক্ততা ঝুঁকিমুক্ত হয়েছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে সড়ক।

সূত্র জানায়, শুকনো মৌসুমে খোলামেলাভাবে লবণ পরিবহনের কারণে সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে এবং যত্রতত্র ঘটে দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত মারা গেছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করছে অসংখ্য মানুষ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে সড়কে স্থানভেদে এক ইঞ্চি পর্যন্ত গাদের স্তর জমাট বাঁধে। একাধিক মহল থেকে অভিযোগ নিয়ম মোতাবেক ট্রাকের বডির নিচে ও উভয় পার্শে দুই স্তর বিশিষ্ট পলিথিন দিয়ে লবণ লোড করার পর উপরে আবারও পলিথিন দিয়ে ঢেকে পরিবহনের নিয়ম আছে। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা করেনা ট্রাক চালকরা ও লবণ ব্যবসায়ীরা। লবণ ব্যবসায়ীরা তাদের খেয়াল খুশিমত লবণ পরিবহন করছে। ফলে রাস্তার উপর লবণের পানির সাথে ধুলিযুক্ত হয়ে মহাসড়কে লবণ গাদের আসত্মর জমে পিছালো হয়ে উঠে। সড়ক পিচ্ছিল হওয়ায় গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করতে চাইলেও রাস্তা তেলতেলে হওয়ায় গাড়ি উল্টে যায় বা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি ছিটকে পড়ে যায় রাস্তার বাইরে। বিকাল গড়াতে সড়কের অবস্থা আরো ভয়ানক হয়ে ওঠে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে জমাটকৃত গাদ ধুয়ে যাওয়ার ফলে সড়ক পরিষ্কার হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে গাড়িগুলো কিছুটা মুক্ত হয়।

বিশেষজ্ঞমহল ট্রাকে করে লবণ পরিবহনের ক্ষেত্রে নীতিমালা মানা হচ্ছে না অভিযোগ করে বলেন, যেসব ট্রাক লবণ পরিবহণ নীতিমালা পরিপন্থি কাজ করছে সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতি বছর লবণাক্ততা ঝুঁকি থেকে সড়ক মুক্ত থাকত। কোন কোন মহল বলেছেন, লবণ পরিবহনে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণে সভা ও সেমিনারের আয়োজন করে সচেতনতা সৃষ্টি করা যেত। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ থানা, উখিয়া থানা ও কক্সবাজার থানা ট্রাকে লবণ লোড করার সময় পলিথিন ব্যবহারে তদারকি ও কড়াকড়ি আরোপ করলে খোলা ট্রাকে করে লবণ পরিবহণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বন্ধ করা সম্ভব হতো। এ ব্যাপারে রেঞ্জের ডিআইজির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।

খোলা লবণ পরিবহণ ও এর কারণে দুর্ঘটনার আধিক্যের কথা স্বীকার করে জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম ফারুক বলেছেন, ট্রাফিক আইনে এসব গাড়ির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। মোটরযান আইনে ১৩৭ ধারার যে একটি আইন রয়েছে সেটি প্রয়োগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। এসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে যেখান থেকে গাড়িতে লবণ লোড হয় সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার উপর তিনিও গুরুত্ব আরোপ করেন। অথবা মোটর যান আইনে কঠোর আইনী সংশোধনী আনা ব্যতিত অন্য কোন পথ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফটিকছড়িতে খাজা গরীবে নেওয়াজের কথিত আস্তানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

ফটিকছড়িতে খাজা গরীবে নেওয়াজের কথিত আস্তানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

ফটিকছড়ি উপজেলায় খাজা গরীবে নেওয়াজের কথিত আস্তানা শরীফ নিয়ন্ত্রণের কর্তৃত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ছয়জনকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১০ টায় উপজেলার নাজিরহাট বাজার সংলগ্ন খাজা গরীবের নেওয়াজ মঈনুদ্দিন চিশ্তি (রা.)’র আস্তানা শরীফে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে অকুস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।


আস্তানা শরীফ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ৮/৯ বছর ধরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহনেওয়াজ ওরফে সেবুল আস্তানা শরীফের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন বার্ষিক, মাসিক ও সাপ্তাহিক মাহফিল পরিচালনা করে আসছে। গত ২/১ বছর যাবৎ এ সকল মাহফিল বন্ধ হয়ে গেলে ভক্তবৃন্দের মানত করা অর্থ ওই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। বিষয়টি স্থানীয় শহিদুল আলম, সরওয়ার, জাহেদুল, মঞ্জুরুল আলম, মো. এনাম, মামুন, আনোয়ার, মোজাম্মেল হোসেনসহ কয়েকজন আমলে নিয়ে একটি বিরোধী পক্ষ তৈরি করে। বার্ষিক আয়-ব্যয় হিসাবসহ উভয় পক্ষের সমঝোতার জন্য শুক্রবার রাতে একটি বৈঠক বসেন। বৈঠকে এক পক্ষ আস্তানায় আগত ভক্ত-মুরিদানদের সুবিধার্থে পুকুরে জলঘাট নির্মাণের প্রস্তাব করলে ইউপি সদস্যপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতিতে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে রক্তক্ষয়ী সংষর্ষে রূপ নেয়। এতে সরওয়ার হোসেন, মানিক, আলী নেওয়াজ, রাজু আকতার, নুরুল মনসুর, আবু তাহের, জাহেদুল্লাহ, শহীদুল্লাহসহ অন্তত ১০ ব্যক্তি আহত হন। আতহদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


ফটিকছড়ি থানা সূত্র জানায়, আস্তানা শরীফ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে এখনো উভয়পক্ষ বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। গতকাল সকালে এক পক্ষ (ইউপি সদস্য) থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে জানান। এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো.মফিজ উদ্দিন বলেন, টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এ ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

তথ্য সুত্র: দৈনিক সুপ্রভাত

যাত্রী বেশে চট্টগ্রাম নগরীতে ট্যাক্সি ছিনতাই

যাত্রী বেশে চট্টগ্রাম নগরীতে ট্যাক্সি ছিনতাই

নগরীর জুবলী রোড থেকে যাত্রী বেশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা (চট্ট মেট্রো-১২-১২৬৯) ছিনতাই করেছে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। এসময় অটোরিকশার চালককে অজ্ঞান করে রাস্তায় ফেলে যায় ছিনতাইকারীরা। পরে অজ্ঞান অবস্থায় চালক ফাইনুল ইসলামকে (৩৮) উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে পথচারী ও অন্য গাড়ির চালকরা।


সিএনজি অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, সকাল নয়টার দিকে ফাইনুলের গাড়িতে দুই জন যাত্রী উঠে। বায়েজীদ থানার সামনে থেকে যাত্রীরা জুবলী রোড যাবে বলে গাড়ি ভাড়া করে। জুবলী রোডের মিনারা বোর্ডিং এর কাছাকাছি পৌঁছে তারা গাড়ি থামায়। এসময় যাত্রীদের একজন ফাইনুলকে মিনারা বোর্ডিং এর সামনে এক লোককে দেখিয়ে তাকে ডেকে আনতে বলে। মিনারা বোর্ডিং এর সামনে পৌঁছালে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছিনতাইকারী চক্রের অপর সদস্য ফাইনুলের নাকের কাছে একটি রুমাল ধরে। সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে রাস্তার উপরে পড়ে যান ফাইনুল। এসময় যাত্রী বেশী দুই ছিনতাইকারী ট্যাক্সি চালিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পথচারী ও অন্য ট্যাক্সির চালকরা অজ্ঞান অবস্থায় ফাইনুলকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে।


এবিষয়ে চমেক হাসপাতালের পুলিশ বিটের কর্তব্যরত কনস্টেবল মোহাম্মদ জালালউদ্দিন সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, বেলা সাড়ে ১২ টায় ফাইনুল ইসলামকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আইডি কার্ড দেখে পথচারী ও অন্য কয়েকজন বেবি টেক্সি চালক তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে।


কোতোয়ালী থানার উপ পরিদর্শক সুকান্ত চক্রবর্তী বলেন, এই ঘটনা আমরা জানি। খোঁজ খবর নিচ্ছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত (রাত নয়টা) কোনো মামলা হয়নি।

তথ্য সুত্র: দৈনিক সুপ্রভাত

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ছিনতাই-চাঁদাবাজি থামেনা,পানি সংকট সারাবছর


পাহাড়তলীতে ছিনতাই-চাঁদাবাজি থামেনা,পানি সংকট সারাবছর রিটন আহসান


ছিনতাই, চাঁদাবাজি, পানির সংকটের মত অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের কয়েকহাজার মানুষ। এসব সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েও সুরাহা মিলেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।


ওয়াসার পানি সংকট : ওয়ার্ডের নানা এলাকায় রয়েছে খাবার পানিসহ নিত্য ব্যবহার্য পানির তীব্র সংকট। এলাকার প্রধান সড়কের পাশেই রয়েছে ওয়াসার পানির লাইন। কিন্তু অলি-গলিতে নেই। ফলে ইচ্ছে করলেই সবাই ওয়াসার লাইন টানতে পারছে না। আবার যাদের ওয়াসার লাইন রয়েছে তারাও চাহিদা অনুযায়ী পানি পাচ্ছেন তা নয়। সরাইপাড়ার মোমিনুল হক বলেন, এখানে নিয়মিত পানি আসে না, মাঝে মাঝে আসে তাও এত কম সময়ের জন্য যা দিয়ে কোন কাজ করা সম্ভব হয়না। এদিকে প্রতিনিয়ত এখানকার জলাশয়গুলো ভরাট করার ফলে ভবিষ্যতে দারুণ জলকষ্টের কারণ হতে পারে বলে শংকা প্রকাশ করছেন এলাকার সচেতন জনগোষ্ঠী।


এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন বলেন, এলাকায় বেশকয়েকটি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তিতে বাস করা অসংখ্য মানুষের জন্য নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। পাশাপাশি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দারাও বঞ্চিত ওয়াসার পানি সরবরাহ থেকে। ফলে এখানকার বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হচ্ছে গভীর-অগভীর নলকূপের ওপর। তিনি জানান, এ সব এলাকায় ১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ওয়াসার পানি বন্ধই ছিল একরকম।


সমস্যায় জর্জরিত ঝাউতলা বিহারি কলোনি : ঝাউতলা বিহারি কলোনিতে নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিনাতিপাত করছে কয়েকহাজার অবাঙালি পরিবার। যাদের অধিকাংশই বিহারি। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকে এসব পরিবার বাস করে আসছে এখানে। সময়ের সাথে সাথে এখানকার লোকসংখ্যা বেড়েছে কিন্তু বাড়েনি জায়গার পরিমাণ। ফলে সামান্য জায়গায় ঘিঞ্জি পরিবেশে বাস করে আসছে অনেকগুলো মানুষ। বিহারি কলোনির বাসিন্দা মোহাম্মদ এজাহার মিয়া জানান, এখানে বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য হাতে গোনা কয়েকটি ওয়াসার লাইন রয়েছে। একাধিক ডিপটিওবেলও রয়েছে কিন্তু তবুও বাসিন্দাদের পানির সংকটে পড়তে হয় বেশিরভাগ সময়। তাছাড়া এখানকার পয়ঃ নিষ্কাশন ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক বলে জানান তিনি।


রাস্তায় বিদ্যুৎ বাতির বেহাল অবস্থা : ওয়ার্ডের দক্ষিণ খুলশীসহ নানা এলাকার রাস্তায় সিটি কর্পোরেশনের বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোতে বাতি নেই। থাকলেও তা নিয়মিত মেরামতের অভাবে বন্ধ থাকে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এলাকার বাসিন্দা দক্ষিণ জেলা কৃষক দল সভাপতি এবং দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির কর্মকর্তা সৈয়দ সাইফুদ্দিন বলেন, এলাকায় অনেকগুলো বৈদু্যুতিক খুঁটি থাকলেও তা জ্বলে না নিয়মিত। একবার কোন কারণে একটি বাতি নষ্ট হলে মাসের পর মাস ওয়ার্ড কাউন্সিল কিংবা সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করেও তা মেরামত করা সম্ভব হয় না। ফলে এসব এলাকায় সন্ধ্যার পরপরই শুরু হয় ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম।


মাদক ব্যবসা : ওয়ার্ডের পাঞ্জাবি লেইন, আমবাগান, ঝাউতলা, মাস্টার লেইনসহ নানা এলাকা জুড়ে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ আনাগোনা। বিশেষ করে আমবাগান ও টাইগার পাস সংলগ্ন বস্তিগুলোতেই চলছে এসব মাদক ব্যবসা। এ ব্যাপারে আমবাগান এলাকার মহিউদ্দিন সরকার জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম ক্রমশ এতটাই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, এলাকার তরুণ সমাজ নানাভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে মাদকের সাথে। শুধু তাই নয় ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামান্য দূরেই রয়েছে বিশাল বস্তি। এসব বস্তিতেও চলছে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত রয়েছে পুলিশের একটি অংশ। তারা নিয়মিত চাঁদা নিয়ে অবৈধ মাদক ব্যবসার সুযোগ করে দেয় বলেও অভিযোগ একাধিক ব্যক্তির।


এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, গোটা এলাকায় মাদক ব্যবসার কথাটি সত্য নয়। এক সময় এটি ভয়াবহ আকারে দেখা দিলেও বর্তমানে তা অনেকাংশেই কমে এসেছে। তিনি বলেন, মূলত বস্তিগুলোকে ঘিরেই মাদকের ব্যবসা চলে। বর্তমানে মাস্টারলেইন ঝিলেরপাড় বস্তিতে কতিপয় মহিলা এই ব্যবসার সাথে জড়িত।


ছিনতাই : পাহাড়তলীর একাধিক স্থানে পথচারীদের সর্বস্ব খোয়াতে হয় ছিনতাইকারীদের হাতে। আমবাগান, জাকির হোসেন রোড, একে খান গেইট ইত্যাদি এলাকায় সন্ধ্যার পরপরই ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এলাকার অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি স্থানে অবস্থান নেয়। পরে সুযোগ বুঝে চড়াও হয় পথচারীর ওপর। ছিনতাইকারীদের সাথে জড়িত রয়েছে কিছু অসাধু সিএনজি টেক্সি চালক। এসব চালকের সাথে ছিনতাইকারীদের রয়েছে দারুন সখ্যতা।


এলাকার খোলা পায়খানা : ওয়ার্ডের বিভিন্ন কলোনিগুলোতে খোলা পায়খানার কারণে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ করলেন খোদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তিনি জানান, আমরা প্রায়ই দেখি রেলওয়ের বিভিন্ন কলোনির আধুনিকায়নের জন্য বড় অংকের টাকা বরাদ্ধ দেয়ার বিজ্ঞাপন। তা সত্বেও কলোনিগুলোর টয়লেটগুলো এখনো মান্ধাতার আমলের ধাঁচে রয়ে গেছে। এসব টয়লেটের মলমূত্র কোন টাংকিতে রিজার্ভ না করে সরাসরি নালায় ফেলা হয়। ফলে আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ায়।


ওয়ার্ড কাউন্সিলর বলেন, এ বিষয়ে রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোন সুরাহা মিলেনি।


আমবাগান এলাকায় তল্লাশীর নামে পুলিশের হয়রানি : ওয়ার্ডের আমবাগান এলাকায় প্রতিনিয়ত পুলিশ তল্লাশীর নামে নিরীহ পথচারীকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার একাধিক বাসিন্দা। রেলওয়ে প্রিন্টিং প্রেস কলোনির বাসিন্দা মোহাম্মদ আরিফুল হক জানান, এই রোডটি অন্যান্য রোডের তুলনায় কিছুটা নিরিবিলি হবার কারণে এখানে ছিনতাইকারীদের হাতে প্রায় সর্বস্ব হারাতে হয় পথচারীদের। এজন্য এখানে পুলিশের কিছু সদস্য রাতের বেলা পাহারা দিয়ে থাকে। কিন্তু এতে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হচ্ছে। আরিফুল হক জানান, টহলরত এসব পুলিশ সদস্য সন্ধ্যার পরপরই সড়কের কয়েকটি নিরিবিলি স্থানে বড় গাছ কিংবা কোন দেয়ালের আড়ালে দাড়িয়ে থাকে। একসময় তারা তল্লাশীর নামে নিরীহ পথচারীকে নানারকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে। কোনধরনের প্রতিবাদ করলে পুলিশ থানায় নিয়ে যাবার ভয় দেখায়।


এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরন বলেন, বিষয়টি সত্য। শুধু তাই নয় আমি নিজেও একাধিকবার পুলিশের এ ধরনের হয়রানি থেকে একাধিক পথচারীকে উদ্ধার করেছি এবং সংশ্লিষ্ঠ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে থানাকে জানিয়েছি।


তবে এ ব্যাপারে খুলশী থানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছুই জানেন না বলে জানান। থানার এসআই বশির জানান, এ পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগ কেউ করেনি। যেহেতু বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হলাম এখন থেকে আমরা দেখব কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত।


ওয়ার্ডে যা রয়েছে : ওয়ার্ডের মোট আয়তন ৬ বর্গমাইল। লোকসংখ্যা ১লক্ষ ৮০ হাজার। মোট ভোটার ৫৫ হাজার। এলাকায় কলেজ আছে ১ টি। বিশ্ববিদ্যালয় আছে ২টি। হাই স্কুল আছে ৫টি। এখানে আরো আছে রেলওয়ে কারখানা, রেলওয়ে যাদুঘর, আবহাওয়া অধিদফতর, টেলিভিশন কেন্দ্র, চক্ষু হাসপাতাল, কিডনি হাসপাতাল, ডায়াবেটিস হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা।

চট্টগ্রামে রানীর দীঘি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ


চট্টগ্রামে রানীর দীঘি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ এনায়েত বাজারের রানীর দীঘিতে চলছে রাস্তা নির্মাণের কাজ। দীঘির পূর্ব অংশে গত প্রায় এক বছর ধরে এই রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, চারপাশে রাস্তা তৈরি করে দীঘির পরিসর ছোট করে ফেলা হচ্ছে। অন্য অংশ দাবি করছেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য রাস্তা নির্মাণ করছে। তবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে জলাশয়ের জমিতে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে কোনো অনুমতি নেয় নি সিটি কর্পোরেশন। গতকাল শনিবার দুপুরে রানীর দীঘিতে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার শ’খানেক মানুষ দীঘিতে গোসল করছেন। তাদের সাথে আলাপে জানা যায়, এনায়েত বাজার, জুবিলী রোড ও রিয়াজুদ্দিন বাজার এলাকার একমাত্র পানির উৎস এই দীঘি। তবে দীঘিতে পানির পরিমাণ আগের তুলনায় কমে গেছে। এবিষয়ে দীঘিতে গোসল করতে আসা রিয়াজুদ্দিন বাজারের শ্রমিক দুলাল মিয়া বলেন, কয়েক মাস আগে দীঘির পানি আংশিক সেচে ফেলা হয়। তারপর পূর্ব পাড়ের রাস্তার কাজ শুরু করা হয়। সরেজমিন ঘুরে এবং এলাকাবাসীর সাথে আলাপে জানা যায়, দীঘির পশ্চিম পাড় এবং উত্তর পাড়ে আনুমানিক আট থেকে দশ বছর আগেই দীঘির জমি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে দীঘিটি কিনে নেন কাজী জাকির হোসেন। এসময় তিনি দীঘিটি ভরাট করে প্লট তৈরির উদ্যোগ নেন। তখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে নাগরিক আন্দোলন। আন্দোলনের কারণে প্লট তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন দীঘির মালিক। এলাকার বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, দীঘির আয়তন আনুমানিক ৮১ কাঠা। আগে দীঘি আরো বড় ছিল। দীঘির জমিতেই পশ্চিম ও দক্ষিণ পাড়ের রাস্তা হয়েছে। দীঘি রক্ষা আন্দোলনের পর সিটি কর্পোরেশন এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়। তখন দীঘির চারপাশে গার্ড ওয়াল নির্মাণ করে সিটি কর্পোরেশন। রানীর দীঘির পূর্ব পাড়ের রাস্তার প্রায় অর্ধেক অংশের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এই অংশ নির্মাণ করা হয়েছে দীঘির জমিতেই। দীঘির ভেতর ্যাব বসিয়ে মাটি এবং ইট সুরকি ফেলে ১২ থেকে ১৫ ফুট প্রস্থের এই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। পূর্ব পাড়ের বাকি অর্ধেক অংশের নির্মাণ কাজের জন্য ্যাব বসানো হয়েছে। দীঘিতে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে সুপ্রভাত বাংলাদেশের প্রতিবেদক এবং ফটো সাংবাদিককে দীঘির ছবি তুলতে নিষেধ করেন দীঘির উত্তর- পূর্ব কোণের একাধিক ভবনের বাসিন্দারা। এসময় চারজন তরুণ বলেন, আপনারা চান না মানুষের উপকার হোক। এখানে কোনো রাস্তা নেই। তাই আমাদের চলাচলে সমস্যা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে পারে না। কিন্তু দীঘির উত্তর পাড়ের সাথে এনায়েত বাজারের সংযোগ সড়কটি অত্যন্ত সরু। দীঘির পাড়ে রাস্তা হলে, গাড়ি কোন পথে প্রবেশ করবে জানতে চাইলে তারা বলেন, ওই রাস্তা বড় হবে। দুইপাশের জমির মালিকরা রাস্তার জন্য জমি দেবেন বলে জানিয়েছেন। দীঘির দক্ষিণ- পশ্চিম কোণে একটি সড়ক আছে। সড়কটি জুবিলী রোডের রূপালী ব্যাংক শাখার সামনে দিয়ে মূল সড়কে যুক্ত হয়েছে। এটি প্রায় ১২ ফুট প্রস্থের। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, রাস্তা নির্মাণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের লোকজন তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ বলেন, দীঘির পানি সেচা এবং মাটি ফেলার জন্য প্রতি পরিবার থেকে এক হাজার টাকা করে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের টাকা দিয়েছি। তবে যে ব্যক্তির কাছে টাকা দিয়েছেন তার নাম বলতে পারেনি ওই যুবক। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে কোনো ওয়ার্ক অর্ডার হয়নি। তবে রাণীর দীঘিতে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে এটি আমি জানি। ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এম. এ. মালেক বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা মানুষের উপকার হোক এটা চান না। লেখালেখি করে রাস্তার কাজটা বন্ধ করে দেবেন। ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়া কীভাবে কাজ হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনাদের ভয়ে ইঞ্জিনিয়াররা একথা বলেছেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অথরাইজড অফিসার মোহাম্মদ এজিএম সেলিম সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, জলাশয় সংরক্ষণ আইন- ২০০০ অনুসারে চট্টগ্রাম শহরে কোনো পুকুর, দীঘি ভরাট করা নিষিদ্ধ। রাণীর দীঘিতে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে আমার জানা মতে সিডিএ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ পরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমিন সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, রানীর দীঘিতে রাচ্চা নির্মাণের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে সিটি কর্পোরেশন কোনো অনুমতি নেয় নি। তাদেরকে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে চিঠিও দেয়া হয়েছে। তাও কাজ বন্ধ না করায় আমরা সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি জানিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি। এবিষয়ে দীঘির মালিক কাজী জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মালিকানাধীন দোস্ত বিল্ডিং এর কেয়ারটেকার মোহাম্মদ মালেক বলেন, সাহেবের মা অসুস্থ। তাকে নিয়ে সাহেব দুই মাস ধরে সিঙ্গাপুরে আছেন। এক সপ্তাহ পরে হয়তো তিনি দেশে ফিরতে পারেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি আগামীকালই (রোববার) খবর নেব। আইন অনুসারে জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ।

চট্টগ্রামে ৪০ কোটি টাকার ‘হালদা প্যারালাল প্রজেক্ট’ দুই যুগেও চালু হয়নি

চট্টগ্রামে ৪০ কোটি টাকার ‘হালদা প্যারালাল প্রজেক্ট’ দুই যুগেও চালু হয়নি


হাটহাজারী উপজেলার বৃহত্তম সেচ প্রকল্প ‘হালদা প্যারালাল প্রজেক্ট’ প্রায় দীর্ঘ দুই যুগেও চালু করা সম্ভব হয়নি। ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি কৃষকের কোন কাজেই আসছে না। ফলে ৫ হাজার একর আবাদি জমির কৃষক একদিকে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে, প্রকল্প ক্যানালে নির্মিত ুইস গেইট ও মেশিন ঘর থেকে মুল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোন মাথাব্যথা নেই।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাটহাজারী উপজেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। উপজেলার পশ্চিমের পাহাড়ি উঁচু এলাকার অনাবাদি জমিতে সারা বছর চাষাবাদের জন্য বৃহত্তর ইরিগ্রেশন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর আর্থিক সহায়তায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। হালদা নদীর বোয়ালিয়া ুইস গেইট সংযোগ মূল থেকে পশ্চিম ও উত্তরে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘এল’ আকৃতির এ প্রকল্পের কৃত্রিম খালকে দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়। সেচ সহজ করার জন্য প্রকল্পের মোহনায় স্থাপন করা হয় রিভার পাম্পিং প্ল্যান্ট। প্যারালাল খালে প্রায় ১৭টি ুইস গেইট নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ৫০০ ফুট পর পর স্থাপন করা হয় সেতু। পাশাপাশি অসংখ্য ড্রেনেজ রাখা হয় প্রকল্পের দু পাশের জমিতে পানি সেচের জন্য। ১৯৯৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করা হয়।


এদিকে, প্রকল্পটির নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় শুরুতেই এটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এই প্যারালাল খালের পুরোটাই আন্ডার ফোবিংয়ের কথা থাকলেও করা হয়েছে মাত্র ৪ কিলোমিটার। এছাড়া খালের বাঁধ নিচু হওয়ায় পানি উপচে পড়ে যায়। এসব কারণে প্রকল্পটি চালুর পরপরই পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকে। এরপর ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে প্রকল্পের কিছু সেকেন্ডারি কাজ শুরু হয়। ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি তৎকালীন পানি সম্পদমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এই সেচ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধন করে মন্ত্রী চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই আবার বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। পরে মন্ত্রী আবার প্রকল্পটির কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেও তা আর হয়নি। গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এলাকাবাসী হালদা সেচ প্রকল্প চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক বশীর উদ্দীন আহ্মেদ ২০০৫ সালের ১২ ডিসেম্বর এই সেচ প্রকল্প চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ প্রদান করে। এরপরও কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি। অথচ এই সেচ প্রকল্পটি চালু হলে এই বোরো মৌসুমে চাষ হত প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি। বর্তমানে চাষ হচ্ছে ১৫০০ হেক্টরের মত। এদিকে, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা সেচ প্রকল্পটির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং সুইচ গেইটসহ বিভিন্নস্থানে স্থাপিত যন্ত্রপাতি খোয়া যাচ্ছে।

তথ্য সূত্র: দৈনিক সুপ্রভাত

কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র আটক, পরে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি

কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র আটক, পরে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি

কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে পুলিশ ৩৭ জন ছাত্রকে আটক করে। গতকাল শনিবার কাপ্তাই থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে চলমান পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন।


জানা গেছে, কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিকের পরীক্ষা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্ররা কতিপয় শিক্ষকের অপসারণ দাবি করলে গত ৪ মার্চ থেকে কাপ্তাই বিএসপিআইতে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের মারমুখী আচরণে শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।


জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পলিটেকনিকে পরীক্ষা চলাকালীন কম্পিউটার বিভাগের কতিপয় ছাত্র অন্যায়ভাবে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষকরা কঠোর হওয়ায় ছাত্ররা ক্ষেপে যায়। ওই সময়ে মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন কবীর এক জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে উত্তরপত্র কেড়ে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। ছাত্রদের দাবি, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষক হুমায়ুন কবীর এক ছাত্রকে ‘কিভাবে পাশ করবে দেখে নেব’ বলে শাসিয়ে গালিগালাজ করায় ঘটনার সূত্রপাত হয়। ছাত্ররা শিক্ষক হুমায়ুন কবীর ও শহীদুল ইসলামের অপাসরণ দাবিতে অনড় থাকলে গত বৃহস্পতিবার পুরো পলিটেকনিকজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ও বিডিআর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকাল ৪টায় কাপ্তাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. খালেদ রহীম ও কাপ্তাই এএসপি সার্কেল মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরদিন শুক্রবার উপজেলা চেয়ারম্যান বিকাল ৪টায় প্রশাসন-পুলিশ কর্মকর্তা, পলিটেকনিক্যালের অধ্যক্ষ, শিক্ষকসহ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সৃষ্ট ঘটনা সমঝোতা করার চেষ্টা করলেও ছাত্ররা তা মেনে নেয়নি। রাতে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন ছাত্রদের ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান না করার জন্য নির্দেশ দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে কিছু ছাত্র ক্যাম্পাসের বাইরে যায়। এ সময় পুলিশ ক্যাম্পসের বাইরে থেকে ৩৭ জন ছাত্রকে আটক করে। এ ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পলিটেকনিক্যালের অনুষ্ঠিত পরীক্ষা সমূহ আজ রোববার থেকে কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত হবে। পরিস্থিতি শান্ত হলে আলোচনা সাপেক্ষে স্থান পরিবর্তন করে পুনরায় পলিটেনিক্যালে পরীক্ষা কেন্দ্রে নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

তথ্য সূত্র: দেনিক সুপ্রভাত

সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ কমছে

সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ কমছে

আলী হায়দার


মাছ ধরার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ফিশিং ভেসেলের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু দেশের গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ আনুপাতিকহারে ক্রমশ কমে আসছে। এর মধ্যে চিংড়ি আহরণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি কমছে। অথচ রপ্তানি বাজারে এই পণ্যটির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। গভীর সমুদ্রে দিন দিন মৎস্যসম্পদ কমে যাওয়ার ফলেই আহরণের হার কমছে।


১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ট্রলার প্রতি গভীর সমুদ্র থেকে গড়ে ২৬৮ মেট্রিক টনের বেশি মাছ ধরা সম্ভব হত। সেখানে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তা ট্রলার প্রতি প্রায় ৪১ টন কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২২৭ টনের কিছু বেশি। এদিকে এই একই সময়ে চিংড়ি আহরণের পরিমাণ কমেছে প্রায় ১ হাজার টন। ১৯৯৮-৯৯ সালে যেখানে গভীর সমুদ্র থেকে চিংড়ি আহরণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৬৪ টন সেখানে ২০০৮-০৯ সালে এর পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০০ টনের কিছু বেশি। বর্তমানে অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। অথচ এই ১০ বছরের ব্যবধানে উন্নত মানের যান্ত্রিক ট্রলারের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি মৎস্য আহরণ প্রযুক্তিও উন্নত হয়েছে।


এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ এর পরিচালক প্রফেসর ড. মুহম্মদ রাশেদুন্নবী সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, মৎস্য খাতের বাজেটে সমুদ্র এবং উপকুলীয় মৎস্য গবেষণার উপর বরাদ্দ মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ। ফলে গবেষণা কিংবা জরিপ নেই সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উপর। এছাড়া পরিবেশ দুষণ, ট্রলারের সংখ্যা বৃদ্ধি, ডাটা তৈরী এবং সংরক্ষণের অভাব এবং বিভিন্ন কায়দায় সামুদ্রিক মাছের পোনা ধরা ইত্যাদি কারণে মৎস্য সম্পদ কমে আসায় আহরণও কমছে।


জানা গেছে, দেশের গভীর সমুদ্রের মৎস্য সম্পদের পরিমাণ, বিভিন্ন ধরনের মাছের অবস্থা এবং তার প্রেক্ষিতে কী পরিমাণ ট্রলার ব্যবহার করে মৎস্য সম্পদ আহরণ করা সম্ভব সে সম্পর্কে কোন হাল নাগাদ জরিপ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কাছে নেই। সর্বশেষ ৯০ এর দশকের দিকে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের বিষয়ে একটি জরিপ হলেও গত দুই দশকে আর কোন জরিপ হয়নি। ফলে দেশের মৎস্য সম্পদের পরিমাণ কত এবং তার প্রেক্ষিতে কতটি ট্রলার দিয়ে মাছ ধরা উচিৎ তা কেউ জানেনা।


এ বিষয়ে সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ড. শরীফ আহমদ সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের সামগ্রিক বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জরিপ থাকা দরকার। কিন্তু গত ২ দশকে এ ধরনের কোন জরিপ না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র নেই। ফলে সমস্যা কী, সম্ভাবনাই বা কতটুকু তা আন্দাজ করা এবং সে প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে মৎস্য সম্পদ জরিপের একটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, দেশের আহরিত মোট সামুদ্রিক মাছের শতকরা ৯৩ শতাংশ আহরিত হয় যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক নৌযানের মাধ্যমে। বাকি মাত্র ৭.২৬ শতাংশ মাছ যান্ত্রিক ট্রলারের মাধ্যমে গভীর সমুদ্র থেকে আহরিত হয়। বঙ্গোপসাগরের মোট ১৭ হাজার ১৩৮ বর্গ কিলোমিটারের ৪টি মৎস্যক্ষেত্র থেকে এ মাছ সংগ্রহ করা হয়। এসব এলাকা থেকে বাকি মাছ সংগ্রহ করে যান্ত্রিক অযান্ত্রিক মিলে ৪৩ হাজার ১৩৬ টি নৌযান।


সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে জাতিসংঘের ফাও’এর উপদেষ্টা ও মৎস্য মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. কদর উদ্দিন সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ সম্পর্কে কোন প্রকৃত পরিসংখ্যান নেই। জরুরিভাবে এ বিষয়ে জরিপ কাজ সম্পন্ন করে দেশের প্রোটিনের চাহিদার এক উল্লেখযোগ্য অংশের যোগানদাতা সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আহরণের বিষয়ে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা নেয়া দরকার। অন্যথায় এক সময় এ সম্পদ বর্তমান মাত্রায় নাও পাওয়া যেতে পারে।

রাঙামাটির যোগাযোগে ইছাপুর বেইলি সেতুতে ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল


রাঙামাটির যোগাযোগে ইছাপুর বেইলি সেতুতে ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল 
 

পর্যটন শহর রাঙামাটি জেলা পৌঁছার অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম ইছাপুর দুই লেনের বেইলি সেতুটির পাটাতন ভেঙে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছে এ সেতু দিয়ে। যান চলাচল বিঘিœত হওয়ায় সড়কে যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে এ সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে পর্যটকদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর এ বেহাল অবস্থা হলেও কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছে না। সেতুটির সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় যেকোনো মুহূর্তে এখানে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ।
সরজমিন পরির্দশনে জানা যায়, ইছাপুর বাজারের উত্তর পাশে দু’লেনের এ বেইলি সেতুটি স্থাপন করা হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। স্থাপনের পর কয়েক বছর কোনো রকমে যানবাহন ও জনসাধারণ চলাফেরা করছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে এর পাটাতন ভেঙে যানচলাচল এমনকি পদব্রজে চলারও অযোগ্য হয়ে পড়ে। তখন কর্তৃপক্ষ নতুন সেতু না করে শুধু সাময়িকভাবে মেরামত করে দেয়। এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আবারো সেতুটি চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির অবস্থা নড়বড়ে, কারণ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে নিত্য যানজট লেগে আছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও পর্যটন নগরী রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা হাজার হাজার পর্যটককে।
রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুল হক বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগ করেছি, শুধু মেরামত করেই তারা দায়িত্ব শেষ করে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তারা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এলাকার বাসিন্দা আবুল মনছুর এ প্রতিবেদককে জানান, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের এ ব্যস্ততম সড়কটির এ সেতুটি এভাবে অযতেœ কেন পড়ে আছে, কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এর কোনো জবাব পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ সাবডিভিশন অফিসের উপ-প্রকৌশলী মো. শামসুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যায়যায়দিনকে জানান, চট্টগ্রাম রাঙামাটি-সড়কেই এ ব্রিজটিসহ মোট আটটি ব্রিজ ইবিবিআইপি প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সম্ভবত এই প্রজেক্টের কাজ জুন মাস থেকে শুরু হবে।


তথ্য সুত্র: যায়যায়দিন

চট্টগ্রাম সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে অনিয়মই যেখানে নিয়ম

চট্টগ্রাম সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে অনিয়মই যেখানে নিয়ম

ইসমত মর্জিদা ইতি


নানা অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে। মহিলা কর্মজীবী হোস্টেলবাসীদের স্বার্থ যার দেখভাল করার কথা, তিনি চলেন অন্যের অঙ্গুলি হেলনে।
হোস্টেল সুপারের কথায় হোস্টেল চলার নিয়ম থাকলেও চট্টগ্রাম সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল চলে ক্যান্টিন মালিকের কথায়। সেই ক্যান্টিন মালিক হলেন এডি হোম সার্ভিস। বোর্ডারদের ক্যান্টিনে খেতে বাধ্য করার জন্য তিনি নিজে বোর্ডারদের রুমে স্টোভ জ্বালানোসহ বোর্ডারদের আচরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। রুমে গিয়ে প্রতিদিন তল্লাশি চালাচ্ছেন। হোস্টেল সুপার ক্যান্টিন মালিকের স্বার্থের দিকে মনোযোগী হলেও বোর্ডারদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার ও পানির ব্যবস্থা, ভাঙা টয়লেট ও সিট মেরামত, লাইট সংস্কার ইত্যাদির দিকে মনোযোগী নন বলে জানা গেছে।
কর্মজীবী ও চাকরি অনুসন্ধানকারী মহিলাদের জন্য চট্টগ্রামে ১৯৮৪ সালে মহিলা অধিদপ্তরের অধীনে এ হোস্টেলটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে এ হোস্টেলের আসনসংখ্যা ২১৫। চাকরিজীবী মেয়ের সংখ্যা কম থাকায় এ হোস্টেলে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া মেয়েরাও থাকার সুযোগ পায়। ৫০ টাকা দিয়ে ফরম কিনে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট, স্থায়ী ঠিকানার চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট, স্থানীয় অভিভাবকের একজনের সুপারিশ নিয়ে এ হোস্টেলে ভর্তি হওয়া যায়। তিন সিটের রুমে সিট ভাড়া ৪৫০ টাকা ও চার সিটের রুমে সিট ভাড়া পড়ে ৪১০ টাকা। জানা যায়, নিজস্ব আয়ে এ হোস্টেলটি চলে। কিন্তু এ আয় থেকে কোনো অংশই এ হোস্টেলের উন্নয়নখাতে ব্যয় হয় না। সব চলে যায় হোস্টেল সুপারের হাতে।
এডি হোম সার্ভিস এ হোস্টেলের খাবারের টেন্ডার পাওয়ার পর খাবারের আইটেমে পরিবর্তন আসলেও খাবারের মানে পরিবর্তন আসেনি। বাবুর্চি আলম ভালো রান্না পরিবেশনের দাবি করলেও বোর্ডারদের অভিযোগ, আলম বাইরের খোলাবাজার থেকে মসলা কিনে রান্নার কাজ সারেন। তরকারিতে উৎকট মসলার গন্ধ থাকায় বোর্ডাররা খেতে পারেন না। সকাল, দুপুর, রাতে খাবারের মেন্যুতে মাছ-মাংস থাকলেও সেগুলো মুখরোচক না হওয়ায় মেয়েদের খাবারের টাকা অপচয় হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। নিয়ম অনুয়ায়ী এ হোস্টেল থেকে বোর্ডারদের ৪০০ টাকা দিয়ে বাধ্যতামূলক টোকেন নিতে হয়। খাবারের মেন্যুর দাম বেশি পড়ায় এ টোকেনে এক সপ্তাহও চলে না বোর্ডারদের। ছাত্রীদের সীমিত টাকায় চলার জন্য তাদের কেউ কেউ রুমে স্টোভে নিজেদের মতো কিছু ভাজি-ভর্তা করে খেয়ে নিতে চায়। কিন্তু এতে এডি হোম সার্ভিসের দিলরুবা বেগম হোস্টেল সুপারকে হাত করে মেয়েদের রুমে স্টোভে জ্বালাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিয়েছেন। তার কাজে সহযোগিতা করছেন হোস্টেল সুপার। এদিকে হোস্টেল সুপার ফেরদৌসী বেগম অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকলেও হোস্টেলের বিভিন্ন সমস্যায় আন্তরিক নয়। গত মঙ্গলবার চান্দগাঁও আবাসিক ২ নাম্বার রোডে অবস্থিত এ হোস্টেলে গিয়ে দেখা গেছে এর দুরবস্থা। বেশির ভাগ রুমের সিট ভাঙা এবং টয়লেটের পাইপ কাটা থাকায় টয়লেটের নোংরা পানি মেয়েদের গায়ে পড়ে। বারান্দা ও বাথরুমের লাইট নষ্ট হওয়ায় বোর্ডাররা রাতে বের হয়ে বাথরুমে যেতে পারেন না। এ হোস্টেলের ওয়াসার পানি সার্বক্ষণিক থাকলেও তা খাওয়ার যোগ্য নয়। ফলে এ হোস্টেলের বোর্ডারদের সন্ধ্যার পর পাশের মাজারের ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে আসতে হয়। তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বখাটে ছেলেদের ইভটিজিংয়ের স্বীকার হতে হয় মেয়েদের। হোস্টেলের দুরবস্থা ও ক্যান্টিন মালিকের আধিপত্য নিয়ে হোস্টেল সুপার ফেরদৌসী বেগম যায়যায়দিনকে বলেন, এডি হোম সার্ভিসের স্বার্থটাও আমাদের দেখতে হয়। হোস্টেলের উন্নয়ন হোস্টেলের আয় থেকে করা সম্ভব হয় না। সরকারকে এ ব্যপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

এডি হোম সার্ভিসের মালিক দিলরুবা বেগম বলেন, আমি টাকা বিনিয়োগ করে এখানে ব্যবসা করতে এসেছি। মেয়েরা যদি রুমে রান্না করে খায়, তাহলে আমার ব্যবসা চলবে কি করে?


তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি সড়কে নির্বিঘ্নে চলছে কাঠ পাচার

চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি সড়কে নির্বিঘ্নে চলছে কাঠ পাচার


 চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মূল্যবান বনজসম্পদ সমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকা ক্রমে বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে। এমনকি যেসব ফরেস্ট বিট থেকে বনাঞ্চল কাছে সে সব বনাঞ্চলে ব্যাপকহারে বৃক্ষ নিধন চলছে। এতে শুধু সরকারি সম্পদই লোপাট হয় না, প্রাকৃতিক পরিবেশও মারাত্মকভাবে বিপন্ন হয়। সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী কাঠচোর চক্রের লাগামহীন অপতৎপরতায় ছোট-বড় মূল্যবান গাছ কেটে বনাঞ্চল উজাড় করার ফলে এলাকা বৃক্ষশূন্য হওয়ার পাশাপাশি বনভূমি অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যায়। এসব বনভূমি বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের পেছনে স’মিল বা ইটভাটা জড়িত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এদের সাথে আঁতাত রয়েছে ১১ মাইলের ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। প্রতিদিন অবৈধভাবে কাঠ পাচার হয় এ ফরেস্ট বিট দিয়ে। চোরাই গাছ ক্ষেত্রবিশেষে ধরা পড়ার আশংকা থাকলেও চিরাই কাঠের ক্ষেত্রে ধরা পড়ার আশংকা কম। ফলে চোরাই গাছের সিংহভাগই রাতারাতি চেরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয় করাতকলের সাহায্যে। এপথে হাটহাজারী সদর, রাঙ্গামাটি সড়কের ইংলিশ স্কুলের পাশে অবস্থিত একটি স’মিলে প্রতিমাসে অবৈধ উপায়ে কয়েক লাখ টাকার মূল্যবান কাঠ আমদানি করা হয়। এসব কাঠ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকযোগে চোরাই পথে নিয়ে আসা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলেছে। এসব কাঠ আমদানি বাবদ স’মিলের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোটা অংকের উৎকোচ দেয়া হয় বলে জানা গেছে। এদিকে প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ীরা ১১ মাইলের ফরেস্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ পাচার করছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক শ্রেণীর অসাধু কাঠ চোর বনভূমি থেকে কাঠ কেটে চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাটহাজারী সদরের পশ্চিমের পাহাড়গুলো ঘুরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করার দৃশ্য দেখা গেছে। প্রতিদিন এভাবে হাটহাজারী বাজারে লাখ লাখ টাকার চোরাই কাঠ আমদানি হলেও কর্তৃপক্ষ এখনও রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ।


তথ্য সূত্র: আলোর মিছিল

অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন লোহাগাড়ার পরিবেশে হুমকি

অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন লোহাগাড়ার পরিবেশে হুমকি

 

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের লোহাগাড়া এলাকায় বালিমহাল থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের কারণে এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে বালি উত্তোলনের মাধ্যমে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো ধ্বংসসহ প্রতিনিয়ত জনভোগান্তির সৃষ্টি করছে। একদিকে লোহাগড়া উপজেলার ডলু, টংকাবতী, সরই, জাংছড়ি প্রভৃতি খালের তীর ও তীরবর্তী গ্রামীণ জনপদ কালভার্ট, ব্রিজ এখন মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। অন্যদিকে বালুমহালের ইজারাদাররা বালি উত্তোলন করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যত্রতত্র সতূপ করে রেখে রাস্তায় যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। জানা যায়, উপজেলার ২১টি বালিমহালের ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ লক্ষাধিক টাকা সরকারি মূল্য নির্ধারিত হলেও অধিকাংশ ইজারাদারের পরিবেশ অধিদফতরের কোন ছাড়পত্র নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, বালি বোঝাই ট্রাকের চাপে গ্রামীণ রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বালিমহালের ব্রিজের নিচ থেকে বালি উত্তোলনের ফলে ব্রিজগুলোও অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালি উত্তোলনের সুযোগে খালপাড়ের মাটি ও গাছগাছালি পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যায়। সচেতন মহলের মতে, বালিমহাল ইজারা দিয়ে সরকার হয়তো সাময়িক লাভবান হবে, কিন্তু তারচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ।


তথ্য সূত্র: আলোর মিছিল

টেকনাফ-শাপলাপুর সড়ক দ্রুত নির্মাণ ও শতবর্ষী গর্জন বাগান রক্ষার দাবি


টেকনাফ-শাপলাপুর সড়ক দ্রুত নির্মাণ ও শতবর্ষী গর্জন বাগান রক্ষার দাবি

জাবেদ ইকবাল চৌধুরী
 


টেকনাফে জোয়ার-ভাটায় যাতায়াতকারী উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন টেকনাফ-শাপলাপুর সড়ক। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এলজিইডি কাজ শুরু করে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এসড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে। সম্প্রতি এ নির্মাণ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বন বিভাগ।


তাদের দাবি, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বন বিভাগের জমির মধ্যে দেড় কিলোমিটার সড়ক অন্য দিক দিয়ে গেলে রক্ষা পাবে দেশের একমাত্র স্যাম্পল গর্জন বাগানটি। এই বাগানটি কয়েকশ’ বছর আগে এখানে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে ৫ হাজার ২৪টি মাদার ট্রি। যেখান থেকে পুরো দেশে বীজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গেম রিজার্ভ এলাকার অন্তর্ভুক্ত এ গর্জন বাগানটি দেখতে দেশী-বিদেশী পর্যটক, গবেষক ও পরিবেশবাদীরা প্রতিনিয়ত ভিড় জমায়। এ প্লটটি রক্ষা ও আকর্ষণীয় করতে বন বিভাগ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেয়। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে অভ্যর্থনা কেন্দ্র। এলজিইডি জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক প্রকল্প হাতে নিলেও বন বিভাগের জমি ব্যবহারের অনুমোদন নেয়নি। এতে প্রথম থেকে বন বিভাগ এ নিয়ে আপত্তি করে আসছিল। তারা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রুজু করেছে। সড়কের উভয় পাশ দিয়ে বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করে এখন থমকে আছে গর্জন স্যাম্পল প্লটে। ওই অংশে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় বন বিভাগ ও জনতা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এলজিইডি ঠিকাদারের সহায়তায় জনগণকে লেলিয়ে দিয়ে বন বিভাগের দায়িত্বশীলদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি রেঞ্জার তাপস স্যানাল অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, স্যাম্পল গর্জন প্লটটি রক্ষা করেই এলজিইডি পাশ্ববর্তী পুরাতন সড়কটি মেরামত বা নির্মাণ করতে পারত। এতে প্লটটিও রক্ষা পেত জনদাবিও পূরণ হতো। কিন্তু তা না করে অযৌক্তিকভাবে বন বিভাগের জমির উপর রাস্তা নির্মাণ করায় দুর্লভ এ গর্জন বাগানটি বনখেকোদের আয়ত্বে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


স্থানীয় এলাকাবাসী মমতাজ আহমদ জানান, ১ থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তাটি ঘুরিয়ে নিলে দীর্ঘদিনের পুরাতন জাহাজপোড়া বাজারটি প্রাণ ফিরে পেত। ওই বাজারে রয়েছে ভূমি অফিসসহ কয়েকটি স্থাপনা। সড়কের দু’ পাশের শত শত বসত বাড়ির জনসাধারণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটতো। তা না হলে বাগানটি রক্ষা করা দুস্কর হয়ে যাবে।


বাহারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ কোম্পানি বলেন, উপকূলীয় জনসাধারণকে দীর্ঘদিন ধরে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হয়। এতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাটি দ্রুত নির্মিত হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ লাভ করবে। এদিকে, দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী সম্প্রতি মিছিল সমাবেশ করে এবং রাস্তা নির্মাণে প্রতিবন্ধক ৩৬টি মাদার ট্রি (গর্জন) কেটে ফেলারও হুমকি দেয়। এ নিয়ে বন বিভাগও জনগণ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।


এ ব্যাপারে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী আমিন উল্লাহ জানান, জনগণের জন্যই আমরা ওই রাস্তাটি নির্মাণ করতে যাচ্ছি। এখানে বন বিভাগের আপত্তি থাকার কথা নয়।

আড়াই মাস ধরে অচল চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ।। অনড় দুপক্ষ!!

আড়াই মাস ধরে অচল চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ।। অনড় দুপক্ষ
সবুর শুভ





শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে নিয়মিত পশুদের চিকিৎসাও হচ্ছে না। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা এরকমই। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ভিসি বিরোধী আন্দোলন থেকে সূত্রপাত হওয়া গত দু’মাস ২০ দিনের এই অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এই পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে কেউ জানে না। ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো দুই মেরুতে অবস্থান করছে। বিশ্ববিদ্যালয় সচল করতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা।

এদিকে গত বুধবার আন্দোলনকারীদের কয়েকজন ক্যাম্পাসে ভিসির বাংলাতো গিয়ে হাঙ্গামা করেছেন বলে জানা গেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে প্রশাসনিক কাজ করতেও মানা করেছেন। এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম বন্ধ ছিল।

এ ব্যাপারে ভিসি ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘যতদ্রুত সম্ভব আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছি। কিন্তু ওরা (আন্দোলনকারীরা) তা চায় না। আর চায় না বলেই আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য আমি ঢাকায় এসেছি। এদিকে অচলাবস্থার মধ্যে আগামী ৭ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত আগ্রাবাদ হোটেলে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কনফারেন্সের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছর এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে আগামী ১৮ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় একটি ওয়ার্কশপের প্রস্তুতিও চলছে। এ অবস্থায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বর্তমান ভিসির তত্ত্বাবধানে এই কনফারেন্স ও কর্মশালা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছেন। পোস্টারে বর্তমান ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলে আখ্যায়িত করে ওই অনুষ্ঠানগুলো প্রতিহত করার কথা বলা হয়েছে।

ওই কনফারেন্সে ভারত, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের পোস্টার সাঁটানোর কারণে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এক বৈঠক গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ৬ মাস বন্ধ রাখার কথাও উঠে আসে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে আবুল কালাম নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘সামান্য কারণে এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। ভিসির অনিয়ম থাকলে তাকে অপসারণ করা হোক। আর অনিয়ম না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হোক। এ ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ জানা গেছে অচলাবস্থা শুরু হওয়ার পর হাসপাতালের কার্যক্রম বেলা দুটো পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো দিনের পরিবর্তে বেলা ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্যক্রম চলার কারণে অনেক খামারি পশুর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। পশু নিয়ে আসা দূরের খামারিরা পড়ছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ড. একেএম সাইফুদ্দিন বলেন, ‘দূর থেকে আনা অনেক পশু চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়ার ব্যাপার আন্দোলনকারীদের নেতা ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমল কান্তি মজুমদার বলেন, ‘যার (ভিসি) কারণে আমাদের শিক্ষা জীবন থেকে (দুই মাস বিশ দিন) চলে গেছে তাকে আর মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সমস্যা ওই একজনকে নিয়েই। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ তারাতো আমাদের কাজগুলোই করেন। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মুখে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ২৩ ডিসেম্বর আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু হল ত্যাগের জন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশ শিক্ষার্থীরা না মানলে অচলাবস্থা বর্তমান সময় পর্যন্ত গড়ায়। বর্তমানে দুইপক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব বাকলিয়ায় পুকুর ভরাট


চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব বাকলিয়ায় পুকুর ভরাট

তুষার দেব



জলাশয় সংরক্ষণ আইন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়রের হুশিয়ারি হুংকার- কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না পুকুরখেকোরা। নগরীর বাকলিয়ায় অনেকটা প্রকাশ্যেই ভরাট করা হচ্ছে ১৮ বছরেরও বেশি পুরনো একটি পুকুর। বালি ফেলে ইতোমধ্যে পুকুরটির অর্ধেকাংশ ভরাট কাজ সম্পন্ন হয়েছে।


নগরীর কালামিয়া বাজারের আনুমানিক দেড় কিলোমিটার পূর্বে ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের আব্দুল লতিফ হাট এলাকার সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অদূরে সড়কের দক্ষিণ পাশে পুকুরটি’র অবস্থান। ওই এলাকার বনেদী পরিবার আব্দুল্লাহ সওদাগরের বিপুল ভূ-সম্পত্তি রয়েছে। আলোচ্য পুকুরটি এলাকার লোকজনের কাছে আব্দুল্লাহ সওদাগরের পুকুর নামে পরিচিত। আনুমানিক ১৬ শতক আয়তনের পুকুরের আগে সড়কের সাথে লাগোয়া প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার সেখানে সরেজমিনে গিয়ে একাধিক দোকানদারের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এখানে পুকুরটি রয়েছে। ১৭/১৮ বছর আগে আব্দুল্লাহ সওদাগর নিজে সড়কের পাশে জায়গা ভরাটের জন্য পুকুরটি খনন করেন। ওই পুকুরের মাটি দিয়েই পাশের জায়গা সড়কের সাথে মিলিয়ে উঁচু করা হয়। এরপর তিনি সেখানে কাঁচা ঘর তৈরি করে ভাড়ায় লাগান। ওই জায়গা তখন পরিচিতি পায় ‘আব্দুল্লাহ সওদাগরের কলোনি’ নামে। কলোনির বাসিন্দাসহ এলাকার লোকজন পুকুরটি গোসলসহ নানা কাজে ব্যবহার করে। কিছুদিন আগে পুকুরসমেত ওই জায়গা তিনি বিক্রি করে দেন। তার ছেলে মোহাম্মদ মহসীন শ্বশুর পক্ষকে এ জায়গা কিনে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপর ভেঙে ফেলা হয় কলোনি। গত একমাস ধরে মহসীন নিজের তত্ত্বাবধানে পুকুরে বালি ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ শফিকে তিনি বালি ফেলার দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে শফি রাতের বেলা ট্রাকভর্তি বালি এনে পুকুরে ফেলা শুরু করেন। ইতোমধ্যে পুকুরের অর্ধেকাংশ ভরাট কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও পুকুরে ট্রাকভর্তি বালি ফেলা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


এ ব্যাপারে জানতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ শফি প্রথমে সুপ্রভাত বাংলাদেশকে কিছুই জানেন না বলে জানান। পরক্ষণে আবার বলেন, ‘জায়গাটি আব্দুল্লাহ সওদাগরের। তার ছেলে মহসীন আমার ঘনিষ্ঠ। কিছুদিন আগে তাদের আত্মীয়দের ভেতরেই জায়গাটি বিক্রি হয়েছে। এরপর থেকে কলোনি ভেঙে পুকুরটি বালি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। আমি সে কাজে যতদুর সম্ভব সহযোগিতা করি’। আইন অনুযায়ী নগরীতে যে পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ তা জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আরও অনেক পুকুর ভরাট করেছি। কই কখনও তো সমস্যা হয় নি। আমার মনে হয় আপনি (প্রতিবেদক) কোন পলিটিক্স করছেন। ওরা সবাই পয়সাওয়ালা। আশা করি, কোন সমস্যা হবে না’।


এর কিছুক্ষণ পর মোহাম্মদ শফি তার মোবাইল ফোন থেকে আবার কল করে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সাথে কথা বলেন’। অপরপ্রান্ত থেকে অন্যজন নিজেকে ‘ছাত্রদল নেতা সাহেদ’ পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনি মনে হয় আমাদেরকে হয়রানি করার চেষ্টা করছেন। নাকি রসিকতা করছেন। আমাকে তো আপনার চেনার কথা। এসব বাদ দেন। আপনি যা করছেন সেসব পথ আমি চিনি’। এরপর পরে কথা হবে বলে লাইন কেটে দেন।


পুকুরের পাশ্ববর্তী মাঠেই গত ২২ ফেব্রুয়ারি ‘কথিত একুশ মেলা’ উদ্বোধন করেছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম জসিম উদ্দিন। পুকুর ভরাটের বিষয়টি তার চোখে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি খেয়াল করি নি। আপনি যখন বলেছেন আমি কালকেই তাদের ডেকে পুকুর ভরাট বন্ধের ব্যবস্থা করব’।


পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পুকুর বা জলাশয় সংরক্ষণ আইন -২০০০ অনুযায়ী নগরীতে পুকুর এবং জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ ও বে-আইনী। কারণ, পুকুর ভরাট হলে তা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর’। আইন অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে তিনি জানান।


প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৫৫ তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নগরীতে হাজা-মজা পুকুরের নামে কেউ পুকুর কিংবা জলাশয় ভরাট করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন। তারপরও থেমে নেই পুকুর ভরাট।



চট্টগ্রামের ফিশারীঘাট রিং রোড ও কর্ণফুলী দখল করে সিটি কর্পোরেশনেরর মার্কেট নির্মাণ


ফিশারীঘাট রিং রোড ও কর্ণফুলী দখল করে সিটি কর্পোরেশনেরর মার্কেট নির্মাণ

আলীউর রাহমান 




এবার সিডিএ নির্মিত ফিশারিঘাট রিং রোড (সংযোগ সড়ক) ও কর্ণফুলী নদী দখল করে দোকান নির্মাণ করছে সিটি কর্পোরেশন। তিনমাস আগে সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কয়েকদিন পর মার্কেট নির্মাণ শুরু করা হয়। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে কর্ণফুলীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও সিটি কর্পোরেশনের এ উদ্যোগে বিস্ময় প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। নদী দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। নগরীর অন্যতম ব্যস্ত চাক্তাই এলাকার যানজট কমাতে ২০০৭ সালে পাথরঘাটা ফিশারিঘাট থেকে চাক্তাই ব্রিজ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ রিং রোড তৈরীর সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ২০০৯ সালের নভেম্বরে সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যান। চাক্তাইয়ের যানজট এড়িয়ে যানবাহন বা সাধারণ পথচারীরা সহজে রিং রোড ব্যবহার করে পাথরঘাটা হয়ে কর্ণফুলী ব্রিজে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। উদ্বোধনের দুই মাস পর সড়কের দক্ষিণ পাশের ফুটপাত ও কর্ণফুলী নদী দখল করে মার্কেট নির্মাণ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। মার্কেটটি বন্দরের জায়গার উপর তৈরী করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষেরও অনুমতি নেয়া হয়নি বলে বন্দর সূত্রে জানা যায়। বন্দরের প্রধান ভূসম্পদ কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ফুটপাত ও নদী দখল করে বন্দরের জায়গায় দোকান নির্মাণ করার অধিকার করপোরেশনের নেই। এ ব্যাপারে আগামী রোববার সিটি কর্পোরেশনকে নোটিস প্রদান করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রাণের দাবি কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং। এখন সিটি কর্পোরেশন দোকান নির্মাণ করে তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দোকানগুলো নির্মিত হলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং বাধাগ্রস্ত হবে বলে তিনি জানান। 

গতকাল সরেজমিন রিং রোড এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে করে দোকানের অভ্যন্তরে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। মার্কেটের দেয়াল তৈরী করছে ২০-২৫জন মিস্ত্রী। রিং রোডের ফুটপাত ও কর্ণফুলী দখল করে ৬৪টি দোকান নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি দোকানের আয়তন ১২*১৫ ফুট। সামনে আরো দুই ফুটের বারান্দা রয়েছে আরসিসি পিলার দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে দোকানগুলো মার্কেট নির্মাণের কাজ পরিচালনাকারী মিস্ত্রী আবুল কালাম জানান, হোসেন সাঈদ নামের এক ব্যক্তি থেকে তিনি কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। নির্মাণ সামগ্রী সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রদান করা হচ্ছে। সাঈদ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন দোকানগুলো বন্দর থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি নির্মান করছেন। বন্দরের অনুমতি সম্পর্কিত কোন কাগজ তার কাছে রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানান।

স্থানীয়রা বলেন, রোডটি চালু করার পর সেখানে অবৈধ দোকান বা স্থাপনা চোখে পড়েনি। কর্পোরেশন দোকান নির্মাণ করা শুরু করার সাথে সাথে স্থানীয় অনেক ব্যক্তি ছোট ছোট টং ঘর করে দোকান খুলে দিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ছোট রিং রোডটির দুইপাশও নগরীর অন্যান্য সড়কের মতো দখল হয়ে যাবে। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হালিম জানান, কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে দোকানগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ হকারদের উক্ত দোকানগুলোতে পুনর্বাসন করা হবে। সিডিএ অনুমতি বা কোন প্রকার নক্সা ছাড়া কর্পোরেশনের অর্থ ব্যয়ে দোকান নির্মাণের ব্যাপারে তিনি কোন প্রকার মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।

চট্টগ্রামের লবণচাষী হতাশায় নিমজ্জিত


হতাশায় নিমজ্জিত লবণচাষী

এম.আবদুল্লাহ আনসারী 



নিত্যপ্রয়োজীনয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি আর লবণের দাম মাত্রাতিরিক্ত নিম্নমুখী হওয়ায় মাঠপর্যায়ের কৃষকের মাঝে দিনদিন হতাশা বাড়ছে। মাঠ পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ লবণ অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সরকার কতিপয় আমদানিকারককে বিনাশুল্কের ৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী লক্ষাধিক লবণ চাষী চরম বিপাকে পড়েছে। এতে দেশীয় লবণশিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন মৌসুমে সরকারের লবণ আমদানির এ সিদ্ধান্তটি আত্মঘাতী ও দেশীয় লবণ শিল্পের জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাদের অভিযোগ, একটি মাত্র অঞ্চলের উৎপাদিত লবণ সারা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা সম্ভব হলেও অমিত সম্ভাবনার লবণ শিল্পের বিকাশে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।


জানা গেছে, লবণ শিল্পের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে আশির দশকের লবণ বোর্ড গঠন করা হলেও রহস্যজনক কারণে তারা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) লবণ শিল্পের আধুনিকায়ন, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। কেবল এই প্রতিষ্ঠানটি ছাড়া লবণ চাষীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। এ অঞ্চলের লক্ষাধিক লবণ চাষী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখলেও তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা।


সরেজমিনে গিয়ে লবণ চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এক একর লবণ মাঠে প্রায় আট থেকে নয়শ মেট্রিকটন লবণ উৎপাদিত হয়। বর্তমানে চাষীরা মাঠ পর্যায়ে মণ প্রতি দাম পাচ্ছেন মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকা । অথচ বিগত সনে এ মৌসুমে লবণের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী লাভতো দূরের কথা চাষীদেরকে উল্টো প্রতি একরে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।


বিসিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত মৌসুমে লবণের চাহিদা ছিল এক লাখ বিশ হাজার মেট্রিকটন। কিন্তু আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশ ও পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনে বাম্পার ফলন হওয়ায় সেবার প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিকটন লবণ উৎপাদনের রেকর্ড সৃষ্টি করে। কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) এলাকায় প্রায় ৭৭ হাজার একর জমিতে সরাসরি এক লাখ প্রান্তিক চাষী লবণ উৎপাদনের সাথে জড়িত রয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতিবছর নভেম্বর থেকে প্রায় ৫/৬ মাস একটানা লবণ উৎপাদিত হয়। গত ৫ বছরে বিসিক উদ্ভাবিত পলিথিন পদ্ধতিতে ব্যাপকভাবে সাদা লবণ উৎপাদন শুরু করে কৃষকরা সফলতা পান। বিগত ১০ বছরে চাহিদার অতিরিক্ত লবণ উৎপাদন করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে বিসিক সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও মায়ানমার থেকে লবণ লবণ আমদানি করায় দেশীয় কৃষকদের কাছে রক্ষিত লবণ বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। বিসিক সূত্র জানিয়েছে, নিজস্ব লবণ প্রদর্শনী খামারগুলো বার বার টেন্ডার আহবান করার পরও ক্রেতা পাচ্ছে না।


চকরিয়া পেকুয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ, কুতুবদিয়া মহেশখালী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ.এইচ.এম. হামিদুর রহমান আযাদ, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু ও কুতুবদিয়া বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক আ.স.ম. শাহরিয়ার চৌধুরী জানান, দেশের লবণ শিল্পকে বাঁচাতে হলে এ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই। লবণ শিল্পের সাথে জড়িত কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিশ লাখ জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি না দিলে লবণ শিল্পকে মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা করা যাবেনা।


লবণ শিল্পের দুর্যোগ থেকে উত্তরণ সম্পর্কে সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, লবণ শিল্পকে বাঁচাতে উক্তঅঞ্চলের গণমানুষের প্রাণের দাবি লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এদেশের উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষার জন্য উপকূলীয় লবণ জোনের জন্য আলাদা বরাদ্দ ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি তিনি দাবি জানান। লবণ আমদানি বন্ধ করে লবণের ন্যায্যমূল্যের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।


কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় চলতি মৌসুমের লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এ মুহূর্তে লবণের বাজারমূল্য নিয়ে চাষীরা হতাশায় ডুবে আছে। এদিকে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিসিকের ৪টি লবণ প্রদর্শনী খামারে প্রায় ৪ শত একর জমি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে লবণ উৎপাদন প্রদর্শনী খামারে জড়িত শত শত মৌসুমী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।


বিসিক পরিচালিত ৪টি লবণ উৎপাদন প্রদর্শনী খামার গুলো হচ্ছে কুতুবদিয়া, মাতারবাড়ী, চৌফলদন্ডি ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী। এর মধ্যে কুতুবদিয়া লবণ প্রদর্শনী খামারটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়। এ ৪টি খামারে প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে মৌসুমী শ্রমিক নিয়োগ করে আধুনিক প্রযুুক্তি পলিথিন পদ্ধতিতে সাদা লবণ উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় হতে ফান্ড অনুমোদন জটিলতার কারণে খামারগুলোতে লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া অনেক বিলম্বে শুরু হয়েছে বলে সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


বারবার টেন্ডার আহ্বান করেও ক্রেতা না পাওয়ায় গত মৌসুমের উৎপাদিত লবণ এখনো বিসিক এর গুদাম ভর্তি হয়ে পড়ে আছে। ইতিমধ্যে লবণ উৎপাদন মৌসুম প্রায় শেষের দিকে হলেও বিসিক’র ৪টি লবণ উৎপাদন প্রদর্শনী খামার অযন্তে অবহেলায় অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে সরকারের আর্থিক ক্ষতি অন্যদিকে খামার সংশিষ্ট শত শত কর্মকর্তা কর্মচারী বেকার হয়ে পড়ছে । 

কক্সবাজারে অপরাধীরা বেপরোয়া পর্যটকরা আতঙ্কে


অপরাধীরা বেপরোয়া পর্যটকরা আতঙ্কে

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, খুন ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ।
পুলিশ ও নির্ভিরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র পর্যটন নগরীকেই এখন তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের অন্যতম পছন্দের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে পর্যটন নগরীতে বেড়ে গেছে নারী-শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, খুন করে গাড়ি ছিনতাইয়ের মতো সব অপরাধ। এসব ঘটনা নিয়ে পুলিশও বিব্রত।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অপরাধী চক্রের সদস্যরা পর্যটন নগরীতে ছদ্মবেশে নানা পেশায় জড়িত থেকে শিকার ধরছে। তাদের একটি অংশ কাজ করছে শহরে রিকশা ও অটোরিকশা চালকের বেশে। পর্যটকদের নিয়ে বেড়ানোর সময় তারা সখ্য গড়ে তুলে কৌশলে কাঙ্ক্ষিত স্থানে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় অথবা ছিনতাই করে ছেড়ে দেয়। কেউ সৈকতে হকারের ছদ্মবেশে কাজ করে। তারা পর্যটকদের মাদক বা নারীর প্রলোভনে ফেলে গোপন স্থানে নিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নেয়। সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা পর্যটকবেশে বেড়ানোর কথা বলে গাড়ি ভাড়া করে। পরে ড্রাইভারকে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাই করছে। গত এক মাসেই এ ধরনের তিনটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় দুই ড্রাইভারকে হত্যা করেছে অপরাধীরা। অন্য একটি ঘটনায় ড্রাইভার এখনও নিখোঁজ। পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজারে অপরাধে জড়িত এরকম কয়েকটি অপরাধী চক্রের তথ্য তাদের হাতে এসেছে। যারা নগরীতে অপহরণ, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে অভিযানও শুরু করেছে। এই চক্রের ৩ সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অপহরণকারী চক্রের আস্তানা থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছে শহরের পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার হারেজ মোশারফা (১৪) নামে এক কিশোরী। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে অপহরণ করে চট্টগ্রামে নিয়ে যায়। ৬ দিন বন্দি রাখার পর অন্য এক চক্রের কাছে বিক্রি করার সময় কিশোরী কৌশলে পালাতে সক্ষম হয়। কিশোরীর দেওয়া তথ্য মতে, পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপরাধী চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করেছে। তারা হচ্ছে পেশকারপাড়া এলাকার মোঃ ছৈয়দের ছেলে আবদুস শুক্কুর (৪০), বাহারছড়া এলাকার নাছির উদ্দিনের মেয়ে আমেনা (২০) এবং স্ত্রী ফাতেমা (৩৮)। অপহরণের শিকার কিশোরী মোশারফা জানিয়েছে, আমেনা তাকে বেড়ানোর কথা বলে নাছির উদ্দিনের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে চট্টগ্রামে দলের অন্য সদস্যদের কাছে পাচার করে দেওয়া হয়। পুলিশ বলেছে, আটক ৩ জনই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের নেটওয়ার্ক দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সপরিবারে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন ঢাকার ব্যবসায়ী হারুন রশিদ। শহরের লাইট হাউস এলাকায় বেড়াতে গেলে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা তার দুই শিশুর গলায় ছুরি ধরে সর্বস্ব ছিনতাই করে। পরে দুই শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে চাইলে তারা স্বামী-স্ত্রী জীবনবাজি রেখে বাধা দেয়। এ সময় দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে দুজনই গুরুতর আহত হন। তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। সহপাঠীদের নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিলেন নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী পাভেল জোয়ার্দার। গত ১৯ জানুয়ারি হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে তাকে কৌশলে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। তিনি জানান, এক রিকশা চালকের সঙ্গে ঘুরতে বের হন। রিকশাচালক তাকে নিয়ে এক দোকানে চা খায়। এরপর জ্ঞান ফিরলে নিজেকে দেখতে পান একটি কক্ষে বন্দি অবস্থায়। ৩ দিন পর মুক্তিপণ নিয়ে পাভেলকে চট্টগ্রাম থেকে মুক্তি দেয় অপহরণকারী চক্র। গত ১ জানুয়ারি বিকেলে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে অপহৃত হয় উখিয়ার এক কিশোরী। সড়কের পাশে তাকে দাঁড় করিয়ে ভাই মোবাইল কার্ড কিনতে যান। ফিরে এসে বোনকে আর পাননি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, একটি মাইক্রোবাস উঠিয়ে নিয়ে গেছে কিশোরীকে। এখনও পর্যন্ত তার কোনো হদিস নেই। গত ৩১ ডিসেম্বর কক্সবাজার কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে মাইক্রোবাসে বাড়ি ফিরছিল সৈকতপাড়ার আশরাফ জামান চৌধুরীর মেয়ে তামীম তারিক মুত্তারিন ঝিনুক চৌধুরী। মাইক্রোচালক তার মুখে রুমাল চেপে ধরে অজ্ঞান করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে কুড়িগ্রামে বন্দি অবস্থা থেকে অন্য এক মেয়ে কৌশলে পালাতে সাহায্য করে তাকে। ঝিনুক এখন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে পর্যটকবেশে মাইক্রোবাস (নং-ঢাকা মেট্রো চ-১৪-২১২১) ভাড়া করে কক্সবাজার এসেছিল সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের এক নারীসহ ৪ সদস্য। গত ১৫ জানুয়ারি শহরের কলাতলীতে সি-ভিউ নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট হাউজে ড্রাইভার প্রদীপ দাশকে (৩২) হত্যা করে মাইক্রোবাসটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আরও এক ড্রাইভারকে হত্যা করে কক্সবাজার সদরের এসএম ঘাট ব্রিজের কাছে লাশ ফেলে দিয়ে তার গাড়ি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত। কক্সবাজার বেড়াতে আসার কথা বলে গাড়িটি চট্টগ্রাম থেকে ভাড়া করা হয়েছিল। এভাবে একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও পুলিশ কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতে, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা ছিনতাই, ডাকাতি, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হচ্ছে। দেশের অন্যান্য এলাকার সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রও তাদের সঙ্গে পর্যটন শহরে আস্তানা গেড়েছে। কক্সবাজার থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ছিনতাইকৃত গাড়ি উদ্ধার ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারে তারা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি জানান, পর্যটন শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক আসছে। সীমিতসংখ্যক পুলিশের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা খুবই কঠিন কাজ। তবুও তারা দায়িত্ব পালন করছেন।


তথ্যসূত্র: বাংলা আই ।


"লোডশেডিং এর ছোবলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামবাসী"


লোডশেডিং এর ছোবলে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামবাসী
ফয়সল অভি


শীত মৌসুম রেশ যাওয়ার সাথে সাথেই চট্টগ্রামে ভয়াবহ আকারে লোডশেডিং শুরু হয়েছে । বিদ্যুতের এই আসা যাওয়ার খেলার কোন সুর্নিদিষ্ট সময়সূচী নেই । লোডশেডিং এর কানামাছি খেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চট্টগ্রামের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আর গার্হস্থ্য জীবনকে করছে বাধাগ্রস্ত সাথে সাথে কৃষি, ছোট বড় মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা বিদ্যুতের এই অনিয়মতান্ত্রিক আসা যাওয়ায় রীতি মতো বিপর্যস্ত ।

বর্তমান মুহূর্তে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট সেখানে চট্টগ্রামের বিদুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন এর অর্ধেক পরিমান । ফলে বর্তমান মুহূর্তে চট্টগ্রামে গড় লোডশেডিং এর পরিমাণ ২৫০ মেগাওয়াট থেকে ২৮০ মেগাওয়াট । গ্যাসের অভাবে শিকলবাহা এবং রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের উৎপন্ন উল্লেখযোগ্য পরিমানে কম ।

আরো একটি চিন্তায় বিষয়; বিদ্যুতের এই ঘটতির কারণে গ্রামাঞ্চলে রাত ১১টার পর থেকে সেচের জন্য যে নিরবচ্ছিন্ন বিদুৎ সরবরাহ করা কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না । পল্লী বিদুৎ সমিতি বিদ্যুতের এই ঘাটতি মোকাবেলা করার জন্য লোডশেডিং এর আশ্রয় নিচ্ছে ফলে গ্রাষ্ম মৌসুম আসার আগেই বিদুৎ সংকট ভয়াবহ আকারে রূপ নিচ্ছে ।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিং করার কোন সময়সূচী না থাকার কারণে এই লোডশেডিং সহ্যের মাত্রাকে ছাড়িয়ে ভয়াবহ জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে । তাই কতৃপক্ষ বিদুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে চট্টগ্রামে লোডশেডিং এর সুর্নিদিষ্ট সময়সূচী নির্ধারন করে জনমানুষের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করবে সেই রকমই প্রত্যাশা ।


তথ্য পরিচালনায়> "নতুন সূর্যোদয়" চট্টগ্রাম ভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ।