মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০১০

বাঁশখালীর হোটেল রেস্তোরাঁয়লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি

বাঁশখালীর হোটেল রেস্তোরাঁয়লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি
 

বাঁশখালীর হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির বৈঠকের পর খাবার সামগ্রীগুলো দাম কমানোর সিদ্ধানত্ম হলেও সে সুফল পাচ্ছে না সাধারণ জনগণ প্রশাসনের সাথে বৈঠকের পর চট্টগ্রামে প্রতিটি হোটেল রেস্তোরাঁয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও সেই ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অধিকাংশ উপজেলা। ফলে পূর্বের চড়া দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে জনগণ। চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটা-ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য দিন দিন নিম্নমুখী হলেও বাঁশখালীতে হোটেল রেস্তোরাঁ ও বেকারি সামগ্রীর দাম কমেনি। এনিয়ে স্থানীয় ক্রেতা সাধারণের সাথে হোটেল রেস্তোরাঁ ও বেকারি মালিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, বাকবিতণ্ডা ও চরম দূরত্ব সৃষ্টিসহ ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা গেছে, বাঁশখালীর কয়েকশ হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে বিগত বছরে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে মূল্য সংযোজন করা হয়েছে। বছর পূর্বে এক কাপ চা ২ থেকে ৩ টাকা করা হলেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে তা ৫ টাকা ধার্য্য করা হয়। একই ভাবে ২ টাকা দামের রুটি, পরটা, চমুচা, সিঙ্গারা ও জিলাপি ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা, ভাত প্রতি প্লেট ৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮-১০ টাকা করা হয়। অন্যান্য উপকণের দামও বাড়ানো হয় একই হারে। মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে হোটেল রেস্তোরাঁ মালিকগণ বিজ্ঞপ্তি টাঙ্গিয়ে দফায় দফায় মূল্য বাড়ায়। এদিকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমতে শুরু করলেও বাঁশখালীতে হোটেল ও বেকারি সামগ্রীর দাম কমানো হয়নি। চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটা-ময়দাসহ খাদ্য সামগ্রীর দাম অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকে নেমে এলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের হোটেল এবং বেকারি সামগ্রীর দাম রাখা হচ্ছে আগের মতই উচ্চ মূল্যে। বেকারি পণ্য ও হোটেল সামগ্রীর দাম না কমায় স্থানীয় ক্রেতা সাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে চিনির দাম একদম সর্বনিম্ন পর্যায়ে হলেও মিষ্টি জাতীয় দব্যের দাম আগের মত রয়ে গেছে। যেখানে এক কেজি জিলাপি ৪০ টাকা ছিল তা থেকে বাড়িয়ে ১২০টাকা করা হলেও অদ্যাবধি সে দামই রয়ে গেছে। অন্যদিকে মিষ্টি ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ -২২০ টাকা হলেও তা কমানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে হোটেল রেসেত্মারাঁ মালিকদের এক বৈঠক শেষে কয়দিনের মধ্যে খাবারের দাম কমানোর ঘোষণা আসলেও তা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ জনগণ। এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালীর জনগণ প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাজার মনিটরিং করার জন্য। বাজারে বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর দাম কমলেও তার প্রভাব পড়ে না গ্রামেগঞ্জে। ফলে ক্রেতাদের আগের দামে সব জিনিসপত্র ক্রয় করতে হয়। এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমা বলেন, জনগণের সার্বিক দিক বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে মনিটরিং সেল গঠন করে দ্রব্যমূল্য কমানোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করব। এ ব্যাপারে সকলের সার্বিক সহযোগীতা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, আমরা অযথা কাউকে হস্তক্ষেপ করতে না হয় সেইজন্য ব্যবসায়ীদেরকে নিজ নিজ দায়িত্ব অনুসারে দ্রব্যমূল্য কমানো উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেশ কিছু হোটেল রেস্তোরাঁ ও বেকারি মালিক নিজেদের উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য দ্রব্যাদি ইচ্ছামাফিক মূল্যনির্ধারণ করে বাজারে ছাড়লেও তা তদারকিতে এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ।


তথ্য সূত্র :আজাদী 

সাতকানিয়ায় ৩ কি. মি. সড়কের জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ২৫ হাজার মানুষ

সাতকানিয়ায় ৩ কি. মি. সড়কের জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ২৫ হাজার মানুষ
 


মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পাঁচ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে অবস্থা আরও শোচনীয়। ঢেমশা ইউনিয়নের উত্তর ঢেমশা-বড়ুয়াপাড়া সড়কের এই করুণ হাল হলেও সড়কে ইট বিছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই কর্তৃপক্ষের। সরেজমিন দেখা গেছে, সড়ক দিয়ে একদল শিশু ঢেমশা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তাদের পেন্ট হাঁটুর ওপর তোলা। বইগুলো পলিথিন মোড়ানো। স্কুল ছাত্র রবিউল হোসেন বলে, ‘আঁরার গ্রামর রোড ভালা নয়, এত্তেল্লাই পলিথিন দি বাঁধি বই লয়্যি।’ ফারজানা আক্তার বলে, সড়ক ভালো না হওয়ার কারণে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সড়কটির উন্নয়ন করবেন এমন আশ্বাস দিয়ে আগে জনপ্রতিনিধিরা ভোট নিয়েছেন। কিন্তু এখনো কেউ কথা রাখেননি। এমন কী সড়ক সংস্কারের জন্য এখনো পর্যন্ত প্রকল্পই গ্রহণ করা হয়নি। ফলে গ্রামের মানুষেরা চরম দুর্ভোগে আছেন। এই সড়ক দিয়ে ঢেমশা, উত্তর ঢেমশা, নলুয়া, মরফলা, চৌধুরীহাট এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন চলাচল করেন। তাদের মতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সড়কে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রচার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স্বপন চৌধুরী এবং অধ্যাপক দিলিপ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি এই ঢেমশায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অসীম অবদান আছে। কিন্তু রাষ্ট্র কখনো তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেননি। তিনি বলেন, গ্রামের একমাত্র সড়কটি উন্নয়ন করে তাদের নামে উৎসর্গ করলে তাদের আত্মা শান্তি পাবে।

সড়কটি উন্নয়ন কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তাসাউর বলেন, এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আগে কেন প্রকল্পভুক্ত করা হয়নি জানি না। তবে ভবিষ্যতে সড়কটি প্রকল্পভুক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে ।


তথ্য সূত্র: আজাদী

লোহাগাড়া পিআইও’র বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

লোহাগাড়া পিআইও’র বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ


লোহাগাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে চরম্বা ইউনিয়নের দু’জন মেম্বার গত ৭ মার্চ লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছেন। তারা বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যথাবিহীত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান অভিযোগ তদন্ত করে ৭ দিনের মধ্যে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলীকে রিপোর্ট দিতে বলেছেন। চরম্বা ইউনিয়নের ২নং সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার সাকেরা বেগম ও ২নং ওয়ার্ডের পুরুষ মেম্বার নুরুল হক অভিযোগ করেছেন যে, তারা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা) প্রজেক্ট চেয়ারম্যান। কাজ শেষ করার পর উপজেলায় ডিও নিতে গেলে পিআইও ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেয়ায় খাদ্য শস্যের ডিও প্রদান করেননি। অপরদিকে কেরাতের ছড়া, কাজির পাড়া সড়ক প্রভৃতি প্রকল্পে কোন কাজ না করে প্রকল্প সভাপতি যথাক্রমে আবু তাহের মেম্বার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহমদ মিয়া রাতে পিআইও কে ঘুষ দিয়ে ৬ মে.টন চালের ডিও নিয়ে যান। ইতোপূর্বে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ মিয়া ও পিআই শফিকুর রহমান মেম্বার সাকেরা বেগমের কাছ থেকে দু’ মে টন চালের টাকা দাবি করেন বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে পিআইও শফিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহমদ মিয়া বলেছেন অভিযোগ অমূলক। কাজ সম্পন্ন না হওয়াই ডিও (ডেলিভারী অর্ডার) প্রদান না করার অন্যতম কারণ ।


তথ্য সূত্র: আজাদী

কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিংকৃত মাটি দিয়ে উপকূলীয় ডাঙ্গারচর এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণ করুন

কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিংকৃত মাটি দিয়ে উপকূলীয় ডাঙ্গারচর এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণ করুন

 মোঃ জামাল হোসেন রনি




চট্টগ্রাম জেলার অবহেলিত জনপদ পশ্চিম পটিয়া কর্ণফুলী থানাধীন উপকূলীয় এলাকা ডাঙ্গারচর, শহরের সাথে এই জনপদের দূরত্ব বলতে নদীর এপাড় ওপাড়কেই বুঝায়। এই সামান্য দূরত্ব নদী বিভাজনে আমাদেরকে নিয়ে গেছে বহুদূর। এই গ্রামের সাথে যুক্ত অন্যগ্রাম আইল্যার চর। লক্ষ্যারচর, বালুরচর, হাজারীরচর, ইছানগর, খোয়াজনগর, জুলধা, শামিরপুরসহ বিস্তীর্ণ বিশাল জনপদ। এই এলাকাগুলির রয়েছে চাষ আবাদী বিশাল ভূমি। ১৯৯১ সালের বন্যায় লবণ পানি প্রবেশ করে ফসল, গরু-ছাগলসহ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সাগরে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। তখন এই জনপদের লোকজন জলোচ্ছ্বাসের ভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে চলে। এই সমস্যাগুলি থেকে বিশাল জনগোষ্ঠিকে ও চাষাবাদ রক্ষায় বর্তমান সরকার যদি মেরিন একাডেমি থেকে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ অর্থাৎ কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিংকৃত মাটি দিয়ে একাডেমি থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত একটা রাস্তা নির্মাণ করে রাস্তার দু’পাশে বনায়ন করে তাহলে বিশাল এলাকার জনগোষ্ঠি অর্থনৈতিক গতি ফিরে পাবে এবং কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য আসবে এবং শহরে মানুষের যে চাপ তাও কমে আসবে।

বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আমার আবেদন যেন কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিংকৃত মাটি দিয়ে উপকূলীয় এলাকাগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পায় তার জন্য বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই একটি মাত্র সড়ক নির্মাণ করলে বদলে যেতে পারে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জলোচ্ছ্বাস বন্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই সাহসী মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকেই। আশা করি সংশ্লিষ্ট বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখবেন।

চট্টগ্রামে বয়লার-কেপিপিতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের গণনোটিশ

চট্টগ্রামে বয়লার-কেপিপিতে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের গণনোটিশ

সাইফুদ্দিন তুহিন


চট্টগ্রামে ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও গ্যাসের অভাবে চালু করতে না পারা প্রায় দেড়শ’ নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন সুখবর তো নেই-ই বরং চালু প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে। বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডে (বিজিএসএল) গণনোটিশ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্যাপ্টিভ পাওয়ার পান্ট (কেপিপি) ও বয়লারে আর গ্যাস সরবরাহ দেয়া যাবে না। সহসাই তাদের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কেপিপি ও বয়লার চালু রাখতে গ্যাসের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে শিল্প মালিকরা এ নোটিশ প্রত্যাহারের জন্য ষোলশহরে বিজিএসএলের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ধরনা দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ না করে একতরফা নোটিশ প্রদান মেনে নেয়া যায় না। অনেকে নোটিশ পাঠানোকে চট্টগ্রামের শিল্প প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার চূড়ান্ত পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তবে বিজিএসএলের কর্মকর্তারা জানান, পেট্রোবাংলার নির্দেশেই নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার শুরু না করলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কেপিপি ও বয়লারে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন। কেপিপি মূলত গ্যাসভিত্তিক জেনারেটর। চট্টগ্রামের ছোট-বড় প্রায় ১ হাজারেরও বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে গার্মেন্টস আছে সাড়ে ৭শ’। ছোট আকারের কারখানায় ডিজেলনির্ভর জেনারেটর দিয়ে লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হয় না। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য কেপিপিই একমাত্র ভরসা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্যাটাগরির শিল্প প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ১৬৫টি কেপিপি ব্যবহার করা হয়। আর বয়লার (বাষ্প তৈরির বিশেষ মেশিন) চলে ১১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে। শিল্প প্রতিষ্ঠানে স্টিম (বাষ্প) ব্যবহারের কাজে ব্যবহার হয় বয়লার। ওয়াটার টিউব ও ফায়ার টিউব দুই ধরনের বয়লার দিয়ে উৎপাদন করা হয় বাষ্প। দুই খাতেই অন্তত ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ডিজেল কিংবা ফার্নেস অয়েল দিয়ে এসব চালানো ব্যয়বহুল হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকে গ্যাস দিয়ে চালানো হচ্ছে। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন বিঘিœত হওয়া থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্য কেপিপি ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্য জাহাজে বোঝাই করতে সময় নির্ধারণ করা থাকে। লোডশেডিংয়ের কারণে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্য বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে উৎপাদন করা যায় না। ফলে রফতানি অর্ডার বাতিলের ঝুঁকি থেকেই যায়। মূলত ঝুঁকি এড়াতেই কেপিপির মাধ্যমে শিল্প কারখানায় উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়। এখন তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পালা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ ঘাটতি। আর এ সময় শিল্প প্রতিষ্ঠানে কেপিপির ব্যবহারও বেড়ে গেছে। এখন হঠাৎ করে কেপিপি ও বয়লারে গ্যাস সংযোগ বন্ধের পরোক্ষ নির্দেশনা পাওয়ায় শিল্প মালিকরা কিংকর্তব্যবিমুঢ়। তারা বুঝে উঠতে পারছেন না কেন বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের নোটিশ দেয়া হচ্ছে। বিজিএসএল সূত্র জানায়, গত ফেব্র“য়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে কেপিপি ও বয়লার মালিকদের কাছে নোটিশ পাঠানো শুরু হয়। বিজিএসএলের বিক্রয় বিভাগের উত্তর ও দক্ষিণ পৃথক দুই জোন থেকেই নোটিশ যাচ্ছে। ইতিমধ্যে নোটিশ পাঠানো অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাকি নোটিশগুলো পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশিষ্টরা। নোটিশে বলা হয়েছে, সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হ্রাস এবং গ্রিডলাইন থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে কেপিপি ও বয়লারে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। নোটিশে বিকল্প জ্বালানি কি তা উলেখ করা হয়নি। নোটিশে সরাসরি বলা না হলেও পরোক্ষভাবে ছয় মাস পর কেপিপি ও বয়লার থেকে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। নোটিশ দেয়ার কথা স্বীকার করে বিজিএসএলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) খান আশরাফ আলী মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, গ্যাস সাশ্রয় করতেই এ নোটিশ দেয়া হয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে। ছয় মাসের মধ্যে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে চালাতে হবে কেপিপি ও বয়লার। অন্যথায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হতে পারে। এ ব্যাপারে বিজিএসএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (উত্তর) মতিউর রহমান বলেন, তীব্র গ্যাস সংকট এড়াতে নোটিশ দেয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। ছয় মাসের মধ্যে কেপিপি ও বয়লারে কি ধরনের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করা যায়Ñ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ফার্নেস অয়েল দিয়ে চালানো যেতে পারে। এদিকে কেপিপি ও বয়লারে গ্যাসের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার সংক্রান্ত নোটিশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় প্রতিদিন ষোলশহরে অবস্থিত বিজিএসএলের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এসে ধরনা দিচ্ছেন নোটিশ পাওয়া কেপিপি মালিকরা। তারা বিজিএসএলের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন বিকল্প কি জ্বালানি ব্যবহার করা যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ নোটিশ গ্রহণযোগ্যতো নয়ই, অমানবিক। এতে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ও সংসদ সদস্য এমএ লতিফ যুগান্তরকে বলেন, কেপিপি বা বয়লার থেকে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার যে কোন সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নিতে হবে। হঠাৎ করে এরকম নোটিশ দেয়া যায় না। বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিবর্তে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার নোটিশ দেয়া হচ্ছে। এতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। বিজিএসএলের উচিত গ্যাস সংযোগ বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে অনাপত্তি পাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত সংযোগের ব্যবস্থা নেয়া। চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ ছালাম যুগান্তরকে বলেন, নোটিশ পেয়ে অবাক হয়েছি। আমার নিজেরও দুটি কেপিপি আছে। নোটিশে আসলে কি বলা হয়েছে জানতে চেয়ে কোন সদুত্তর পাইনি ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে দুর্ঘটনা বাড়ছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে দুর্ঘটনা বাড়ছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনা। চলতি মাসের শুরুতে পাঁচদিনে চারটি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ ঘণ্টা বন্ধ ছিল রেল পথ। পথে পথে আটকা পড়ে আন্তঃনগর, মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। সবগুলো দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে গুডস ও কনটেইনার ট্রেনকে। পুরনো ওয়াগন নিয়ে চলাচলের কারণেই দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশিষ্টরা। আর তাতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। 
দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন দাবিতে রেল পথে ট্রেন আটকের ঘটনায় স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার নরসিংদীতে জনতা কম্পিউটার ট্রেন অবরোধ করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম সিলেট রেল পথে সাড়ে তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। রেলওয়ে সূূত্র জানায়, পুরনো বগি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ইঞ্জিন নিয়ে ৩২০ কিলোমিটার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথে চলাচল করছে কনটেইনার ও গুডস ট্রেন। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা খাদ্য বিভাগের একটি বড় অংশের চালান নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রেল পথে চলাচল করে গুডস ট্রেন। আর বন্দর ইয়ার্ড থেকে নানা ধরনের পণ্য নিয়ে কমলাপুর আইসিডিতে চলাচল করে কনটেইনার ট্রেন। এসব ট্রেনগুলোর গতি স্বাভাবিকের চেয়ে কমিয়েও দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। চলন্ত অবস্থায় একটি ওয়াগন কিংবা বগি লাইনচ্যুত হলেই পুরো রেল পথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য তিন কিংবা ছয় ঘণ্টার রেল পথ অতিক্রম করতে লেগে যায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা। একারণে যাত্রীরা এখন রেল পথে চলাচলে বিমুখ হয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, ২৮ ফেব্র“য়ারি গভীর রাতে ৩১টি ওয়াগন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ড থেকে ঢাকা রওয়ানা দেয় একটি গুডস ট্রেন। এটি ভোর রাত তিনটা ৪০ মিনিটে ফেনীর ফাজিলপুর পৌঁছলে হঠাৎ মাঝখানের তিন বগি বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়। দুটি বগি রেল লাইন থেকে কিছু দূর ছিটকে পড়ে। এসময় ঢাকা ও চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী তিনটি ট্রেন আটকা পড়ে। এগুলো হচ্ছে তুর্ণানিশিথা, মেইল ও মেঘনা এক্সপ্রেস। অপরদিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী চারটি ট্রেন আটকা পড়ে। এগুলো হচ্ছে সুবর্ণ, মহানগর প্রভাতি, সাগরিকা ও কর্ণফুলী এক্সপ্রেস। ৭ ঘণ্টা পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার শেষে আবার সচল হয় রেল পথ।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথে একটি কনটেইনার ট্রেনের দুটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এর পর বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম সিলেট পথে ট্রেন চলাচল। সাড়ে ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিকালে লাইনচ্যুত ওয়াগন উদ্ধারের পর সচল হয় ট্রেন চলাচল। এসময় রেল পথের উভয় দিকে আটকা পড়ে ৮টি ট্রেন। এর আগে রেল পথের কুমিলা অংশে আরও দুটি কনটেইনার ট্রেন দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে। একজন যাত্রী জানান, চলতি মার্চ মাসের শুরু থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ট্রেন চলতে পারেনি। ঘন ঘন দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে পূর্ব রেলওয়ের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার ইব্রাহিম খলিল যুগান্তরকে বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৪৫ কিলোমিটার বেগে চলছে কনটেইনার ও গুডস ট্রেন। কিন্তু এর পরও ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব ট্রেনে নতুন ওয়াগন ও ইঞ্জিন সংযোজন করা হলে দুর্ঘটনা কিছুটা কমে আসতে পারে। তিনি স্বীকার করেন চলতি মাসের শুরু থেকে ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনায় যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের মাসিক পর্যালোচনা সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট পথে আড়াই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নরসিংদীর খানাবাড়ি স্টেশনে ক্ষুব্ধ জনতা একটি কমিউটার ট্রেন আটকে দিলে রেল পথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খানাবাড়ি স্টেশনে কমিউটার ট্রেন থামার দাবিতেই ট্রেনটি জনতা অবরোধ করে রাখে ।


তথ্য সূত্র: যুগান্তর 

কলা চাষ করে স্বাবলম্বী রাউজানের হালিম


কলা চাষ করে স্বাবলম্বী রাউজানের হালিম

ফসল চাষ করে কিংবা অন্য কোন কাজ করে নয়, এবার কলাবাগান করে স্বাবলম্বী হলেন রাউজানের গহিরার যুবক আবদুল হালিম। কোন সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজ চেষ্টায় কলা চাষ করে রাউজান তথা উত্তর চট্টগ্রামের সাগর কলার চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন এই যুবক।

২০০১ সালে গহিরার অনাবাদি ১৩৬ শতক দুটি পৃথক জায়গা বন্ধক নিয়ে রংপুর থেকে কলাবীজ এনে দুইটি বাগানে লাগায় সে। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে থাকাতে হয়নি। সম্প্রতি তার কলাবাগান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাফল্যের এই ইতিবৃত্ত পাওয়া যায়। তার মতে চেষ্টা করলে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে কাঙিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব তাই সবাই একেকটি করে প্রজেক্ট নিলে দেশের এবং নিজের চাহিদাও পূরণ করা দুষ্কর নয়। এক্ষেত্রে সবাইকে পরিশ্রমী হতে হবে। গহিরা দলই নগর গ্রামের আবুল কালামের পুত্র ৮ম শ্রেণী পাস আবদুল হালিম ৮ ভাই ২ বোনের মধ্যে ২য়।

২০০১ সালে রংপুরের মোং শহিদ নামের এক গৃহকর্মীর পরামর্শে রংপুর থেকে এক হাজার চারা এনে প্রথমে ১শ শতক জায়গায় লাগান। এ বাগান গড়ে তুলতে খরচ হয় ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। প্রথম বছর লাভের মুখ তেমন না দেখলেও পরের বছর থেকে ভালোই সফল হয়ে আসছেন তিনি। বলেছেন একশ শতক জায়গায় কলাবাগানটি করার পর লাভ হওয়ায় তার পাশে ৩৬ শতক জায়গায় আরেকটি বাগান গড়ে তুলেছি। বর্তমানে তার দুইটি বাগানে ৫ লাখ টাকার বেশি কলা রয়েছে। তিনি আরো জানান, তার বাগানের কলা শুধু রাউজানে নয়, রাঙ্গামাটি, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম শহরের ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা নিয়ে যায় খুচরা বিক্রি করতে। শুধু কলা নয়, বাড়ির আঙ্গিনায় বা নিজস্ব বাগানে লাগানোর জন্য কলার চারাও নিয়ে যান অনেকে। একটি কলা চারা ১০ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, তার বাগান থেকে একটি কলা পাইকারী হারে ২ টাকা ৮০ পয়সা করে নেন। ভালো জাতের কলা হওয়ায় পাইকারী ক্রেতারা কলা কিনতে আসেন প্রতিদিন। খুচরা বিক্রেতারা তাদের দোকানে একটি কলা বিক্রি করে থাকেন ৪/৫ টাকা করে ।


তথ্য সূত্র: ইত্তেফাক

উখিয়ায় সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

উখিয়ায় সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

উখিয়ায় ১৮ সদস্যের তিনটি সিন্ডিকেট প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালি উত্তোলন করে পরিবেশ বিপন্ন করে তুলছে। মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের নমনীয়তায় স্থানীয় বালি দস্যুরা বিনা রাজস্বে এ বালি উত্তোলনের মহোৎসব চালালেও সংশিষ্ট প্রশাসন তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে না। অবৈধ পন্থায় বালু খেকোরা প্রতি বছর সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব তছরুপ করছে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী, থাইংখালী, বালুখালী, দোছড়ী, হাজির পাড়া, তুতুরবিল, রেজু, হিজলিয়া, সাদৃকাটা, মরিচ্যা, গয়ালমারা, রুমখাঁ কুমারপাড়া খালের অন্তত ১২টি বালু মহাল থেকে সিন্ডিকেট বালু তুলছে। সাঁইত্রিশ পয়সা ঘনফুটের বালু ৮/৯ টাকা হারে বিক্রি করে চলতি মৌসুমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই বালু খেকো সিন্ডিকেট। তথ্যানুসন্ধানে প্রকাশ, পালংখালী, বালুখালী, রেজু, রুমখাঁ কুমারপাড়া বালু মহাল থেকে স্থানীয়ভাবে সামান্য কিছু রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হলেও আরো ৮/১০টি বালু মহাল থেকে কোন কানাকড়িও সরকার পায় না। প্রতি বছর এসব বালু মহাল থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এসব প্রভাবশালী মহল উখিয়ার ১৫টি বালু মহাল থেকে বালু উত্তোলন করলেও মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতিপত্র নেয় ৪টি মহালের। এসব লুটপাটের চিত্র তদারক করার মত মাঠ পর্যায়ে জ্বালানি-খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোন লোকবল না থাকার সুযোগে এসব মহল বালু উত্তোলনে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বালু মহালগুলোর কর্তৃত্ব ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করার উদ্যোগ নিলে ২০০৭ সালে প্রভাবশালী বালু খেকোরা উচ্চ আদালতে রিট করে বালু মহালগুলোতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখে। বর্তমানে উখিয়ায় যে কয়টি বৈধ বালু মহাল আছে তা থেকে সামান্য রাজস্ব আদায়ের বিপরীতে বিপুল পরিমাণের বালি উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে কোন ব্যবস্থা নেয় না। সহকারী ভূমি কমিশনারের দায়িত্বে থাকা উখিয়া ইউএনও মুহাম্মদ গোলামুর রহমান জানান, এসব বালু মহাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়যোগ্য করে তুলতে জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না এবং সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। ।


তথ্য সূত্র: ইত্তেফাক


অপ্রতুল লোকবল ও পুরানো যন্ত্রপাতি নিয়ে ধুঁকছে চট্টগ্রাম বেতার

অপ্রতুল লোকবল ও পুরানো যন্ত্রপাতি নিয়ে ধুঁকছে চট্টগ্রাম বেতার ।। আঞ্চলিক পরিচালকসহ ১৩০টি পদই শূন্য, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সমিটার
॥ ফেরদৌস শিপন ॥





আঞ্চলিক পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রধান পদটিসহ বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুমোদিত পদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন যাবত শূন্য। ফলে বর্তমানে কর্মরতদের অতিরিক্ত চাপ সহ্য করে এখানকার নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে আসতে হচ্ছে। শুধু লোকবল সংকটই নয়, এই কার্যালয়ে বিরাজ করছে আরো নানা সমস্যা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুরাতন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার। দীর্ঘদিন আগে স্থাপিত ট্রান্সমিটার দুর্বল হয়ে যাওয়ার ফলে শ্রোতা মহলে অনুষ্ঠান কার্যক্রম ঠিকভবে পৌঁছে না। আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডস্থ বাংলাদেশ বেতারের চট্টগ্রাম প্রধান কার্যালয়টির অবস্থাও জরাজীর্ণ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে আঞ্চলিক পরিচালকসহ অনুমোদিত ২১৭টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৩০টি পদই শূন্য রয়েছে। এখানকার আঞ্চলিক পরিচালক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সোহরাব হোসেনকে সংযুক্তির মাধ্যমে ঢাকায় বদলি করা হয় গত ডিসেম্বরে। অপরদিকে এখানকার অনুষ্ঠান শাখায় অনুমোদিত ৯৫টি পদের মধ্যে কাজ করছেন ৩৩ জন। বাকি ৬২টি পদই শূন্য। প্রকৌশল বিভাগে অনুমোদিত ৬৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৪ জন। বাকি ৪৫টি পদই শূন্য। বার্তা বিভাগ শাখায় অনুমোদিত ১০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩ জন। এখানে ৭টি পদই শূন্য রয়েছে। এছাড়াও বেতার আঞ্চলিক শাখার নিজস্ব ৪৩ জন অনুমোদিত শিল্পীর মধ্যে আছেন ২৭ জন। বাকি ১৬টি পদ খালি আছে।

শূন্য পদগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠান শাখায় রয়েছে উপ আঞ্চলিক পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৬টি পদ, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ৭টি, প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ ১টি, উচ্চমান সহকারী ২টি, অনুষ্ঠান সচিব ৬টি, স্টেনো ২টি, অফিস সহকারী ৯টি, হিসাব সহকারী ১টি, মটর চালক ৩টি, স্টুডিও কর্মচারী দুটি, মেশিন অপারেটর ১টি, এমএলএসএস ১৩টি, ফরাশ ৩টি, মালী ৩টি, চৌকিদার ২টি এবং ঝাড়ণ্ডদারের একটি পদ।

প্রকৌশল বিভাগে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬৯টি। তার মধ্যে শূন্য আছে ৪৫টি। গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদগুলো হচ্ছে, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৭টি, উপ-আঞ্চলিক প্রকৌশলী ৭টি, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ৬টি, রেডিও টেকনেশিয়ান ৬টি, ইকুইপমেন্ট এটেন্ডেন্ট পদে একটি, উচ্চমান সহকারী ১টি, অফিস সহকারী ৪ জন, মোটর চালক ১টি, এমএলএসএস ৫টি, ফরাশ ১টি, চৌকিদার ২টি এবং ঝাড়ণ্ডদারের একটি।

বার্তা বিভাগে অনুমোদিত পদসমূহের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ১টি পদ। তৃতীয় শ্রেণীর পদ ১টি এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদের ৫টি পদ শূন্য আছে।

চট্টগ্রাম বেতারের কয়েকজন শ্রোতা অভিযোগ করে বলেন, এই কেন্দ্রের কোন অনুষ্ঠানই ভালোভাবে শোনা যায় না। সূত্র জানায়, ২ বছর আগে বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রান্সমিটার। এছাড়াও কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটারের আয়ুস্কাল কমে যাওয়ায় সম্প্রচারে ব্যাঘাত ঘটে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হলে মৃতপ্রায় বেতার কেন্দ্রটি যৌবন লাভ করবে। নগরীর আগ্রাবাদ প্রচার ভবনের এফএম ট্রান্সমিটারটিও বদলানো দরকার।

কয়েকজন শ্রোতার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আধুনিক যুগে এসেও পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে খুবই নাজুকভাবে সম্প্রচারিত হচ্ছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিটার স্থাপন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করলে চট্টগ্রাম বেতার আবারো জনপ্রিয় প্রচার কেন্দ্রে পরিণত হবে।

এখানকার আঞ্চলিক প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলামের সাথে এসব প্রসঙ্গে কথা হলে তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম বেতারের প্রধান সমস্যাই হচ্ছে অপ্রতুল লোকবল। এ সংকটের কারণে বর্তমানে কর্মরতদের অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি।

চট্টগ্রাম বেতারের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, আমরা চাই চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান কতো সুন্দর করা যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল সংকটের কারণে এখানে যারা কর্মরত আছে তাদের খুবই কষ্টের মধ্যে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম নগরীতে বিদ্যুতের সব মিটার ডিজিটাল করার নির্দেশনা

নগরীতে বিদ্যুতের সব মিটার ডিজিটাল করার নির্দেশনা ।। পৌনে তিন লাখ এনালগ মিটার পাল্টানোর ব্যয় ভার গ্রাহকদেরই বহন করতে হবে
॥ হাসান আকবর ॥





চট্টগ্রাম মহানগরীর পৌনে তিন লাখ বৈদ্যুতিক গ্রাহকের বিদ্যমান এনালগ মিটার পাল্টে ডিজিটাল মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী দশ দিনের মধ্যে এনালগ মিটার পাল্টে ডিজিটাল মিটার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে কোন কোন এলাকায় নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। একই সাথে নতুন সব ধরনের সংযোগে ডিজিটাল মিটার স্থাপনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। বিদ্যমান মিটারগুলো পাল্টে নতুন মিটার স্থাপন করতে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিজেদের পকেট থেকেই পঞ্চাশ কোটিরও বেশি টাকার যোগান দিতে হবে। মিটার পাল্টে ফেলার নির্দেশনায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পিডিবি বলেছে এতে সুফল মিলবে।

সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় তিন লাখ আবাসিক এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। প্রি পেইড এবং পোস্ট পেইড সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হয়। একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ডিজিটাল এবং এনালগ দুই ধরনের মিটার রয়েছে। বছর দুয়েক আগে নগরীর খুলশী, পাঁচলাইশ, মেহেদীবাগ, দামপাড়া, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, আমবাগান, জালালাবাদ এবং আগ্রাবাদের বেপারী পাড়া এলাকায় প্রি-পেইড সিস্টেমে বিল আদায় শুরু হয়। এই সব এলাকার প্রায় ১৫ হাজার গ্রাহকের নিকট ডিজিটাল মিটার রয়েছে। এসব মিটারে কাগজে তৈরী কোন বিল আসে না। বিল পরিশোধের জন্য ব্যাংকেও যেতে হয় না। নিজেদের বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত প্রি পেইড মিটারে আগে থেকেই কার্ড রিফিল করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকে। মিটারের টাকা ফুরিয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আবার আগাম টাকা প্রদান করলে সরবরাহ শুরু হয়। পরীক্ষামূলকভাবে বছর দুয়েক আগে ডিজিটাল পদ্ধতির মিটারের মাধ্যমে প্রি পেইড সিস্টেম চালু করা হলেও নগরীর বিশাল এলাকায় এনালগ পদ্ধতির মিটার রয়েছে। প্রি-পেইড মিটারগুলো ডিজিটাল। চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় ১৫ হাজার ডিজিটাল মিটারের বাইরে প্রায় দুই লাখ পচাত্তর হাজার বিদ্যুত গ্রাহকের বাসা বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত এনালগ মিটারের রিডিং অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা বিল তৈরী করে গ্রাহকদের নিকট সরবরাহ করেন। গ্রাহকেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সেই বিল পরিশোধ করেন। ডিজিটাল মিটার স্থাপন করা হলেও সেই আগের প্রক্রিয়ায় বিল পরিশোধ করতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ এসব মিটার পাল্টে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রি পেইড এলাকাধীন গ্রাহকদের বিদ্যমান মিটারগুলো প্রি-পেইড কোম্পানি নিজেরা পাল্টে দিয়েছিলেন। এখন নগরীর যে বিশাল এলাকার প্রায় দুই লাখ পচাত্তর হাজার বিদ্যুৎ মিটার পাল্টানোর প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ বিভাগ শুরু করেছে সেগুলোতে মিটার গ্রাহকদেরকেই পাল্টাতে হবে বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের মাত্র দশ দিন সময় দিয়ে এর মধ্যে এনালগ মিটার বাতিল করে ডিজিটাল মিটার প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একজন বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, আমাদের মিটারে কোন সমস্যা নেই। বিলিং সিস্টেমেও কোন পরিবর্তন আসেনি। তাহলে শুধু শুধু আমি দেড় দুই হাজার টাকা খরচ করে মিটার পাল্টাতে যাবো কেন? সরকারী কোন গেজেটও এই ব্যাপারে প্রকাশ করা হয়নি। কেবল বিদ্যুৎ বিভাগ বাসায় বাসায় যেই বিল পাঠাচ্ছে তার উপর ডিজিটাল মিটার প্রতিস্থাপনের নির্দেশনাটি রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে সীল মেরে দেয়া হয়েছে। এটি কার নির্দেশে করা হচ্ছে বা বিশেষ কোন কোম্পানির সুবিধার জন্য কেউ করছে কিনা সেই সম্পর্কেও সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল একজন প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডিজিটাল মিটারের সুবিধা অনেক। এই মিটারের মাধ্যমে গ্রাহক যেমন তার বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন তেমনি আমরাও নানা তথ্য পেয়ে যাবো। এনালগ মিটার কখনো আবার কখনো ফাস্ট চলে। এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মানুষের আর কোন অভিযোগ থাকবে না। আরো বিভিন্ন সুবিধা থাকার ফলে আমরা বিদ্যমান এনালগ মিটার পাল্টে ডিজিটাল মিটার প্রতিস্থাপন করতে নির্দেশ দিয়েছি। এই প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম শহরে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকের মিটার পাল্টে ফেলা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবাসিক এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মিটার গ্রাহককেই পাল্টাতে হবে। তবে শিল্প গ্রাহকদের মিটার বিদ্যুৎ বিভাগ পাল্টে দিচ্ছে। মিটার উৎপাদনকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ডিজিটাল মিটার তৈরী করছে এবং তারা এনালগ মিটার তৈরী বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করে উক্ত প্রকৌশলী জানান এক একটি ডিজিটাল মিটারের দাম বারোশ’ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা।

ডিজিটাল পদ্ধতির মিটার সংযোজন করা হলেও বিলিং সিস্টেমে আপাতত কোন পরিবর্তন আসছে না। ডিজিটাল মিটারেই যা বিল আসবে ব্যাংকে গিয়ে সেই বিলই পরিশোধ করতে হবে।

চট্টগ্রামে ‘ছয় ‘মালিকের’ হাতেই অজ্ঞান পার্টির লাগাম’


‘ছয় ‘মালিকের’ হাতেই অজ্ঞান পার্টির লাগাম’


‘জাফর, খোরশেদ, মিজান, এয়াকুব, শাহীন ও জাহাঙ্গীর। তারাই নগরীর অন্তত চারটি অজ্ঞান পার্টির ৩০ সদস্যকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ওরা ছয়জনই হচ্ছে অজ্ঞান পার্টির ‘মালিক’। এরমধ্যে কেবলমাত্র এয়াকুবই কারাগারে রয়েছে। বাকি পাঁচজন ধরা পড়লে নগরীতে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা আর চোখে পড়বে না’। নগরীর কোতোয়ালি থানায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এমন দাবি করেছেন অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্য শাহজাহান, হারুণ ও দীপংকর। গতকাল মঙ্গলবার মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমানের আদালত থেকে দু’দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা এমন দাবি করেন। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোতোয়ালি থানার একটি ছিনতাই মামলায় (নম্বর ঃ ৩৬) তাদেরকে রিমান্ডে আনা হয়েছে। গত শনি ও রোববার নগরীর মনছুরাবাদ ও মতিঝর্ণা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে, পুলিশের হাত থেকে ফসকে গেছে দলনেতাদের অন্যতম মোহাম্মদ জাফর। কোতোয়ালি থানার উপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মহসিন ও সদীপ কুমার দাশ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। মঙ্গলবার বিকেলে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। থানায় বসে তারা পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।


জিজ্ঞাসাবাদে শাহজাহান ও দীপংকর জানান, জাফরের নেতৃত্বে পরিচালিত অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে তারা কয়েকবছর ধরে কাজ করছে। জাফরের দুই স্ত্রী। মতিঝর্ণায় লুটের টাকা দিয়ে জায়গা কিনে পাকা বাড়ি করেছে। আদি বাড়ি সিলেটে। তার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি দল রয়েছে। পরিস্থিতি যেখানে নিরাপদ থাকে সেখানেই তিনি অবস্থান করেন। আনুমানিক ১৫/১৬ বছর ধরে তিনি এ অপরাধ সংঘটিত করে আসছে। এসআই মহসিন জানান, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে ডবলমুরিং থানাধীন আবাসিক হোটেল সিলেট থেকে তাদের ১৩ সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে তারা একে একে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। এ গ্রুপের প্রায় সকলের বাড়ি নোয়াখালী সেনবাগ ও বেগমগঞ্জ থানা এলাকায়। সীতাকুন্ড, বায়েজিদ ও চান্দগাঁও থানা পুলিশের হাতে অতীতে কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছিল। সব কাজের টাকা জাফরের হাতেই থাকে। তিনিই যোগ্যতা অনুযায়ী সদস্যদের মধ্যে টাকা ভাগ করে দেন। দুঃসময়ে তিনি সদস্যদের ব্যয়ভার বহন করেন। কখনও গাড়িতে ক্যানভাসার, কখনও ডাব বিক্রেতা সেজে যাত্রীদের চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে দিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়াই তাদের প্রধান কাজ। এজন্য ডাব কিংবা চ্যবনপ্রাশের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেয়া হয়। গাড়িতে ডাক্তার সেজে টার্গেটের পাশে বসেন দলনেতা। বাকিরা তাকে আড়াল করে আশেপাশে দাঁড়ায়। এরপর নিজেদের লোকজনকে আসল কৌটার ওষুধ খেতে দিয়ে টার্গেটের হাতে দেয়া হয় চেতনানাশক মিশ্রিত কৌটাটি। এরপর সব হাতিয়ে নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে একেকজন গাড়ি থেকে নেমে যায়। বিশেষ করে সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, পটিয়া থেকেই তারা শহরমুখী বাসের যাত্রীকেই টার্গেট করে।


শালা-দুলাভাই ও শ্বশুর- জামাই একাকার


অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ছয়টি গ্রুপে বিভক্ত হলেও এদের মধ্যে কয়েকজনের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা রয়েছে। পরস্পরের আত্মীয় হয়েও তারা একসাথে কাজে নেমেছে। গ্রেফতারকৃত শাহজাহান ও দীপঙ্কর জানান, কারাবন্দি এয়াকুবের মেয়ের জামাই হচ্ছে শাহীন। এয়াকুব জেলে যাওয়ার পর থেকে শাহীনই তার গ্রুপটি নিয়ন্ত্রণ করছে। আদালতে হাজিরা দিতে এলে তাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়। একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাদের। অপরদিকে, জাফরের বোনের জামাই হচ্ছে গ্রেফতারকৃত শাহজাহান। তারাও একসাথে কাজ করেছে। রোববার পুলিশের হাতে ধরা পড়ার সময় দুলাভাই জাফরও তার সাথে ছিল। কিন্তু, তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এভাবে, কারাগারে থাকা অবস্থায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা একে অন্যের ‘ধর্মের ভাই’ বলেও কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেয়। পরস্পরের উপর আস্থা স্থাপনের জন্যই এমনটি করা হয় বলে তারা জানিয়েছে। কেবল অজ্ঞান করে হাতিয়ে নেয়া নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্যদের কেউ কেউ ব্লেড দিয়ে পকেট কাটতেও সিদ্ধহস্ত।


হারুণ পৃথক দলের ‘মালিক’


গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে হারুন নিজে পৃথক একটি গ্রুপের ‘মালিক’। আগে জাফরের হয়ে কাজ করলেও ভাগাভাগির গন্ডগোলে সে গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর নিজের নেতৃত্বে আলাদা গ্রুপ গঠন করে। মোহাম্মদ আলী, রফিক, সোহাগ, মিলন, নুরুজ্জামান তার গ্রুপের সদস্য। নিউমার্কেট, অলংকার, নতুন ব্রীজ, বহদ্দারহাট ও ফ্রি-পোর্ট এলাকা তাদের বিচরণ ক্ষেত্র। এছাড়া, আনোয়ার, জাহাঙ্গীর, জসিম, ভুট্টো, খোরশেদ, ইব্রাহিম, সাজু মেম্বারসহ আরও কয়েকজন সদস্যের নাম পুলিশকে জানানো হয়েছে। দলনেতা হারুণ টাইগারপাসে থাকত। সেখানে দেলোয়ার হত্যা মামলায় জড়ানোর পর অবস্থান পাল্টে ফেলে। খুলশী থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলাও রয়েছে। আদি বাড়ি মিরসরাইয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেই তাদের আনাগোনা বেশি। এ পর্যন্ত কী পরিমাণ কাজ করেছে তা তারা হিসেব করে বলতে পারে নি।


এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে তাদেরকে আজ বুধবারও রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানে রাজি হলে তা রেকর্ড করা হবে। পাশাপাশি অপরাপর সহযোগীদের গ্রেফতারে চালানো হবে অভিযান।



তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

চট্টগ্রামে প্রিমিয়ার ভার্সিটিতে আন্দোলনকারীদের এক দফা


প্রিমিয়ার ভার্সিটিতে আন্দোলনকারীদের এক দফা

‘আমাদের একটাই দাবি ড. মিলন কুমার ভট্টাচার্য স্যারকে তার আপন পদে পুনর্বহাল করতে হবে। মিলন স্যারকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার আগে আমরা আমাদের অবস্থান ত্যাগ করব না।’ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ডিন ড. মিলন কুমার ভট্টাচার্যের পদত্যাগের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির এখনো কোনো সমাধান না হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর বারোটায় বিভাগের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওয়াসার মোড়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাদের এক দফা দাবি উপস্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ছাত্রী ফারজানা ইকবাল। উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসনের ছাত্র তানভির আহমদ, মিল্টন চৌধুরী, সৈয়দ খালিদ বিন মোস্তাফা। এ সময় ক্যাম্পাসে বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের শুরুতে শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চেয়ারম্যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী এবং সৎ শিক্ষককে আমরা হারাতে চাই না। ওই শিক্ষককে পদত্যাগের জন্য একই বিভাগের শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা ও মীর তরিকুল আলমকে দায়ী করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, শিক্ষক তরিকুল আলম শিক্ষার্থীদের নানা রকম ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন এবং অন্যান্য শিক্ষককে তার পক্ষে কাজ করার জন্য বাধ্য করছেন।


শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানে যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে পড়ালেখার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।


এদিকে, গতকাল বিকাল তিনটার দিকে ওয়াসা মোড়ের বাণিজ্য অনুষদের ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোতোয়ালী থানা পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ছাত্ররা সেখান থেকে প্রেসক্লাবে এসে মানববন্ধন করে। পরে মিছিল নিয়ে কর্পোরেশন ভবন হয়ে চকবাজার গিয়ে শেষ করে। এ সময় ছাত্ররা জানান, আজ সকাল আটটায় ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করে।


উল্লেখ্য, গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মিলন কুমার ভট্টাচার্য ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীরা তাকে পুনর্বহালের জন্য আন্দোলন করছেন।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

আগ্রাবাদের ওসমান কোর্ট ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনস্থল


আগ্রাবাদের ওসমান কোর্ট ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনস্থল রিটন আহসান


আমরা চেয়েছিলাম সব ভাইবোন একইভাবে শিক্ষিত হবো। সবাই ভাগাভাগি করে আমাদের খাবার খাবো। কেউ অভুক্ত থাকবো না। অথচ আজ একশ্রেণীর ধনী ব্যক্তির একবেলার বিলাসিতার যে খরচ তার সিকি পরিমাণ টাকাও মাসোহারা হিসেবে পায় না এদেশের লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ। আর কত মানুষ যে না খেয়ে দিনাতিপাত করে তার হিসেব কে রাখে। এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি। ক্ষোভের সাথে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আগ্রাবাদ ওসমান গনি সওদাগরের পুত্র বিশিষ্ট লেখক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম।


মুক্তিযুদ্ধের সময় আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ওসমান কোর্ট নামে পরিচিত ওসমান সওদাগরের একতলা ভবনটি ভবনটি ছিল শহরের অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার যোগাযোগের অন্যতম মিলনস্থল।


এই ভবনকে ঘিরে নানা ঘটনার বর্ণনা দেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার কয়েকমাস পর আগস্ট মাসের কোন একদিন সকালবেলা। ঠিক কোনদিন মনে তা সঠিকভাবে বলা মুষ্কিল। প্রচণ্ড রোদ ছিল সেদিন। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মিলে পরিকল্পনা করছিলাম আমাদের একতলা এই ভবনটিতে। ভবনের চারদিকে ছিল গ্লাস লাগানো। চট্টগ্রামে সেই সময় এটিই ছিল একমাত্র গ্লাসযুক্ত ভবন। ভেতর থেকে সবকিছুই দেখা যায়। কিন্তু বাইরে থেকে ভেতরের কোনকিছুই দেখা যায় না।


হঠাৎ দেখি পাকিস্তানি সেনা বাহিনীর একটি গাড়ি এসে দরজার ঠিক সামনে রাখলো। ভেতর থেকে দেখে আমার তখন সারা শরীরে কাঁপন ধরে যায়। ইশারা করে ভেতরের সহযোদ্ধাদের যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বলি। তারপর নিজেকে যতদূর সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে পাকবাহিনীর সাথে কথা বলতে গেলাম। সৈন্যদের কমাণ্ডার ছিল অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং কিছু সদালাপী। চেষ্টা করলাম তার সাথে ভাব জমাতে। আলাপচারিতার পর বুঝলাম তার উদ্দেশ্য এই বাড়ি নয় সে আসলে খুঁজছে ৭০ আগ্রাবাদ। এখানে উল্লেখ্য, এর কিছুুদিন আগে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে লেখা হয় ৭০ আগ্রাবাদ। কিন্তু সাইনবোর্ড যিনি লিখেছেন তিনি ভুলক্রমে লিখেছিলেন ৮০। যে কারণে এই বিপত্তি ঘটেছিল। পরে অবশ্য সেই সেনা কর্মকর্তা আমাদের দেখিয়ে দেয়া ভবনের দিকে চলে যায়।


ওসমান কোর্টে যখন মিলিটারি আসে তখন মিন্টু (সম্প্রতি প্রয়াত) নামে এক যোদ্ধা গিয়েছিল বাজার করতে। বিষয়টি দেখে সে ওসমান কোর্টে না গিয়ে চলে যায় সোজা আমাদের বেপারিপাড়ার বাসায়। সে গিয়ে খবর দেয় আমাদের পাকবাহিনী ঘেরাও করেছে বলে। এরপর আমি তিনদিন বাড়ি যাইনি।


বাড়ির লোকজন এতটাই শংকিত ছিল যে, বাড়ি থেকে ওসমান কোর্টের দূরত্ব হাফ কিলোমিটারের বেশী না হলেও তারা ভয়ে খবর নেয়ার সাহস পায়নি। এরকম অসংখ্য ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল আমাদের সবাইকে।


৭০ আগ্রাবাদ এলাকা এখন যেখানে এইচএসবিসি ব্যাংক অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের সময় সেই ভবনটি ছিল একতলা একটি বাড়ি।


জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ওসমান গনি সওদাগর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নিজের অনেক কিছুই বিলিয়ে দিয়েছিলেন নিঃশর্তভাবে। এ সময় নরউইচ ইউনিয়ন এবং আমেরিকান লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে ৫০ হাজার টাকা করে দুটি ইন্সুরেন্স ছিল। মাত্র কয়েকটি মাস পার হলেই এসব ইন্সুরেন্সের মেয়াদ পূর্ণ হতো। কিন্তু এসময় ওসমান কোর্ট এবং নিজের বাড়িতে প্রতিদিন আগত অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার খাবার যোগানোর জন্য এ দুইটি ইন্সুরেন্স ভেঙে ফেলতে হয়। তাছাড়া পুত্রবধু শামসুন্নাহারের ৩২ ভরি স্বর্ণও বিক্রি করে দিতে হয় তাকে।


ওসমান কোর্টের অভ্যন্তরে রাখা হতো ছোটবড় অনেক অস্ত্র। এর মধ্যে ছিল অ্যাক্সপ্লোসিভ, গ্রেনেড, লিমপ্যাড মাইনসহ অপারেশন জ্যাকপটের অনেক সরঞ্জাম। নানারকমের জিনিষপত্রের কার্টনে করে এসব অস্ত্র নানা জায়গায় সরবরাহ করা হতো।


এই বাড়িটিতে বিভিন্ন সময়ে এসেছেন মৌলভী সৈয়দ আহম্মদ, ডা. মাহফুজুর রহমান, ডা. ইকবাল, ডা. মুলকুতুর রহমান, কাজী ইনামুল হক দানুসহ আরো অনেকে।


পাশাপাশি ওসমান সওদাগরের বাড়িতেও আসত অনেক মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধাদের আসার কোন সঠিক সময় ছিল না। দিনের যে কোন সময় কয়েকজন একসাথে এসে আশ্রয় নিত। বাড়ির কাচারী ঘর থেকে শুরু করে সর্বত্র পড়ে থাকতো মুক্তিযোদ্ধারা। আর তাৎক্ষণিকভাবে ওসমান সওদাগরের মা আমেনা খাতুন লেগে যেতেন রান্নার কাজে। তাছাড়া ওসমান সওদাগরের মেয়ে আঞ্জুমান আরা এবং পুত্রবধু শামসুন্নাহার বাড়ির চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন এবং শত্রুপক্ষের আগমন টের পেলেই মুক্তিযোদ্ধাদের খবর দিতেন কৌশলে। ক্ষণিকের জন্য আশ্রয়ই শুধু নয়, এই বাড়িটিতে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে অনেককে। যার মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও রয়েছেন।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

দীঘিনালায় খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ


দীঘিনালায় খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা আবাসিক বিদ্যালয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসি খাবার থেকে এ বিষক্রিয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাসি খাবার পরিবেশনের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষককে দায়ী করেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়,গতকাল মঙ্গলবার সকালের নাচ্চা দেওয়া হয়েছে পরোটা ও বাসি সবজি দিয়ে। সবজি দুর্গন্ধ হওয়ায় তাঁরা প্রধান শিক্ষাকে জানানোর পর তিনি এ সবজি খেলে কিছুই হবে না বলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে খেতে বলেন। সবজি ও পরোটা খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সবার পেট ব্যাথা,মাথা ব্যাথা ও বমি শুরু হয়। পরে সহকারী শিক্ষকরা তাদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃতরা হলো তৃতীয় শ্রেণীর আরিফ হোসেন,উষাপ্রু মারমা,রনেল ত্রিপুরা,সৈকত ত্রিপুরা,সাহিনা চাকমা,মান্নাতি চাকমা,শুভ্রা চাকমা,কৃপা ত্রিপুরা,জুয়েল চাকমা,রুপম চন্দ্র নাথ,অন্তর চাকমা,চিক্কু চাকমা,নয়ন মনি আক্তার,নয়ন চাকমা,রুবেল চাকমা,মিশন ত্রিপুরা এর, চতুর্থ শ্রেণীর উত্তম চন্দ্র নাথ,জাহাঙ্গীর আলম,সঞ্জয় চক্রবর্তী,মামুন মিয়া ও উজ্জল চাকমা পঞ্চম শ্রেণীর আকিব মিয়া ও নূরুল ইসলাম জানায়, ‘প্রায় সময় আমাদেরকে পচা বাসি খাবার খেতে দেয়। প্রধান শিক্ষককে বললেও কোন লাভ হয় না। স্যার শুধু যা দিয়েছে তাই খেতে বলেন। এমনকি গত রমজানের ঈদে আমাদের মরা ছাগলের মাংস পর্যন্ত খেতে বাধ্য করেছেন প্রধান শিক্ষক’। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজ্জাক জানান,ছাত্র,ছাত্রীরা যা অভিযোগ করেছে একটিও মিথ্যা নয়। খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম দেখেও আমরা অসহায়,কিছু বলতে পারি না। প্রধান শিক্ষকই সব দেখা-শুনা করেন। প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি চাকমা তার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,খাদ্য সরবরাহ করছে ঠিকাদার,আমি কিছু জানি না। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আপনার দেখার দায়িত্ব রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র এদিকে জানায়,১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা জানান,বিদ্যালয়টিতে খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম দীর্ঘদিনের । জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের করার কিছুই নেই। তবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

সদরঘাট কালিবাড়ি মোড়ে সিডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান


সদরঘাট কালিবাড়ি মোড়ে সিডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান

নগরীর ব্যস্ততম সদরঘাট কালিবাড়ি মোড়ে অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সদরঘাট রোড সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কালিবাড়ি’র তিনদিকে গড়ে উঠা দোকানঘরগুলোর অর্ধেকাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কালিবাড়ির সেবায়েত ও এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অভিযোগ করেছেন, হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলার রায় ঘোষণার খবর পাওয়া মাত্রই সিডিএ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। তারা রায়ের কপি দেখতে চাইলেও অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা অন্য কোন কর্মকর্তা তা দেখাতে পারেন নি। তড়িঘড়ি করে অভিযানে নামার কারণে দোকানদারেরা তাদের মালামাল সরাতে পারে নি। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া, নিজস্ব জায়গায় কালি মন্দিরের প্রধান ফটকের (গেট) অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও সিডিএ বেআইনিভাবে তা ভেঙ্গে দিয়েছে। ফলে, তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।


অপরদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাছাড়া, জনগণের স্বার্থেই সড়ক সম্প্রসারণ করতে এ অভিযান চালানো হয়’। কালিবাড়ির গেট ভাঙ্গা হল কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেবল গেট নয়। তার পাশাপাশি চারিদিকের সীমানা প্রাচীরও আমরা সিডিএ’র পক্ষ থেকে নতুনভাবে করে দেব’।


গতকাল মঙ্গলবার দুপুর বারোটার দিকে সিডিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মামুন মিয়া, প্রধান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা বুলডোজার, শ্রমিক ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে সদরঘাট মোড়ে আসেন। এরপর যানবাহন চলাচল সীমিত করে কালিবাড়ির দু’পাশে গড়ে উঠা ৭/৮ টি দোকানঘরের অর্ধেকাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এসময় কালিবাড়ির গেটও ভেঙ্গে ফেলা হয়। শ্রমিকেরা টিনের চালা ও দেয়ালের কিছু কিছু অংশ মাস্তুল দিয়ে ভেঙ্গে। কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য অভিযান চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।


ঘটনাস্থলে কালিবাড়ির সেবায়েত স্বপন ভট্টাচার্য্যসহ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রায়ের কপি দেখতে চান। তারা মন্দিরের গেট ভেঙ্গে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, সিডিএ সড়কের পাশে নালা’র জন্য তিন ফুট জায়গা নেয়ার কথা বলে এখন গেট পর্যন্ত ভেঙ্গে দিয়েছে।


পরিচালনা কমিটির সদস্য বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র মন্দিরে আঘাত করা হয়েছে। এতে, আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। আন্দরকিল্লার পঞ্চানন ধামসহ অন্য জায়গায় মসজিদ কিংবা মন্দির ভাঙ্গার আগে সিডিএ ভেতরের দিকের অংশের কাজ নিজেরাই করে দিয়েছে। তারপর রাস্তার দিকের অংশ পরিষ্কার করেছে। কিন্তু, সদরঘাট কালিবাড়ির ক্ষেত্রে উল্টোটি করা হয়েছে’।


বিক্ষুব্ধ লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মজুমদারের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেন। তাদেরকে শান্ত করতে তিনি বলেন, ‘মন্দিরের গেট ও সীমানা প্রাচীর নতুনভাবে এবং আরও সুন্দরভাবে করে দেয়া হবে। তাছাড়া, অধিগ্রহণকৃত জায়গার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও প্রদান করা হবে। অসাবধানতাবশত গেটটি ভাঙ্গা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি উপস্থিত সংখ্যালঘু লোকজনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিডিএ সদরঘাট রোড সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বছরখানেক আগে থেকে কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যানজট কমিয়ে আনাসহ নগরীর সড়ক নেটওয়ার্ক সুচারু করার লক্ষ্যে সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সদরঘাট মোড়ে সরকারি সিটি কলেজ, সিটি কর্পোরেশনের মেমন মাতৃসদন হাসপাতাল ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রক্ষাকালি বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনার কারণে প্রায়শ যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া, সড়ক দখল করে ব্যবসা ও ভাসমান হকারের আধিক্যও রয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিগ্রহণকৃত জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সিডিএ নোটিশ দিলে তারা উস্ত আদালতে রিট করে। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে মঙ্গলবার উস্ত আদালতের দেয়া রায় সিডিএ’র পক্ষে যায়। ফলে, সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় আইনি বাধা দূর হয়।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত


চট্টগ্রাম নাগরিক দুর্গতির শেষ নেই


নাগরিক দুর্গতির শেষ নেই আলমগীর সবুজ

আপনার ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা কী? জলাবদ্ধতা। মুখস্থ প্রশ্নের উত্তরের মতোই কথাটি বললেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ নাম্বার উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কাউন্সির আলহাজ নুরুল বশর মিয়া।
আসলে বিষয়টা তেমনই। ওয়ার্ডে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ব্যবসা কেন্দ্র, মিল-কারখানা সব আছে; কিন্তু জনসাধারণের একটাই দুঃখ সেটি জলাবদ্ধতা। আসছে বর্ষা আর স্থানীয়দের বাড়ছে আতঙ্ক। বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হবে রাস্তাঘাট। অনেক সময় নিচু ঘরেও ঢুকে পড়ে পানি।
পশ্চিমে অলংকার মোড়, দক্ষিণে সাগরিকা রোড, পূর্বে ফয়’স লেক ও উত্তরে নাসিরাবাদ পলিটেকনিকÑ এই নিয়ে উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের জনসংখ্যা দেড় লাখের বেশি।
এলাকাবাসী জানান, ড্রেনেজ সমস্যার কারণে প্রতি বর্ষায় তারা পানিতে ভাসেন। সিটি করপোরেশন নালা-নর্দমা এখন মোটামুটি পরিষ্কার করার চেষ্টা করে; কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন তারা।
স্থানীয় আবদুল আলী নগর নিউ ইলাভেন স্টার ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম ভুট্টো যায়যায়দিনকে বললেন, ‘আমাদের সমস্যা যে নাই তা কিন্তু নয়, তবে যে সমস্যা আমাদের বেশি কষ্ট দেয় সেটা হলো জলাবদ্ধতা। তিনি বলেন, এ ওয়ার্ডে দুটি বড় ছড়া আছে। উত্তর পাহাড়তলী ও গয়নার ছড়া নামে এ দুটি পরিচিত। এ দুটি ছড়াকে যদি একইসঙ্গে সংযুক্ত করা যায় তাহলে হয়তো পানি জমে থাকবে না, সহজে সরে যাবে।
এলাকার নোয়াপাড়া মহল্লা সর্দার মোস্তাফা কামাল বলেন, জলাবদ্ধতা ছাড়াও গোপন মাদক সমস্যা ব্যাপক হচ্ছে। এলাকার মালীপাড়া, গোলপাহাড়, ফিরোজ শাহ কলোনির মিনারের পাড় ইত্যাদি এলাকায় অবাধে চলে মাদক বিকিকিনি। কিছুদিন আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বশর মিয়া, স্থানীয় থানার ওসিসহ আমরা সবাই মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করি। কিছুদিন একটু কম ছিল, এখন আবার বেড়ে গেছে।
এলাকবাসী জানান, পার্শ্ববর্তী সীতাকু- উপকূলে চলে পুরনো জাহাজকাটা। এর প্রভাবে উত্তর পাহাড়তলীর অনেক জায়গাজুড়ে রয়েছে লোহা কারখানা। রাস্তার ওপর অরিকল্পিতভাবে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে কাটা হচ্ছে লোহা। কিশোর ও গরিব শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোহা কাটছেন। ফলে তাদের পাশাপাশি এলাকায়ও দুষণ বাড়ছে।
এলাকার বাসিন্দা বাহার উল্লাহ বললেন, এলাকায় উঠতি তরুণরা মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া মোবাইল ছিনতাইকারীরাও একটু বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে রয়েছে সিটি করপোরেশন পরিচালিত প্রিমিয়ার কলেজ, দুটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, একটি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বশর মিঞার দাবি, অতিসম্প্রতি চালু হওয়া উপমহাদেশের খ্যাতনামা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের অবস্থানও তার ওয়ার্ডেই। তিনি বলেন, এ ইউনিভার্সিটি উত্তর পাহাড়তলীতে অবস্থিত হওয়ায় ওয়ার্ডের সম্মান বেড়েছে। এর জন্য তারা গর্ববোধ করেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বশর মিঞা বলেন, ‘আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এলাকাবাসীকে ভালো রাখতে। কতুটুক পেরেছি তা জনগণই বলবেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি জলবদ্ধতা হয় মুলত পাহাড়ি এলাকার কারণে। কিছু অসাধু লোক পাহাড় কাটেন। পাহাড়ি বালিগুলো এসে পড়ে নালা-নর্দমায়। আর এ কারণে ভরাট হয়ে যায় নালা-নর্দমা।
তিনি অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ অলংকারের অদূরে স্থাপিত বন্দর ফিলিং স্টেশন। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নালার ওপর। বৃষ্টির সময় ওই স্থানে আটকে যায় পানি। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি; কিন্তু বেশি কাজ হয়নি।


ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে চুয়েট শিক্ষার্থীরা

ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে চুয়েট শিক্ষার্থীরা

চরম ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অকেজো বাসগুলোতে চট্টগ্রাম শহরে চলাচল করছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এছাড়া যানবাহন-স্বল্পতার কারণে প্রতিদিন শহরে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে বাসের দরজায় ঝুলতে হয়। তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বাসগুলোর মধ্যে ‘পদ্মা’ ও ‘যমুনা’র বাস দুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ত্রিশ বছরের পুরনো গাড়ি দুটি যাত্রাপথে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। অনেক সময় গ্যারেজে কয়েক ঘণ্টা রেখেই মেরামতের কাজ সারা হয়। কখনো দুই-তিনদিনের জন্যও রাখতে হয়।
গত একমাসে গাড়ি দুটি চার থেকে পাঁচবার বিকল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, প্রায় দুই বছর আগে কেনা নতুন ‘সুরমা’ নামক বাসটিরও একই দশা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চুয়েটে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য বর্তমানে একটি মিনিবাস ও পাঁচটি বাস রয়েছে। প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনের তুলনায় যা খুবই কম। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা পদ্মা ও যমুনার একটি ১৯৭৯ সালে এবং অন্যটি ১৯৮৬ সালে পাওয়া য়ায়।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

৩ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


৩ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


দেড় বছরের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল ৫০ শয্যার সীতাকু- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবনটির। কিন্তু নির্মাণ শুরুর পর সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পার হলেও কেবলমাত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে আজো সম্পন্ন হয়নি হাসপাতালের কাজ।
চট্টগ্রাম জেলার আরো প্রায় নয়টি থানার সঙ্গে একই সময়ে শুরু হয়েছিল সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ। অনেক আগেই কাজ শেষ হয়ে চিকিৎসাসেবা চলছে আনোয়ারা, পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ প্রভৃতি থানার নতুন হাসপাতাল ভবনে। এমনকি সীতাকুণ্ডের পার্শ¦বর্তী মিরসরাই এবং হাটহাজারী থানাতেও হাসপাতাল নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেছে অনেক আগেই। অথচ ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত, অতি গুরুত্বপূর্ণ সীতাকু- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আজো নির্মিত হয়নি সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট করার জন্য সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত দ্বিতল ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৯ মে। কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেনটেনেন্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (সিএমএমইউ) চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত ভবনটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স স্কেন অ্যাসোসিয়েটস (প্রা.) লি.। প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিতব্য ভবনটির বাজেট ছিল ৩ কোটি ৭১ লাখ ১৬ হাজার ৩১২ টাকা। দুতলা হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণ শেষ হওয়ার সময় ছিল ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর। কিন্তু নির্মাণের প্রথম দিক থেকেই কাজে অবহেলা শুরু করে স্কেন অ্যাসোসিয়েটস।
সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কর্তৃপক্ষের বারবার তাগাদা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে কাজ শেষ করেনি। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৭০ ভাগ কাজ শেষ করেই নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিক সঙ্কট ইত্যাদি অজুহাতে ভবনটি ফেলে রাখে। সিএমএমইউ চট্টগ্রামের সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য পরপর চারবার পত্র দেয়ার পর পুনরায় কাজ শুরু হয় ২০০৮ সালের ২৫ জুন।
দীর্ঘদিন পর হাসপাতাল ভবনটির কাজ শুরু করে ২০০৮ সালের ২৭ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি আবারও ভঙ্গ করে স্কেন এসোসিয়েটস। নির্ধারিত সময়ের পর (২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর) থেকে পরবর্তী দুই বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এই সময়ে কাজ হয়েছে মাত্র ১০/১২ শতাংশ। বর্তমানেও যে ধীর গতিতে অনিয়মিতভাবে ৪/৫ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে, তাতে কতদিনে ভবনটি সম্পন্ন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ততার জন্য এবং ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে এদিকে নজর দিতে পারেননি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সানাউল হক নীরু। তিনি মনোহরদী আসনে বিকল্প ধারার প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। কবে নাগাদ সীতাকু- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হবে সঠিক সময় জানাতে পারেনি ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরাও। স্কেন এসোসিয়েটস এর প্রকল্প ম্যানেজার জানান, বর্তমানে ভবনের বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে এই কাজটি লোকসানী প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল ভবনটি যথা সময়ে শেষ না হয়োয় নানান সংকটে পড়েছে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। সম্প্রসারিত হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তারদের অনেকেই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে যোগ দেওয়া ৯জন ডাক্তারকে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে পুরনো রুমগুলোতে। হাসপাতালে সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অঞ্চলটি দুর্ঘটনা প্রবণ অঞ্চল হওয়ায় নতুন ভবনের অভাবে সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে। প্রতিদিন ভর্তি হতে আসা অসংখ্য রোগীকে বেডের অভাবে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে বিব্রত হচ্ছেন ডাক্তাররা। থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবু তাহের বলেন, দীর্ঘ সময়েও হাসপাতালটির নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে সরকারি এই হাসপাতালে। দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চল, পাহাড়ী অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল, শিল্পাঞ্চল ইত্যাদি ঝুঁকি ও গুরুত্বের কারণে সীতাকুণ্ডের হাসপাতাল ভবনটি দ্রুত নির্মাণ সম্পন্ন করা জরুরি।
যদিও সাইট ম্যানেজার আবদুল লতিফ ৩/৪ মাসেই নির্মাণ সম্পন্নের আশা করছেন, তবে দৈনিক ৫০/৬০ জন শ্রমিক কাজ না করলে আরো এক বছরেও দ্বিতল ভবনটির নির্মাণ সম্পন্ন হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল।

তথ্য সূত্র: যায়য়ায়দিন

জলাবদ্ধতাই অভিশাপে অভিশপ্ত আগ্রাবাধ


জলাবদ্ধতাই অভিশাপ টিপু সুলতান


প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ফলে ত্রাহি অবস্থার মুখোমুখি হতে হয় নগরীর অন্যতম বৃহৎ ও ঘনবসতিপূর্ণ ওয়ার্ড ২৪ নাম্বার উত্তর আগ্রাবাদের বাসিন্দাদের
। একইসঙ্গে বিশুদ্ধ পানির অভাব, লোডশেডিং, সংস্কারের অভাবে দিনের পর দিন বেড়ে চলা সড়কগুলোর দুরবস্থায় নিত্য যানজট ও জনজটে অতিষ্ঠ করে তুলেছে নাগরিক জীবন। এছাড়া কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো গোপনে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য ভারসাম্যহীন করে তুলেছে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এমন অসংখ্য সমস্যা আর সঙ্কট থেকে পরিত্রাণের দাবি করেছে এলাকার জনসাধারণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত ২৪ নাম্বার ওয়ার্ডের পশ্চিমে পোর্টকানেকটিং রোড, পূর্বে শেখ মুজিব রোড, উত্তরে ঢাকা ট্রাংক রোড এবং দক্ষিণে রয়েছে আগ্রাবাদ এক্সেস রোড। এর মধ্যিখানে অবস্থিত উত্তর আগ্রাবাদের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯৭ হাজার। ২১টি আবাসিক এলাকা, ৩০টি বস্তি এলাকা, একটি বাজার, পাঁচটি উচ্চ বিদ্যালয়, আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৫টি কিন্ডারগার্টেন ও করপোরেশন পরিচালিত একটি পাঠশালা এবং প্রায় ৫৩টি মসজিদ, একটি মন্দির, করপোরেশনের তালিকাভুক্ত ১৭টি ও ২২টি তালিকা-বহির্ভূত ফোরকানিয়া মাদ্রাসা নিয়ে উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড।

সরেজমিন ও তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ওয়ার্ডের অসংখ্য সমস্যার কথা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি এসব তুলে ধরেন এলাকার বাসিন্দারা।

জলাবদ্ধতা
বিগত ২০ বছর ধরে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। আর জলাবদ্ধতাকেই প্রধান সমস্যা বলে চিহ্নিত করেছে এলাকার বাসিন্দারা। বর্ষার শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা অনেক সময় দুই-তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। এ সময় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ভীষণ ব্যাঘাত ঘটে। যানজট আর জনজট অতিষ্ঠ করে তোলে স্থানীয় জনসাধারণকে। উত্তর আগ্রাবাদের জলাবদ্ধাতার প্রধান কারণ মহেশখাল ভরাট। এক সময় এ খালের প্রস্থ ১২০ এবং গভীরতা ছিল ২০ ফুট। বর্তমানে এর প্রস্থ ৪০ এবং গভীরতা মাত্র ২ ফুট। এ খালের সঙ্গে উত্তর আগ্রাবাদ ছাড়াও ১২ নাম্ব^ার সরাইপাড়া, ২৫ নাম্বার রামপুর, ২৭ নাম্বার দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডসহ আরো ৪-৫টি ওয়ার্ডের পানি প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ে; কিন্তু খালের বর্তমান অবস্থার জন্য বর্ষকালে পানি দ্রুত প্রবাহিত হতে পারে না বলে জলাবদ্ধতা ব্যাপক আকার ধারণ করে। অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ খাল পলিমাটি আর পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে আসা বালুতে ভরাট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভূমিদস্যুরা দখল করে নিয়েছে এর দুপাড়ের বিশাল জায়গা। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ফসিউল আলম।

অন্যদিকে উল্লিখিত ওয়ার্ডগুলো থেকে প্রবাহিত হয়ে পানির সঙ্গে আসা পাহাড়ি বালুতে ভরাট হয়ে যায় সব নালা-নর্দমা।

এছাড়া অপরিকল্পিত বাড়ি-ঘর নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, নালা-নর্দমায় ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ, পানওয়ালাপাড়া, মুহুরীপাড়া, শান্তিবাগ, গুলবাগ, দাইয়াপাড়া, হাজিপাড়া, রঙ্গীপাড়া, মোল্লাপাড়ার নালা-নর্দমা দখল করে ইমারত ও দোকান নির্মাণ এবং নালার ওপর বড় বড় স্লেব দেওয়ার কারণে বছরের পর বছর বেড়ে চলেছে জলাবদ্ধতা। প্রতি বছরের এ জলাবদ্ধতাকে অভিশাপ বলেই অভিহিত করছে স্থানীয়রা।

বিশুদ্ধ পানির অভাব
এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সমস্যা প্রকট। সপ্তাহের একদিন ঘণ্টাখানেকের জন্য পানির দেখা মিললেও পুরো সপ্তাহে পানি পাওয়া যায় না। এছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ায় এলাকার অসংখ্য টিউবওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। পানি সমস্যার কারণে স্থানীয় জনসাধারণকে সর্বদা পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।

ডাস্টবিন স্বল্পতা
পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই। যা আছে তা জনসংখ্যা অনুপাতে কম। ফলে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকার কারণে স্থানীয়রা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছে প্রতিনিয়ত। নিয়মানুযায়ী রাতের বেলা সিটি করপোরেশনের গাড়ি আবর্জনা সরিয়ে নিলেও ডাস্টবিন স্বল্পতার কারণে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় নতুন পাকা বাড়ি নির্মাণ করার কারণে পূর্বের ডাস্টবিনগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এ কারণে সড়কের পাশে ও নালা-নর্দমায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এভাবে জমে থাকা আবর্জনা থেকে সর্বদা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এজন্য পরিবেশ দূষণ ও জনগণের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থা নিরসনে ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে কন্টেইনার ডাস্টবিন ও স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণের কথা ভাবছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাদক ব্যবসা
এক বছর পূর্বেও মাদকের রমরমা ব্যবসা আর বখাটেদের উৎপাত ছিল চোখে পড়ার মতো। ওয়ার্ডের মিস্ত্রীপাড়া, মোল্লাপাড়া, রঙ্গীপাড়া, মনসুরাবাদ, পানওয়ালা পাড়ায় মাদকের বিকিকিনি চলতো প্রকাশ্যে। ফলে অসংখ্য তরুণ ও যুবক ঝুঁকে পড়ে এ মরণ নেশার দিকে। প্রায় সময় মাদক বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ হতো মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী এবং স্থানীয়দের প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের ফলে তা ৫০ ভাগ কমে এলেও গোপনে অব্যাহত রয়েছে এ ব্যবসা।

যানজট
বর্ষা মৌসুম ছাড়া ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানজট কম হলেও প্রতিদিন চৌমুহনী মোড় থেকে দেওয়ানহাট মোড় পর্যন্ত একাধিকবার যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ঢাকা ট্রাংক রোড ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে সৃষ্ট যানজটের প্রভাব পড়ে ছোট সড়কগুলোতে।

সংস্কারবিহীন সড়ক
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ছোট-বড় সড়কগুলো যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিটুমিন আর পাথর উঠে গিয়ে স্থানে স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এতে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টির পাশাপাশি পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রঙ্গীপাড়া, মিস্ত্রীপাড়া এলাকা এবং গুলবাগ থেকে মুহুরীপাড়া পর্যন্ত হালিশহর সড়কের মৌলভীপাড়া, হাজিপাড়া, পানওয়ালাপাড়া এলাকায় সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়া বসুন্ধরা, সোনালী, শ্যামলী, শান্তিবাগ, রমনাসহ আবাসিক এলাকাগুলোতে নতুন সড়ক নির্মাণ ও সড়ক সংস্কার না করায় এসব এলাকায় বাসিন্দাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।

কলেজবিহীন ওয়ার্ড
নগরীর অসংখ্য ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাড়াও রয়েছে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ। কিন্তু অধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোন কলেজ নেই। মোল্লাপাড়া নিরিবিলি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কলেজগামী ছাত্রী ছালমা খাতুন বলেন, এলাকায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি ও এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুব্যবস্থা করতে সরকারি-বেসরকারি যেকোন উদ্যোগে এ ওয়ার্ডে কলেজ নির্মাণ আবশ্যক।

চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত এলাকাবাসী
তিন লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যার জন্য সিটি করপোরেশনের চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে মাত্র একটি। এছাড়া মমতাসহ এনজিওর ক্লিনিক রয়েছে দুটি। এ অবস্থায় প্রতিনিয়ত চিকিৎসাসেবা-বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। এছাড়া এলাকায় নেই কোনো মাতৃসদন। ফলে মা ও শিশু মৃত্যুরোধ এবং তাদের সূচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে মাতৃসদন ও পর্যাপ্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শান্তিবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক খাদিজাতুল কোবরা।

ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বক্তব্য
ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু (সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৯) ও জাবেদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগ করা হলে উভয়ই ওয়ার্ডের বিরাজমান অধিকাংশ সমস্যার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। তারা এ সমস্যাগুলো সমাধানে নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন।

সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ ও আন্তরিকতার সঙ্গে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো সমাধান সম্ভব বলে উল্লেখ করেন অ্যাডভোকেট রানু। তিনি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যেকোনো সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিকে আন্তরিক, জনগণকে সচেতন এবং প্রশাসনকে অবশ্যই সততার মাধ্যমে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

জাবেদ নজরুল ইসলাম এলাকার জলাবদ্ধতা, যানজট ও মাদক ব্যবসাসহ অধিকাংশ সমস্যা ৪০ থেকে ৫০ ভাগ কমিয়ে আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি যেকোনো আইন ও সমাজ বিরোধ কর্মকাণ্ড এবং ভেজালসহ সকল অনিয়ম বন্ধে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার প্রদান করা হলে বিরাজমান সমস্যা দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে বলে জানান।