সোমবার, ৮ মার্চ, ২০১০

সাতকানিয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ

সাতকানিয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ

পুলিশ হেফাজতে চোরের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা নিয়ে সাতকানিয়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানিসহ ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের পাশাপাশি মামলায় জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টাও করছে পুলিশ। পুলিশের হয়রানির মুখে ব্যবসায়ী ও নিরীহ লোকজন আতংকে দিনাতিপাত করছে। পুলিশি হয়রানি বন্ধে কেরানিহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমিতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অভিযোগে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে কেরানিহাটে মাদকাসক্ত এক মোবাইল চোরকে ধরে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানার পুলিশ মোবাইল চোরকে উদ্ধার করে স্থানীয় আশশেফা হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ হেফাজতে মোবাইল চোর মারা যায়। পরে সাতকানিয়া থানার এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৯ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ চোরের বাড়ি চকরিয়া উপজেলায় দাবি করলেও তার সঠিক পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। বরং অজ্ঞাতনামা আসামি করে দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যবসায়ীদের চরম হয়রানির পাশাপাশি উৎকোচ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। চোর মারা যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও পুলিশ এ মামলায় ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। ব্যবসায়ীদের দোকানে ও বাসায় পুলিশ হানা দিয়ে হয়রানি করছে। ইতিমধ্যে জিয়াউল হক নামের এক ব্যবসায়ীকে পুলিশ এ মামলায় গ্রেফতার করেছে। ব্যবসায়ীদের পক্ষে ২৮ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত থানার মাসিক আইন-শৃংখলা সভায় চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, স্থানীয় সংসদ সদস্য আনম শামসুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মোনাফ ও ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা আফরোজ লুনা চোরের মামলায় ব্যবসায়ীসহ নিরীহ মানুষকে হয়রানি না করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ৪ মার্চ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছে হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

তথ্য সূত্র: যুগান্তর

চট্টগ্রামে মশার উপদ্রব অতিষ্ঠ নগরবাসী

চট্টগ্রামে মশার উপদ্রব অতিষ্ঠ নগরবাসী
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে মশার উৎপাত জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মশা নিধনে পরিচালিত সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ অভিযানও কাজে আসছে না। হাসপাতাল ও বাসা-বাড়িতে দিনের বেলায়ও মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে নগরবাসীকে। সূর্য ডোবার আগেই মশার তাণ্ডব বেড়ে যায়। মশার কয়েল ও স্প্রে ব্যবহার করেও মশার তাণ্ডব থেকে রেহাই পাচ্ছে না নগরবাসী।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, ‘মশা নিধনে আমাদের বিশেষ অভিযান চলছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিনামূল্যে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে নগরবাসীকে মশা নিধনে ব্যবহৃত ‘কালো তেল’ বিতরণ করা হচ্ছে। দৈনিক ৬টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে স্প্রে মেশিন দিয়ে কালো তেল ছিটানোর কার্যক্রম চলছে।’ শীত ও গ্রীষ্মকালে মশার প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সন্ধ্যা হলেই মশার তাণ্ডব নগরবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলে। এমনিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। অনেক এলাকায় সন্ধ্যার পরে বিদ্যুৎ থাকে না। তার সাথে মশার উপদ্রবও বেড়ে যায়। ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে নগরবাসী অভিযোগ করেছেন। অনেক এলাকায় এক মাসেও মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি। এছাড়া মশার প্রজনন ক্ষেত্র ডোবা, ডাস্টবিন নালাগুলো সময় মতো পরিষ্কার না করায় মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নগরীর চান্দগাঁও বাকলিয়া, শুলকবহর, বায়েজিদ, পাথরঘাটা, পাহাড়তলী, পতেঙ্গা, মাদারবাড়ি, হালিশহর, নাসিরাবাদ, পাঁচলাইশ এলাকায় মশার তান্ডব বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন অনেক ডাস্টবিন এক সপ্তাহেও পরিস্কার করা হয় না। আবর্জনা ডাস্টবিন ভরে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। আবর্জনার দুর্গন্ধে পথচারীরা চলাচল করতে পারে না। সিটি কর্পোরেশন জানায়, মহানগরীতে ১ হাজার ৪০০টি ডাস্টবিন রয়েছে। ৭০টি গাড়ির মাধ্যমে এসব ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়।

জুমের আগুনে পুড়ছে বান্দরবানের সবুজ পাহাড়


জুমের আগুনে পুড়ছে বান্দরবানের সবুজ পাহাড় মিলন চক্রবর্তী

জুমের আগুনে পুড়ছে বান্দরবানের সবুজ পাহাড়। পাহাড়ে জুম চাষের কারণে বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়েছে পাহাড়গুলো। পাহাড়িদের লাগানো জুমের আগুনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে পার্বত্যাঞ্চলের সবুজ শ্যামল প্রকৃতি। বছরের পর বছর পাহাড়ে আগুন দিয়ে জুম চাষের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীজ সম্পদ। জুমিয়া পরিবারগুলো পাহাড়ে আগুন দিয়ে আদিপদ্ধতিতে জুম চাষ করে সারা বছরের খাদ্যশস্য ঘরে তুলতে পারলেও জুম চাষ প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিপন্ন করার পাশাপাশি মাটি ক্ষয় ও প্রাণীজ সম্পদের আশ্রয়স্থল ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে পাহাড়ে পরিবেশ সম্মতভাবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জুম চাষের পরামর্শ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে এবার সর্বাধিক জমিতে জুম চাষের প্রস্তুতি নিয়েছে পাহাড়িরা। জেলায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর পাহাড়ী জমিতে জুম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গাছ-পালা, ঝাড়-জঙ্গল কেটে অনেক পাহাড়ে জুমের আগুন লাগিয়েছে পাহাড়িরা। জুমের আগুনে পুড়ছে এখন বান্দরবানের শত শত পাহাড়। কোথাও কোথাও আগুনে পোড়ানো পাহাড় জুম চাষের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেও দেখা গেছে। মূলত বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসের দিকে জুমিয়ারা পাহাড়ে আগুন দেয় এবং মে-জুন মাসের দিকে আগুনে পোড়ানো পাহাড়ে জুম চাষ শুরু করে। তবে এবার একটু আগে থেকেই জুম চাষের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

ডলুপাড়া এলাকার বাসিন্দা ক্যশৈ উ মারমা জানায়, জুম ক্ষেত্রে বন্য ইঁদুরের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইঁদুরের কারণে জুমের ফসল ঘরে তুলতে পারি না। মূলত ইঁদুরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে আগাম জুম চাষ করা হচ্ছে। জুমে পাহাড়ী ধান, ভুট্টা, মরিচ, যব সরিষা, মিষ্টি কুমড়া, মারমা, টকপাতা এবং আধাসহ বিভিন্ন রকম সবজির চাষ করে। অপরদিকে কৃষিতথ্যবিদ আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, জুম চাষ পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। জুমিয়া পরিবারগুলোর লাগানো আগুনে গাছপালা এবং বন্যপ্রাণী মরে যাচ্ছে। মাটি ক্ষয় হয়ে অল্প বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। সবুজ পাহাড়গুলো ন্যাড়া পাহাড়ে পরিণত হচ্ছে। তবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জুম চাষ করা গেলে গাছপালা, বন্যপ্রাণী এবং পাহাড় ধস রোধ করা সম্ভব হবে।

মৃত্তিকা ও পরিবেশবাদী সংস্থার জরিপে দেখা গেছে জুম চাষের ফলে বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়ে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস করে ভূমি ক্ষয় করছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এসব কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হতে চলেছে। ভূমি অবক্ষয় সম্পর্কিত এক জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে মোট পাহাড়ি ভূমির প্রায় ১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূমি এখন ক্ষয়ের মুখে। তার জন্য প্রধানত জুম চাষকে দায়ী করা হয়েছে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, জুম চাষ পরিবেশগতভাবে ক্ষতি হলেও সুফলও আছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর পাহাড়ে জুম চাষের প্রস্তুতি চলছে। জুমে ধানের পাশাপাশি মারফা, মরিচ, ভুট্টা, সরিষা, জব, তিল ও তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থকরি ফসল উৎপাদন হবে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশসম্মতভাবে জুম চাষ করলে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর কোন ধরনের প্রভাব পড়বে না। তবে বর্তমান পদ্ধতিতে জুম চাষ অব্যাহত থাকলে আগামী একদশকে সবুজ বনাঞ্চল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে তিনি কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে জুম চাষ করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করার আহবান জানান। জুমের আগুন নিয়ন্ত্রণে রেখে অথবা আগুন না দিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জুম চাষ করা সম্ভব। এ ব্যাপারে জুমিয়া পরিবারগুলোকে সচেতন করে তোলার বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন মৃত্তিকার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা।

তথ্য সূত্র: ইত্তেফাক

কক্সবাজারে ঈদগড় বনবিটের পাঁচশ’ একর বনভূমি জবর-দখলের অভিযোগ

কক্সবাজারে ঈদগড় বনবিটের পাঁচশ’ একর বনভূমি জবর-দখলের অভিযোগ

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অধীন ঈদগড় বনবিটে সাম্প্রতিক সময়ে বন উজাড়ের হিড়িক ও জমি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকশ’ কোটি টাকার সম্পদসমৃদ্ধ এ বন বিটের প্রায় ৫ শত একর এলাকার বনভূমি বেদখল হয়ে গেছে সংশিষ্ট কর্মকর্তার যোগসাজশে। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোন সুফল মিলছে না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। অভিযোগে প্রকাশ, ঈদগড় বন বিটের বড়তলী, চালিয়া থলি, ঠান্ডাঝিরি, কাটা জংগল, চেনছড়ি, রিকের ছড়া, চাতুইপাড়া, গোলাইল্যা পাড়া, কালিবনিয়া, বড়ইচ্চর ও ধইল্যা ঝিরি এলাকার প্রায় ৫ শত একর বনভূমি বনদস্যুরা সংশ্লিষ্ট রক্ষকদের প্রশ্রয়ে জবর-দখল করে নিয়েছে। এসব বনভূমিতে বিদ্যমান বনজ সম্পদের মধ্যে গর্জন জাতের ‘মা’ গাছও (মাদার ট্রি) রয়েছে। এসব মাদার ট্রিও বনদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সুযোগ বুঝেই কেটে নিয়ে যাচ্ছে গর্জনের বীজ সংগ্রহে ব্যবহৃত এসব মাদার ট্রি। এলাকাবাসী কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিত অভিযোগ করার পর কর্মকর্তাদের একজনকে প্রত্যাহার করে নিলেও মূল হোতা বিট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার কিংবা শাস্তির পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক শত কোটি টাকার ঈদগড় বিটের বনজ সম্পদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না বলে মনে করছেন এলাকার ভুক্তভোগী জনসাধারণ। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট বিট কর্মকর্তা আবুল কালামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগসমূহ অস্বীকার করেন।

তথ্য সূত্র: ইত্তেফাক

বাঁশখালীতে কৃষিঋণের অর্থ আত্মসাৎ

বাঁশখালীতে কৃষিঋণের অর্থ আত্মসাৎ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সোনালী ব্যাংকের এক শাখায় ব্যাংক কর্মকর্তারা কৃষকের নামে কৃষিঋণ তুলে ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। বিদেশী ত্রাণের লোভ দেখিয়ে দুই ব্যাংক কর্মকর্তা দুইজন কৃষকের নামে শস্য ঋণের টাকা তুলে মেরে দিয়েছেন। দুই কৃষককে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ৩০ হাজার টাকা কর্মকর্তা ও দালালরা নিয়ে নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এই ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কৃষক হরি রঞ্জন দে ও রাশিকা রঞ্জন দেকে বিদেশী ত্রাণের লোভ দেখিয়ে বাঁশখালীর সোনালী ব্যাংকের কেবি বাজার শাখায় আনা হয়। তাদেরকে শস্য ঋণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়। তাদেরকে না জানিয়েই তাদের নামে ৪০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মঞ্জুর করে সোনালী ব্যাংক। ঋণের সেই টাকাও জমা করা হয় অন্যের হিসাব নম্বরে। সেখান থেকে হরি রঞ্জন ও রাশিকা রঞ্জনের প্রত্যেককে ‘বিদেশী ত্রাণ’ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। বাকি ৩০ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছে শাখাটির দুই কর্মকর্তা ও দালালচক্র। একই শাখায় কৃষিঋণ বিতরণে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের পাঁচ নং ওয়ার্ডের হরি রঞ্জন দে ও রাশিকা রঞ্জন দে’র সঙ্গে এ প্রতারণা করেছেন সোনালী ব্যাংকের কেবি বাজার শাখার মাঠ কর্মকর্তা দিদারউদ্দীন আহমেদ, ক্যাশিয়ার আনোয়ার, হিসাবধারী শাহ আলম ও আনসার সদস্য মফিজ। ঋণ বিতরণের সময় তাদের যে আবাদী জমির কথা বলা হয়েছে তাও ভুয়া। মাঠকর্মী দিদারউদ্দীন তাদের ঋণ প্রাপ্তির জন্য সুপারিশ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনালী ব্যাংকের মাঠকর্মী দিদারউদ্দীন আহমেদ ওই শাখায় যোগদানের এক মাসের মধ্যেই গত ২২ অক্টোবর অভিযুক্ত শাহ আলমকে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলান। ওই সঞ্চয়ী হিসাবের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ঋণ বিতরণের তথ্য মিলেছে।

শাখাটি কৃষিঋণ নীতিমালা অনুসরণ না করে নির্ধারিত এলাকা ছাড়াও এখতিয়ার বহির্ভূত অন্যান্য এলাকায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কৃষিঋণ বিতরণ করছে। ব্যাংক কর্মকর্তা আর স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি দুষ্টচক্র।

এ অবস্থায় ৩০ হাজার টাকা মাঠকর্মী দিদারউদ্দীন, ক্যাশিয়ার আনোয়ার, হিসাবধারী শাহ আলম, আনসার সদস্য মফিজ ও কেবি বাজার শাখার ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে আদায় করার সুপারিশ করেছেন তদন্ত দল। ওই টাকা দিয়ে ঋণ দুইটি সমন্বয় করার কথা বলেছেন তারা।

সোনালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শিগগিরই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তথ্য সূত্র: ইত্তেফাক


সড়ক নির্মাণে লবণাক্ত পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে উখিয়ায়

সড়ক নির্মাণে লবণাক্ত পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে উখিয়ায়


সরকারি বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে কতিপয় সড়ক নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোট বাজার-টেকনাফ এলজিইডি সড়ক নির্মাণকাজে সাগরের লবণাক্ত পাথর ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ৮ মার্চ সোমবার ইনানী বনবিভাগ উক্ত সড়কে অভিযান চালিয়ে ব্যবহার নিষিদ্ধ প্রায় ৫শত ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে।


সূত্রে জানা যায়, সরকার কক্সবাজার-টেকনাফের প্রায় ১২০ কিমি উপকূলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে উপকূলের সবুজ বেষ্টনী, কর্তন, ঝিনুক ও পাথর আহরণসহ বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া কোট বাজার থেকে উপকূলের মনখালী পর্যন্ত দীর্ঘ ৩১ কিমি এলজিইডি সড়ক নির্মাণ কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কোন না কোনভাবে সামুুদ্রিক লবণাক্ত পাথরের কংক্রিট ব্যবহার করে রাস্তা কার্পেটিং করে যাচ্ছে।


বিস্তীর্ণ উপকূলে প্রাকৃতিক উপায়ে সৃষ্টি পাথরের বাঁধ ধংস করে সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহার করার ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়ছে আশপাশের জনবসতি।


উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সড়ক নির্মাণকাজে লবণাক্ত পাথর ব্যবহার না করার ব্যাপারে কার্যাদেশে স্পষ্ট উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ঠিকাদাররা ব্যয়বহুল সিলেটি পাথরের পরিবর্তে সামুদ্রিক পাথর দিয়ে সড়ক নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।


সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি দল উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করে পরিবেশ আইন অমান্য করার দায়ে ২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেছে। ইনানী বিট কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জানান, স্থানীয় কিছু সরকার সমর্থিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ঢালাওভাবে সামুদ্রিক পাথর ও লবণাক্ত বালি উত্তোলন করে সড়কের কার্পেটিং কাজে ব্যবহার করে যাচ্ছে।


তিনি জানান, গতকাল সোমবার চোয়াংখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ শত ঘনফুট সামুদ্রিক পাথরের কংক্রিট জব্দ করা হয়েছে।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

শুরুতেই হোঁচট খেল কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি

শুরুতেই হোঁচট খেল কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি
হেলাল উদ্দিন চৌধুরী


শুরুতেই বাধার সম্মুখীন হলো কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল)। অভিযোগ উঠেছে, বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেডের (বিজিসিএল) এক শ্রেণীর কর্মকর্তার অসহযোগিতার কারণে কাজ শুরু করতে পারছে না নতুন এ সংস্থা। এ কারণে কেজিডিসিএলকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
জানা গেছে, সম্প্রতি কেজিডিসিএল বিজনেস লাইসেন্স অর্জন করার মাধ্যমে অপারেশন শুরুর সবুজ সঙ্কেত পায়। কিন্তু বিজিসিএলের এক শ্রেণী কর্মকর্তা অসহযোগিতা করায় ৪ মার্চ ঢাকায় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে কর্ণফুলী গ্যাসের কার্যক্রম চালু নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে পেট্রোবাংলার সচিব, পেট্রোবাংলার পাঁচ পরিচালক, বিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সচিব, জিএম (একাউন্টস) এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সমন্বয়ক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিজিসিএলের জিএম (একাউন্টস) জানান, শিগগির চট্টগ্রামে বিজিসিএলের একাউন্ট বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ কারণে জুলাই পর্যন্ত কর্ণফুলী গ্যাসকে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু কর্ণফুলী গ্যাসের পক্ষে হিসাব এপ্রিলের মধ্যে শেষ করে মে’তে কাজ শুরুর কথা বলা হয়। এটা মানতে রাজি নয় বিজিসিএল।
এ ঘটনায় মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রামবাসীর আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে ২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কার্যক্রম অবিলম্বে শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ৮ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রাম রেজিস্টার অফ জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে সার্টিফিকেট অফ ইনকরপোরেশন এবং সার্টিফিকেট অফ কমেন্সমেন্ট অফ বিজনেস সনদ লাভ করে। কিন্তু কর্ণফুলী গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেডের কাজ শুরু হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতিকে নস্যাৎ করে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। তাই সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি অপারেশনে যেতে পারছে না।

সাতকানিয়ায় তিতকরলা চাষ কৃষকদের ভাগ্য খুলে দিয়েছে


সাতকানিয়ায় তিতকরলা চাষ কৃষকদের ভাগ্য খুলে দিয়েছে

দারিদ্র্যকে দূরে ঠেলে দিয়ে আপন ভাগ্য পরিবর্তন করতে শিখেছেন সাতকানিয়া উপজেলার সবজি চাষীরা। পাহাড়ের পাদদেশে সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়ন। পানিছড়ি এলাকা চরতি ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কেনো সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে তিতকরলা চাষ এলাকার মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। পার্শ্ববর্তী ঢলু নদীর পানি কমবেশি থাকলেও পানিছড়ি এলাকা দূরবর্তী হওয়ায় সেচকার্য চলে ডিপ টিউবওয়েলে। সবজি বাগানের জন্য সেচ কাজ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, বীজ সংগ্রহ কঠিন ব্যাপার হলেও পানিছড়ি এলাকার সবজি চাষীরা নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে কমবেশি তিতকরলা চাষ হলেও চরতি, কাঞ্চনা, এওচিয়া, গারাঙ্গিয়া, খাগরিয়া, ধর্মপুর, ছদাহাসহ বিভিন্ন এলাকায় তিতকরলা চাষ হয়। উপজেলার চরতি ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকার অলি আহমদ কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষক সমাজ বলে অবহেলিত। দারিদ্র্য যাদের নিত্যসঙ্গীÑ এমনি এক পরিবারের ছেলে রুবেল (১৩)। পরিবারের স্বচ্ছলতা আনয়নে দিন কাটে তাদের সারাক্ষণ চিন্তাভাবনায়। সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে প্রথমে দেখা হয় রুবেলের সঙ্গে। সে বলেন, এক শতক জায়গায় তিতকরলা চাষ করতে। এতে ৯০০ টাকা লাগে। প্রতি কেজি করলা বিক্রি করেন ২০-২২ টাকা। পাইকারি-খুচরা দুভাবে ক্ষেতের তিতকরলা বিক্রি হয়। চট্টগ্রাম শহর থেকে পাইকাররা আসেন তা কিনতে। তারা আরো জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে আরো বেশি সবজি চাষ করতে পারতেন। এ ব্যাপারে সাতকানিয়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম জহির জানান, তিতকরলা চাষীরা আমাদের শরণাপন্ন হলে সহযোগিতা করা হবে। কৃষি কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দীন হোসেন জানান, তিনি নতুন এ কাজে যোগদান করেছেন।
যোগদানের তিনদিনের মাথায় এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় কৃষির উন্নয়নে সর্বাতœক প্রচেষ্টা তিনি চালিয়ে যাবেন। চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কৃষিখাতকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলে দেশের উন্নতি হবে।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন


বাঁশের সাঁকোটিই কেবল ভরসা


বাঁশের সাঁকোটিই কেবল ভরসা



ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলার মাতুভূইয়া ও জায়লস্কর ইউপির ১০ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের জন্য আলী মোহাম্মদ সাঁকোই একমাত্র ভরসা। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে উভয় পাড়ের গ্রামগুলোতে। তাই শিল্প, চিকিৎসা, ব্যবসাসহ সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ।
জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছোট ফেনী নদীর ওপর একটি সেতু হোক। এ দাবি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ পথে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ছোট ফেনী নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে হীরাপুর, লালপুর, মহেষপুর, বদরপুর ও চাঁদপুর গ্রাম। উত্তর পাড়ে নেয়াজপুর, মাছিমপুর, খুশিপুর, আলমপুর গ্রাম। নদীর দক্ষিণ পাড়ে হীরাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরপুর ইসলামীয়া মাদ্রাসা। উত্তরে দারুল মাকসুদ প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা, মাকসুদা রশীদ এতিমখানা, মকবুল আহাম্মদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়। এসব গ্রামের শিক্ষার্থীকে নদী পার হয়ে জায়লস্কর ইউপিতে আসতে হয় অথবা মাতুভূইয়া যেতে হয়। এ কারণে অন্তত ১০ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ লোকজনের যাতায়াতের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, ১৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সাঁকোটি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এলাকাবাসী সহজ যাতায়াতের জন্য তৈরি করে।
হীরাপুরের ওবায়দুল হক (৬৫) জানান, গবাদিপশু পারাপারে কৃষকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। স্থানীয় নুরুল ইসলাম (৭০) জানান, ২৫০টি বাঁশ দিয়ে জনউদ্যোগে সাঁকোটি তৈরি করা হয়েছে। বছর বছর মেরামতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ছোট শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয়। সবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে এ এলাকার খ্যাতি রয়েছে। কৃষিপণ্য বিক্রিতে কৃষকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
মাতুভূইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন খাজু জানান, নদীর উভয় পাড়ে রাস্তা থাকলেও সেতু না থাকায় তা কাজে আসছে না। এ ব্যাপারে নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা কথা দিলেও কেউ কথা রাখেননি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল হয়নি।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

ক্ষতবিক্ষত চট্টগ্রাম মহানগরী

ক্ষতবিক্ষত চট্টগ্রাম মহানগরী
রাস্তা সংস্কারে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় নেই : দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরবাসী
হেলাল উদ্দিন চৌধুরী


চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নে সমন্বয়ের বালাই নেই। নগর এলাকায় সেবা সংস্থা সমূহের মধ্যে কাজের কোন সমন্বয় না থাকায় সরকারের ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বেড়েই চলেছে নাগরিক দুর্গতি। এ সাথে নগর হয়ে পড়ছে শ্রীহীন। সমন্বয়হীনতায় অর্থ শ্রাদ্ধ হয় প্রচুর।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকা ষাট বর্গমাইল এলাকা নিয়েই বিস্তৃত। চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যু উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), টিএন্ডটি, বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম্স লিমিটেড (বিজিসিএল) নগর এলাকায় ব্যাপী রয়েছে তাদের সেবা কার্যক্রম। এ সাথে হালে যুক্ত রয়েছে গ্রামীণ ফোন, একটেল, সিটি সেল, বাংলা লিংক এর কার্যক্রম। এসব সংস্থার সার্ভিস লাইন নিয়ে যাওয়া হয়েছে মহানগরীর প্রধান সড়ক ও গলি, উপ-গলি দিয়ে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখার প্রাক অনুমতি ও নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ফি জমা দিযেই সার্ভিস লাইন, পাইপ সমূহ স্থাপনের অনুমতি লাভ করে সংস্থারসমূহ। মহানগরীতে ওয়াসা, টিএন্ডটি, বিজিসিএল এর রাস্তা খুড়াখুড়ির কাজ থাকে বছর জুড়েই। সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়কগুলো বর্ষা মৌসুমের পর পরই প্রয়োজন অনুসারে মেরামত ও সংস্কার কাজ করা হয়। এসব কাজ করার পূর্বেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়েই সংস্থা সমূহকে তাদের পাইপ লাইন বা অন্য কোন কাজে রাস্তা কাটার প্রয়োজন হলে তা সেরে নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু, সংস্থাগুলো এ দিকে কখনো নজর দেয়নি।
ওয়াসার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যখনই কোন পানির লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে রাস্তা কাটার দরকার হয়। নতুন পানির সংযোগ লাইন স্থাপনেও রাস্তা কাটতে হয়। এজন্য তারা যথা নিয়মে সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে থাকে। টিএন্ডটি বিভাগও বলছে একই কথা। বিজিসিএল ও গ্যাস লাইন নিয়ে কাটাকাটিতে ব্যস্ত থাকে বছর জুড়ে। নগরীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট, স্টেশন রোড, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি, আগ্রাবাদ, মোমিন রোড, জামাল খান, সিরাজদ্দৌলা সড়ক, ওআর নিমাজ রোড, সিডিএ এভেন্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বছর জুড়েই থাকে কোন না কোন সংস্থার রাস্তা কাটাকাটি। বিশেষ করে বর্ষা মওসুমের শুরু থেকে এ প্রবণতা দেখা দেয় বেশি। দেখা যায়, এক সংস্থার খুঁড়াখুঁড়ি শেষে সিটি কর্পোরেশন স্ফল প্ল্যান্ট ঐ অংশ সংস্কার কাজ শেষ করতে না করতেই আর একটি সংস্থা খনন কাজ করছে। এতে নগর জুড়ে যানজট চরম আকার ধারণ করে। পথচারী চলাচলে বিঘœ ঘটে। কোন কোন সংস্থার পাইপ লাইন অপরিসর সড়কের প্রায় মাঝ বরাবর হওয়াতেই অনেক সময় যানবাহন চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে সমন্বয় হীনতার কারণে সরকারের এখাতে বিরাট অংকের অর্থ বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে ফি বছর।
সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় রাস্তা কাটাকাটির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করেও পরে জনস্বার্থে রাস্তা কাটার অনুমতি দিতে হয়। সেবা সংস্থা সমূহের কাজে সমন্বয় থাকলে এ অবস্থা এড়ানো যেত। এতে নাগরিক দুর্ভোগ যেমন কমত, তেমনি সরকারি অর্থের সাশ্রয় হত।

চট্টগ্রামের অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে এগিয়ে আসুন

অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে এগিয়ে আসুন

বর্তমান সময়ে শিশুদের অন্যতম একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে অটিজম। অজ্ঞাত কারণে অটিজম আক্রান্ত শিশুরা আর দশজন মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে অক্ষম। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে এটি এক ধরনের মানসিক রোগ যা প্রায়শই দেখা দেয় শিশু মাতৃগর্ভে থাকার সময়। অটিজমে আক্রান্ত অটিস্টিক শিশুরা বুদ্ধি, বাক, শ্রবণ বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধি নয়। এদের বুদ্ধি, কথা বলার ক্ষমতা সবই আছে। কিন্তু এ ধরনের শিশুরা নিজের একটি জগৎ বেছে নিয়ে তার মধ্যেই থাকতে ভালোবাসে। অটিস্টিক শিশুদের সম্পর্কে সমাজে বহু প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে।


অধিকাংশ মানুষের ধারণা এরা অন্যান্য শিশুদের মত লেখাপড়া শিখতে অক্ষম। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। বরং বহু অটিস্টিক শিশু সাধারণ শিশুদের চেয়ে অনেকবেশি মেধাবী হয়। অটিস্টিক শিশুদের জগতে প্রবেশ করতে পারলে তাদেরকে শিক্ষিত করে তোলা কঠিন কিছু নয়। এজন্য বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করার পাশাপাশি নানা শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে অটিস্টিক শিশুদের জন্য পরিচালিত বিশেষ স্কুলগুলো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি এ ধরনের স্কুল চট্টগ্রামে মাত্র তিনটি। অটিস্টিক শিশুদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজন এ ধরনের প্রচুর স্কুল এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নার্স।


এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশে প্রতি একশজন শিশুর একজন অটিজমে আক্রান্ত। সে হিসেবে চট্টগ্রামে অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা ৫০ হাজারের মত। এত বিপুল সংখ্যক শিশুর জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করতে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও একাজে এগিয়ে এলে বাবা মায়েরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।


অটিজম বর্তমানে ব্যাপক আকারে দেখা দিচ্ছে। গবেষকদের মতে খাদ্যাভাসে ত্রুটি, ভেজাল, আবহাওয়ার দূষণ এবং বংশগত উপাদান অটিজমকে প্রভাবিত করে। অটিস্টিক শিশুদের বাবা মাকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হয় তাদের সন্তানের প্রতি। বহু বাবা-মা সন্তানের জন্য ছেড়ে দেন সামাজিকতা। সমাজের অধিকাংশ মানুষের এ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ না হওয়ায় বাবা মায়েরা সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে ভীত থাকেন। অটিস্টিক শিশুদের সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর সময় এসেছে।


অটিজম যতটা না রোগ তার চেয়ে অনেক বেশি শিশুর একটা বিশেষ মানসিক অবস্থা। বাবা মায়েদের আকুতি সমাজের দশজন মানুষ যাতে ফুলের মত নিষ্পাপ এই শিশুদের অন্তত অবজ্ঞা না করেন।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

জামালখানের কাশেম কন্ট্রাক্টরের বাড়িতে প্রশিক্ষণ নিত গেরিলারা


জামালখানের কাশেম কন্ট্রাক্টরের বাড়িতে প্রশিক্ষণ নিত গেরিলারা
রিটন আহসান



আমার মা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার তৈরির কাজটিই করতেন প্রধানত। তবে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি করতেন তা হল যোদ্ধাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা। আমাদের টিনশেড ঘর ছিল। মা কোথায় এত অস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন তা আজো আমাদের কাছে অজানা রয়ে গেছে।


কথাগুলো বলছিলেন জামাল খান লেইনের মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা আবুল কাসেম কন্ট্রাক্টরের পুত্র মোহাম্মদ আবুল হাসেম। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাড়িটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম আশ্রয় কেন্দ্র।


আবুল হাসেম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বাড়ির সামনে কিছু টিনশেড ঘর ছিল। এখানে মোহাম্মদ আলী ও নুরুল আফসার বাসা ভাড়া নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করতেন। পাশাপাশি এই বাড়িতে গেরিলা দল কর্ণফুলী কোম্পানি- ৩ (কেসি-৩) এর সাথে সম্পর্কিত যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হত। এখানে ১৫/২০ জন যুবক থাকত। পরবর্তীতে তারা মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এদের কাছে মাঝে মাঝে আসত আসকার দীঘির পাড়ের আলী আবদুল্লাহ, রাউজানের নাজিম, এতিমখানার ছাত্র ফরিদ, ডা. মাহফুজুর রহমানসহ আরো অনেকে।


সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাসেম আরো বলেন, বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের আসার কোন নির্দিষ্ট সময় ছিল না। তারা তাদের সুবিধা মত যখন তখন চলে আসতেন। আর তখন রান্নাবান্নার ভার পড়ত আমার মা আমেনা খানমের ওপর। খাবার নিয়ে কখনোই কেউ উচ্চবাচ্য করেননি মা যখন রান্না করতেন তাই পরমানন্দে খেয়ে নিতেন বাড়ির সবাই।


বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান বুঝতে পেরে একাধিকবার রাজাকার ও আল শামস বাহিনীর লোকজন বাড়ি ঘেরাও করেছিল। তবে কখনোই কাউকে খুঁজে পায়নি তারা। এসময় এলাকার সবচেয়ে বড় ত্রাস ছিল আলশামস বাহিনীর খোকা। অবশ্য দেশ স্বাধীন হবার কয়েকদিন পরই তাকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলে।


এসময়কার একটি দিনের পর থেকে তাদের বাড়িটি অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে বলে জানান আবুল হাসেম। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হবার পর একদিন আমি এবং বন্ধু তাপস সেনগুপ্ত লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় সিটি কলেজের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। সাথে ছিল একটি বন্দুক। এসময় দেখি কলেজের পাশে একটি অস্ত্রাগার থেকে যে যার মতো অস্ত্র লুঠ করে নিচ্ছে। দেখে আমারও লোভ হলো। দুই বন্ধু মিলে লুঙ্গির কোঁচর ভরে বেশকিছু কার্তুজ নিলাম।


কিছুদিন পর একদিন শুনি তাপস এলাকা ছেড়ে আনোয়ারায় চলে গেছে। তার বাসায় গিয়ে দেখি চারদিকে ছিটিয়ে আছে অনেক গোলাবারুদ। তাপসের বিপদ হতে পারে ভেবে আমি আরেক বন্ধু রতনকে নিয়ে এসব গোলাবারুদ কুড়িয়ে নিই এবং রতনদের বাসার পাশে মাটি খুঁড়ে পুতে রাখি। এরপর রাতে আর ঘুম আসে না। একধরনের আতংক কাজ করে আমার ভেতর। ভাবতে থাকি যদি রতনকে পাক বাহিনী কিংবা শত্রুপক্ষের কেউ ধরতে পারে তাহলে নিজেকে বাঁচানোর জন্য রতন সব বলে দিতে পারে। একপর্যায়ে সবার অলক্ষে বাসা থেকে বের হয়ে যাই এবং পুতে ফেলা গোলাবারুদ অন্যত্র সরিয়ে ফেলি। তার মাত্র কয়েকদিন পর রতন ধরা পরে আলশামস বাহিনীর সদস্য খোকার হাতে। তাদের নির্যাতনের এক পর্যায়ে রতন সবকিছু ফাঁস করে দেয়। রতনের দেখিয়ে দেয়া তথ্য মতে শামস বাহিনীর লোকজন আগে পুতে রাখা স্থান খুঁড়ে অস্ত্রের সন্ধান চালায়। কিন্তু এর আগেই তা সরিয়ে ফেলার কারণে তারা কিছুই পায়নি। এরপর বাড়ির লোকজন আমাকে পাঠিয়ে দেয় গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীর মাদার্শা গ্রামে।


প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আবুল হাসেম বলেন, আমাদের স্বপ্ন ছিল শোষকের হাত থেকে মুক্তি লাভ করা। কারো কাছে পরাধীন না থাকা। কিন্তু সেই স্বপ্ন কার্যত বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। তিনি বলেন, বর্তমানে পাকিস্তানীদের শোষনের হাত থেকে মুক্তি মিললেও এখন শোষিত হচ্ছি নিজেদের একটি অংশের মাধ্যমে। তবুও শান্তি যে, আমরা এখন স্বাধীন। অন্তত নিজের মত করে কিছু একটা করতে সাহস পাই। যা সে সময় করা যেত না।


চট্টগ্রাম জেলায় ভোটার বেড়েছে ৩ লাখের বেশি

জেলায় ভোটার বেড়েছে ৩ লাখের বেশি




চট্টগ্রাম জেলার হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা) দেশের মোট ১৭ টি জেলায় একযোগে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এবারের হালনাগাদ তালিকা অনুসারে চট্টগ্রাম জেলায় মোট ভোটার বেড়েছে তিন লাখ পাঁচ হাজার আটশ ৮৭ জন। শতকরা হিসেবে ভোটার বৃদ্ধির হার সাত দশমিক ১৭ শতাংশ।


হালনাগাদ শেষে চট্টগ্রাম জেলার মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার পাঁচশ তিন জন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে করা ভোটার তালিকা অনুসারে চট্টগ্রাম জেলার মোট ভোটার ছিল ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ছয়শ ১৬ জন। বাদপড়া ভোটাররা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।


নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ভোলা জেলা বাদে দেশের ৬৩ জেলার হালনাগাদ ভোটার তালিকা তিন ধাপে প্রকাশ করা হবে। ৮ মার্চ ১৭ টি জেলার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ ২০ টি জেলা এবং ২২ মার্চে ২৬ টি জেলার খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে।’ খবর বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কমের। গতকাল সোমবার প্রথম পর্যায়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা) এবং চট্টগ্রাম জেলার খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সারাদেশে হালনাগাদ তালিকায় আগের চেয়ে ৩৬ লাখ ৮৯ হাজারেরও বেশি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। নবম সংসদ নির্বাচনের সময় প্রথমবারের মতো ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮ জন ভোটার চবিসহ তালিকাভুক্ত হন।


চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম জেলার ১৪ টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকার হালনাগদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকা জামালখানস্থ জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। খসড়া তালিকার দাবি, আপত্তি ও সংশোধনী শেষে আগামী ১৫ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।


জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন গতকাল সোমবার সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যারা বাদ পড়েছেন তারা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে ভোটার হতে পারবেন। এছাড়া যাদের কোনো তথ্য খসড়া তালিকায় ভুল ছাপা হয়েছে তাও সংশোধন করতে পারবেন। এজন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।


সূত্র জানায়, উপজেলাগুলোতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চসিক এলাকায় উপ নির্বাচন কমিশনার, চট্টগ্রাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন। দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য দরখাস্ত দাখিলের শেষ সময় ২৩ মার্চ। এরপর ৩০ মার্চের মধ্যে সংশোধনী কর্তৃপক্ষ দাখিল করা দরখাস্ত যাচাই বাছাই করবে। আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে সংশোধনীর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ১৫ এপ্রিল প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত তালিকা।


এবারের খসড়া তালিকা অনুসারে চসিকের ৪১ টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার বেড়েছে এক লাখ ২৪ হাজার পাঁচশ ৯০ জন। এত মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ লাখ দুই হাজার নয়শ ১৭ জন। ২০০৮ সালের ভোটার তালিকা অনুসারে চট্টগ্রাম মহানগরীর ভোটার ছিল ১৫ লাখ ৭৮ হাজার তিনশ ২৭ জন। শতকরা হিসেবে মহানগরীতে এবারের ভোটার বৃদ্ধির হার ছয় দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার বেড়েছে ৫৬ হাজার নয়শ ৩৪ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬৭ হাজার ছয়শ ৫৬ জন। আগের তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে যাদের বয়স ১৭ বছর ১০ মাস হয়েছিল তাদের এবারের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।


এদিকে চট্টগ্রাম জেলার ১৪ টি উপজেলার হালনাগাদ খসড়া তালিকায় ভোটারে বেড়েছে এক লাখ ৮১ হাজার দুইশ ৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৬ হাজার নয়শ ৩৪ জন এবং নারী ভোটার ৬৭ হাজার ছয়শ ৫৬ জন।শতকরা হিসেবে ভোটার বৃদ্ধির হার সাত দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের তালিকা অনুসারে ১৪ উপজেলার মোট ভোটার ছিল ২৮ লাখ ১০ হাজার দুইশ ৮৯ জন। খসড়া তালিকা অনুসারে মোট ভোটার ২৯ লাখ ৯১ হাজার পাঁচশ ৮৬ জন। হালনাগাদে সবচেয়ে বেশি ভোটার বেড়েছে পটিয়া উপজেলায়। এই উপজেলার ২২ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় মোট ভোটার বেড়েছে ১৯ হাজার চার জন। সবচেয়ে কম ভোটার বেড়েছে চন্দনাইশ উপজেলায়। এই উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটার বেড়েছে মোট ছয় হাজার নয়শ ৫৫ জন।


উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রাম জেলার ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। চার পর্যায়ে ভাগ করে সবগুলো উপজেলা এবং চসিক এলাকার হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে এবং বেশ কয়েকটি উপজেলায় রোহিঙ্গা ভোটারের সন্ধান পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা যাচাই বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

কাজের দাবিতে আমরণ অনশনে যাচ্ছে চট্টগ্রামের কোস্টার হেজ শ্রমিকরা

কাজের দাবিতে আমরণ অনশনে যাচ্ছে কোস্টার হেজ শ্রমিকরা


চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে নিয়োজিত কোস্টার হেজ শ্রমিকরা ১০ মার্চ থেকে আমরণ অনশনসহ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন
গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কোস্টার হেজ শ্রমিক নেতারা বলেছেন, চট্টগ্রাম কোস্টার হেজ ঠিকাদার শ্রমিক ইউনিয়নের আওতাভুক্ত সাত হাজার ৬৭৬ জন শ্রমিক ১৫ বছর ধরে বন্দরের বহির্নোঙরে কর্মরত গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাঁরা বেশ কিছুদিন কাজ করেছেন এক পর্যায়ে শ্রমিকদের একটি পক্ষ বাইরে থেকে শ্রমিক এনে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ও বোঝাইয়ের কাজ শুরু করে এরপর থেকে চট্টগ্রাম কোস্টার হেজ ঠিকাদার শ্রমিক ইউনিয়নের আওতাভুক্ত শ্রমিকরা বেকার হয়ে যান কোস্টার হেজ শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এর আগে তিন দফা অবস্থান ধর্মঘট, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতিকে স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয় সময় পার হয়ে যাওয়ায় ১০ মার্চ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, সংগঠনের সভাপতি জেবল হক, সহসভাপতি মোহাম্মদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুন্নবী লিটন প্রমুখ
চেম্বার সভাপতি সাত দিন সময়ও নেন নেতারা জানান, দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে

ফটিকছড়িতে নতুন থানার প্রস্তাব ঝুলে আছে ১৯ বছর

ফটিকছড়িতে নতুন থানার প্রস্তাব ঝুলে আছে ১৯ বছর



বৃহত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব ঝুলে আছে দীর্ঘ ১৯ বছর
দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ ও সন্ত্রসী কর্মকা- নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে উত্তর ফটিকছড়ির লক্ষাধিক মানুষ
স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, উত্তর ফটিকছড়ির সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষাপটে ১৯৯১ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে ১ নাম্বার বাগানবাজার, ২ নাম্বার দাঁতমারা এবং ৩ নাম্বার নারায়ণহাট ইউনিয়নের সমন্বয়ে একটি নতুন থানা গঠনের প্রস্তাব উত্থাপিত হওয়ার পর এ লক্ষ্যে ৩ একর জমি অধিকগ্রহণের কথাও বলা হয় চট্টগ্রামে সার্কিট হাউসের ওই বৈঠকে যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে দাঁতমারা বাজার সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয় পরে কিছু দূরে নতুন ভবন স্থাপন হলেও সেখানে পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপনের উদ্যোগ অধ্যাবদি নেয়া হয়নি

দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, বর্তমানে এখানে একজন উপ-পরিদর্শক, একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক ও ১৪ জন হাবিলদার কর্মরত রয়েছে তবে একজন উপ-পরিদর্শক, একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক ও দুজন হাবিলদারের পদ শূন্য রয়েছে তাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নেই কোনো যানবাহন, নেই কোনো টেলিফোন-ফ্যাক্স ব্যবস্থা কোনো ঘটনা-দুর্ঘটনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে নানান ঝামেলা পোহাতে হয় তাদের পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল আকতার বলেন, তদন্ত কেন্দ্রটিকে থানায় উন্নীত করা হলে ও পুলিশের জনবল বৃদ্ধি পেলে ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল হবে
ফটিকছড়ির উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটিকে থানায় রূপান্তর করতে জনবল বাড়ানো, আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ, উন্নত যানবাহন সরবরাহ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করছি এবং আদেশের অপেক্ষায় আছি

তথ্য সূত্র: যায়য়ায়দিন

চট্টগ্রামের বক্সিরহাটের চিরায়ত সমস্যা যানজট


বক্সিরহাটের চিরায়ত সমস্যা যানজট
মঈন সৈয়দ



সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বক্সিরহাট ওয়ার্ডের অধিবাসীরা
অথচ এখানে আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া লাগেনি সড়কে সড়কে অবিরাম যানজটের অবর্ণনীয় ও দুঃখময় চিত্র থাকে প্রায়ই ওয়ার্ডে নেই একটি সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় সঙ্গে পানির সমস্যা যেমন কুরে কুরে খাচ্ছে, তেমনি থাকে মশা-মাছির অত্যাচার সমস্যার কাঁধে ভর করেই দিনাতিপাত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর নানা সমস্যায় ঘুরপাক খেয়ে দিনাতিপাত করছেন তারা বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র খ্যাত চাক্তাই খাতুনগঞ্জ এলাকা
যানজট যাদের নিত্যসঙ্গী
বক্সিরহাট, খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার ব্যবসায়ী, পথচারী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং বসবাসকারী সবার কাছে প্রশ্ন ছিল একটাইÑ ৩৫ নাম্বার বক্সিরহাট ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা কী? উত্তরও একটিÑ যানজট এ যানজটের কোনো সময়সীমা নেই দীর্ঘদিন ধরে সকাল কিংবা মধ্যরাত সবসময়ই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে যানজট এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনের অধিকাংশই ট্রাক ও ঠেলাগাড়ি

এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুল আলম তালুকদার বলেন, ‘যানজটের কারণে ব্যবসায় নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় নগরীর অন্যান্য যানজট থেকে এ সড়কের যানজট ব্যতিক্রম এখানকার যানজট শুরু হলেই স্থির থাকে অনেকক্ষণ, গাড়ি চলাচলের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না’ অভিন্ন অভিমত প্রকাশ করলেন, চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক বললেন, ‘যানজটের কারণে যথাসময়ে মালামাল লোড-আনলোড করা যায় না ফলে আমরাও ঠিক সময়ে মালামাল সরবরাহ করতে পারি না এতে আমরা আর্থিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হই যানজট থাকে সারাবছরই’ এনামুল হক মনে করেন, নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়ক চালু হলে এ যানজট কিছুটা কমবে
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এ ওয়ার্ডের বেশিরভাগ গলি-উপগলি খুব সরু খাতুনগঞ্জ ও আসাদগঞ্জের প্রধান সড়ক দুটিই পুরো ওয়ার্ডের সবচেয়ে প্রশস্থ সড়ক দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন যানবাহন চাক্তাই চামড়া গুদাম সড়ক দিয়ে নগর থেকে বের হয় অন্যদিকে ঢাকা, চট্টগ্রাম বন্দর এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে মালামাল নিয়ে আসা গাড়িগুলোর বেশিরভাগই টেরিবাজার দিয়ে খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ, কোরবানিগঞ্জ এবং চাক্তাই এলাকায় প্রবেশ করে এসব এলাকায় আছে অসংখ্য গুদাম রাস্তার ওপরে গাড়ি দাঁড় করিয়েই চলে মালামাল ওঠানামা গাড়ি থেকে মালামাল ওঠানামা করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় ওয়ার্ডের অন্যান্য সড়ক ও গলি অত্যন্ত সরু হওয়ায় এক সড়ক থেকে অন্য সড়কে মালবাহী ট্রাক যাতায়াত করতে পারে না ফলে খাতুনগঞ্জ এলাকায় চাক্তাইগামী ট্রাক আটকা থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা

পানির সঙ্কট তীব্র
‘এটা নগরী হলেও ওয়াসার পানি পাওয়া যায় না করপোরেশন কিন্তু আমাদের কাছ থেকে ঠিকই কর আদায় করে শহরে থেকেও আমরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বললেন কোরবানিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নজির আহমদ বক্সিরহাট ওয়ার্ডে দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ অবস্থিত কিন্তু এ ওয়ার্ডেই বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট তীব্র বলে এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় জানা যায়, এখানে ওয়াসার পানি অনিয়মিত হওয়ায় বেশিরভাগ মানুুষের ভরসা সড়কের পাশে স্থাপিত গভীর নলকূপ কিন্তু এ ব্যবস্থা জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় কম বলে মনে করেন অধিবাসীরা এদের বসবাস এলাকার বিভিন্ন বস্তিতে বস্তিতে পানির সঙ্কট সব সময় থাকে বলে জানান রাজাখালী এলাকার বস্তিতে বাস করা শ্রমিক আবদুল্লাহ সরকার তিনি বলেন, ‘ওয়াসার পানি তো নেই কিন্তু গভীর নলকূপের পানিও লবণাক্ত, মাঝেমধ্যে আয়রনও থাকে পানিতে কোনোমতে খেয়ে দিন খাটাই আর কী’
কেমন আছেন চাক্তাই খাতুনগঞ্জের শ্রমিকরা
দেশের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র চাক্তাই খাতুনগঞ্জ এখানে আছে সহস্রাধিক আড়ত, চালকল ও ময়দার মিল দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা কাজ করেন এগুলোতে গাড়িতে মাল ওঠানামা করা, গুদাম থেকে দোকানে পণ্য আনা-নেওয়া করা, বিক্রিত মাল ডেলিভারি দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ করে থাকেন শ্রমিকরা একজন মাঝির অধীনে কাজ করেন ১৫-২০ জন শ্রমিক এখানে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কষ্টের জীবনের কথা টিনের দোকানে কাজ করা শ্রমিক রফিক আজাদ বলেন, রাজাখালী বস্তিতে থাকি, সেখানে পানির ব্যবস্থা নেই স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার নেই, সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে পানির অভাবে অনেক সময় গোসলও করতে পারি না চাল আড়তের শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, এক রুমে আমরা আট-দশজন শ্রমিক থাকি কয়েকজন একসঙ্গে থাকলে ভাড়া একটু কম হয় কিন্তু এখানে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা সব সময় থাকে
এদিকে, ওয়ার্ডে আছে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের অসংখ্য শ্রমিক
নেই একটিও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক লাখ মানুষের বসবাসের এ ওয়ার্ডে সরকারি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই সিটি করপোরেশন পরিচালিত একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি কলেজ এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে তিনটি প্রাইমারি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে করপোরেশন পরিচালিত চারটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা জানা যায়, এলাকার বেশিরভাগ মানুষ দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবে এ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার সুযোগ থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয় অনেকের ধরাছোঁয়ার বাইরে

মশা-মাছির উপদ্রব
বক্সিরহাট ওয়ার্ডে নানা সমস্যার সঙ্গে আছে মশা-মাছির উপদ্রব গ্রীষ্ম মৌসুমে একটু কম থাকলেও বর্ষা ও শীত মৌসুমে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পায় এ প্রসঙ্গে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নালা-নর্দমায় আবর্জনা জমে থাকার কারণে বর্ষা ও শীতকালে মশা-মাছির উপদ্রব বেশি হয় সিটি করপোরেশনের স্প্রেম্যান আসলেও তা বেশ অপ্রতুল আফরিন এন্টারপ্রাইজের মালিক ব্যবসায়ী রাশেদ উদ্দীন পারভেজ বলেন, নালা-নর্দমায় আবর্জনার কারণেই মূলত এখান থেকে মশা-মাছির উৎপত্তি হয় যেহেতু এটা বাণিজ্যিক এলাকা, তাই এখানে অন্যান্য এলাকার তুলনায় আবর্জনা একটু বেশি হয়

ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যে সয়লাব চট্টগ্রাম

ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যে সয়লাব চট্টগ্রাম-দুই মাসে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ৫০ কোটি টাকার ভেজাল পণ্য আটক
স্বপন মল্লিক



ভেজাল ও নিম্ন মানের খাদ্যদ্রব্যে সয়লাব এখন চট্টগ্রাম
মান্ধাতার আমলের অকার্যকর আইন, ফুড টেস্টিং ল্যাবটেরির বেহাল অবস্থা এবং সর্বোপরি থেমে থেমে অভিযান পরিচালনার কারণে এই প্রাণ সংহারী অপকর্মটি অব্যাহত থাকলেও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না ফলে ভেজালকারীরা দ্বিগুণ উৎসাহে কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে
সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর গত ১লা মার্চ ম্যাজিস্ট্রেট অনুপম সাহার নেতৃেত্ব নগরীর স্টেডিয়াম এলাকায় পরিচালিত এক ভেজাল বিরোধী অভিযানে ৬ রেস্তোঁরাকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় পচাঁ-বাসি ও নষ্ট খাবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিবেশনের অপরাধেই তাদের এই অর্থদন্ড করা হয়
সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাত্র এই দুই মাসে পরিচালিত একই ধরণের অভিযানে প্রায় ৫০ কোটি টাকার নষ্ট পণ্য আটক এবং বাসি তথা ভেজাল খাদ্য অস্বাস্থ্যকরভাবে পরিবেশনের দায়ে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এর সাথে জড়িত বেশ কয়েক ব্যবসায়ীকে করা হয় গ্রেফতার

র‌্যাবসহ ভেজাাল বিরোধী অভিযানে অংশ নেয়া আইন প্রয়োগকারী সূত্র থেকে প্রাপ্ত এক হিসেবে দেখা য়ায়, গত ৫ অক্টোবর চকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নোংড়া খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের দায়ে চট্টেশ্বরী ও ক্যাফে জয়নগরসহ কয়েকটি হোটেল থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়, গত ৬ অক্টোবর মেলামাইন থাকার অভিযোগে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত আগ্রাবাদ ও হাইওয়ে প্লাজা থেকে ৭৫৮ পিস ক্যাটবেরি চকলেট জব্দ করে

এর মাত্র এক দিন পর ৭ অক্টোবর ওজনে কম দেওয়ায় একটি ফিলিং স্টেশন ও অসস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির জন্য পাহাড়তলী এলাকা থেকে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশন ও আলীফ বিরিয়ানী হাউসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই জরিমানা নেয়া হয়
১৩ অক্টোবর র‌্যাব ও বি এস টি আই অভিযান চালিয়ে পঁচা বাসি খাবার পরিবেশনের জন্য হোটেল ব্রিজ ও হোটেল জমজমসহ ৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে অন্য এক অভিযানে ১৫ অক্টোবর ষোলশহর এলাকায় এক যৌথ অভিযানে ফরমালিন দিয়ে মাছ বিক্রির অভিযোগে ২৬ জন মাছ ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে ১৬ হাজার ৩শ টাকা জরিমানা করা হয়,একই মাসে এর মাত্র দুদিন পর ১৮ অক্টোবর ফিরিঙ্গিবাজারের কযেকটি দোকানকে পণ্যের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণে তারিখ না থাকায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়
২৫ অক্টোবর র‌্যাবের এক অভিযানে আন্দরকিল্লা থেকে ফ্রিজে রেখে পঁচা খাবার সরবরাহের জন্য হোটেল জামান ও মদিনা হোটেল থেকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়
নগরীর ভ্রাম্যমান আদালত ২৬ অক্টোবর বহদ্দার হাটের মাংস ও ফল ব্যবসায়ীদের বাটখারা পরীক্ষা করে কারচুপি পাওয়ায় ২৮ হাজার ৬শ ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করে আট জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চট্টগ্রাম বšদর থানায় ২৯ অক্টোবর একইভাবে অভিযানে জেটি গেট সংলগ্ন কয়েকটি হোটেল থেকে ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে

একপচাঁ বাসি ও নষ্ট খাদ্য সামগ্রী জব্দ করার সবচেয়ে বড় অভিযানটি চলে গত ৯ সেপ্টেম্বর এই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত নষ্ট ও খাবার অনুপোযোগী প্রায় ৫০ কোটি টাকার খাদ্য সামগ্রী জব্দ করে নগরীর পাঁচল্ইাশ এলাকার রহমান নগরের বাংলাদেশ পেপার প্রোডাক্টের গুদাম থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয় এই অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার নুরুল হক তিনি এসব ভেজাল সামগ্রী জব্দ করেন পণ্যগুলোর আমদানি কারক ই ও এম এবং টি আদ্যক্ষরের চট্টগ্রামের বড় তিনটি গ্রুপ অব কোম্পানি জব্দকৃত সব মালামাল ছিল দুর্গন্ধ ও খাবার অনুপোযোগী এগুলো এক বছরের বেশি সময় এখানে রাখা ছিলএই ব্যাপারে থানায় মামলা করা হয়
গত ৬ সেপ্টেম্বর ভেজাল ঘি তৈরির অভিযোগে র‌্যাব ও বি এস টি আই এর যৌথ অভিযানে যমুনা ক্যামিক্যাল ওয়ার্কস ও তাহের ফুড প্রোডাক্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়
একই মাসের ১৭ সেস্টেম্বর ওজনে কম ও পণ্যে ভেজাল দেওয়ায় ডবলমুরিং থানাধীন কর্ণফুলী মার্কেটের ৫ বিক্রেতার কাজ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এর একদিন পর একই ধরনের আর একটি অভিযানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেমাই তৈরির অভিযোগে শহরের রাজাখালী এলাকার চানতারা সেম্ইা কারখানা, রাসেল সেমাই ও খাজা সেমাই কারখানাসহ মোট ৭ কারখানা থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় গত ৭ অক্টোবর ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ওজনে কম দেয়ায় একটি ফিলিং ষ্টেশন ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরির অপরাধে ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করে পাহাড়তলী এলাকার মদিনা ফিলিং স্টেশন এবং দূষিত খাবার তৈরি কর্য়া আলীফ বিরানী হাউস থেকে এই জরিমানা আদায় করা হয়
ভেজাল প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বেশকিছু রাসায়নিক পদার্থও পাওয়া যায় এই গুদামে
ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সিটি কপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট ড.অনুপম সাহা বলেন, নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে তাই এবার ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে তিনি বলেন,ভেজালকারীদের অপরাধের তুলনায় বিদ্যমান আইনে খুব স্বল্প জরিমানার বিধান রয়েছে তাই সংশ্লিঠরা তা কেয়ার করেনা ভেজাল পঁচা ও বাসি খাবার এবং ভেজাল ঘি ও তেল খেলে ভোক্তাদের কী কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, পচাঁ বাসি খাবার ডায়রিয়া, এসিডিটি,গ্যাস্ট্রিক ও আলসার হতে পারে, ভেজাল তেলে খোসপাঁচড়াসহ বিভিন্ন চর্মরোগ আর ভেজাল ঘিতে অমাশয়সহ আরো বড় ধরণের রোগ ব্যাধি হওয়ার আশংকা রয়েছে
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব উপজেলা পর্যায়েও ভেজাল তৎপরতা রয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, জেলার ১৪ উপজেলায় একজন করে সেনিটারী ইন্সপেক্টর থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র৫/৬ জন এব্যাপারে উর্ধতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে শূন্যপদ পূরণের আশ্বাস পেয়েছি