রবিবার, ৭ মার্চ, ২০১০

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী বাজারে অবাধে মদের আসর

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী বাজারে অবাধে মদের আসর


রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী বাজারে অবাধে মদ বিক্রি হচ্ছে
এ কারণে নানা রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বাজারের দিন সন্ধ্যা হলে নেশাগ্রস্তদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার মদ খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিচন্দ্র ত্রিপুরা ও মেদু মারমার মধ্যে মারামারির খবর পাওয়া গেছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লংবতী ত্রিপুরা আলাপকালে ঘটনার সত্যটা স্বীকার করেন বাজারের দিন সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, মদের উপকরণ মুলি খোলা আকাশের নিচে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে চলছে বাজারের পূর্বে ও পশ্চিম পার্শে¦ দোকানের পিছনে অলিগলিতে মদের আসর


বৃটিশ শাসন আমলে আদিবাসীদের জন্য নেশা করার অলিখিত অনুমতি থাকার কারণে তা আজও বন্ধ হয়নি
সভ্যতার পরিবর্তনে আধুনিক ছোঁয়া বইছে বিশ্বের প্রতিটি দেশে এবং জাতির মধ্যে কিন্তু আদিবাসীদের রয়েছে সেই প্রথাকে আকঁড়ে ধরে থাকার প্রবণতা এ ব্যবস্থা পরিবর্তনে প্রশাসন এগিয়ে আসার প্রয়োজন বলে সচেতন মহল মনে করছে


তাছাড়া এ বাজারটিতে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে নানা রকম
রাস্তার উপর বাজার বসানো, টোল আদায়, অসামাজিক কার্যকলাপ ও নেশাগ্রস্তদের উপদ্রুব বিগত কয়েক মাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ সরকার বাজার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বাজার কমিটি নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা করেছিল কিন্ত তা তোয়াক্কা না করে চলছে এ সমস্ত অনিয়ম কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োগ করার জন্য সচেতন মহল থেকে দাবী উঠেছে

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

পেকুয়ায় শতভাগ স্যানিটেশন কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে

পেকুয়ায় শতভাগ স্যানিটেশন কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে

পেকুয়ায় শতভাগ স্যানিটেশন কার্যক্রম ভেস্তে যেতে বসেছে
২০০৪ সালে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয় ২০১০ সালের মধ্যে দেশকে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনা এরই প্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে পেকুয়া উপজেলা সহ সারা দেশে ১৫০ টি উপজেলায় কাজ করার জন্য ব্র্যাক পাইলট প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের লোকজনকে কিভাবে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনা যায় তা যাচাই-বাছাই করা হয় পর্যায়ক্রমে এ প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের জন্যে পেকুয়া এরিয়া অফিসে ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ১১ সদস্যের ১৬৫ টি কমিটি কাজ করছে


সার্বিক পর্যালোচনা শেষে ব্র্যাক পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৪৮০টি করে ৩৩৬০ টি ল্যাট্রিন বিতরণে প্রতিটি ল্যাট্রিনের জন্য ১ হাজার ৮ শ টাকা করে ৬০ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করে
ইতোমধ্যে ২ হাজার ১শ ৮ টি ল্যাট্রিন বিতরণ করা হয়েছে সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্র্যাকের বিতরণকৃত ল্যাট্রিন খুবই নিম্নমানের এবং সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ২শ টাকা থেকে ৩শ টাকা করে আদায় করা হয়েছে


সূত্রে প্রকাশ, ল্যাট্টিন সরবরাহে কর্মকর্তাদের যোগসাজেশে সরবরাহকারীরা বাজেটের অর্ধেক টাকা লুটপাট করেছে



খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়ার স্থানীয় ৩টি স্যানিটারি কারখানা ল্যাট্রিন সরবরাহ করেছে
পেকুয়া বাজারের বাঁশ ব্যবসায়ী ওসমান সওদাগর বেড়া সরবরাহ করার জন্য কুমিল্লা থেকে অভিজ্ঞ শ্রমিক এনে প্রতি বাঁশ থেকে ৪/৫টি বেত বেড়া তৈরি করেছে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসায় বর্তমানে পেকুয়ার বাহির থেকে বেড়া তৈরি করে নিয়ে এসে এ ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে ব্র্যাকের ওয়াশ কার্যক্রমের আওতায় ল্যাট্রিন বিতরণের মাধ্যমে সরবরাহকারী ও কর্মকর্তার যৌথ চক্র প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে


পেকুয়া সদরের মেহেরনামা এলাকায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগ থাকায় সে এলাকায় ল্যাট্রিন বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে



সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কথা ব্র্যাক কর্মকর্তারা স্বীকার করলেও নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের ব্যাপারে ১৮শ টাকার বাজেটে এর চেয়ে ভাল মানের ল্যাট্রিন সরবরাহ করার জন্য কোনো সরবরাহকারী পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান


তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

সবুজবাগের বাড়িতে মৌলভী সৈয়দ গড়ে তুলেছিলেন বিশাল গেরিলাদল


সবুজবাগের বাড়িতে মৌলভী সৈয়দ গড়ে তুলেছিলেন বিশাল গেরিলাদল
রিটন আহসান


১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আগ্রাবাদ পানওয়ালাপাড়ার সবুজবাগের মরহুম আবদুল হাই সর্দারের বাড়িটি ছিল তৎকালীণ শহর ছাত্রলীগ সভাপতি মৌলভী সৈয়দ আহমদের প্রধান দফতর বাড়িটি শহরের মধ্যে হলেও তখনো সেখানে অনেকাংশে গ্রামীণ অবয়ব ছিল যে কারণে তিনি অন্যসব স্থানের চেয়ে এই স্থানেেক অধিকতর নিরাপদ আস্তানা হিসেবে নিয়েছিল আবদুল হাই সরদারের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা আবু সাইদ সরদার জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশপ্রেমী অসংখ্য যুবককে নিয়ে সবুজবাগের এই বাড়িতে মৌলভী সৈয়দ গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল গেরিলাদল অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অসংখ্য শ্রমিক যুবক এই দলে যোগ দিতে থাকে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয় আগ্রাবাদ ছোটপোল নুর মোহাম্মদ প্রকাশ মিষ্টি চাচার বাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী মাঠটিকে আগ্রাবাদ রঙ্গিপাড়া নাপিতের বাড়ির মাটির ঘরে স্থাপন করা হয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান গোপন দফতর মৌলভী সৈয়দের প্রধান ঘাঁটি সবুজবাগের চতুর্দিকে অসংখ্য অলিগলি থাকায় যা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য শাপে বর হলেও শত্রুপক্ষের জন্য ছিল জটিল একটি বিষয়



মৌলভী সৈয়দের নেতৃত্বে আনন্দীপুরের মোহাম্মদ হারিস, রামপুরার আবদুল মোনাফ, দামপাড়ার আবদুর রউফ, পানওয়ালাপাড়ার মীর সুলতান আহমদ, সলিমুল্লাহ এবং আবু সাইদ সরদার ১৯৭১ সালের ৭ মে রামপুরার আবদুল মোনাফের কাচারি ঘরে কোরান শরিফ হাতে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের শপথ নেন
পর্যায়ক্রমে তাদের সাথে সাংগঠনিক তৎপরতার সাথে যুক্ত হন হাজপাড়ার জালাল উদ্দিন আহমদ, মঈনউদ্দিন খান বাদল বর্তমানে এমপি, নুরুল ইসলামসহ আরো অনেকে


ভারত থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধাদের আনা ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগৃহীত অস্ত্রগুলো রাখা হতো পানওয়ালাপাড়া, রঙ্গীপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, ছোটপোলসহ আশপাশের বাড়ির কবরস্থানে
কবরস্থানে কৌশলে এমনভাবে কবর বানানো হতো যে, হঠাৎ করে যে কারো কাছে সদ্য খোঁড়া কোন কবর মনে হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ছিল এসব কবরে বড় ছোট নানা আকারের ড্রাম ভর্তি করে রাখা হতো অসংখ্য অস্ত্র রাতের বেলা কবর থেকে অস্ত্র তুলে বিভিন্ন অভিযানে তা ব্যবহার করা হতো এবং কাজ শেষে আবারো মাটি চাপা দেয়া হতো


মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে যে সব অস্ত্র ছিল তার মধ্যে ছিল এসএমজি, এলএমজি, স্টেনগান, গ্রেনেড, স্মোক বোমা, লিমপেড মাইন, অ্যাক্সপ্লোসিভসহ নানারকমের বন্দুক



বিভিন্ন সময়ে যারা এই বাড়িতে যারা এসেছিলেন তারা হলেন, ডা. মাহফুজুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিন, ডা. শাহ আলম বীরউত্তম, মাজহারুল্লাহ বীরউত্তম, নৌ কমান্ডো ফারুক-ই-আজম, কাজী ইনামুল হক দানু, সৈয়দ মোহাম্মদ এমরান, আবদুল্লাহ আল হারুন, ডা. জাফর উল্লাহ, ডা. মুলকুতুর রহমান, অমল মিত্র, মুকুল দাশ, অরুন দাশগুপ্ত, রবিউল হোসেন কচিসহ আরো অনেকে



জানা যায়, সবুজবাগের বাড়িটিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের কথা জানতে পেরে পাকবাহিনী অন্তত তিনবার গান পাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে বিধ্বস্ত করে
এ কাজে প্রধান ইন্ধনদাতা ছিল তৎকালীন আলবদর বাহিনীর জল্লাদ জাফরুল্লা এবং খোকা অবশ্য, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তাদের মৃত্যু হয়


সেদিনের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মৌলভী সৈয়দ আর বেঁচে নেই, নেই তার অনেক সহযোদ্ধাও
কিন্তু সেদিনের স্মৃতিবাহী পানওয়ালাপাড়ার সেই বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হিসেবে ইতোমধ্যে বাড়ির মালিকানা বদল হয়েছে


কিন্তু এখনো মূল্যায়ন হয়নি অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার
তাদের অনেককেই দিন কাটাতে হচ্ছে খেয়ে না খেয়ে কিন্তু তাদের সাথে সেদিন যারা বিরোধিতা করেছিলো তাদের অনেকেই এখন রয়েছেন বহাল তবিয়তে যা অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবায় প্রতিনিয়ত


একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম যোদ্ধা মোহাম্মদ সিকান্দার আলী বলেন, আমাদের চাওয়া পাওয়ার অনেককিছুই ছিল, এতবছরেও যখন পাইনি তখন তা নিয়তি বলে ধরে নিলাম
মনকে সান্ত¡না দিলাম এই ভেবে যে, কিছু পাইনি তাতে কি দেশতো স্বাধীন করতে পেরেছি কজনের ভাগ্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ আসে কিন্তু দুঃখটা বাড়ে তখনই, যখন অমুক্তিযোদ্ধাদের রাতারাতি প্রতিষ্ঠিত হতে দেখি যখন তাদের গাড়িতেই আমাদের রক্তে অর্জিত পতাকা উড়তে দেখি তখন মনে হয় আবার গর্জে উঠি

চট্টগ্রামে চার কারণে থমকে আছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

চট্টগ্রামে চার কারণে থমকে আছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

মিঠুন চৌধুরী



‘গ্রীষ্মকাল শুরু হতে না হতেই বেড়ে গেছে লোডশেডিং
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর বিদ্যুৎ চলে যায় তার উপর আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে’ সুপ্রভাত বাংলাদেশের কাছে এভাবেই ভোগান্তির কথা বলেন আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা সাইদুল হক নগরীর সব এলাকার চিত্র একই কিন্তু বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ( পিডিবি) তেমন কোনো আশার বাণী শোনাতে পারে নি দৈনিক ৬৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি পাঁচটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এ অবস্থা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত


সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপে জানা যায়, গ্যাস সংকট, মেরামতের জন্য ইউনিট বন্ধ থাকা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শেষ না হওয়া এবং কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমে যাওয়া এই চার কারণে কাঙিক্ষত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না
সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামের সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ৬৩৭ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ২৮০ মেগাওয়াট পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহও কমে গেছে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হতো দৈনিক গড়ে ২০০ মেগাওয়াট বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮০ মেগাওয়াট তাই প্রতিদিন লোডশেডিং করা হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত


এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবি দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (উৎপাদন) মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না
গ্যাস সরবরাহ এবং কাপ্তাই এ নতুন ইউনিট চালু সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপার আমরা আমাদের চাহিদার কথা বহুবার জানিয়েছি


পিডিবি সূত্র আরো জানায়, গ্রীষ্ম মৌসুমে বাড়তি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন না থাকায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে সারা দেশেই লোড ম্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে
লোড ম্যানেজমেন্ট এর নীতি হলো, উৎপাদন এবং চাহিদা অনুসারে সরবরাহ চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন গত মাসের তুলনায় কিছুটা বাড়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমে গেছে


কাপ্তাই এর কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে সচল আছে তিনটি ইউনিট
অন্য দুটি ইউনিট মেরামতের জন্য বন্ধ আছে কিন্তু কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিক মাত্রায় কমে যাওয়ায় এই তিন ইউনিট থেকেও কাঙিক্ষত মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না সচল থাকা ১, ২ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদিত হয়েছে দৈনিক ১৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গতকাল রোববার এই তিন ইউনিট থেকে পাওয়া গেছে ১২০ মেগাওয়াট সূত্র জানায়, এই সময়ে হ্রদের পানির উচ্চতা থাকার কথা ৯২ দশমিক ২ মিনস সি লেভেল (এমসিএল) কিন্তু বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা ৮৩ দশমিক ৮১ এমসিএল এছাড়া ৩ নম্বর ইউনিটটি ওভারহলিং এর জন্য প্রায় দুই বছর যাবৎ বন্ধ আছে এছাড়া কাপ্তাই এ আরো দুটি ইউনিট চালুর বিষয়ে পিডিবি দক্ষিণাঞ্চলের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে কিন্তু এবিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে পিডিবির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান নতুন দুটি ইউনিট চালু করা হলে আরো প্রায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে সূত্র জানায় সম্প্রতি ৪ নম্বর ইউনিটটিও মেরামতের জন্য বন্ধ করা হয়েছে


উল্লেখ্য, গ্যাস সরবরাহের অভাবে প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর চলতি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আবার চালু হয়েছে রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি
এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে শিকলবাহা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রর উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪৭ মেগাওয়াট এই কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ মেগাওয়াট জানা গেছে, শিকলবাহা ও রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি চালু রাখতে মোট ১০৫ মিলিয়ন ঘনফুট (এমসিএফ) গ্যাস প্রয়োজন এর বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০ এমসিএফ গ্যাস


এদিকে, সরকারি মালিকানাধীন ‘শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টের’ নির্মাণ কাজ আগামী মে মাসে শেষ হতে পারে
কিন্তু এই কেন্দ্রটিতেও প্রাথমিকভাবে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে তাই সংশ্লিষ্টরা আশংকা করছেন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও গ্যাস সরবরাহ করা না হলে হয়তো উৎপাদন সম্ভব হবে না বেসরকারি মালিকানাধীন বাড়বকুণ্ডের রিজেন্ট পাওয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২১ মেগাওয়াট এবং শিকলবাহা রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫২ থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে

কুমিরা ফেরীঘাট রাস্তা জরুরি মেরামত করার আবেদন

কুমিরা ফেরীঘাট রাস্তা জরুরি মেরামত করার আবেদন
আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন


কুমিরা ফেরীঘাট রাস্তাখানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফেরীঘাট এর সাহায্যে প্রতি বছর জেলা পরিষদের কোটি কোটি টাকা আয় হয় অথচ ঘাটের রাস্তা, ফেরীঘাট, ফেরীঘাট মসজিদ অবহেলিত রাস্তার ব্যবহার অত্যন্ত বেড়ে গেছে রাস্তাটা খুবই খারাপ অবস্থায় আছে সবখানে বড় বড় গর্ত কার্পেটিং মোটেই নেই ফেরীঘাটের কোন প্রকার উন্নতি হয়নি মসজিদ খানা উন্নয়ন করা একান্ত প্রয়োজন অতএব জেলা পরিষদের নিকট একান্ত প্রার্থনা, এই জরুরি রাস্তাটি মেরামত করা হোক ঘাটের উন্নতি করা হোক, ঘাটের মসজিদের উন্নতি করা হোক
বর্তমানে শিপইয়ার্ড হওয়াতে সরকারের কোটি, কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়

চট্টগ্রামের কেইপিজেডে দিনরাত চলছে পাহাড় নিধন, লেক ভরাট আবেদুলজ্জামান আমিরী


কেইপিজেডে দিনরাত চলছে পাহাড় নিধন, লেক ভরাট
আবেদুলজ্জামান আমিরী



কেইপিজেড এর চারপাশে বিপুল সংখ্যাক সিরিকউরিটি গার্ড বসিয়ে দিনে রাতে চলছে পাহাড় নিধন পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ হলেও বিগত জানুয়ারি থেকে এখানে পাহাড় কাটা চলছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, কেইপিজেড কর্তৃপক্ষকে পাহাড় কাটার কোন অনুমতি দেয়া হয়নি সূত্র বলেছে, বিগত জানুয়ারি থেকে কেইপিজেড এলাকাস্থ ১১৩টি ইউনিটের মধ্যে ৪টি ইউনিটের উন্নয়ন কাজ চলছে কেইপিজেড এলাকার পশ্চিম দিকের ৪টি ইউনিটকে ১৬ টি ‘সু’ ফ্যাক্টরি নির্মাণের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে মিড়িয়া ও লোকচক্ষু থেকে আড়াল করতে ওই এলাকায় সাধারন জনসাধারন ও মিডিয়ার লোকজনের যাতায়াতে বাধা দেয়া হচ্ছে সূত্র বলেছে, পাহাড় নিধন শুরু হওয়ার পর এ এলাকায় নতুন করে প্রচুর নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেছে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা কর্মীদের প্রহারায় ৪টি এসকেবেটর, ৬টি ড্রেজার ও ৮টি ড্রাম ট্রাক দিয়ে দিনে রাতে চলছে পাহাড় কাটা, জলাশয় ও লেক ভরাট করার কাজ কাজে গতিশীলতা আনতে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও যন্ত্রপাতিকে ঘন্টায় ১১৫০ টাকা থেকে ১৩শ টাকা পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, কাজে ব্যবহারের জন্য আরো যানবাহন চাওয়া হলেও পাহাড় কাটার কাজ নিষিদ্ধ হওয়ায় অনেকে যানবাহন সরবরাহ দিতে রাজি হয়নি ইতোপূর্বে আরেকবার এ ধরনের কাজ হাতে নেয়ায এলাকার লোকজন বিক্ষোভ করে ফলে কর্তৃপক্ষ সেসময় পাহাড় কাটা বন্ধ রেখেছিল

সূত্রমতে, পাহাড় না কাটার শর্তে সরকার প্রায় ৪ হাজার ৫শ একরের বিশাল এ পাহাড়ি ভূমি নামমাত্র মূল্যে কেইপিজেড কর্তৃক্ষকে বরাদ্দ দিয়েছিল কেইপিজেড কর্তৃক ২০০৭ সালের ২ জুলাই প্রকাশিত প্লান্টেশান ম্যাপ ও ২০০৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত মাস্টার প্ল্যানে পাহাড়ের পাদদেশে মিলকারখানা স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কেইপিজেড জিএম মোহাম্মদ শাহজাহান পাহাড় কাটার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, পাহাড়গুলোকে ড্রেজিং করা হচ্ছে
পাহাড় নিধনের ফলে ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল

চট্টগ্রাম নগরীতে বেড়ে গেছে মলম পার্টির দৌরাত্ম্য নগরীতে ৪ পৃথক ঘটনায় ৪ ব্যক্তির সর্বস্ব ছিনতাই

চট্টগ্রাম নগরীতে বেড়ে গেছে মলম পার্টির দৌরাত্ম্য নগরীতে ৪ পৃথক ঘটনায় ৪ ব্যক্তির সর্বস্ব ছিনতাই


নগরীতে মলমপার্টি ও ছিনতাইকরীর কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন চারজন এ সময় বাধা দেয়ার চেষ্টা করায় তারা আহত হন বর্তমানে চারজনই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল রোববার সকালে ট্রেনযোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসেন মো. জামান (৪৪) স্টেশন থেকে কোরবানীগঞ্জে বাসায় যাওয়ার সময় সিনেমা প্যালেস মোড়ে তিনি মলমপার্টির কবলে পড়েন তারা জামানের মোবাইল, নগদ টাকাসহ অন্যান্য মাল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় সকাল ৭টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়

এদিকে সদর ঘাট থেকে সিএনজি টেক্সিযোগে হালিশহরস্থ নিজ বাসায় ফেরার পথে শামসুদ্দিন (৫৪) মলম পার্টির খপ্পরে পড়েন সিএনজিটি রশীদ বিল্ডিংয়ের সামনে এলে চালকের সহযোগিরা তিনজন তার চোখে মলম লাগিয়ে দেয় এ সময় তার ব্রিফকেসে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে রেল স্টেশন এলাকায় গতকাল সকালে হোটেল কর্মচারী রবি দেবনাথ গতকাল সকালে ফিরিঙ্গী বাজারের বাসা থেকে রিকশাযোগে চৈতন্যগলিস্থ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন এ সময় ৩/৪ জন ছিনতাইকারী তাকে মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়

বায়েজিদ থানাধীন শহীদ নগর এলাকায় শনিবার রাতের খাওয়া খেয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন প্রবাসী ইশতিয়াক হোসেন (৩৪) কিছুদূর যেতেই ৪/৫ জন ছিনতাইকারী তাকে বেধড়ক পিটিয়ে মোবাইল ও পকেটে থাকা মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়

তথ্য সূত্র: আজাদী

চট্টগ্রামে সাতটি মিল পুরোদমে চালু নেই ।। লিজ দেয়া জুট মিল ফিরিয়ে আনতে বিজেএমসির উদ্যোগ

চট্টগ্রামে সাতটি মিল পুরোদমে চালু নেই ।। লিজ দেয়া জুট মিল ফিরিয়ে আনতে বিজেএমসির উদ্যোগ
আলীউর রাহমান


সোনালী আঁশের সেই সুদিন ফিরে আসলেও বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম এম এম জুট মিল চট্টগ্রামের বাকি সাতটি জুট মিলও পুরোদমে চালু নেই চট্টগ্রামের আটটি জুট মিল ও দুইটি কার্পেট মিলের মধ্যে ছয়টি জুট মিল পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) বাকি চারটি মিল বিএনপি সরকার আমলে লিজ দেয়া হয়েছিল পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে লিজ দেয়া মিলগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিজেএমসি চট্টগ্রামের দশটি জুটমিল পুরোদমে চালু হলে আরও বিশ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে সিবিএ নেতারা জানান পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ আন্দোলন জোরদার হওয়ায় সারা বিশ্বে সিনথেটিক ফাইবারের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে সেই সাথে পাল্ল দিয়ে পাটের চাহিদা বাড়ছে

২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশের অধিকাংশ পাটকলকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসাবে চিহ্নিত করে বেশকিছু মিল বন্ধ করে দেয়া হয় বাকি মিলের অধিকাংশ লিজ প্রদান করা হয় দেশের অধিকাংশ মিল বন্ধ থাকায় কৃষক পাট চাষ বন্ধ করে জমিতে বিকল্প চাষাবাদ করতে থাকে দেশের মিলে চাহিদা না থাকার সুযোগে উৎপাদিত পাটের বাজার দখল করে নেয় ভারত ভারত বাংলাদেশে উৎপাদিত পাটের বাজার দখল করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নেয় এদিকে বর্তমানে বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ থেকে পাট রপ্তানি বেড়ে যায় এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বন্ধ পাটকল চালু করার পাশাপাশি লিজ দেয়া পাটকল ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ গ্রহণ করে

চট্টগ্রামে দশটি পাটকলের মধ্যে সবকটিতে এককালে তিন শিফট চালু ছিল বর্তমানে একটি মিলেও তিন শিফট নেই তবে দুইটি ইউনিট পুরোদমে চালু হয়নি তবে আশার কথা হচ্ছে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে মিলটি আমিন জুট মিল জানুয়ারিতে ৫ লাখ ও ফেব্রুয়ারিতে ৭ লাখ টাকা লাভ করেছে বর্তমানে আমিন জুট মিলে এক ইউনিট বন্ধ থাকা সত্বেও ৮ হাজার শ্রমিক কর্মচারী কর্মরত আছে পুরোদমে চালু করা সম্ভব হলে এ মিলে আরও চার হাজার শ্রমিক কাজ করতে পারবে সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থিত আর আর জুট মিল ও এম এম জুট মিল বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে লিজ দেয়া হয় ন্যাচার বেগ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মিল দুইটি লিজ নেয় লোকসানের কারণে বর্তমানে এম এম জুট মিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিজেএমসি মিল দুইটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ইতোমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেএমসি চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ফসিউর রহমান বলেন, উক্ত মিল দুইটি মাসিক ভাড়ায় লিজ দেয়া হয়েছিল এখন তা বিজেএমসিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে মিলটির পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সার বলেন, কোম্পানির সিংহভাগ অর্থের যোগানদাতা অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানি তারা মিল দুইটি লিজ নেয়ায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে পাটের বাজার চাঙ্গা হলে বন্ধ মিলও নিশ্চয় চালু করার উদ্যোগ নেয়া হবে

দেশের অন্যতম আধুনিক জুট মিল কর্ণফুলী জুট মিলও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে লিজ দেয়া হয়েছে সাদ মুসা গ্রুপ কর্ণফুলী জুট ও কর্ণফুলী ফোরাত কার্পেট মিল ৫ বছর মেয়াদে লিজ নেয় বিজেএমসি চেষ্টা করলেও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এ মিল দুইটি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় আমিন জুট মিলের সিবিএ নেতা আবদুল খালেক বলেন, ৮ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠান আমিন জুট মিলের শ্রমিকরা এখনও বঞ্চিত ২০০৭ সালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শ্রমিকদের ৫৭ বছরে অবসর দেয়ায় অধিকাংশ দক্ষ শ্রমিক অবসরে চলে গেছে মিলে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা পে স্কেল পেলেও শ্রমিকদের পে স্কেল প্রদান করা হয়নি প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে লাভজনক হলেও শ্রমিক অসন্তোষ থেকেই গেছে হাফিজ জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বলেন, বিজেএমসি সব সময় শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছে হাফিজ জুট মিলে তিনজন শ্রমিকদের তদারকি করতে তিনজন কর্মকর্তা রয়েছে ২৮ জন ওয়ার্কারের সাথে ৪ ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা বেতন দিলেও শ্রমিকদের পে স্কেল প্রদান করা হচ্ছে না এম এম জুট মিল ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কাসেম জুট মিল বন্ধ করা হলেও শ্রমিকদের প্রাপ্য প্রদান করা হয়নি বেকার অসহায় দরিদ্র শ্রমিকরা নিজেদের পাওনা টাকা পাওয়ার আসায় দিনের পর দিন মিল কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে অনাহারে অর্থ কষ্টে অনেক শ্রমিক ইতোমধ্যে মারাও গেছে
বিজেএমসি পরিচালিত দেশের অন্যতম আমিন জুট মিলের তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুইটি চালু হলেও একটি এখনও বন্ধ রয়েছে

২৯ বছরেও গড়ে ওঠেনি বান্দরবানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ

২৯ বছরেও গড়ে ওঠেনি বান্দরবানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ

জেলা হবার দীর্ঘ ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বান্দরবানে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি এ কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম ও লামা উপজেলার লোকজনকে জেলা সদরে আসতে হয় কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি উপজেলা পাড় হয়ে এ দূরত্ব পার হতে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতিরও শিকার হচ্ছেন যাতায়াতকারীরা


১৯৮১ সালে বান্দরবান জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায় জেলা হবার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বেশ কয়েক দফায় পরিকল্পনা নেয়া হয় কিন্তু এ পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি

বান্দরবান জেলা সদর থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি, আলী কদম, লামা ও রুমা উপজেলার দূরত্ব যথাক্রমে ১২০, ১১৫, ৯৫ ও ৫৪ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ চালু না হওয়ায় এ সকল উপজেলার লোকজনকে কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, চকরিয়া, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে কয়েক দফা গাড়ি বদলে আসতে হয়


আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এ উপজেলার লোকজনকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলীকদম-থানছি সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই উপজেলার লোকজনের মধ্যে যোগাযোগ অনেক সহজ হবে বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় আমাদের উপজেলার লোকজনকেই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলা সদরে মামলাসহ যে কোন কাজে যেতে হলে ঘর থেকে বের হতে হয় কমপক্ষে ৪/৫ ঘণ্টা আগে এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের সাথে ঘুমধুম ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই উপজেলা সদর থেকে এ ইউনিয়নে যেতে হয় কক্সবাজারের রামু ও উখিয়া উপজেলা ডিঙ্গিয়ে

অন্যদিকে, জেলা সদরের সাথে রুমা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও ৩য় সাঙ্গু ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় লোকজন ভোগান্তির শিকার তবে থানছি উপজেলার সাথে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে

লামা-আলীকদম উপজেলার সাথে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে লামা-সুয়ালক সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হলেও কবে তা শেষ হবে, নিশ্চিত করে কেউ তা বলতে পারছে না তার ওপর আলীকদম-বাইশারী-ঘুমধুম সড়কের কাজ এখন থমকে আছে

উপজেলার বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অবস্থাও নাজুক থানছি উপজেলা সদরের সাথে তিন্দু, রেমাক্রী ও মদক এলাকার কোনো সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌ-পথই একমাত্র ভরসা কিন্তু বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে কিংবা শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে এ এলাকার লোকজনদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে বিভিন্ন নির্বাচন ও জাতীয় টিকা দিবসে এ সকল এলাকায় মালামাল পাঠাতে হয় হেলিকপ্টারে সড়ক যোগাযোগ না থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষে এ এলাকায় যথাযথভাবে নজর রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে ফলে থানছির এ এলাকা অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসীদের

আলীকদম উপজেলার পোয়ামুহুরী ও কুরুকপাতা এলাকার সাথেও উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ওই সব এলাকায় নির্বাচন ও জাতীয় টিকা দিবসগুলোতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয় জেলা সদর থেকে টংকাবতী ইউনিয়নে পৌঁছাতে লোকজনকে এখনও অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়

বান্দরবান সদর উপজেলার মনজয়পাড়াতে যাওয়ার সড়কটিও এখনও নির্মিত হয়নি এ এলাকায় ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ভাবক অংথুই খয় এর মনজয় পাড়ায় বালাঘাটা-চড়ুইপাড়া হয়ে যেতে এখনও কয়েক ঘণ্টা লেগে যায় উজি হেডম্যান পাড়ায় খালের উপর একটি ব্রিজের অভাবে জেলা সদর থেকে এক রকম বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে মনজয় পাড়া

রোয়াংছড়ির মুন্নম পাড়া, রনিনপাড়া ও রুমা উপজেলার পাকনিয়ার পাড়াসহ অনেক এলাকার সাথে এখনও উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি তবে বান্দরবান-থানছি সড়ক, বান্দরবান-বাঘমারা সড়ক, বান্দরবান-গোয়ালিয়াখোলা সড়ক, রোয়াংছড়ি-কচ্ছপতলী সড়ক, রোয়াংছড়ি-ঘেরাউ সড়ক, রুমা-বগালেক সড়ক বাস্তবায়িত হওয়ায় জনগণের কষ্ট অনেকটা লাঘব হয়েছে

এ বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, সরকার জেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তরিক

তথ্য সূত্র: শীর্ষ নিউজ
থানছিতে সাঙ্গু নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ হওয়ার ফলে লোকজনের অনেক দিনের কষ্ট লাঘব হয়েছে ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি ও সড়ক বিভাগ অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে

খাগড়াছড়ির ফসলি জমিতে তামাক চাষ বাড়ছে

খাগড়াছড়ির ফসলি জমিতে তামাক চাষ বাড়ছে

প্রশাসনের নাকের ডগায় পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে দিন দিন বিষাক্ত তামাক চাষ বেড়েছে এর অধিকাংশই হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এক সময় তামাক চাষ শুধুমাত্র দীঘিনালা উপজেলায় সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু চলতি বছরে জেলার ৮টি উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নির্মিত ধুমঘর গুলোর আশ-পাশে স্তূপ করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বনজ সম্পদ


তামাক প্রক্রিয়াকরণের সময় এ ধুমঘর থেকে বের হবে বিষাক্ত ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য এ ধোঁয়া মারাত্মক হুমকি

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, তামাক চাষের জন্য আগাম টাকা, সার, কীটনাশকসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে বিভিন্ন টোবাকো কোম্পানি কিন্তু স্থানীয় কৃষি বিভাগ কোন ধরনের সহযোগিতা করছে না ফলে ক্ষতিকর জেনেও তারা তামাক চাষ করছে বিষাক্ত তামাক চাষের ফলে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন হুমকির মুখে পড়েছে তেমনি ফসলের জমি হ্রাস পেয়ে খাদ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে তামাক চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে নারী ও শিশু শ্রমিক

বিভিন্ন সূত্র জানায়, খাগড়াছড়ি জেলায় চলতি বছরে প্রায় ২ হাজার ৫শ হেক্টর বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে ক্ষতিকর তামাক চাষ হয়েছে এ জমি গত বছরের দ্বিগুণ ফলে চলতি বছরে খাগড়াছড়ি জেলায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার রবিশস্য উৎপাদন কম হবে কিন্তু খাগড়াছড়ি কৃষি বিভাগের কাছে তামাক চাষের বিষয়ে কোন তথ্য নেই

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান মিয়া তার উপজেলায় ব্যাপকহারে তামাক চাষের কথা স্বীকার করে শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, কৃষি বিভাগের ব্যর্থতার কারণে কৃষকরা তামাক চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে ধুমঘর গুলোতে বনজ সম্পদ পোড়ানোর প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন ধুমঘরে কাঠ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবদুল মালেক বলেন, টোবাকো কোম্পানিগুলো তামাক চাষের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে যা কৃষি বিভাগের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না ফলে কৃষকরা তামাক চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে চলতি বছরে জেলায় কত হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে এবং এর ফলে কত কোটি টাকার রবিশস্য কম হবে এ প্রশ্নের জবাবে আবদুল মালেক বলেন, এখনো জড়িপ চলছে

বিশেষজ্ঞরা জানান, কোন জমিতে একবার তামাক চাষ করা হলে সে জমিতে আর কোন ফসল ফলানো যায় না এভাবে তামাক চাষ চলতে থাকলে একদিকে বিষাক্ত তামাকের ছোবলে পরিবেশ যেমন হুমকীর মুখে পড়বে তেমনি অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটে পড়বে এলাকাবাসী

তথ্য সূত্র: শীর্ষ নিউজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেত্রীকে নিয়োগ না দেয়ায় শিক্ষককে তালাবদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগ


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেত্রীকে নিয়োগ না দেয়ায় শিক্ষককে তালাবদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রলীগ নেত্রীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেয়ায় ছাত্রলীগ কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও প্রবীণ শিক্ষক প্রফেসর হাসানুজ্জামান চৌধুরীকে তালাবদ্ধ করে রাখে আজ রোববার এ ঘটনা ঘটে আটক শিক্ষককে প্রায় ১ ঘণ্টা পর চবি প্রক্টর তালা ভেঙ্গে সেখান থেকে মুক্ত করেন ছাত্রলীগ তাদের
নেত্রীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য চবি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ছাত্রলীগ নেতারা জানান, চবি সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত ৪ ফেব্রুয়ারি মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় উক্ত পরীক্ষায় চবি ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মুন্সি তানিয়া আফছার চম্পা ও ছাত্রলীগ নেতা আরিফ বাবুসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণ করে এ সিলেকশন কমিটিতে ছিলেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ, সমাজতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি প্রফেসর আবুল কাসেম চৌধুরী ও প্রফেসর হাসানুজ্জামান চৌধুরী এ নিয়ে আজ রোববার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চবি সমাজতত্ত্ব বিভাগে প্রফেসর হাসানুজ্জামান চৌধুরীকে তার কক্ষে আটকে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয় প্রায় ১ ঘণ্টা পরে চবি প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন তালা ভেঙ্গে তাকে বের করে আনেন
সেখান থেকে শিক্ষক সিলেকশন কমিটি ছাত্রলীগ নেতা আরিফ বাবুসহ ৪ জনকে নিয়োগের জন্য বাছাই করলেও চম্পাকে করেনি

এদিকে ছাত্রলীগ তাদের নেত্রীকে অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে যোগ্য বলে দাবি করে তাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য চবি উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে


চবি ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক জয়নাল আবেদীন এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিয়োগ দেয়া অন্যান্য প্রার্থীর চেয়ে চম্পা অনেক বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন সে ছাত্রলীগ করে বলে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি


সূত্র: শীর্ষ নিউজ

চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিনভর বিক্ষোভ,উপাচার্য অবরুদ্ধ

চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিনভর বিক্ষোভ,উপাচার্য অবরুদ্ধ

শিক্ষকের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ রোববার দিনভর বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন দেড় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘটের পাশাপাশি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিবিএ অনুষদের ডিন অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্যের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে ছাত্রদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন তাঁরা পদত্যাগ বাতিলের দাবি জানিয়ে সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন
একপর্যায়ে বেলা দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুপম সেনকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে না দিলে তিনি পুনরায় অনুষদের একটি কক্ষে চলে যান শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বিকেল সাড়ে চারটায় প্রশাসন পদত্যাগী শিক্ষক মিলন কুমার ভট্টাচার্যকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে পরে শিক্ষার্থীদের শান্ত হতে বলে মিলন উপাচার্যকে নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যান
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ ভবনের নিচে করপোরেশনের সিএনজি স্টেশনও বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থী তাঁরা বিচ্ছিন্নভাবে সমাবেশ ও অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এ সময় ক্যাম্পাসের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়
পদত্যাগ প্রসঙ্গে শিক্ষক মিলন কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে আজ সকালে উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি এর চেয়ে আর বেশি কিছু বলতে পারব না
মিলন কুমার ভট্টাচার্য পুনরায় দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি চলবে বলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মাইকে ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী বিবিএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের রিয়াদ বলেন, ‘ড. মিলন এই অনুষদের সব শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমাদের স্যারকে ফিরিয়ে আনতে হবে

তথ্য সুত্র: প্রথম আলো
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াসা মোড় ক্যাম্পাসের ব্যবসায় অনুষদ ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে

চট্টগ্রামের পশ্চিম বাকলিয়ায় মশার বাসা আর রিকশাজট

পশ্চিম বাকলিয়ায় মশার বাসা আর রিকশাজট
সাবরিনা জাহান

তখন বিকাল চারটা বড় মিয়া মসজিদ এলাকার সানজিলা শাহরিনের বাসায় দেখা গেল মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়েছেন বয়স্ক একজন দিনেও মশারি টাঙানোর একটাই কারণ মশার উত্পাত পশ্চিম বাকলিয়ার ঘরে ঘরে এ দৃশ্য দেখা যাবে বলে জানালেন স্থানীয় ব্যক্তিরা মশা তো আছেই, আরও আছে নানান নাগরিক যন্ত্রণা কেবি আমান আলী সড়কে যানজট যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে বেশির ভাগ বাড়িতে ওয়াসার সংযোগ থাকলেও পানি পাওয়া যায় না নালাগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না, অধিকাংশ গলি-উপগলিতে রিকশা ঢোকে না পাশেই চাক্তাই খাল আর সেই কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা হয়

স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব দুর্ভোগ লাঘবে ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালেও কোনো কাজ হয়নি

শিক্ষক প্রশিক্ষণ (বিএড) মহাবিদ্যালয় এলাকার শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, পশ্চিম বাকলিয়া থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে
কেবি আমান আলী সড়কের যানজটের কারণে তাঁরা ঠিক সময়ে শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত হতে পারেন না
এলাকার প্রধান সড়ক কেবি আমান আলী সড়ক চকবাজার থেকে শুরু হয়ে শাহ আমানত সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ সড়কে চলাচল করে অসংখ্য যানবাহন পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত নেই রাস্তার পাশঘেঁষে অসংখ্য দোকান তাতে হাঁটার পথও নেই সকালে স্কুল ও অফিস সময় থেকে শুরু করে সন্ধ্যা এমনকি রাত পর্যন্ত লেগে থাকে রিকশাজট
সড়কের দুই পাশে চক সুপার মার্কেট, কাঁচাবাজার, পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিএড কলেজ, বড় মিয়া মসজিদ, মেরনসান স্কুলসহ অনেক বিপণিকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘ডিসি সড়ক থেকে চকবাজার যেতেও অনেক সময় আধঘণ্টা লেগে যায়’ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ‘রাস্তার ওপরের অবৈধ দোকানগুলোই যানজটের মূল কারণ অথচ কর্তৃপক্ষ এগুলো উচ্ছেদ করে না’ এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তাটি দুই লেনের করার
এ কারণে প্রায় সময় ট্রেন ধরা যায় না
অন্যদিকে চাক্তাই খাল পরিষ্কার করে আবর্জনা রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয় পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্তূপ করা ময়লার ওপর কাঁচাবাজার বসে মেরনসান স্কুলের সামনে চারতলা একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, রাস্তার অর্ধেকজুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী
সৈয়দ শাহ এলাকার ওমর ফারুক বলেন, ‘ডোবা, নালা ও ডাস্টবিন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না সিটি করপোরেশন শেষ কবে এখানে মশার ওষুধ ছিটিয়েছে তা আমাদের মনে নেই’ ওই এলাকার ঊর্মিলা চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘বাড়িতে ওয়াসার পানির সংযোগ থাকলেও পানি আসে না চার-পাঁচ বছর কখনো সপ্তাহে একবার আবার কখনো মাসে একবারও পানি আসে না গভীর নলকূপের পানিও ব্যবহার করা যায় না আয়রনের কারণে

ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘শিগগির রাস্তার ওপরের অবৈধ দোকান ও অন্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে রাস্তায় ফুটপাত নির্মাণের কাজ বর্ষার আগেই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বাকলিয়া এক্সেল সড়ক নামে একটি দুই লেনের সড়ক তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে এটা হয়ে গেলে যানজট সমস্যা আর থাকবে না মশার উত্পাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নিয়মিত লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটালেও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ ছিটায় না কারণ এটি ব্যয়বহুল’ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন পাশাপাশি তাঁদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন

নিয়মিত পানি সরবরাহের জন্য ওয়াসাকে অনেকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো