বুধবার, ১০ মার্চ, ২০১০

ছাত্রদের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এবং স্পিডব্রেকার দেয়া প্রসঙ্গে

ছাত্রদের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত এবং স্পিডব্রেকার দেয়া প্রসঙ্গে

মোরশেদা নাসির


হঠাৎ করেই যেন উড়ে এসে পড়ল ছেলেটি গাড়ির সামনে এমইএস কলেজ ও জিইসি মোড়ের মাঝামাঝি রাস্তায়। রোড ডিভাইডার থেকে লাফিয়ে গাড়ির সামনে চাকার পাশে। ড্রাইভার হার্ডব্রেক করতে করতে ততক্ষণে ছেলেটি আহত আর চারপাশে জড়ো হয়েছে অন্য ছাত্ররা। ইতোমধ্যে ড্রাইভারকে উত্তম মধ্যম দেয়া শুরু হয়ে গেছে, কেউ গাড়িতে কিল ঘুষি মারছে, দুটো সাইডগ্লাস কুপোকাৎ আর আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ততক্ষণে মারমুখী ছাত্র-জনতা পাঁয়তারা করছে গাড়ি ভাঙার। যাই হোক, ট্রাফিক পুলিশ ও এমইএস কলেজের দু-তিন জন ছাত্র নেতার হস্তক্ষেপে আমি আহত ছেলেটিকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটলাম। সঙ্গে ছিল এমইএস কলেজের কিছু নেতা শুকরিয়া এক্সরে-তে কোন হাড় ভাঙার আলামত পাওয়া যায় নি। হাল্কা চোট পেয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত ছেলেটির কিছু হয়নি।

বলা বাহুল্য, এমইএস কলেজের কলেজ সংসদের নেতারা ঐদিন এরকম উত্তেজনাকর মুহূর্তে সুন্দরভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তারা বিবেকপ্রসূত কাজটিই করেছেন। ইচ্ছে করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ করতে পারতেন। অথচ তা না করে সুন্দরভাবে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। একটি ছাত্র সংসদ ছাত্রদের উত্তেজনাকে তীব্রও করতে পারে আবার এমনকি প্রশমিতও করতে পারে চমৎকারভাবে। তাদের এ ধরনের ক্রিয়াকর্মে আমি মুগ্ধ। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমইএস কলেজের সকল ছাত্র ও ছাত্র সংসদকে। ওমর গণি কলেজ ছাত্র সংসদ সমাজকল্যাণ অবদান রাখবে এই কামনা করছি।

আমি এত গল্পের অবতারণা করলাম এই জন্য যে, বাসায় ফেরার পথে লক্ষ্য করলাম ইস্পাহানী ও এমইএস কলেজের রাস্তায় কোন জেব্রা ক্রসিং কিংবা স্পিডব্রেকার নেই অথচ এই রাস্তাটিতে প্রতিদিন পার হচ্ছে শত শত কিশোর- যুবা-অভিভাবকরা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত বাস, ট্রাক, মাইক্রো, কার, টেক্সিসহ ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচল করে। অতি ব্যস্ত এ সড়কে স্পিডব্রেকার থাকা দরকার। ন্যূনতম জেব্রাক্রসিং।

তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি এমইএস কলেজ গেটে একটা জেব্রা ক্রসিং অথবা স্পিডব্রেকার দেয়ার জন্য।


হাটহাজারীতে দুটি ঘরে চুরি

হাটহাজারীতে দুটি ঘরে চুরি

হাটহাজারীর সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ মীরের খীল গ্রামে দুই পরিবারে চুরি সংঘটিত হয়েছে। গত ৮ মার্চ দিবাগত রাতে এই চুরি সংঘটিত হয়েছে। চোরের দল ছয় ভরি স্বর্ণালংকার নগদ সাড়ে দশ হাজার টাকাসহ প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। জানা গেছে, এই রাতে কোন এক সময় চোর কৌশলে জমির আলী পণ্ডিতের বাড়ির মো. আবদুর রহিমের ঘরে ঢুকে নগদ ৭ হাজার টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও পার্শ্ববর্তী ফারুকী ভিলা জয়নাল আবেদীন ফারুকীর ঘরে ঢুকে নগদ ৩২ শ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।


তথ্য সূত্র: আজাদী

বোয়ালখালীতে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার ধর্ষক আটক

বোয়ালখালীতে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার ধর্ষক আটক

বোয়ালখালীতে এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধর্ষককে আটকপূর্বক গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পাদ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশসূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার মীরপাড়ায় তৃতীয় শ্রেণীর উক্ত ছাত্রী বাড়ির আঙিনায় খেলা করার সময় এলাকার টেক্সিচালক আলমগীর (২৮) তাকে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে ধর্ষক পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। পরে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনী দেয়। খরর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশের একটি দল ধর্ষককে আটক করে থানায় ও গুরতর আহত কিশোরীকে উদ্ধার করে। বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেসময় কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে। ধৃত ধর্ষক আলমগীর উপজেলা শাকপুরা নিবাসী মোঃ শফির পুত্র। ধৃত ধর্ষক পেশায় একজন টেক্সিচালক হলেও সে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত। পুলিশ জানিয়েছে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অনেক মামলা রয়েছে।


তথ্য সূত্র: আজাদী

পদুয়ায় ১০ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ কাঠ আটক

পদুয়ায় ১০ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ কাঠ আটক

লোহাগাড়ার পদুয়া বন বিভাগ গত ৯ মার্চ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দশ লক্ষাধিক টাকার অবৈধ কাঠ আটক করেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের নবাগত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম গোলাম মওলার নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পদুয়ার সহকারী বন সংরক্ষক মো. ফরিদ মিঞা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পদুয়ার ঠাকুরদীঘি, ছদাহার ফকির হাট বাজালিয়া প্রভৃতি স্থানে হানা দিয়ে ৮০০ ঘন ফুট মূল্যবান কাঠ ও পাঁচ হাজার তিনশটি বল্লি জব্দ করে। পদুয়া রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে আটককৃত কাঠের মূল্য দশ লক্ষাধিক টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ। কাঠগুলো ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য প্রভাবশালীরা তদবীর শুরু করছে বলে জানা গেছে।


তথ্য সূত্র: আজাদী

চকরিয়ায় ন্যায্যমূল্যের চাল বিক্রি হচ্ছে কালো বাজারে

চকরিয়ায় ন্যায্যমূল্যের চাল বিক্রি হচ্ছে কালো বাজারে


কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার দরিদ্র জনগোষ্ঠির কাছে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রির জন্য নিয়োগ দেয়া ৫ ডিলারের মধ্যে কয়েকজন ডিলার চাল উত্তোলন করে খোলা বাজারে বিক্রি না করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ডিলার তাদের নির্ধারিত দোকানে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রির ব্যানার টাঙিয়ে বসলেও সিদ্ধ চাল হওয়ায় হতদরিদ্ররা চাল কিনতে যাচ্ছে না। এ সুযোগে ডিলারেরা খোলাবাজারে বিক্রি করতে প্রতিদিনের উত্তোলিত চাল বিক্রি দেখানোর জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও নিজেদের লোকজন দিয়ে ভূয়া টিপসইও নিচ্ছে মাষ্টার রোলে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস তদারকির কথা বললেও ডিলারেরা এসব কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, পৌর এলাকার মগবাজার, দক্ষিণ বাটাখালী, বিমানবন্দর সড়ক, ঘনশ্যাম বাজার ও বালিকা বিদ্যালয় সড়কে পাঁচ ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ করা হয়। এ ডিলার নিয়োগেও নিয়মনীতি মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার পৌর এলাকার বিমান বন্দর ও বালিকা বিদ্যালয় সড়কে নিয়োগ দেয়া ন্যায্যমূল্যের চাল বিক্রির দোকানে গিয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে আলাপে জানা গেছে, উত্তোলিত চাল বিক্রি দেখানোর জন্য ডিলার নিজেই প্রকাশ্যে ভুয়া নাম লিখে দিয়ে তাতে বেশ কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের টিপসই নিয়ে মাস্টার রোল সম্পাদন করছেন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত

হতদরিদ্রদের মতে, সরকার ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠির উপকারের চেষ্টা করলেও এ সুযোগ নিচ্ছে ডিলারেরা। তাদের মতে, এ অঞ্চলের লোকজন সিদ্ধ চাল খেতে অভ্যস্ত নয়। ফলে, লোকজন ওএমএস’র ডিলারদের কাছ থেকে চালও কিনতে যাচ্ছে না।

এলাকার সচেতন মহল জানিয়েছেন, সরকার ন্যায্যমূল্যে আতপ চাল ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করলে দরিদ্র জনগোষ্ঠির উপকারে আসবে এবং বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। তা না হলে দরিদ্রদের পরিবর্তে উপকৃত হবে ডিলাররা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি হয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত শুধুমাত্র পৌর এলাকার পাঁচ ডিলার উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেছেন ৩৭ টন চাল। তন্মধ্যে বিমানবন্দর ও বালিকা বিদ্যালয় সড়কের দুই ডিলার ১৭ টন চাল উত্তোলন করলেও এসব চাল কালোবাজারে বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের উপ-খাদ্য পরিদর্শক শামীম উদ্দিন জানান, হতদরিদ্রদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রয় সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য টেক অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু তৈয়বকে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছে বলে দাবি করলেও শামীম উদ্দিন স্বীকার করেছেন সিদ্ধ চাল হওয়ায় ডিলারেরা তেমন সাড়া পাচ্ছে না ক্রেতাদের।


তথ্য সূত্র: আজাদী

চট্টগ্রাম নগরীর দুই রেস্তোরাঁ ও রাঙ্গুনিয়ার তিন ব্রিক ফিল্ডকে জরিমানা

নগরীর দুই রেস্তোরাঁ রাঙ্গুনিয়ার তিন ব্রিক ফিল্ডকে জরিমানা

চট্টগ্রাম মহানগরী এবং জেলার রাঙ্গুনিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। পচা ও বাসি খাবার বিক্রির অপরাধে গরিবুল্লাহ শাহ (.) মাজার সংলগ্ন এলাকার হ্যান্ডি রেসেত্মারাঁ ৫০ হাজার টাকা এবং ধাবা রেস্তোরাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট কুল প্রদীপ চাকমার নেতৃত্বে বিএসটিআই এই অভিযান পরিচালনা করে। অপরদিকে রাঙ্গুনিয়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার নুরুল হক বিএসটিআই’র কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মেসার্স হোসেনউজ্জামান ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংকে ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স এলআরবি-২ এ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স সাদেক সাহাকে ৫০ হাজার টাকা দণ্ডিত করেন।


তথ্য সূত্র: আজাদী

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও কমেনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ

বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও কমেনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ।। শিকলবাহাসহ কম ক্ষমতার কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার চিন্তা ভাবনা


দেশে মোট বিদ্যুত উৎপাদন বাড়লেও তার সুফল পাচ্ছে না সাধারণ গ্রাহকরা।

গত সপ্তাহে তিন দিনে দৈনিক ৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুত উৎপাদন হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের পর এটাই সর্বোচ্চ। গ্যাসচালিত বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি জ্বালানি সরবরাহে এ ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি, বিদ্যুত ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এ সময়ে জাতীয় গ্রিডে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত যোগ হলেও চাহিদা ৪৫০ মেগাওয়াট বেড়ে যাওয়ায় তাতে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তির অবসান হয়নি।

বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুত সেলের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বিডিনিউজকে বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে সরকার এ গ্রীষ্মে বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়।

গ্যাসচালিত সচল বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৭০ কোটি মেট্রিক কিউবিক ফুট গ্যাস প্রয়োজন, যা দেশে উৎপাদিত মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ শতাংশ। দেশের মোট বিদ্যুতের ৯০ শতাংশ এ সব গ্যাসচালিত বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোতেই উৎপাদিত হয়। এ সব বিদ্যুত কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও তা যথেষ্ট নয়।

গত সোমবার শুধু গ্যাসের অভাবে মোট উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে ৭৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করা যায়নি। সম্প্রতি চালু হওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুত কেন্দ্র গ্যাসের অভাবে গত সোমবার মাত্র ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করতে পেরেছে বলে জানান ওই কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক।

বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ খান বলেন, আমরা বিদ্যুত উৎপাদনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করছি। এর ওপর ভিত্তি করে বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উৎপাদন কম হয় এমন কেন্দ্রগুলোতে কাজ বন্ধ রাখার কথাও ভাবছে মন্ত্রণালয়।

মোহাম্মদ হোসেন এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, শিকলবাহা বিদ্যুত কেন্দ্রে এখন যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, তার এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে একই ক্ষমতার অন্য একটি কেন্দ্র পরিচালনা সম্ভব।

শিকলবাহা কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ মেগাওয়াট।


তথ্য সূত্র: আজাদী

সন্দ্বীপে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি

সন্দ্বীপে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি


৭১’র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীতে সন্দ্বীপে মুক্তিযোদ্ধাদের দু’টি গ্রুপ ১০মার্চ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানব বন্ধন কর্মসূচী দিলে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশংকায় প্রশাসন সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে। সন্দ্বীপ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক এবিএম ছিদ্দিকুর রহমান জানান পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীতে তারা শহীদ মিনারে মানব বন্ধন কর্মসূচী সফল করে তুলতে সকল মুক্তিযোদ্ধদের আহ্বান করেন। একই সাথে উপজেলা প্রশাসন হতে অনুমতিও নেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের অন্য একটি গ্রুপ একই স্থানে একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচী দিলে তা ভুন্ডুল হয়ে যায়। তবে মুক্তিযোদ্ধা-জনতার ব্যানারে সংসদ কার্যালয় হতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীতে ঐ দিন একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌যালীতে নেতৃত্ব দেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবিএম ছিদ্দিকুর রহমান। এতে বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্র-জনতা অংশ নেয়। র‌্যালীটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। বক্তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পাশা-পাশি রাজাকারদের তালিকা নির্ণয়েরও আহ্বান রাখেন। উল্লেখ্য মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন অপর গ্রুপটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবীতে কোন কর্মসূচী পালন করেনি বলে জানা গেছে।

তথ্য সূত্র: আজাদী

১২ জন ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে মহেশখালী থেকে পান ভর্তি পিকআপ ছিনতাই ॥ ২ ডাকাত গ্রেফতার

১২ জন ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে মহেশখালী থেকে পান ভর্তি পিকআপ ছিনতাই ॥ ২ ডাকাত গ্রেফতার


ন্ত: জেলা ডাকাত দলের হাতে মহেশখালী থেকে ১২ জন পান ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২৪ ঘন্টা জিম্মি রেখে ১০ লাখ টাকা মুল্যের পান ভর্তি একটি পিকআপ ছিনতাই করে নিয়ে গেছে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল। এঘটনায় মিরেশ্বরাই থানা পুলিশ চোরাই পানসহ ২ ডাকাতকে আটক এবং চন্দনাইশ থানা পুলিশ ছিনতাইকৃত পিকআপ উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ৮ মার্চ সোম বার দিবাগত গভীর রাতে মহেশখালী থেকে বেশ কয়েক জন পান ব্যবসায়ী পান ভর্তি একটি পিকআপ ড্রাইভার আবুল কাসেম ও হেলপার আব্দুল হালিম সহ ১২ জন যাত্রী নিয়ে চট্রগ্রামের উদ্দ্যেশ্যে রওয়ানা দেয়। রাত ১২ টায় পিকআপটি মহেশখালীর কালারমার ছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা বড়ুয়া পাড়া শ্মশান খোলার পাশে ব্রীজের নিকট পৌঁছলে পুর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ১০/১২ জনের আন্ত:জেলা ছিনতাইকারীদলের সদস্যরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ীর গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে ড্রাইভার হেলপার সহ ১২ জন পান ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে গাড়ী থেকে নামিয়ে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের উপর নিয়ে তাদের কাছে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা ও ৭/৮ টি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে বেঁধে রাখে। অতঃপর ডাকাতরা নিজেদের ড্রাইভার দিয়ে গাড়ী চালিয়ে নিয়ে যায় চন্দনাইশ এলাকায়। চন্দনাইশ থানার পাশে আরাকান সড়কে পিকআপ টি ফেলে রেখে পানের টুকরি গুলি অন্য গাড়ীতে করে মিরেশ্বরাই ও নোয়াখালীর দিকে নিয়ে যায়। পান ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন থানায় খবর দিলে ৯ মার্চ মিরেশ্বরাই থানা পুলিশ ছিনতাইকৃত কিছু পান সহ পটিয়া থানার হুলাইন এলাকার ফজর রহমান বাড়ীর মোঃ ইসহাকের পুত্র ওয়াসিম উদ্দিন (২৭) ও মোঃ মুছার পুত্র নেজাম উদ্দিন (২১) কে গ্রেপ্তার করে। এব্যাপারে মিরশ্বরাই থানায় ৪১১ নং জিডি এন্ট্রি করা হয়েছে।

অপর দিকে চন্দনাইশ থানার পুলিশ ছিনতাইকৃত ঢাকা মেট্রো--০২-০৪৪৯ নম্বরের পিকআপ টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করে বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার সময় অপহৃত ১২ জন ব্যবসায়ীকে অপহরণকারীরা ২৪ ঘন্টা আটক রাখার পর মঙ্গল বার রাতে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানান পান ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে মহেশখালীর পান ব্যবসায়ী হোয়ানক ইউনিয়নের ছন খোলা পাড়া গ্রামের ফজল আহমদের পুত্র মোঃ জাহাঙ্গির আলম বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় এজাহার দায়ের করলে পুলিশ গতকাল ১০ মার্চ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে।


তথ্য সূত্র: আজাদী

চট্টগ্রামে লোডশেডিং : কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ ।।

লোডশেডিং : কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ ।। একদিকে নষ্ট হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী অন্যদিকে জেনারেটরের রমরমা ব্যবসা

॥ ঋত্বিক নয়ন ॥


গরম পড়তে না পড়তেই শুরু হয়ে গেছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। মাঝে মধ্যে থাকে। যখন যে এলাকায় থাকে সেখানকার বাসিন্দারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করে। কিন্তু বিদ্যুৎ “ক্ষণিক আসে, এসেই বলে যাই” নীতির ঘেরাটোপে আটকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের বাড়াবাড়িতে জেনারেটর, আইপিএস ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় জেনারেটর ব্যবসা চাঙা হয়ে উঠেছে। কিন্তু ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রেতাদের অভিমত রাজস্ব খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও মার্কেট ঘুরে ভুক্তভোগীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ না থাকায় প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। মূলত: ক্ষণে ক্ষণে লোডশেডিং এবং দ্বিগুণ ভোল্টেজে তা ফিরে আসায় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ভোক্তার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও লোকসান গুণতে হচ্ছে। জানা গেছে, নগরীতে আনুমানিক দেড় হাজার ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকান ও শো-রুম রয়েছে। নগরীর ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকান গুলোকে লাখ লাখ টাকা মাসুল গুণতে হচ্ছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া ও দ্বিগুণ ভোল্টেজে তা ফিরে আসায় প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার টিভি, ফ্রিজ, ডিভিডি, মিউজিক প্লেয়ার, মাইক্রো ওভেন, ব্লেন্ডার, বৈদ্যুতিক বাল্ব, এনার্জি সেভিং বাল্ব, ফটো কপিয়ার মেশিন, ফ্যাক্স মেশিনসহ অন্যান্য পণ্য। ফটো ল্যাবগুলোতে জ্বলে যাচ্ছে ছবি। সীমাহীন আঁধার দূর করতেও ব্যবসা ঠিক রাখতে ইলেকট্রনিক্ম ব্যবসায়ীরা জেনারেটর, স্টাবিলাইজার, আইপিএস কিংবা ইউপিএস-এর উপর নির্ভরশীল হয়েও ক্ষয়ক্ষতি সামলে উঠতে পারছেন না। ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর স্থাপনে রফতানিকারকদের তিন শতাংশ সরল সুদে ঋণ দেয়ারও দাবি করেছেন। এদিকে আইপিএস, ইউপিএস, স্টাবিলাইজার কিংবা জেনারেটরের উপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরাই স্বীকার করেছেন ডিসেম্বর বা জানুয়ারি থেকে বর্তমানে এ সকল পণ্যের দাম পাঁচশ টাকা থেকে কয়েক হাজার টাকা বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং দ্বিগুণ ভোল্টেজে ফিরে আসায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। বহদ্দারহাট মোড়ের ফটোস্ট্যাট ব্যবসায়ী শাহেদ সিদ্দিকী জানান, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি গত বছর সেপ্টেম্বরে এ মেশিনটি কিনেছেন।

গত দুই মাসে তিনবার মেশিনটির ল্যাম্প নষ্ট হয়ে গেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে। গতকাল নষ্ট হলো চতুর্থ বারের মতো। একেকবার মেরামত করতে খরচ হয় দেড় হাজার টাকা। প্রতি ঘন্টায় ফটোকপি করে আয় হয় পাঁচশ টাকার মতো। আর এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে পুরোটাই লোকসান। আন্দরকিল্লাস্থ প্রজ্ঞা কম্পিউটারের পরিচালক রাকিব জানান, লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেতে ইউপিএস কিনেছেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয় নি। বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে একটি কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে। মেরামতের খরচ হচ্ছে ৩৬০০ টাকা। মেরামত না হওয়া পর্যন্ত একটি কম্পিউটারেই কাজ করতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কালার প্রিন্ট ব্যবসায়ীরাও। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৮০০ ছবি প্রিন্ট করা যায়। ১ কপি ছবি ছয় টাকা করে ৮০০ কপি ছবিতে আয় হয় ৪৮০০ টাকা। একইভাবে ঘণ্টায় লস ৪৮০০ টাকা। এ ক্ষতি মেনে নিয়েই ক্রেতার মন রাখতে হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ে নগরবাসীর যখন সর্বনাশ, তখন একই কারণে জেনারেটর ব্যবসায়ীদের জন্য পৌষ মাসের বারতা বয়ে এনেছে। পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠেছে জেনারেটর ব্যবসা। এককালীন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, একটি লাইট ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ফ্যান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে তারা। কিন্তু রাত ১২টার পর জেনারেটর বন্ধ করে দেয়ায় রাতে ঠিকই চার্জ লাইট ও চার্জার ফ্যানের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শীত-গ্রীষ্ম কোন ভাগ নেই, লোডশেডিংয়ের কবল থেকে মুক্তি নেই যেন নগরবাসীর।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনশন : ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান ভিসির

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অনশন : ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান ভিসির



মিলন স্যারের পদত্যাগ মানিনা, মানবনা, শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি বন্ধ কর’ এ ধরনের স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে গতকাল বুধবারও কর্মসূচি পালন করেছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা এ ধরনের প্ল্যাকার্ড বহন করে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানও দেয়। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের ডিন ড. মিলন কুমার ভট্টাচার্যের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল এ অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় তারা বলেন, মিলন স্যারকে স্বপদে ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত অনশনসহ আমাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পরে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি প্রবর্ত্তক মোড়ে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হলে তারা ভিসি ড. অনুপম সেনের সাথে কথা বলেন। এ সময় ড. সেন তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন এবং ক্লাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল থেকে ৩ দিনের বন্ধ ঘোষিত হওয়ায় প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে পড়ে। প্রসঙ্গতঃ ড. মিলন কুমার ভট্টাচার্যের পদত্যাগের ঘটনায় গত রোববার থেকে উক্ত আন্দোলন শুরু হয়।


তথ্য সূত্র: আজাদী

ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পোশাক শিল্প কারখানা মারাত্মক ঝুঁকিতে

ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পোশাক শিল্প কারখানা মারাত্মক ঝুঁকিতে



সাম্প্রতিককালে নগরীতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে এখানকার রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প কারখানা সমূহ মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। ঘনঘন লোডশেডিং ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় সময় মতো রপ্তানি পণ্য সমূহ জাহাজীকরণ করা যাচ্ছে না। এতে করে রপ্তানি আদেশ বাতিলসহ স্টকলটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের এ কারণে বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে গার্মেন্টস মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পোষাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্ট্যান্ডিং কমিটি অন পাওয়ার, টেলিকমিউনিকেশন এন্ড আদার ইউটিলিটিজের জরুরি সভায় বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ ও গার্মেন্টস মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, ইদানিংকালে ঘন ঘন লোডশেডিং ও অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে ট্রান্সফরমার বিকল হচ্ছে। সেই সাথে কারখানা চালু রাখতে গিয়ে বিকল হচ্ছে জেনারেটর। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে চট্টগ্রামস্থ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সমূহ একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অতি দ্রুত চট্টগ্রামস্থ গার্মেন্টস কালখানাগুলোতে বিপর্যয় নেমে আসবে।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো দরকার। তিনি বলেন, ভর্তুকী মূল্যে ডিজেল সরবরাহ, গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকায় বিকল ট্রান্সফরমারের বিকল্প ব্যবস্থা করা এবং সম্প্রতি ঘোষিত বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধি থেকে গার্মেন্টস শিল্পকে আওতামুক্ত রাখার জন্য জোর দাবি জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন পাওয়ার, টেলিকমিউনিকেশন এন্ড আদার ইউটিলিটিজ চট্টগ্রামের ডাইরেক্টর ইনচার্জ হাসানুজ্জামান চৌধুরী, বিজিএমইএ পরিচালক লিয়াকত আলী চৌধুরী, এ এম চৌধুরী সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার কফিল উদ্দিন ইউসুফ টিস্যু, মোহাম্মদ মুসা, মো. ফরহাদ আব্বাস, এম এ ছালাম, মঈনউদ্দিন আহমেদ মিন্টু, এমদাদুল হক চৌধুরী, ... সাইফউদ্দিন, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন পাওয়ার টেলিকমিউনিকেশন এন্ড আদার ইউটিলিটিজের চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব। এম এ রউফ, শওকত ওসমান, এ এম শফিউল করিম, মঞ্জুরুল হুদা চৌধুরী, নাফিদ নবী, আমজাদ হোসেন চৌধুরী, মিরাজ ই মোস্তফাসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস মালিকরা।


তথ্য সূত্র: আজাদী

মির্জাপুল এলাকায় অরক্ষিত অপটিক্যাল ফাইবার ।। ব্রিজ নির্মাণ কাজের কারণে লাইন ঝুলছে খোলা অবস্থায়

মির্জাপুল এলাকায় অরক্ষিত অপটিক্যাল ফাইবার ।। ব্রিজ নির্মাণ কাজের কারণে লাইন ঝুলছে খোলা অবস্থায়
॥ হাসান আকবর ॥

কক্সবাজার থেকে আসা সাব মেরিন ক্যাবলের অপটিক্যাল ফাইবার লাইনটি মারাত্মক রকমের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। নগরীর মীর্জাপুলে সিটি কর্পোরেশনের ব্রিজ নির্মাণ কার্যক্রমের ফলে অপটিক্যাল ফাইবারের লাইনটি একেবারে খোলা অবস্থায় ঝুলছে। দফায় দফায় তাগাদা দেয়া স্বত্ত্বেও টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ লাইনটি স্থানান্তরিত না করায় ঝুঁকির মাত্রা প্রতিদিনই বাড়ছে। খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা লাইনটি কেটে গিয়ে পুরো বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষ আশংকার কথা স্বীকার করে বাজেট না থাকায় লাইনটি সরাতে পারছে না বলে জানিয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন সার্ভিস লাইনের ফলে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার ফলে নির্মান শেষ হলেও ব্রিজটির সুফল জনগন পাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ব্রিজটি নির্মান প্রকল্প হাতে নেয়। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার এ প্রকল্পটি মেজবা এসোসিয়েটস নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাসত্মবায়িত করছে। ৮৫ ফুট লম্বা এবং ৫৫ ফুট প্রস্থের চার লেন বিশিষ্ট এ ব্রিজটি প্রি স্ট্রেজড কংক্রিট গার্ডার ব্রিজ প্রযুক্তিতে তৈরী করা হচ্ছে। গত জুলাই মাসে শুরু হওয়া ব্রিজটির নির্মাণ কাজ আগামী জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্রিজটি নির্মাণের শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রতিকুলতা কাজ করছে। ইতোমধ্যে ব্রিজের এলাইমেন্ট থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের ১১ হাজার এবং ৩৩ হাজার ভোল্টের ফিডার লাইন, বাখরাবাদ গ্যাসের মুল সরবরাহ লাইন এবং ওয়াসার ১০ ইঞ্চি ব্যসের সরবরাহ লাইন সরাতে হয়েছে। পিডিবি, বাখরাবাদ এবং ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বেশ ঢিমে তালে তাদের লাইনগুলো সরিয়ে নিলেও টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষ তাদের মুরাদপুর এক্সচেঞ্জের টেলিফোন ক্যাবল এবং সাবমেরিণ ক্যাবলের অপটিক্যাল ফাইবার লাইন স্থানান্তর করেনি। এতে করে টেলিফোন এবং অপটিক্যাল ফাইবার লাইনটি অনেকটা উন্মুক্ত অবস্থায় নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচে ঝুলছে। কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে তারগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যে কোন সময় এ তার কেটে গেলে বাংলাদেশই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিশেষ করে সারা দেশের ইন্টারনেট যোগাযোগ এ ক্যাবল লাইনের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম টিএন্ডটির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাইনটি খোলা অবস্থায় ঝুলছে। আমরা সরজমিনে গিয়ে কোন রকমে ঠেস দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছি। ঢাকায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখান থেকে বাজেট অনুমোদন এবং অর্থ পাওয়া না গেলে লাইনটি সরানো সম্ভব হবে না। লাইনটি সরাতে দশ লাখ টাকারও বেশি অর্থের প্রয়োজন।টাকা পাওয়া গেলে লাইনটি সরাতে আট দশদিন সময় লাগতে পারে বলেও তিনি জানান।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই নানা ধরনের প্রতিকুলতা দেখা দিয়েছে। শুরুতে প্রায় আড়াইশ’ বছরের পুরাতন একটি ব্রিজের ফাইন্ডেশন তুলতে হয়েছে মাটির নিচ থেকে। এর পরই বাখরাবাদ, পিডিবি এবং ওয়াসার লাইন সরানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দফায় দফায় যোগাযোগ এবং তাগাদা দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে। এতে করে পুরোদমে ব্রিজের কাজ চালানো যায়নি। তবুও আগামী জুন মাসের মধ্যে মুল ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন ইতোমধ্যে ব্রিজটির নির্মাণ কাজের সত্তর শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

জুন মাসের মধ্যে মূল ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এটির সুফল জনগন পাবে না বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিজটির এপ্রোচ রোডে এখনো বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা রয়ে গেছে। এগুলো সরানোর ব্যবস্থা করা না গেলে চার লেনের ব্রিজ করেও সুষ্ঠুভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না।

চিনি ডাল ও পেঁয়াজের দাম কমেছে পাইকারীতে খুচরা বাজারে প্রভাব নেই

চিনি ডাল ও পেঁয়াজের দাম কমেছে পাইকারীতে খুচরা বাজারে প্রভাব নেই

চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে চিনির দাম গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। তবে এর কোন প্রভাব খুচরা বাজারে নেই। একই ভাবে ডাল এবং পেঁয়াজের দামও কমে গেছে। পাইকারী বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে খুচরা বাজারের দর নির্ধারণ এবং তাতে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ ভোক্তারা উপকৃত হতেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। কিছুদিন আগেও ৮০০ ডলারে যেই চিনি বিক্রি হতো গতকাল তা কমে ৫০০ ডলারে ঠেকেছে। চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে গতকাল একদিনের ব্যবধানে চিনির দাম মনপ্রতি একশ’ টাকারও বেশি কমে ১৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৪০ টাকা। খুচরা বাজারে এর কোন প্রভাব নেই। গতকালও চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে।

গতকাল চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ ৮ টাকা দরে এবং ভালো মানের মশুরের ডাল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে মশুরের ডালের কেজি ১০০ টাকা এবং পেঁয়াজ ১২/১৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিনই পণ্যের দাম কমছে। এই পড়তি বাজারে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য বুকিং দিয়ে রাখলে আসন্ন রমজানে দ্রব্যমুল্য জনগনের নিয়ন্ত্রনে থাকবে বলে অভিজ্ঞ মহল অভিমত ব্যক্ত করেছে।


তথ্য সূত্র: আজাদী

ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না জনগণ

ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না জনগণ ।। বোয়ালখালী ও আনোয়ারায় ডাকাতি ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট


বোয়ালখালী ও আনোয়ারায় পৃথক পৃথক ডাকাতিতে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট হয়েছে এবং ডাকাতদের হামলায় মহিলাসহ ১৬ জন আহত হয়েছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে, আমাদের বোয়ালখালী প্রতিনিধি জানিয়েছেন গত মঙ্গলবার রাতে বোয়ালখালীতে সিরিজ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা এক গ্রামে ডাকাতি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলে এ দুটি গ্রামে পৃথক পৃথক ডাকাতির ঘটনায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে। ডাকাতদের এলোপাথাড়ি হামলায় ৩ মহিলাসহ ৬ জন আহত হয়েছে।

ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ১৫/ ২০ জনের এক বিরাট সশস্ত্র ডাকাত দল উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নে হানা দেয়। ডাকাত দলটি এ সময় এলাকার বধু বাপের বাড়ির মো. ইদ্রিচের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাড়ির অন্যান্য বাসিন্দাদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ও টহল পুলিশ ছুটে আসতে দেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এদিকে একই সময়ে ২০/২৫ জনের অপর একটি গ্রুপ উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নে হানা দেয়। ডাকাত দলটি এ সময় এলাকার আবদুল কাদের চৌধুরীর ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ পূর্বক অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মী করে নগদ টাকা ৬৭ হাজার, স্বর্ণ ৬ ভরি, মোবাইল ২টি, টর্চলাইট ২টি ও অন্যান্য মালামালসহ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে চাইলে ডাকাতদলটি বিক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর শুরু করে। এতে এ পরিবারের গৃহবধূ জেবুন্নেসা (৩৫) গুরুতর আহত হয়। অপরদিকে অন্য একটি দল একই সময়ে একই ইউনিয়নের জনৈক আবদুল ছবুরের ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশপূর্বক নগদ টাকা ৫০ হাজার, স্বর্ণালংকার ৪ ভরি, মোবাইল সেট ৩টি ও অন্যান্য মালামালসহ প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে বাধা দিতে চাইলে ডাকাতরা এ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক পিঠাতে থাকে। এ সময় এ বাড়ির গৃহকর্তা আবদুল ছবুর (৭৮) আবু বক্কর (৩০) জামাতা ফয়েজ আহমদ (৪০) খালেদা বেগম (৩৫) ও সুমি আকতার (১৬) আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আবু বক্কর (৩০)কে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় পর্যন্ত ব্যাপারে কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আনোয়ারা প্রতিনিধি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তৈলারদ্বীপে ৪ ঘরে ডাকাতি সংঘটিত হয়। এ সময় ডাকাতের হামলার শিকার হন নারী ও শিশুসহ ১০ জন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ক্ষতিগ্রস্তরা ডাকাতের ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে তৈলারদ্বীপে মঙ্গলবার রাতে আলতাপ আমিনের বাড়িতে হানা দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে মো. আলম, মো. আলী, লেয়াকত আলী ও হাছন আলীর ঘরে লুটপাট চালায়। কিন্তু ডাকাতিকালে ডাকাতেরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মালামাল না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আহত করে। আহতরা হল মুক্তা (১৮), মুন্নি (১৫), শামীমা (২৪), উর্মি (৩), গুলতাজ বেগম (৫৭), ইকবাল (১৪), রোকেয়া বেগম (৪৫), লেয়াকত আলী (৪০), রুজি (৩৫) ও হাছন আলী (৬৫)।

আহত গুলতাজ বেগম (৫৭) জানান, ডাকাতেরা ঘরে প্রবেশ করে প্রতিটি ঘরে স্বর্ণ ও টাকা দাবি করে মারধর শুরু করে। আহতদের মধ্যে শামীমা (২৪), গুলতাজ বেগম (৫৭) ও হাছন আলী (৬৫)কে আনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা আরো জানান, রাতে তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসায় ডাকাতদল পালিয়ে গেছে। ডাকাতেরা ৪ ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণসহ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে। তারা ডাকাতের ভয়ে মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে। তাছাড়া গত সোমবার রাতে একই গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম মোহাম্মদের ঘরে হানা দিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামালসহ ৪ জন ডাকাতের হামলার শিকার হন। পর পর টানা ২দিন একই গ্রামের ৫ ঘরে ডাকাতি ও ডাকাতের হামলায় ১৪ জন আহত হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তথ্য সূত্র: আজাদী

চট্টগ্রামে কর্মজীবী নারীরা কেমন আছেন

চট্টগ্রামে কর্মজীবী নারীরা কেমন আছেন
ইসমত মর্জিদা ইতি


চট্টগ্রামের কর্মজীবী নারীদের অনেকেই কর্মক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ পেলেও পরিবারের পরিবেশ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। জানিয়েছেন নিজের যোগ্যতার মাপকাঠিতে কর্মক্ষেত্রে ভালো করলেও শুধু পারিবারিক সহযোগিতার অভাব থাকায় কর্মক্ষেত্রে নিজের মধ্যে আসা অস্বস্তি, টেনশন, হতাশার কথা।
চট্টগ্রাম গার্মেন্ট ওরিয়েন্ট এলাকা হওয়ায় মেয়েদের কর্মক্ষেত্রের ব্যাপকতা ছড়িয়েছে। গার্মেন্ট, ব্যাংক, প্রাইভেট কোম্পানি, স্কুল, কলেজ, চিকিৎসা, রাজনীতি, ব্যবসা সবখানেই আজ চট্টগ্রামে মেয়েদের রাজত্ব। মেয়েরা নিজেদের যোগ্যতা বলে জায়গা করে নিয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে তাদের মূল্যায়ন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের মতো পারিবারিক ক্ষেত্রে তাদের পাওয়া হয়নি সহযোগিতা। এরকম অসহযোগিতা ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন অনেক নারী। বলেছেন, বদলে যাক অসহযোগী মানুষের রক্ষণশীল মানসিকতা।
আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম বলেন, আমার ২১ বছরের কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ ছিল না। কিন্তু পারিবারিক সহযোগিতা তেমন পাইনি। কর্মক্ষেত্রে একটা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে যেমন সিদ্ধান্ত দিতে পারি কিন্তু পরিবারে তা পারি না। আমার সিদ্ধান্ত থাকে অনেকের পরে। বলতে গেলে এটাই আমার জীবনের ব্যর্থতা। আমার বলা পরিবার থেকে মেয়েরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাক। চান্দগাঁও থানার ওসি রওশন আরা বেগম বলেন, কর্মক্ষেত্রে খুব বাধাগ্রস্ত হতে হয় না। বাংলাদেশে আমিসহ দুজন মেয়ে ওসির পদমর্যাদায় কাজ করছি। তবে পারিবারিক সহযোগিতা আর একটু বেশি পেলে আরো অনেক ভালো করতে পারতাম। চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বলেন, কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ পরিপূর্ণ অনুকূল এটি বলা যাবে না। কিন্তু প্রতিকূল হলেও মানসিক দৃঢতা দিয়ে মোকাবেলা করা যায়। একজন মেয়ে হিসেবে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি। কোনো বাধাই বাধা মনে হয় না। কিন্তু পারিবারে সেটি হয় না। আমার সিদ্ধান্তটি আসে পরে। সারাদিন অফিস শেষ করে গিয়ে সেই ঘর সামলানোটা আমরই মূল দায়িত্ব। কর্তব্য ভাগ না হলেও আধিপত্যকে ভাগ দেখাতে পারে পুরুষরা। যেটা আমরা পারি না। বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন সিএসডিএফের প্রোগ্রাম অফিসার কামরুন্নাহার শম্পা বলেন, কর্মক্ষেত্রে ভালো সহযোগিতা পেয়েছি। পরিবার থেকেও পাচ্ছি। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরিতে আসতে দেরি হয়েছে বাচ্চা ছোট থাকার কারণে। তবে আফসোস হয় এজন্যই যখন ক্যারিয়ার গড়ার সময় ছিল তখন বাচ্চার জন্য সেটি করতে পারিনি। এখন আমার আর কোনো সমস্যা নেই।
নগরীর স্বনামধন্য আচার ব্যবসায়ী আয়েশা বেগম বলেন, আচারের প্রশংসায় যখন আমার আচার বিক্রি বেশি হতে লাগলো তখনই ঘরে দেখা দিলো সমস্যা। আমার স্বামী বলতো আমার জন্য সারা বাড়ি আচার আচার গন্ধ। এ গন্ধ তার ভালো লাগে না। খারাপ ব্যবহার করতো। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে আমি আজ ভালো ব্যবসায়ী হয়েছি। আমার আচার আজ হটসেল আইটেম।




চট্টগ্রামে ১৪নাম্বার ওয়াডে পানি সঙ্কটই প্রধান সমস্যা


চট্টগ্রামে ১৪নাম্বার ওয়াডে পানি সঙ্কটই প্রধান সমস্যা স্বপন মল্লিক



১৪ নাম্বার লালখান বাজার ওয়ার্ডের প্রথম ওয়ার্ড কমিশনার (মেম্বার) মরহুম আলহাজ সিরাজুল ইসলাম টিকে।
সীমানা
উত্তরে জাকির হোসেন রোড, দক্ষিণে টাইগার পাস, পূর্বে সিভিএ এভিনিউ, পশ্চিমে আমবাগান রোড, আয়তন প্রায় ৩ বর্গমাইল, লোকসংখ্যা ২ লাখ প্রায়, স্থানীয় ৮০ হাজার, অস্থানীয় ১২০ হাজার। মহল্লা ১২টি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে উঁচু-নিচু পাহাড়ঘেরা মনোরম প্্রাকৃতিক পরিবেশে এটি অবস্থিত।
লালখান বাজার ওয়ার্ডটি ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়। অব্যবহৃত পাহাড়ি এলাকায় আবাসিক এলাকা গড়ে উঠতে উঠতে লালখানবাজার ওয়ার্ডটি ক্রমেই ঘনবসতিপূর্ণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থানস্থল হয়ে উঠে। চট্টগ্রামের প্রধান পুলিশ ব্যারাক দামপাড়া পুলিশ লাইন এই ওয়ার্ডে অবস্থিত। এই ওয়ার্ডে জাকির হোসেন রোডের প্রখ্যাত হজরত গরিব উল্লাহ শাহ (র.) টাইগার পাসের মামা-ভাগিনা মাজারে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর ভক্ত অনুরক্তের আগমন ঘটে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ওয়ার্ডের মানুষ ব্যাপকভাবে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাজার হাজার লোককে হত্যা করা হয় দামপাড়া পুলিশ লাইনে এনে। এই ওয়ার্ডে শহীদদের ¯ৃ§তির উদ্দেশে সিডিও এভিনিউয়ের পাশে এক স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম।
পানি সরবরাহ ভবনের পাশেই পানি সঙ্কট
লালখানবাজার ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা পানীয় জলের অপ্রতুলতা, চট্টগ্রাম ওয়াসা ভবনের মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত এ ওয়ার্ডের সুউচ্চ পাহাড়ে স্থাপন করা হয় বিশাল পানির ট্যাঙ্ক। অথচ এই ওয়ার্ডের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ভুগছে তীব্র পানি সঙ্কটে। ওয়ার্ডের প্রায় সর্বত্র পানির লাইন স্থাপিত হলেও প্রায় ১৫ থেকে ২০ ভাগ অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পানির সংযোগ নিতে পারেনি।
এছাড়াও অধিকাংশ এলাকায় পানির প্রেসার না থাকায় দিনের অধিকাংশ সময় লাইনে পানি আসে না। কোথাও কোথাও লাগাতার ২/৩ দিন পানি আসে না। সবচেয়ে বেশি পানি সঙ্কটে ভুগছে বাঘঘোনা, চানমারি রোড, মতিঝর্ণা, টাংকির পাহাড় ও পোড়া কলোনি এলাকার অধিবাসীরা। লালখানবাজার ওয়ার্ডটি মহানগরীর অন্যতম উঁচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় পানির চাপ কম বলে জানিয়েছেন ওয়াসার পক্ষ থেকে।
মহানগর এলাকায় সরকারিভাবে কোনো নলকূপ বসানোর বিধান না থাকায় ওয়াসা ছাড়া কেউ এ কাজটি করতে পারে না। পুরনো যেসব নলকূপ আছে, পানির স্তর ভূগর্ভে কম হওয়ায় সেগুলোতে পানি ওঠে না।
এদিকে এলাকাবাসী ইতোপূর্বে পানির অভাব পূরণের দাবিতে এলাকার মহিলারাসহ সবাই মিলে মিছিল করে ওয়াসা অফিস ঘেরাও করেছে। প্রতিবছরই কয়েক দফা এই কর্মসূচি থাকে এলাকাবাসীর।
সিটি করপোরেশনের মাঝখানে অবস্থিত এই ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা পানি সঙ্কট হলেও কমবেশি সমস্যা বিদ্যমান অন্য ক্ষেত্রেও।
যোগাযোগের ক্ষেত্রেও লালখানবাজার ওয়ার্ডে রয়েছে সঙ্কট। একে তো রাস্তার সংখ্যা স্বল্প আবার যেগুলো আছে সেগুলোর অধিকাংশই অপ্রশস্ত। সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এখানে দীর্ঘদিনেও সরু সড়কগুলো প্রশস্ত করা হয়নি।
্এছাড়া এখানে রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান হলেও রয়ে গেছে আরো কিছু সমস্যা।
বিশেষ করে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের হতাহত হয়ার বিয়য়টি পুরো সিটি করপোরেশনেরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালখানবাজার ওয়ার্ডের অধিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩০/৪০ হাজার বস্তিবাসী রয়েছে। এদের অধিকাংশই বেকার, অর্ধবেকার ও একেবারে নিম্ন আয়ের। অনেকের পেশা এখনো ভিক্ষাবৃত্তি। এ ধরনের উল্লেখযোগ্য স্পটগুলোর মধ্যে পোড়া কলোনি, ভোতাইয়া কলোনি, ঢেবার পাড়, বাঘঘোনা টাংকীর পাহাড়।
পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কয়েকটি ওয়ার্ডের মধ্যে লালখানবাজার অন্যতম। শহরের সবচেয়ে উুঁচ স্থান বলে খ্যাত বাটালী হিলে দাঁড়িয়ে পুরো শহরের প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করা যায়। দেখা যায় সাগর ও সূর্য ডোবার দৃশ্যও। এখানে আরো দুটি সম্ভাবনাময় স্পটের মধ্যে রয়েছে জিলাপি পাহাড় ও ইস্পাহানি পাহাড়।
কমিশনার যা বলেছেন
ওয়ার্ড কমিশনার এ এফ কবির আহম্মদ মানিক বলেছেন, এলাকার পানি সমস্যা সমাধানে মাননীয় মেয়র ডিপটিউবওয়েল বসানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। কিন্তু জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে এ ব্যাপারে সহায়তা চেয়েছি। প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের প্রতি অত্যন্ত আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ভাই চট্টগ্রাম শহরে পাহাড়ধসে মৃত্যুর একটি আজাব তো আছে; এর থেকে বড় আজাব অপেক্ষা করছে বেসরকারি টেলিফোনের টাওয়ার বসানের বিষয়টি। একই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে সড়ক মোড়ে মাত্রাতিরিক্ত বিলবোর্ডও।
আমার এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে টাওয়ার বসছে যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট ভবন লোড নিতে না পেরে অকুস্থলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ করেই আমি এ আশঙ্কার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদেরসহ আপনাদের অবহিত করছি।
তিনি বলেন, পরিতাপের বিষয় হলো যে কোনো দুর্ঘটনা যখন সংঘটিত হয়ে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন সাংবাদিকরা তৎপর হয়ে পড়েন বেশি।


হাটহাজারীতে অগ্নিকাণ্ডে শিশু নিহত, ক্ষতি ২৪ লাখ টাকা

হাটহাজারীতে অগ্নিকাণ্ডে শিশু নিহত, ক্ষতি ২৪ লাখ টাকা



হাটহাজারী উপজেলার ১২ নাম্বার চিকনদণ্ডি ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকায় এক বাড়িতে গত শনিবার এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। অগ্নিকাণ্ডে হতদরিদ্র পরিবারের ১৬ বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে নিহত হয় ষষ্ঠ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র শংকর দাশ। এতে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক্স মূল্যবান সামগ্রী ও গৃহপালিত পশুসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৪ লাখ টাকা বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গত শনিবার দিবাগত রাত ২টায় উপজেলার চিকনদণ্ডি ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকায় ভোলা দাশের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। গভীর রাতে আগুনে ১৬ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এতে কাজল দাশ, দিলীপ দাশ, মৃদুল (১) দাশ, উজ্জ্বল দাশ, বিজলী দাশ, বিজয় দাশ, অনিল দাশ, গৌরাঙ্গ দাশ, রাণী দাশ, দিপক দাশ, চন্দন দাশ, ভুট্টো দাশ, নিতাই দাশ, অরূণ দাশ, শ্যামল দাশ ও মৃদুল (২) দাশের ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কোনো পরিবারের পক্ষে কিছু বের করা সম্ভব হয়নি। আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিয়েছে কাজল মাস্টারের ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া মেধাবী ছাত্র শংকর দাশের প্রাণ।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

পটিয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা

পটিয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা


চটগ্রামের পটিয়ায় সরকারি বৈধ কোনো লাইসেন্স ছাড়াই যেনতেনভাবে চলছে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা। অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোনো যোগ্য টেকনিশিয়ান, প্রয়োজনীয় জায়গা ও দরকারি যন্ত্রপাতি। তারপরও এলাকার নামিদামি চিকিৎসকরা তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই রোগীর চিকিৎসা করছেন। সমিতির নামে দরের তালিকা টাঙানো হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্যও নেন চট্টগ্রামের খ্যাতনামা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকা, অব্যবস্থাপনা, সঠিক নজরদারির অভাব, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি উপরন্তু মাসোহারার বিনিময়ে এসব অনিয়ম চলছে।
কয়েকটি প্যাথলজির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা স্যাম্পল সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম নগরী থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে আনেন। অন্যদিকে দেখা যায়, খালি প্যাডে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সিল-স্বাক্ষরসমেত প্যাডে টাইপরাইটার মেশিন দিয়ে রিপোর্ট টাইপ করে দিতে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একজন রোগীর একই পরীক্ষার ভিন্ন রিপোর্টও দেয় অনেকে। নাজিম উদ্দীন নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, এখানকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর আমার আস্থা নেই। রোগ হয় একটা রিপোর্টে পাওয়া যায় আরেকটা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পুরো উপজেলার প্রায় ২৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক থাকলেও মাত্র একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ লাইসেন্স আছে। বছরখানেক আগে জেলা সিভিল সার্জন সরেজমিনে তদন্ত করে রোগ নির্ণয়, আল আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হসপিস নামের মাত্র তিনটি রোগ নিরূপণী কেন্দ্রকে পর্যাপ্ত জায়গা, দক্ষ লোকবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিলেও রাতারাতি ‘রোগনির্ণয়’ নামের সেন্টারটি বদলে হয়ে যায় ‘একুশে ল্যাব’ এবং ‘আল আমিন ডায়াগনস্টিক’ সেন্টারটি ‘এপোলো ডায়াগনস্টিক’। একইভাবে হসপিস সেন্টারও স্থান পরিবর্তন করে। অনেক জনপ্রতিনিধিও এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এ ব্যাপারে পটিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সঞ্জিব কুমার দাশ জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ আসলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আবু তৈয়ব জানান, চট্টগ্রামে যতগুলো বৈধ লাইসেন্স আছে তার একটি তালিকা আমরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসকে দিয়েছি। তারা মোবাইল টিমের মাধ্যমে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেবেন।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন


মিরসরাইয়ে পোলট্রি শিল্প সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি

মিরসরাইয়ে পোলট্রি শিল্প সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি


মিরসরাইয়ের পোলট্রি শিল্পে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। হ্যাচারি মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাচ্চার কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে পোলট্রি খামারিরা।
উপজেলা পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলাউদ্দিন জানান, মিরসরাইয়ে ৪০০ খামারের মধ্যে গত ছয় মাসে ৩০০ পোলট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে খামারিদের লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। বেকার হয়ে পড়েছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। তিনি দাবি করেন, হ্যাচারি মালিকরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে বাচ্চার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দফায় দফায় বাচ্চার দাম বাড়াচ্ছে। একটি বাচ্চার সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ পড়ে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। কিন্তু হ্যাচারি মালিকরা সেই বাচ্চা খামারিদের কাছে বিক্রি করে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়।
সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হ্যাচারি মালিকদের কৃত্রিম সংকটের সুবিধা নিচ্ছে একটি অসাধু চক্র। বার্ড ফ্লুর কারণে সরকার ভারত থেকে ডিম, মুরগি আমদামি নিষিদ্ধ করলেও ওই চক্র ফেনী জেলার সিলোনিয়া বর্ডার দিয়ে অবৈধ পথে প্রতিদিন হাজার হাজার মুরগির বাচ্চা ও উৎপাদিত মুরগি নিয়ে আসছে। বাচ্চাগুলো ফেনী, মিরসরাই, সীতাকু- ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন খামারে বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। ভারতীয় প্রতিটি বাচ্চার দাম পড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। ওই সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে সিলোনিয়া বর্ডার দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ভারতীয় বাচ্চা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
উপজেলা পোলট্রি শিল্প অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন জানান, এক দিনের একটি বাচ্চা এক কেজি করতে ৩৫ দিন সময় লাগে। এতে বাচ্চার দাম, খাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ পড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ৩৫ দিনের মুরগি ৪০-৪৫ দিনের বেশি সময় ধরে খামারে রাখতে হয়। তখন উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যায়। কিন্তু প্রতি কেজি মুরগি খামারিদের বিক্রি করতে হয় ১০০ টাকায়। খামারিদের প্রতি কেজিতে লোকসান দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা। প্রতি এক হাজার ব্যাচ মুরগি উৎপাদনে প্রতি খামারিকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয় উৎপাদনে।
বারইয়ারহাট পৌরবাজারের পোলট্রি খামার ব্যবসায়ী জাবেদ ইকবাল জানান, ১৯৯১ সাল ১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। এরপর থেকে ভালোভাবে চলে আসছিল ব্যবসা। কিন্তু গত কয়েক বছরে লোকসান গুনতে গুনতে এখন পুঁজি হারানোর পথে।
বড়তাকিয়া এলাকার পোলট্রি ব্যবসায়ী সাইফুদ্দীন মানিক জানান, তিনি এক হাজার বাচ্চার শেডের ১৪টি খামার দিয়ে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে একটি খামারও চালু নেই।
ব্যবসায়ী জাবেদ ইকবাল বলেন, খামারিদের বিনিয়োগকৃত পুঁজির পাশাপাশি রয়েছে ব্যাংক ঋণ। লোকসান দিতে দিতে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলেও ব্যাংক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন মিরসরাইয়ের অনেক পোলট্রি ব্যবসায়ী। পোলট্রি ব্যবসা নিয়ে সরকারের সুষ্ঠু কোনো নীতিমালা না থাকায় পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হ্যাচারি মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

ফটিকছড়ির ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ দূষিত হচ্ছে পরিবেশ


ফটিকছড়ির ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বৃদ্ধাঙুল প্রদর্শন করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৩৫টি ইটভাটা। এজন্য যত্রতত্র মাটি কাটায় নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা শক্তি। জ্বালানি কাঠ পোড়ানোয় ভয়াবহ পরিবেশের বিপর্যয়। বাড়ছে নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি।
সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে ৩৫টি ইটভাটায় অবৈধভাবে পোড়ানো হচ্ছে লাখ লাখ মণ জ্বালানি কাঠ। উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত ও ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে ওঠা বনাঞ্চল । ধানী জমি থেকে যত্রতত্র উর্বর মাটি কেটে নেয়ায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতাশক্তি।
বয়লার পদ্ধতির ভাটায় ১২০ ফুট উঁচু চিমনি ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও নবসৃষ্ট ইটভাটাগুলোতে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ৫০-৬০ ফুট উঁচু ড্রাম সেট চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর বয়লার পদ্ধতির ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে হয় কয়লা। কিন্তু এখানে লোক দেখানোভাবে ইটভাটার সামনে কিছু কয়লা মজুদ রেখে জ্বালানি কাঠই পোড়ানো হচ্ছে। গ্রামীণ সড়কে অতিরিক্ত ইট-কাঠ বোঝাই ট্রাক-জিপে চলাচল করাতে রাস্তা-ঘাটে উড়ছে ধূলা-বালি। ইটভাটাগুলোর কালো ধোঁয়া মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সালফার এবং কার্বন ছড়াচ্ছে। তাতে হাঁপানি, এলার্জি, চর্ম, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মসহ নানান প্রকার রোগ-ব্যাধি বাড়ছে।
সূত্র আরো জানায়, ১৬টি বনবিট এবং পাঁচটি রেঞ্জ অফিসের আওতাধীন বনাঞ্চল থেকে ফটিকছড়ি থানা ও ভূজপুর থানা প্রশাসন, পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ এবং জেএসএসকে বৃহৎ অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে অবৈধ কাঠ পুড়িয়ে চলছে এসব ইটভাটা।
বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল অভিযোগ করেন, শুধু ফটিকছড়ি নয় ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার ইটভাটার জন্য আমার এলাকার সহজ-সরল কৃষকদেরকে অতিরিক্ত টাকা অগ্রিম দিয়ে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় সড়কগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক।
সবচেয়ে বেশি ইটভাটা পাইন্দং ইউনিয়ন। তাই পাইন্দং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম সিকদার এ দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এখানে ১২টি ইটভাটা চলছে। আরো দু-তিনটির জন্য প্রস্তুতি চলছে। রাস্তার অবস্থা নিজ চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না এখানকার মানুষ কি কষ্টে আছে। ইটভাটাগুলোর অতিরিক্ত কাঠ-ইট-মাটি বোঝাই জিপ-ট্রাকের অবাধ চলাচলে রাস্তায় বালি আর বালি উড়ছে। জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে সরল কৃষকের মাথায় হাত বুলিয়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েক দিন আগে এখানকার ছয়টি ইটভাটাকে ১০/১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
ফটিকছড়ি ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইছমাইল অবৈধ লেনদেন বিষয়ে বলেন, ব্যবসাতো করতে হবে। তাই যাকে যা পারি তা দিয়ে সন্তুষ্ট করি।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহমানের কাছে অবৈধ লেনদেন করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
হেঁয়াকো বনবিট কর্মকর্তা মো. মুহসিন জানান, এক মাস পূর্বে এখানে আমি যোগদান করেছি। আগে কোনো রকম অনিয়ম হলেও আমি আসার পর এরকম কোনো অনিয়ম দেখছি না।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাউছুল আজম বলেন, কদিন আগে পাইন্দং এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইট পোড়ানোর জন্য ছয়টি ইটভাটাকে জরিমানা করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারাই এসব অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

চট্টগ্রামে কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ বন্ধের দাবিতে অভিনব আন্দোলন

চট্টগ্রামে কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ বন্ধের দাবিতে অভিনব আন্দোলন



জটু মিলে কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ বন্ধের দাবিতে অভিনব কায়দায় আন্দোলনে নেমেছে চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চল পাহাড়তলীর শ্রমিক ও এলাকারবাসী। বুধবার উত্তর কাট্টলী ভিক্টোরী জুট মিল গেটে ঘুড়ি উড়িয়ে, ডাংগুলি, কেরম, হা-ডু-ডু ও ক্রিকেট খেলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে তারা।
৪০ বছরের প্রাচীন ভিক্টোরী জুট মিল ধ্বংস করে কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ করছে ইস্পাহানি শিল্পগোষ্ঠী। সরকারের বিরাষ্ট্রীয়করণ প্রক্রিয়ায় ইস্পাহানি মিলটির পরিচালনা ভার গ্রহণ করে বিজেএমসি থেকে। কিন্তু জুট মিল না চালিয়ে তারা সেখানে কনটেইনার ইয়ার্ড গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এলাকাবাসী এবং মিলের দীর্ঘদিনের শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, কারখানার জন্য এ জমি হুকুম দখল করা হয়েছিল। কারখানা না থাকলে হুকুম দখলের আইন অনুসারে যার জায়গা তার কাছেই ফেরত দিতে হবে। তাছাড়া নগরীর ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কনটেইনার ইয়ার্ড না করার সরকারি নীতিমালা রয়েছে।
সকাল থেকে এলাকাবাসী ও শ্রমিক-কর্মচারীরা সমবেত হয় মিল গেটে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় ব্যতিক্রমধর্মী এ কর্মসূচি। দেখে মনে হবে কোনো ক্রীড়া উৎসব। দলে দলে বিভক্ত হয়ে প্রতিবাদীরা খেলায় মত্ত হয়ে উঠে। সেখানে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ। উৎসাহ জাগানিয়া বক্তৃতা হয়। আর বক্তৃতায় তারা তাদের দাবির কথা জানান দেয়। প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে ইয়ার্ড নির্মাণ প্রতিরোধ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন বলেন, নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে কনটেইনার ইয়ার্ডের মতো যানজট সৃষ্টিকারী স্থাপনা নির্মাণ বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে ল্যান্ড লক করে দেবে। বাকি বাংলাদেশ ও ট্রানজিটভুক্ত দেশগুলো থেকে বন্দরনগরীর যোগাযোগ দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, কারখানার জন্য হুকুম দখল করা জায়গায় অন্য কোনো স্থাপনা এলাকাবাসী মেনে নেবে না। হয় কারখানা চালাও নতুবা হুকুম দখলকৃত জমির মালিকদের আইনসম্মত উত্তরাধিকারীদের ফিরিয়ে দিতে হবে।
খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ প্রীতির কারণে পাটশিল্প লাভজনক হয়ে উঠছে। যানজট সৃষ্টিকারী কনটেইনার ইয়ার্ড বন্ধ করলে এলাকাবাসী মুষ্টিভিক্ষা করে মিল মালিককে আর্থিক সহযোগিতা করবে।
তিনি ভিক্টোরী জুট মিলের কর্মচারীদের ন্যায্য বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে অবিলম্বে জুট মিল চালু করার জোর দাবি জানান। আজো এ ধরনের প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করা হবে।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

চট্টগ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেল দুই সহোদর

ঘুমন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেল দুই সহোদর


গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে দুই সহোদরের গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হৃদয়বিদারক এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে খুলশী থানাধীন ওয়ার্লেস কলোনির দুই নম্বর লেনে মাদারবাড়ির কামালগেট এলাকায় পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়েছে নয়টি দোকান ঘর এতে পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে


খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন সুপ্রভাত বাংলাদেশকে জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওয়ার্লেস কলোনির দুই নম্বর লেনে জনৈক মনিরের সেমিপাকা ভাড়া ঘরে আগুন লাগে এসময় এলাকার সকলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল কেউ কিছু টের পাওয়ার আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় আগুনের তাপ অনুভূত হওয়ার পর কেউ কেউ ঘরের বাইরে বেরিয়ে এলেও দুই সহোদর সাহাবউদ্দিন (১০) ও শাহাদাত (১৫) ভেতরেই থেকে যায় চোখের পলকেই দু’ভাই পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায় তাদের বাবার নাম সদর আলী স্থানীয় লোকজন ঘুম থেকে জেগে বাইরে বেরিয়ে আসেন তারা দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় খুলশী থানা থেকে দমকল বাহিনীকে খবর দেয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে আসার আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে


জানা গেছে, সেমিপাকা ওই ঘরগুলো চা দোকান ও বাসা হিসেবে ভাড়া দেয়া হয়েছিল এ ব্যাপারে খুলশী থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে এসআই বাতেন জানান


এদিকে, গতকাল বুধবার বেলা ১১ টা ১০ মিনিটে ডবলমুরিং থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ি কামাল গেট এলাকায় ভয়াবহ আগুনে নয়টি দোকান ঘর পুড়ে গেছে এতে দুটি জুতা, একটি মুদি, একটি কসমেটিক্স ও কয়েকটি ব্যাচেলর রুমের পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দমকল বাহিনী সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই তাদের চারটি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায় দুপুর ১২ টা নাগাদ তারা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় বৈদ্যুতিক শক সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে দমকল বাহিনী সূত্র জানিয়েছে

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ে বৈষম্যমূলক বিদ্যুৎ বিতরণে জনমনে ক্ষোভ

বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ে বৈষম্যমূলক বিদ্যুৎ বিতরণে জনমনে ক্ষোভ



উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ে পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ২৪ ঘণ্টায় কমকরে হলেও ২৫/৩০ বার লোডশেডিং হচ্ছে এতে করে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে অচল হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড


এদিকে বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ে দৈনিক ২১/২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও একই বিদ্যুৎ স্টেশনের অধীনের ইসলামপুর লবণশিল্প এলাকায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে পল্লী বিদ্যুতের কক্সবাজার অফিস ও ঈদগাঁও এরিয়া অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগাসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ফুলটাইম বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে অবশ্য ঈদগাঁও এরিয়া অফিসের ইনচার্জ আরকানুল হক টিপু এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি জানান, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা


পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, ঈদগাঁও এরিয়া অফিসের আওতায় প্রায় ১৪ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে ঈদগাঁও’র জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন সাড়ে ৪ মেগাওয়াটের মতো কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে প্রতি দু’ঘণ্টা লোড শেডিংয়ের পর দেড়/২মেগাওয়াট এজন্যে এলাকায় অসহনীয় লোডশেডিং চলছে


তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

ট্রান্সফরমারে যান্ত্রিক ত্রুটি জামালখান ও মোমিন রোডে বড় দুর্ঘটনার আশংকা

ট্রান্সফরমারে যান্ত্রিক ত্রুটি জামালখান ও মোমিন রোডে বড় দুর্ঘটনার আশংকা


বৈদুত্যিক ট্রান্সফরমারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নগরীর জামালখান এবং মোমিন রোড এলাকার বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি হাসপাতাল ও বাসা বাড়িতে নষ্ট হয়ে গেছে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের বৈদুত্যিক সরবরাহ লাইনে আগুন ধরলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন এলাকাবাসী। তবে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন ট্রান্সফরমারের এধরনের গোলোযোগ থেকে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড় এলাকায় অবস্থিত বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে হাই ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক গোলযোগের সূত্রপাত ঘটে। এসময় জামালখানের ‘ চিটাগাং বেল ভিউ লিমিটেড’ এর বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে আগুন ধরে যায়। এতে কিছু বৈদুত্যিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। তবে নিজস্ব জেনারেটর থাকায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি বলে বেল ভিউ কর্তৃপক্ষ জানায়। বেল ভিউ এর ব্যবস্থাপক ডা. অজয় রায় সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ট্রান্সফরমারে গোলযোগের কারণেই সরবরাহ লাইনে আগুন ধরে যায়। আমাদের বেশ কিছু বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকায় চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির তেমন কোনো ক্ষতি হয় নি।


একই ঘটনায় জামালখান সড়কের একটি বেসরকারি ব্যাংক, কিছু বসতবাড়ি ও দোকানের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। জামালখান এলাকার বাসিন্দা দীলিপ দত্ত বলেন, আমার ঘরের টিভি, ফ্রিজসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। এসময় চেরাগী পাহাড় এলাকার একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও একটি তৈরী পোশাক কারখানার সরবরাহ লাইনেও আগুন ধরে যায়।


অ্যাপোলো সুইঅ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেডের পরিচালক সঞ্জয় শেখর দাশ বলেন, ওই দিন সন্ধ্যার সময় আমাদের প্রতিষ্ঠান ছুটি হয়ে যায়। দ্রুত আমরা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে নি। তারপরও আমাদের প্রায় পুরো সরবরাহ লাইন নষ্ট হয়ে গেছে। মাসখানেক আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।


এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পিডিবির বিতরণ বিভাগ স্টেডিয়ামের মোহাম্মদ বোরহান সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, মঙ্গলবার রাতেই ট্রান্সফরমারটি মেরামত করা হয়েছে। হাই ভোল্টেজের কারণে এই গোলযোগের ঘটনা ঘটেছে।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

বাঁশখালীতে ৮ হাজার নলকূপ বিকল বিশুদ্ধ পানি সংকটে চরম জনদুর্ভোগে

বাঁশখালীতে ৮ হাজার নলকূপ বিকল বিশুদ্ধ পানি সংকটে চরম জনদুর্ভোগে
উজ্জ্বল বিশ্বাস


বাঁশখালীতে ভূগর্ভের পানি নলকূপের সর্বশেষ স্তর থেকে ৪০ থেকে ৪৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। এ কারণে উপজেলার প্রায় ৮ হাজার নলকূপে পানি ওঠছে না। সচল থাকা নলকূপগুলোতেও প্রবল চাপ দিয়ে পানি ওঠাতে হচ্ছে। তাও পরিমাণে কম। খোদ বাঁশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নলকূপটিতেও পানি ওঠছে না। নলকূপগুলো বিকল হয়ে পড়ায় পাড়ায় পাড়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও ফিটকারি দিয়ে পুকুরের পানি বিশুদ্ধ করে পান করছে এলাকাবাসী।


জানা গেছে, ভূতাত্ত্বিক কোন গবেষণা ছাড়া পানির একই নিম্নস্তরে অপরিকল্পিতভাবে নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর ওপরে ইরি-মৌসুমে চাষাবাদের জন্য নলকূপের পানি ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে এলাকার নলকূপগুলোতে পানি ওঠছে না। নলকূপ স্থাপনের ক্ষেত্রে ভূতাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলে অপরিকল্পিত নলকূপ স্থাপনের ফলে ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগ আরো প্রকট হবে বলে আশংকা করছেন ভূতাত্ত্বিকরা।


জানা গেছে, বাঁশখালীতে নিত্যব্যবহার্য গভীর নলকূপ স্থাপন ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৯শ’ ফুট গভীরে নল স্থাপন হয়। অগভীর নলকূপগুলো স্থাপন করা হয় ২ থেকে আড়াইশ’ ফুট গভীরে । প্রভাবশালীরা নিজেদের টাকা বাঁচাতে চাষাবাদ ক্ষেত্রেও স্থাপিত নলকূপগুলো একই পানির স্তরের গভীরে নল স্থাপন করেছেন। এই নলকূপ স্থাপনে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিভাগ কোন নীতিমালা তৈরি করেনি। চাষাবাদের নলকূপগুলো নিত্যব্যবহার্য নলকূপের চেয়ে আরো গভীরে স্থাপন করা হলে ইরি মৌসুমে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার ক্ষেত্রে এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।


বাঁশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিভিন্ন এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সরকারিভাবে স্থাপিত নলকূপ রয়েছে ৪ হাজার ২২৭টি, এনজিও এবং ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত নলকূপ আছে ১২ হাজার ৩শ’টি। তন্মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ে আছে ৬২৭টি। বর্তমান ইরি মৌসুমে ভূগর্ভের পানি ৪০ থেকে ৪৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় অন্ততঃ ৮ হাজার নলকূপে পানি ওঠছে না । বাকি যে সব নলকূপ দিয়ে পানি ওঠছে তাতেও প্রবল চাপে পানি পাওয়া যাচ্ছে সামান্য।


উপজেলার জলদি, ছনুয়া, পুঁইছড়ি, সাধনপুর, বাহারছড়া, গন্ডামারা, শেখেরখীল, চাম্বল ও কাথারিয়া এলাকায় গিয়ে বিশুদ্ধ পানি সংকটে জনসাধারণের নানামুখী দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়েছে। জলদির সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম জানান, তাদের পাড়ার নলকূপটিতে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেশী একজনের নলকূপে পানি পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় তা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না । ছনুয়ার ফাতেমা বেগম জানান, তাদের পাড়ার নলকূপ বন্ধ হয়ে অনেকদিন আগে তারা আধা কিলোমিটার দূরে অন্য পাড়ায় গিয়ে পানি এনে ব্যবহার করেন। অনেক সময় ফিটকিরি দিয়ে পুকুরের পানি পান করেন বলে জানান। গ্রাম থেকে অনেক দূরে গিয়ে কলসি আর বালতি নিয়ে বিশুদ্ধ পানি বহন করতে মানুষের ছোটাছুটি লক্ষ্য করা গেছে।


বাঁশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান চৌধুরী জানান, সাধারণত ২২/২৩ ফুট পানি নিচে নেমে গেলে পানি ওঠানো সম্ভব হয় না নলকূপে এখন ইরি মৌসুমের কারণে পানি ৩৫/৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ একটু বেড়েছে । চাষাবাদের কারণে চাষীদের নলকূপ বন্ধ করা যাচ্ছে না ফলে এই দুর্ভোগ বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত থাকবে।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সাবেক সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হক জানান, বৈশ্বিক উঞ্চতার কারণে মৌসুমভিত্তিক বৃষ্টি হচ্ছে না । বৃষ্টি কম হওয়াতে ভূগর্ভের পানি প্রবাহ কমে গেছে। তাছাড়া ভূগর্ভকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের যে চাহিদা বেড়েছে তাতে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানি সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করার আশংকা রয়েছে।



বিশ্ব কিডনি দিবস আজ, চট্টগ্রামে রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান নেই

বিশ্ব কিডনি দিবস আজ, চট্টগ্রামে রোগীর সঠিক পরিসংখ্যান নেই


চট্টগ্রামে কিডনি রোগীর নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। মাসে কিংবা বছরে কত সংখ্যক মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। কতজন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুফল পায়, স্থায়ীভাবে কতজন মানুষ এ রোগে ভুগছে। চট্টগ্রামভিত্তিক তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই।


আজ বিশ্ব কিডনি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ কিডনি সুস্থ রাখতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখুন’। চট্টগ্রামে গত পাঁচ বছর ধরে এ দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।


গতকাল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি বিভাগ ও বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনে গিয়ে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


এদিকে, ক্রমান্বয়ে দেশে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সেবা কেন্দ্র বাড়েনি। বর্তমানে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম মা-শিশু জেনারেল হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। তবে তা বেশ তা ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে গরিব রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবা নেয়া সম্ভব হয় না।


চট্টগ্রামের কিডনি রোগীর পরিসংখ্যান বিষয়ে বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এ এম এম এহতেশামুল হক বলেন, কিডনি ফাউন্ডেশনে কত রোগী চিকিৎসা নিতে আসে তার কোনো হিসাব আমাদের কাছে নেই। আসলে এ হিসাব রাখা যায় না। তবে তিনি দেশের কিছু পরিসংখ্যানের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে দুই লাখের মত কিডনি রোগী আছে। দেশের ২৫ হাজার প্রনিক (ধীরে ধীরে কিডনি রোগ সৃষ্টি হয় এবং ভাল হয় না) রোগী আছে। ১৫ হাজার একিউট রোগী (হঠাৎ রোগ দেখা দেয়, চিকিৎসায় ভাল হয়) আছে। মোট জনসংখ্যার পাঁচ থেকে সাত শতাংশ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ আনুষঙ্গিক বেশ কিছু কারণে কিডনি বিকল হয়। প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত করা গেলে নিরাময় করা সম্ভব। এ রোগের লক্ষণ হল- শরীরে পানি এসে ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তকণিকা যাওয়া, গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন গায়ে জ্বর হওয়া। এ সব লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট



প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট



প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। শিক্ষকের চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থী উভয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে এখনো অনড়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে হতাশা প্রকাশ করে পত্রিকায় একটি বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে।


গতকাল বুধবার সকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। সেখান থেকে মিছিল সহকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস প্রবর্ত্তক মোড়ে অবস্থান নেয় তারা। শিক্ষকের চাকরি পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা আমাদের এক দফা দাবিতে অটল থাকব। আমাদের একটাই দাবি- আমাদের মিলন স্যারকে আপন পদে ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসুচি পালন করে যাব।


এদিকে, একজন শিক্ষকের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করে অভিভাবক মহলের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে যারা এই হীন অপচেষ্টায় লিপ্ত, তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহবান জানানো হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে দুস্কৃতিকারী ও তাদের হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আহবান জানান তারা। বিবৃতিতে অভিভাবকদের পক্ষে আহবান জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা মো. ইদ্রিস, এ কে এম সিরাজুল হক ফারুকী, মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, গৌরী শংকর চৌধুরী, রেনু মিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ রশিদ প্রমুখ।


উল্লেখ্য, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মিলন কুমার ভট্টাচার্য ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গত শনিবার পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। শিক্ষকের পূর্বের পদে পুনর্বহালের দাবিতে গত রোববার থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন এবং অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছে। ওয়াসা সংলগ্ন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, প্রেসক্লাব ও প্রবর্ত্তক মোড়ের প্রধান ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত


দরিদ্র সখিনার ভাগ্য বদলায়নি এখনো


দরিদ্র সখিনার ভাগ্য বদলায়নি এখনো
রিটন আহসান


বাজি ট্যাঁয়া পইসে বেশি নোআছিল। নিজর আর্থিক অবস্থা আছিল খারাপ। তবুও যদ্দুর পাজ্জি তারারে খাবাই। ডঁর মাইনসর পোয়া তারা, যা রাধিঁ দিতাম তারা কন কথা ছাড়া এগিন খাই আবার কডে যাইতুগই। এন একখান ভাব গইত্ত যেন তারা নেয়ামত খার। (বাবা টাকা পয়সা বেশি ছিল না আমার। নিজের আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল। তবু যতদূর পেরেছি তাদের খাইয়েছি। ধনীলোকের ছেলে ছিল তারা, যা রেঁধে দিতাম তারা বিনা বাক্যে খেয়ে আবার কোথায় যেন চলে যেত। খাওয়ার সময় এমন একটা ভাব করতো যেন স্বর্গের খাবার খাচ্ছে)


এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আসকার দিঘীর দক্ষিণ পাড়র আলী ফকির বাড়ির মরহুম আবদুর রহমানের স্ত্রী সখিনা বেগম। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাড়িতে তিনি আগলে রেখেছিলেন অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে। সন্তান স্নেহে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। সেই সখিনা বেগমের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি একটুও। সেই যোদ্ধারাও খবর নেয়নি একদিনের জন্য। যে ঝুপড়িতে ছিলেন সেই ঝুপড়িতেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন সখিনা ও তার পরিবার। জানা যায়, আসকারদিঘীর দক্ষিণ পাড়ে থাকতেন আবদুর রহমান। পারিবারিক অবস্থা খুব বেশি ভাল ছিল না। বার্জার পেইন্টে চাকরি করতেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হবার পর একদিন তার শ্যালক মুক্তিযোদ্ধা সিকান্দর আলী কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তার বাড়িতে আশ্রয় নেন। বাড়ির চারপাশ ছিল নানা রকম ঝোপঝাড়ে পূর্ণ। বাড়ির পেছনে ছিল একটি ছোট রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়ে যোদ্ধারা দেয়াল টপকে বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন।


সখিনা বেগম জানান, যোদ্ধারা সন্ধ্যার পরপর সন্তর্পনে বাড়িতে আসতো এবং গভীর রাতে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত। কোথা থেকে আসত কোথায় বা যেত তার কোনকিছুই জানতেন না সখিনা বেগম।


সখিনা বেগমের অবস্থা আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে মুক্তিযোদ্ধারা বাড়িতে আসার সময় ছোট মাছের শুটকি, শুকনো মরিচ, ডিম ইত্যাদি নিয়ে আসতেন। তাছাড়া সামান্য কিছু টাকা নানাভাবে বাইরে থেকে যোগাড় করতেন যোদ্ধারা। সারাদিন কখনো ঘুমিয়ে কখনোবা নানারকম শলাপরামর্শ করে কাটাতেন। রাতে তাড়াহুড়ো করে কিছু খেয়ে আবার চলে যেতো।


যোদ্ধাদের রক্ষিত অস্ত্র সম্পর্কে সখিনা বেগম বলেন, বাজি বহুত রকমর বন্দুক, বোম আইনতো। বন্দুকর নাম ন জানি। আপেলর মত, সরিফার মত কনুও আবার কচ্ছপর মত দেইখতে। ডর লাইগত। (বাবারে, ওরা অনেক রকম বন্দুক, বোমা আনত। ওগুলোর নাম জানতাম না। আপেলের মত, সরিফার মত, কোনটা আবার কচ্ছপের মতো দেখতে। ভয় লাগতা)


সখিনা বেগমের মাত্র দুটো কক্ষ ছিল। তার একটিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। অন্যকক্ষে থাকতো মুক্তিযোদ্ধারা। বাড়ি থেকে বের হবার সময় যোদ্ধারা সখিনাকে বলতেন, খালা এসব জিনিষপত্রে হাত দিও না। ক্ষতি হতে পারে। তিনিও ভয়ে দেখার চেষ্টা করেননি কখনো।


সখিনা বেগমের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের কারণে শত্রুপক্ষের দ্বারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন না হলেও একদিন সন্ধ্যার পরপর একদল পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালায়। বিষয়টি আগে থেকে আঁচ করতে পেরে যোদ্ধারা পেছনের রাস্তা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর বেশকয়েকদিন তারা ঐ বাড়িতে যায়নি।


বিভিন্ন সময়ে এই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন ডা. মাহবুব, ডা. জাফর, শহীদ রফিক, মরহুম কামরুল ইসলাম, মরহুম রবিউল হোসেন কচি, কাজী ইনামুল হক দানু, অরুণ দাশগুপ্ত সাথী, ফখরুল আহসান মনি, প্রকৌশলী তুষার, মাহবুব উল আলমসহ আরো অনেকে।


একাত্তরের ভয়াল দিনগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা সখিনা বেগমের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি এতটুকু। অভাব অনটনের সাথে যুদ্ধ করে কোনরকমে টিকে আছেন তিনি।


এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা অরুণ দাশ সাথী বলেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের ব্যাপার যে, স্বাধীনতার এতবছর পরও সখিনা বেগমদের কোন উন্নতি হয়নি। অথচ তাদের মত সাহসী মানুষেরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা না করলে হয়তো অনেক যোদ্ধার জীবন বিপন্ন হতো দ্রুত। তিনি সখিনা বেগমকে সঠিক মূল্যায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।


চট্টগ্রামে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটের ডাক

পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটের ডাক
আলী হায়দার


দেশের প্রায় ৪ হাজার পেট্রোল পাম্প মালিক ও ট্যাংক লরি শ্রমিকরা তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি, ডাকাতি রোধ ও পাম্পের নিরাপত্তা প্রদান, ট্যাংক লরি শ্রমিকদের জন্য দুর্ঘটনা বীমা চালুসহ ১৩ দফা দাবিতে ১৪ মার্চ ধর্মঘটে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের সাথে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করেছেন ধর্মঘট আহ্বানকারীরা।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হক সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গত প্রায় ১ বছর ধরে সরকারে কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেও দাবি জানান হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে এতদিন কোন উদ্যোগ নেয়নি। তবে গতকাল বিপিসি থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী বিপিসি চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক। এর ফলাফল নিয়ে আমরা খুব একটা আশাবাদি হতে পারছি না। তাই সরকার যদি দাবি পূরণ না করে তবে ধর্মঘট হবে।


এ সেক্টরের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মোট পেট্রোল পাম্পের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০টি। কমপক্ষে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এ খাতে কর্মসংস্থান রয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার লোকের। এ ছাড়াও ধর্মঘটের আওতায় থাকবে ৩ হাজার ৪২ জন জ্বালানি তেলের ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর ও এজেন্ট।


সূত্র জানায়, দেশের পেট্রোল পাম্প মালিক ও ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটররা জ্বালানি তেল বিক্রির উপর বর্তমানে কমবেশি ২ শতাংশ কমিশন পেয়ে থাকেন। ১৯৯০ সালের আগে এ কমিশন ছিল ৫ শতাংশের কাছাকাছি। এমনকি সে সময় পাম্প স্থাপনের যাবতীয় খরচ, যন্ত্রপাতি এমনকি জমির ভাড়া তেল কোম্পানি দেয়ার পরও কমিশন ছিল ৫ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে ১০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করে একটি পেট্রোল পাম্প করে তার যাবতীয় খরচও মালিককে বহন করতে হয়। এসব কারণে পেট্রোল পাম্প মালিকরা সব চেয়ে কম মুনাফা নিয়ে ব্যবসা করছে। দীর্ঘকালে এ মুনাফায় বিনিয়োগ সম্ভব নয় বলেই মালিকরা ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছে।


মালিকদের মতে, বর্তমানে অপারেশনাল ও ইভাপোরেশন লোকসান বাদ দিয়ে তেল বিক্রির কমিশন ডিজেলে দুই দশমিক ০৬ শতাংশ এবং পেট্রোল ও অকটেনে এক দশমিক ৯৬ শতাংশ। এত অল্প মুনাফায় ব্যবসায় করার নজির আর কোন খাতে নেই। তারা জানান, পেট্রোল পাম্প স্থাপনের নিদিষ্ট কোন নীতিমালা নেই। ফলে জোট সরকারের সময় মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের নামে-বেনামে চারশতাধিক ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যেখানে ছয় কিলোমিটারে দুটি ফিলিংস্টেশন যথেষ্ট সেখানে ৪৭টি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।এর ফলে জ্বালানি খাতে অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।


এ অবস্থা থেকে পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীদের রক্ষার জন্য তেল বিক্রির কমিশন ৭ শতাংশে বাড়ানো, অপারেশনাল লস প্রদান, পাম্প মালিকদের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, তেলে ভেজাল রোধে ডিপোতে টেস্টিং ল্যাবরেটরী স্থাপন করা, ট্যাংক লরি ভাড়া বৃদ্ধি, ট্যাংক লরির মডেল ( তৈরীর সময়) শিথিল করা, রাস্তায় কাগজ পরীক্ষার নাম করে পুলিশের হয়রানি বন্ধ, পেট্রোল পাম্প ডিসপেন্সিং ইউনিটের রক্ষাণাবেক্ষণ তেল বিপণন কোম্পানির কাছে দেয়া, পাম্প স্থাপনের নীতি প্রনয়ণ, মাপে কারচুপি রোধে মনিটরিং সেল গঠন, ট্যাংক-লরী চালকদের জন্য পাম্পে বিশ্রামের ব্যবস্থা করা, লরি চালকের পাঁচ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রদান করা সহ এবং পাম্পে ডাকাতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন পাম্প মালিকরা।


একই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার অ্যসোসিয়েশনের সভাপতি এ্হসানুর রহমান চৌধুরী সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, একদিকে নুন্যতম কমিশন অন্যদিকে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ অবস্থায় সরকার আমাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও নানা অজুহাতে তা পূরণ করছে না। সময় কমে আসছে সরকার দাবি মেনে না নিলে আমাদের পক্ষে ধর্মঘটে যাওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই।


উল্লেখ্য, গত ৭ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ পেট্রোল পাম্পে ৯৬টি ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতরা লুটে নিয়েছে ১৫ কোটি টাকা। সরকার ২০০৩ সাল থেকে নিরাপত্তার জন্য মালিকদের আগ্নোয়ান্ত্র দেয়ার কথা বলে আসলেও এখনও তা পাওয়া যায়নি।