পশ্চিম বাকলিয়ায় মশার বাসা আর রিকশাজট
সাবরিনা জাহান
তখন বিকাল চারটা। বড় মিয়া মসজিদ এলাকার সানজিলা শাহরিনের বাসায় দেখা গেল মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়েছেন বয়স্ক একজন। দিনেও মশারি টাঙানোর একটাই কারণ মশার উত্পাত। পশ্চিম বাকলিয়ার ঘরে ঘরে এ দৃশ্য দেখা যাবে বলে জানালেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। মশা তো আছেই, আরও আছে নানান নাগরিক যন্ত্রণা। কেবি আমান আলী সড়কে যানজট যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশির ভাগ বাড়িতে ওয়াসার সংযোগ থাকলেও পানি পাওয়া যায় না। নালাগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না, অধিকাংশ গলি-উপগলিতে রিকশা ঢোকে না। পাশেই চাক্তাই খাল আর সেই কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা হয়।
স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব দুর্ভোগ লাঘবে ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালেও কোনো কাজ হয়নি।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ (বিএড) মহাবিদ্যালয় এলাকার শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, পশ্চিম বাকলিয়া থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে।। কেবি আমান আলী সড়কের যানজটের কারণে তাঁরা ঠিক সময়ে শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত হতে পারেন না
এলাকার প্রধান সড়ক কেবি আমান আলী সড়ক চকবাজার থেকে শুরু হয়ে শাহ আমানত সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ সড়কে চলাচল করে অসংখ্য যানবাহন। পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাত নেই। রাস্তার পাশঘেঁষে অসংখ্য দোকান তাতে হাঁটার পথও নেই। সকালে স্কুল ও অফিস সময় থেকে শুরু করে সন্ধ্যা এমনকি রাত পর্যন্ত লেগে থাকে রিকশাজট। সড়কের দুই পাশে চক সুপার মার্কেট, কাঁচাবাজার, পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিএড কলেজ, বড় মিয়া মসজিদ, মেরনসান স্কুলসহ অনেক বিপণিকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘ডিসি সড়ক থেকে চকবাজার যেতেও অনেক সময় আধঘণ্টা লেগে যায়।।’ স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ‘রাস্তার ওপরের অবৈধ দোকানগুলোই যানজটের মূল কারণ। অথচ কর্তৃপক্ষ এগুলো উচ্ছেদ করে না।’ এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তাটি দুই লেনের করার। এ কারণে প্রায় সময় ট্রেন ধরা যায় না
অন্যদিকে চাক্তাই খাল পরিষ্কার করে আবর্জনা রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্তূপ করা ময়লার ওপর কাঁচাবাজার বসে। মেরনসান স্কুলের সামনে চারতলা একটি ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, রাস্তার অর্ধেকজুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী।
সৈয়দ শাহ এলাকার ওমর ফারুক বলেন, ‘ডোবা, নালা ও ডাস্টবিন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। সিটি করপোরেশন শেষ কবে এখানে মশার ওষুধ ছিটিয়েছে তা আমাদের মনে নেই।’ ওই এলাকার ঊর্মিলা চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘বাড়িতে ওয়াসার পানির সংযোগ থাকলেও পানি আসে না চার-পাঁচ বছর। কখনো সপ্তাহে একবার আবার কখনো মাসে একবারও পানি আসে না। গভীর নলকূপের পানিও ব্যবহার করা যায় না আয়রনের কারণে।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘শিগগির রাস্তার ওপরের অবৈধ দোকান ও অন্য স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। রাস্তায় ফুটপাত নির্মাণের কাজ বর্ষার আগেই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বাকলিয়া এক্সেল সড়ক নামে একটি দুই লেনের সড়ক তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এটা হয়ে গেলে যানজট সমস্যা আর থাকবে না। মশার উত্পাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নিয়মিত লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটালেও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ ছিটায় না। কারণ এটি ব্যয়বহুল।’ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি তাঁদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
নিয়মিত পানি সরবরাহের জন্য ওয়াসাকে অনেকবার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন