অভিনব কৌশলে চট্টগ্রাম টি.এস.পি সার কারখানা থেকে সার পাচার
মো. জালাল উদ্দিন
বাংলাদেশের সার কারখানাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম টি.এস.পি কমফ্লেক্স প্রধান কারখানাটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান। এই সার কারখানা থেকে টি.এস.পি ইউরিয়া ও জিপসাম সারা দেশের প্রতিটি জেলায় সরবরাহ করা হয়। এই সার কারখানা থেকে বিগত ২/৩ যুগ ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সার চুরি ও সুকৌশলে পাচার করে আসছে। এই চক্রের সাথে কর্তৃপক্ষের বিপণন ও বিতরণ বিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তা জড়িত। ইতোমধ্যে তাদের অনেকেই অবসরে গেছেন। সার পাচারকারীদের বেশির ভাগই জিপসাম কাটিং ঠিকাদারী কাজে নিয়োজিত।তারা তাদের নিজস্ব পরিবহন ট্রাকে করে টি.এস.পি থেকে সার পরিবহন করে থাকে। এরা আবার স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিও। দেশের বড় ক্ষমতাধর রাজনৈতিক দলের নেতা হিসাবে তারা পরিচিত। যার কারণে অনেক কর্মকর্তা জেনেও মুখ খুলতে রাজী নয়। এই চক্রটি তাদের নিজস্ব ট্রাকে করে ডিলারদের সারের সাথে প্রতি ট্রাকে ১০/২০ বস্তা করে ইউরিয়া সারের ব্যাগ অতিরিক্ত বের করে নিয়ে যায়। গেইটের বাহিরে এনে সারের বস্তাগুলি নামিয়ে তাদের নিজস্ব গুদামে নিয়ে রাখে। একই নিয়মে ট্রাকে জিপসাম খোলা সার ট্রাক ভর্তি করে ওজন সেতু ৮.০ মে. টন চালান করে অতিরিক্ত আরও ২.০ মে. টন জিপসাম ভর্তি করে কারখানার বাহিরে এনে ট্রাকগুলি প্রথমে খালপাড় নামক স্থানে নিয়ে অতিরিক্ত জিপসামগুলি নামিয়ে ফেলা হয়। পরে জমাকৃত ঐগুলি সার চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। কয়েকদিন আগে ৫ (পাঁচ) ব্যাগ ইউরিয়া সার গেইটে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে ২২৪৫ নং ট্রাকসহ আটক হয়। ৪ দিন পর ঐ চক্রটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আপোষ করে গাড়ি ছাড় করে নেয়। বর্তমানে ট্রাকে সার ভর্তি করার আগে অভিনব কৌশলে ৮/১০ ব্যাগ ইউরিয়া সারের ব্যাগ ছিঁড়ে ট্রাকে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তার উপর সারের ব্যাগ ভর্তি করা হয়। এই ভাবে প্রতিদিন গড়ে হাজার হাজার টাকা ইউরিয়া ও জিপসাম সার পাচার হয়ে আসছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন