বুধবার, ১০ মার্চ, ২০১০

ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না জনগণ

ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না জনগণ ।। বোয়ালখালী ও আনোয়ারায় ডাকাতি ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট


বোয়ালখালী ও আনোয়ারায় পৃথক পৃথক ডাকাতিতে প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট হয়েছে এবং ডাকাতদের হামলায় মহিলাসহ ১৬ জন আহত হয়েছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে, আমাদের বোয়ালখালী প্রতিনিধি জানিয়েছেন গত মঙ্গলবার রাতে বোয়ালখালীতে সিরিজ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা এক গ্রামে ডাকাতি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলে এ দুটি গ্রামে পৃথক পৃথক ডাকাতির ঘটনায় প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে। ডাকাতদের এলোপাথাড়ি হামলায় ৩ মহিলাসহ ৬ জন আহত হয়েছে।

ডাকাতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ১৫/ ২০ জনের এক বিরাট সশস্ত্র ডাকাত দল উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নে হানা দেয়। ডাকাত দলটি এ সময় এলাকার বধু বাপের বাড়ির মো. ইদ্রিচের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বাড়ির অন্যান্য বাসিন্দাদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ও টহল পুলিশ ছুটে আসতে দেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এদিকে একই সময়ে ২০/২৫ জনের অপর একটি গ্রুপ উপজেলার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নে হানা দেয়। ডাকাত দলটি এ সময় এলাকার আবদুল কাদের চৌধুরীর ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ পূর্বক অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মী করে নগদ টাকা ৬৭ হাজার, স্বর্ণ ৬ ভরি, মোবাইল ২টি, টর্চলাইট ২টি ও অন্যান্য মালামালসহ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে চাইলে ডাকাতদলটি বিক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর শুরু করে। এতে এ পরিবারের গৃহবধূ জেবুন্নেসা (৩৫) গুরুতর আহত হয়। অপরদিকে অন্য একটি দল একই সময়ে একই ইউনিয়নের জনৈক আবদুল ছবুরের ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশপূর্বক নগদ টাকা ৫০ হাজার, স্বর্ণালংকার ৪ ভরি, মোবাইল সেট ৩টি ও অন্যান্য মালামালসহ প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। এতে বাধা দিতে চাইলে ডাকাতরা এ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক পিঠাতে থাকে। এ সময় এ বাড়ির গৃহকর্তা আবদুল ছবুর (৭৮) আবু বক্কর (৩০) জামাতা ফয়েজ আহমদ (৪০) খালেদা বেগম (৩৫) ও সুমি আকতার (১৬) আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আবু বক্কর (৩০)কে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময় পর্যন্ত ব্যাপারে কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আনোয়ারা প্রতিনিধি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তৈলারদ্বীপে ৪ ঘরে ডাকাতি সংঘটিত হয়। এ সময় ডাকাতের হামলার শিকার হন নারী ও শিশুসহ ১০ জন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ক্ষতিগ্রস্তরা ডাকাতের ভয়ে থানায় মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে তৈলারদ্বীপে মঙ্গলবার রাতে আলতাপ আমিনের বাড়িতে হানা দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে মো. আলম, মো. আলী, লেয়াকত আলী ও হাছন আলীর ঘরে লুটপাট চালায়। কিন্তু ডাকাতিকালে ডাকাতেরা তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী মালামাল না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আহত করে। আহতরা হল মুক্তা (১৮), মুন্নি (১৫), শামীমা (২৪), উর্মি (৩), গুলতাজ বেগম (৫৭), ইকবাল (১৪), রোকেয়া বেগম (৪৫), লেয়াকত আলী (৪০), রুজি (৩৫) ও হাছন আলী (৬৫)।

আহত গুলতাজ বেগম (৫৭) জানান, ডাকাতেরা ঘরে প্রবেশ করে প্রতিটি ঘরে স্বর্ণ ও টাকা দাবি করে মারধর শুরু করে। আহতদের মধ্যে শামীমা (২৪), গুলতাজ বেগম (৫৭) ও হাছন আলী (৬৫)কে আনোয়ারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা আরো জানান, রাতে তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসায় ডাকাতদল পালিয়ে গেছে। ডাকাতেরা ৪ ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণসহ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে। তারা ডাকাতের ভয়ে মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে। তাছাড়া গত সোমবার রাতে একই গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম মোহাম্মদের ঘরে হানা দিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকার মালামালসহ ৪ জন ডাকাতের হামলার শিকার হন। পর পর টানা ২দিন একই গ্রামের ৫ ঘরে ডাকাতি ও ডাকাতের হামলায় ১৪ জন আহত হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তথ্য সূত্র: আজাদী

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন