বুধবার, ১০ মার্চ, ২০১০

চট্টগ্রামে কর্মজীবী নারীরা কেমন আছেন

চট্টগ্রামে কর্মজীবী নারীরা কেমন আছেন
ইসমত মর্জিদা ইতি


চট্টগ্রামের কর্মজীবী নারীদের অনেকেই কর্মক্ষেত্রে অনুকূল পরিবেশ পেলেও পরিবারের পরিবেশ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। জানিয়েছেন নিজের যোগ্যতার মাপকাঠিতে কর্মক্ষেত্রে ভালো করলেও শুধু পারিবারিক সহযোগিতার অভাব থাকায় কর্মক্ষেত্রে নিজের মধ্যে আসা অস্বস্তি, টেনশন, হতাশার কথা।
চট্টগ্রাম গার্মেন্ট ওরিয়েন্ট এলাকা হওয়ায় মেয়েদের কর্মক্ষেত্রের ব্যাপকতা ছড়িয়েছে। গার্মেন্ট, ব্যাংক, প্রাইভেট কোম্পানি, স্কুল, কলেজ, চিকিৎসা, রাজনীতি, ব্যবসা সবখানেই আজ চট্টগ্রামে মেয়েদের রাজত্ব। মেয়েরা নিজেদের যোগ্যতা বলে জায়গা করে নিয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে তাদের মূল্যায়ন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রের মতো পারিবারিক ক্ষেত্রে তাদের পাওয়া হয়নি সহযোগিতা। এরকম অসহযোগিতা ও হতাশার কথা তুলে ধরেছেন অনেক নারী। বলেছেন, বদলে যাক অসহযোগী মানুষের রক্ষণশীল মানসিকতা।
আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারা আলম বলেন, আমার ২১ বছরের কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ ছিল না। কিন্তু পারিবারিক সহযোগিতা তেমন পাইনি। কর্মক্ষেত্রে একটা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে যেমন সিদ্ধান্ত দিতে পারি কিন্তু পরিবারে তা পারি না। আমার সিদ্ধান্ত থাকে অনেকের পরে। বলতে গেলে এটাই আমার জীবনের ব্যর্থতা। আমার বলা পরিবার থেকে মেয়েরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাক। চান্দগাঁও থানার ওসি রওশন আরা বেগম বলেন, কর্মক্ষেত্রে খুব বাধাগ্রস্ত হতে হয় না। বাংলাদেশে আমিসহ দুজন মেয়ে ওসির পদমর্যাদায় কাজ করছি। তবে পারিবারিক সহযোগিতা আর একটু বেশি পেলে আরো অনেক ভালো করতে পারতাম। চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বলেন, কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ পরিপূর্ণ অনুকূল এটি বলা যাবে না। কিন্তু প্রতিকূল হলেও মানসিক দৃঢতা দিয়ে মোকাবেলা করা যায়। একজন মেয়ে হিসেবে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি। কোনো বাধাই বাধা মনে হয় না। কিন্তু পারিবারে সেটি হয় না। আমার সিদ্ধান্তটি আসে পরে। সারাদিন অফিস শেষ করে গিয়ে সেই ঘর সামলানোটা আমরই মূল দায়িত্ব। কর্তব্য ভাগ না হলেও আধিপত্যকে ভাগ দেখাতে পারে পুরুষরা। যেটা আমরা পারি না। বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন সিএসডিএফের প্রোগ্রাম অফিসার কামরুন্নাহার শম্পা বলেন, কর্মক্ষেত্রে ভালো সহযোগিতা পেয়েছি। পরিবার থেকেও পাচ্ছি। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরিতে আসতে দেরি হয়েছে বাচ্চা ছোট থাকার কারণে। তবে আফসোস হয় এজন্যই যখন ক্যারিয়ার গড়ার সময় ছিল তখন বাচ্চার জন্য সেটি করতে পারিনি। এখন আমার আর কোনো সমস্যা নেই।
নগরীর স্বনামধন্য আচার ব্যবসায়ী আয়েশা বেগম বলেন, আচারের প্রশংসায় যখন আমার আচার বিক্রি বেশি হতে লাগলো তখনই ঘরে দেখা দিলো সমস্যা। আমার স্বামী বলতো আমার জন্য সারা বাড়ি আচার আচার গন্ধ। এ গন্ধ তার ভালো লাগে না। খারাপ ব্যবহার করতো। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে আমি আজ ভালো ব্যবসায়ী হয়েছি। আমার আচার আজ হটসেল আইটেম।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন