পটিয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই চলছে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা
চটগ্রামের পটিয়ায় সরকারি বৈধ কোনো লাইসেন্স ছাড়াই যেনতেনভাবে চলছে ডায়াগনস্টিক ব্যবসা। অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোনো যোগ্য টেকনিশিয়ান, প্রয়োজনীয় জায়গা ও দরকারি যন্ত্রপাতি। তারপরও এলাকার নামিদামি চিকিৎসকরা তাদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই রোগীর চিকিৎসা করছেন। সমিতির নামে দরের তালিকা টাঙানো হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্যও নেন চট্টগ্রামের খ্যাতনামা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকা, অব্যবস্থাপনা, সঠিক নজরদারির অভাব, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি উপরন্তু মাসোহারার বিনিময়ে এসব অনিয়ম চলছে।
কয়েকটি প্যাথলজির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা স্যাম্পল সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম নগরী থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে আনেন। অন্যদিকে দেখা যায়, খালি প্যাডে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সিল-স্বাক্ষরসমেত প্যাডে টাইপরাইটার মেশিন দিয়ে রিপোর্ট টাইপ করে দিতে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একজন রোগীর একই পরীক্ষার ভিন্ন রিপোর্টও দেয় অনেকে। নাজিম উদ্দীন নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, এখানকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর আমার আস্থা নেই। রোগ হয় একটা রিপোর্টে পাওয়া যায় আরেকটা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পুরো উপজেলার প্রায় ২৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক থাকলেও মাত্র একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ লাইসেন্স আছে। বছরখানেক আগে জেলা সিভিল সার্জন সরেজমিনে তদন্ত করে রোগ নির্ণয়, আল আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হসপিস নামের মাত্র তিনটি রোগ নিরূপণী কেন্দ্রকে পর্যাপ্ত জায়গা, দক্ষ লোকবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিলেও রাতারাতি ‘রোগনির্ণয়’ নামের সেন্টারটি বদলে হয়ে যায় ‘একুশে ল্যাব’ এবং ‘আল আমিন ডায়াগনস্টিক’ সেন্টারটি ‘এপোলো ডায়াগনস্টিক’। একইভাবে হসপিস সেন্টারও স্থান পরিবর্তন করে। অনেক জনপ্রতিনিধিও এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
এ ব্যাপারে পটিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সঞ্জিব কুমার দাশ জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ আসলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আবু তৈয়ব জানান, চট্টগ্রামে যতগুলো বৈধ লাইসেন্স আছে তার একটি তালিকা আমরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসকে দিয়েছি। তারা মোবাইল টিমের মাধ্যমে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেবেন।
তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন