বুধবার, ১০ মার্চ, ২০১০

মিরসরাইয়ে পোলট্রি শিল্প সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি

মিরসরাইয়ে পোলট্রি শিল্প সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি


মিরসরাইয়ের পোলট্রি শিল্পে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। হ্যাচারি মালিকরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাচ্চার কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে পোলট্রি খামারিরা।
উপজেলা পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলাউদ্দিন জানান, মিরসরাইয়ে ৪০০ খামারের মধ্যে গত ছয় মাসে ৩০০ পোলট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে খামারিদের লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকা। বেকার হয়ে পড়েছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। তিনি দাবি করেন, হ্যাচারি মালিকরা উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে বাচ্চার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দফায় দফায় বাচ্চার দাম বাড়াচ্ছে। একটি বাচ্চার সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ পড়ে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। কিন্তু হ্যাচারি মালিকরা সেই বাচ্চা খামারিদের কাছে বিক্রি করে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়।
সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হ্যাচারি মালিকদের কৃত্রিম সংকটের সুবিধা নিচ্ছে একটি অসাধু চক্র। বার্ড ফ্লুর কারণে সরকার ভারত থেকে ডিম, মুরগি আমদামি নিষিদ্ধ করলেও ওই চক্র ফেনী জেলার সিলোনিয়া বর্ডার দিয়ে অবৈধ পথে প্রতিদিন হাজার হাজার মুরগির বাচ্চা ও উৎপাদিত মুরগি নিয়ে আসছে। বাচ্চাগুলো ফেনী, মিরসরাই, সীতাকু- ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন খামারে বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। ভারতীয় প্রতিটি বাচ্চার দাম পড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। ওই সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহে সিলোনিয়া বর্ডার দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ভারতীয় বাচ্চা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
উপজেলা পোলট্রি শিল্প অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন জানান, এক দিনের একটি বাচ্চা এক কেজি করতে ৩৫ দিন সময় লাগে। এতে বাচ্চার দাম, খাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ পড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ৩৫ দিনের মুরগি ৪০-৪৫ দিনের বেশি সময় ধরে খামারে রাখতে হয়। তখন উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে যায়। কিন্তু প্রতি কেজি মুরগি খামারিদের বিক্রি করতে হয় ১০০ টাকায়। খামারিদের প্রতি কেজিতে লোকসান দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা। প্রতি এক হাজার ব্যাচ মুরগি উৎপাদনে প্রতি খামারিকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয় উৎপাদনে।
বারইয়ারহাট পৌরবাজারের পোলট্রি খামার ব্যবসায়ী জাবেদ ইকবাল জানান, ১৯৯১ সাল ১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। এরপর থেকে ভালোভাবে চলে আসছিল ব্যবসা। কিন্তু গত কয়েক বছরে লোকসান গুনতে গুনতে এখন পুঁজি হারানোর পথে।
বড়তাকিয়া এলাকার পোলট্রি ব্যবসায়ী সাইফুদ্দীন মানিক জানান, তিনি এক হাজার বাচ্চার শেডের ১৪টি খামার দিয়ে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে একটি খামারও চালু নেই।
ব্যবসায়ী জাবেদ ইকবাল বলেন, খামারিদের বিনিয়োগকৃত পুঁজির পাশাপাশি রয়েছে ব্যাংক ঋণ। লোকসান দিতে দিতে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলেও ব্যাংক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন মিরসরাইয়ের অনেক পোলট্রি ব্যবসায়ী। পোলট্রি ব্যবসা নিয়ে সরকারের সুষ্ঠু কোনো নীতিমালা না থাকায় পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হ্যাচারি মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন