মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পাঁচ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমে অবস্থা আরও শোচনীয়। ঢেমশা ইউনিয়নের উত্তর ঢেমশা-বড়ুয়াপাড়া সড়কের এই করুণ হাল হলেও সড়কে ইট বিছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই কর্তৃপক্ষের। সরেজমিন দেখা গেছে, সড়ক দিয়ে একদল শিশু ঢেমশা উচ্চ বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তাদের পেন্ট হাঁটুর ওপর তোলা। বইগুলো পলিথিন মোড়ানো। স্কুল ছাত্র রবিউল হোসেন বলে, ‘আঁরার গ্রামর রোড ভালা নয়, এত্তেল্লাই পলিথিন দি বাঁধি বই লয়্যি।’ ফারজানা আক্তার বলে, সড়ক ভালো না হওয়ার কারণে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সড়কটির উন্নয়ন করবেন এমন আশ্বাস দিয়ে আগে জনপ্রতিনিধিরা ভোট নিয়েছেন। কিন্তু এখনো কেউ কথা রাখেননি। এমন কী সড়ক সংস্কারের জন্য এখনো পর্যন্ত প্রকল্পই গ্রহণ করা হয়নি। ফলে গ্রামের মানুষেরা চরম দুর্ভোগে আছেন। এই সড়ক দিয়ে ঢেমশা, উত্তর ঢেমশা, নলুয়া, মরফলা, চৌধুরীহাট এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন চলাচল করেন। তাদের মতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করলেও এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সড়কে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রচার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স্বপন চৌধুরী এবং অধ্যাপক দিলিপ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি এই ঢেমশায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের অসীম অবদান আছে। কিন্তু রাষ্ট্র কখনো তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেননি। তিনি বলেন, গ্রামের একমাত্র সড়কটি উন্নয়ন করে তাদের নামে উৎসর্গ করলে তাদের আত্মা শান্তি পাবে।
সড়কটি উন্নয়ন কেন হচ্ছে না জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তাসাউর বলেন, এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আগে কেন প্রকল্পভুক্ত করা হয়নি জানি না। তবে ভবিষ্যতে সড়কটি প্রকল্পভুক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে ।
তথ্য সূত্র: আজাদী
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন