বাঁশখালীর হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির বৈঠকের পর খাবার সামগ্রীগুলো দাম কমানোর সিদ্ধানত্ম হলেও সে সুফল পাচ্ছে না সাধারণ জনগণ প্রশাসনের সাথে বৈঠকের পর চট্টগ্রামে প্রতিটি হোটেল রেস্তোরাঁয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হলেও সেই ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অধিকাংশ উপজেলা। ফলে পূর্বের চড়া দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে জনগণ। চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটা-ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য দিন দিন নিম্নমুখী হলেও বাঁশখালীতে হোটেল রেস্তোরাঁ ও বেকারি সামগ্রীর দাম কমেনি। এনিয়ে স্থানীয় ক্রেতা সাধারণের সাথে হোটেল রেস্তোরাঁ ও বেকারি মালিকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, বাকবিতণ্ডা ও চরম দূরত্ব সৃষ্টিসহ ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা গেছে, বাঁশখালীর কয়েকশ হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারিতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে বিগত বছরে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে মূল্য সংযোজন করা হয়েছে। বছর পূর্বে এক কাপ চা ২ থেকে ৩ টাকা করা হলেও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে তা ৫ টাকা ধার্য্য করা হয়। একই ভাবে ২ টাকা দামের রুটি, পরটা, চমুচা, সিঙ্গারা ও জিলাপি ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা, ভাত প্রতি প্লেট ৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮-১০ টাকা করা হয়। অন্যান্য উপকণের দামও বাড়ানো হয় একই হারে। মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে হোটেল রেস্তোরাঁ মালিকগণ বিজ্ঞপ্তি টাঙ্গিয়ে দফায় দফায় মূল্য বাড়ায়। এদিকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমতে শুরু করলেও বাঁশখালীতে হোটেল ও বেকারি সামগ্রীর দাম কমানো হয়নি। চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটা-ময়দাসহ খাদ্য সামগ্রীর দাম অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকে নেমে এলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের হোটেল এবং বেকারি সামগ্রীর দাম রাখা হচ্ছে আগের মতই উচ্চ মূল্যে। বেকারি পণ্য ও হোটেল সামগ্রীর দাম না কমায় স্থানীয় ক্রেতা সাধারণের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে চিনির দাম একদম সর্বনিম্ন পর্যায়ে হলেও মিষ্টি জাতীয় দব্যের দাম আগের মত রয়ে গেছে। যেখানে এক কেজি জিলাপি ৪০ টাকা ছিল তা থেকে বাড়িয়ে ১২০টাকা করা হলেও অদ্যাবধি সে দামই রয়ে গেছে। অন্যদিকে মিষ্টি ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ -২২০ টাকা হলেও তা কমানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে হোটেল রেসেত্মারাঁ মালিকদের এক বৈঠক শেষে কয়দিনের মধ্যে খাবারের দাম কমানোর ঘোষণা আসলেও তা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় কার্যকর হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ জনগণ। এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালীর জনগণ প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন বাজার মনিটরিং করার জন্য। বাজারে বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীর দাম কমলেও তার প্রভাব পড়ে না গ্রামেগঞ্জে। ফলে ক্রেতাদের আগের দামে সব জিনিসপত্র ক্রয় করতে হয়। এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনামনি চাকমা বলেন, জনগণের সার্বিক দিক বিবেচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে মনিটরিং সেল গঠন করে দ্রব্যমূল্য কমানোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করব। এ ব্যাপারে সকলের সার্বিক সহযোগীতা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, আমরা অযথা কাউকে হস্তক্ষেপ করতে না হয় সেইজন্য ব্যবসায়ীদেরকে নিজ নিজ দায়িত্ব অনুসারে দ্রব্যমূল্য কমানো উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেশ কিছু হোটেল রেস্তোরাঁ ও বেকারি মালিক নিজেদের উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য দ্রব্যাদি ইচ্ছামাফিক মূল্যনির্ধারণ করে বাজারে ছাড়লেও তা তদারকিতে এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ।
তথ্য সূত্র :আজাদী
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন