বাঁশখালীতে ৮ হাজার নলকূপ বিকল বিশুদ্ধ পানি সংকটে চরম জনদুর্ভোগে
উজ্জ্বল বিশ্বাস
বাঁশখালীতে ভূগর্ভের পানি নলকূপের সর্বশেষ স্তর থেকে ৪০ থেকে ৪৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। এ কারণে উপজেলার প্রায় ৮ হাজার নলকূপে পানি ওঠছে না। সচল থাকা নলকূপগুলোতেও প্রবল চাপ দিয়ে পানি ওঠাতে হচ্ছে। তাও পরিমাণে কম। খোদ বাঁশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নলকূপটিতেও পানি ওঠছে না। নলকূপগুলো বিকল হয়ে পড়ায় পাড়ায় পাড়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও ফিটকারি দিয়ে পুকুরের পানি বিশুদ্ধ করে পান করছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ভূতাত্ত্বিক কোন গবেষণা ছাড়া পানির একই নিম্নস্তরে অপরিকল্পিতভাবে নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর ওপরে ইরি-মৌসুমে চাষাবাদের জন্য নলকূপের পানি ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। ফলে এলাকার নলকূপগুলোতে পানি ওঠছে না। নলকূপ স্থাপনের ক্ষেত্রে ভূতাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলে অপরিকল্পিত নলকূপ স্থাপনের ফলে ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগ আরো প্রকট হবে বলে আশংকা করছেন ভূতাত্ত্বিকরা।
জানা গেছে, বাঁশখালীতে নিত্যব্যবহার্য গভীর নলকূপ স্থাপন ক্ষেত্রে ৭ থেকে ৯শ’ ফুট গভীরে নল স্থাপন হয়। অগভীর নলকূপগুলো স্থাপন করা হয় ২ থেকে আড়াইশ’ ফুট গভীরে । প্রভাবশালীরা নিজেদের টাকা বাঁচাতে চাষাবাদ ক্ষেত্রেও স্থাপিত নলকূপগুলো একই পানির স্তরের গভীরে নল স্থাপন করেছেন। এই নলকূপ স্থাপনে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিভাগ কোন নীতিমালা তৈরি করেনি। চাষাবাদের নলকূপগুলো নিত্যব্যবহার্য নলকূপের চেয়ে আরো গভীরে স্থাপন করা হলে ইরি মৌসুমে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার ক্ষেত্রে এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।
বাঁশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিভিন্ন এনজিও এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় সরকারিভাবে স্থাপিত নলকূপ রয়েছে ৪ হাজার ২২৭টি, এনজিও এবং ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত নলকূপ আছে ১২ হাজার ৩শ’টি। তন্মধ্যে অকেজো হয়ে পড়ে আছে ৬২৭টি। বর্তমান ইরি মৌসুমে ভূগর্ভের পানি ৪০ থেকে ৪৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় অন্ততঃ ৮ হাজার নলকূপে পানি ওঠছে না । বাকি যে সব নলকূপ দিয়ে পানি ওঠছে তাতেও প্রবল চাপে পানি পাওয়া যাচ্ছে সামান্য।
উপজেলার জলদি, ছনুয়া, পুঁইছড়ি, সাধনপুর, বাহারছড়া, গন্ডামারা, শেখেরখীল, চাম্বল ও কাথারিয়া এলাকায় গিয়ে বিশুদ্ধ পানি সংকটে জনসাধারণের নানামুখী দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়েছে। জলদির সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম জানান, তাদের পাড়ার নলকূপটিতে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেশী একজনের নলকূপে পানি পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় তা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না । ছনুয়ার ফাতেমা বেগম জানান, তাদের পাড়ার নলকূপ বন্ধ হয়ে অনেকদিন আগে তারা আধা কিলোমিটার দূরে অন্য পাড়ায় গিয়ে পানি এনে ব্যবহার করেন। অনেক সময় ফিটকিরি দিয়ে পুকুরের পানি পান করেন বলে জানান। গ্রাম থেকে অনেক দূরে গিয়ে কলসি আর বালতি নিয়ে বিশুদ্ধ পানি বহন করতে মানুষের ছোটাছুটি লক্ষ্য করা গেছে।
বাঁশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান চৌধুরী জানান, সাধারণত ২২/২৩ ফুট পানি নিচে নেমে গেলে পানি ওঠানো সম্ভব হয় না নলকূপে এখন ইরি মৌসুমের কারণে পানি ৩৫/৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ একটু বেড়েছে । চাষাবাদের কারণে চাষীদের নলকূপ বন্ধ করা যাচ্ছে না ফলে এই দুর্ভোগ বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত থাকবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সাবেক সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হক জানান, বৈশ্বিক উঞ্চতার কারণে মৌসুমভিত্তিক বৃষ্টি হচ্ছে না । বৃষ্টি কম হওয়াতে ভূগর্ভের পানি প্রবাহ কমে গেছে। তাছাড়া ভূগর্ভকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের যে চাহিদা বেড়েছে তাতে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানি সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করার আশংকা রয়েছে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন