মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০১০

৩ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


৩ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স


দেড় বছরের মধ্যেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল ৫০ শয্যার সীতাকু- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবনটির। কিন্তু নির্মাণ শুরুর পর সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় পার হলেও কেবলমাত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে আজো সম্পন্ন হয়নি হাসপাতালের কাজ।
চট্টগ্রাম জেলার আরো প্রায় নয়টি থানার সঙ্গে একই সময়ে শুরু হয়েছিল সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ। অনেক আগেই কাজ শেষ হয়ে চিকিৎসাসেবা চলছে আনোয়ারা, পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, সন্দ্বীপ প্রভৃতি থানার নতুন হাসপাতাল ভবনে। এমনকি সীতাকুণ্ডের পার্শ¦বর্তী মিরসরাই এবং হাটহাজারী থানাতেও হাসপাতাল নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেছে অনেক আগেই। অথচ ‘দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত, অতি গুরুত্বপূর্ণ সীতাকু- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি আজো নির্মিত হয়নি সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট করার জন্য সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত দ্বিতল ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৯ মে। কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেনটেনেন্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (সিএমএমইউ) চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত ভবনটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স স্কেন অ্যাসোসিয়েটস (প্রা.) লি.। প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিতব্য ভবনটির বাজেট ছিল ৩ কোটি ৭১ লাখ ১৬ হাজার ৩১২ টাকা। দুতলা হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণ শেষ হওয়ার সময় ছিল ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর। কিন্তু নির্মাণের প্রথম দিক থেকেই কাজে অবহেলা শুরু করে স্কেন অ্যাসোসিয়েটস।
সূত্র জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কর্তৃপক্ষের বারবার তাগাদা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে কাজ শেষ করেনি। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ৭০ ভাগ কাজ শেষ করেই নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিক সঙ্কট ইত্যাদি অজুহাতে ভবনটি ফেলে রাখে। সিএমএমইউ চট্টগ্রামের সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য পরপর চারবার পত্র দেয়ার পর পুনরায় কাজ শুরু হয় ২০০৮ সালের ২৫ জুন।
দীর্ঘদিন পর হাসপাতাল ভবনটির কাজ শুরু করে ২০০৮ সালের ২৭ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি আবারও ভঙ্গ করে স্কেন এসোসিয়েটস। নির্ধারিত সময়ের পর (২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর) থেকে পরবর্তী দুই বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এই সময়ে কাজ হয়েছে মাত্র ১০/১২ শতাংশ। বর্তমানেও যে ধীর গতিতে অনিয়মিতভাবে ৪/৫ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ চলছে, তাতে কতদিনে ভবনটি সম্পন্ন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজনৈতিক কাজে ব্যস্ততার জন্য এবং ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে এদিকে নজর দিতে পারেননি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সানাউল হক নীরু। তিনি মনোহরদী আসনে বিকল্প ধারার প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। কবে নাগাদ সীতাকু- স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হবে সঠিক সময় জানাতে পারেনি ঠিকাদার সংশ্লিষ্টরাও। স্কেন এসোসিয়েটস এর প্রকল্প ম্যানেজার জানান, বর্তমানে ভবনের বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যে এই কাজটি লোকসানী প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল ভবনটি যথা সময়ে শেষ না হয়োয় নানান সংকটে পড়েছে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। সম্প্রসারিত হাসপাতালের জন্য বিভিন্ন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তারদের অনেকেই কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে যোগ দেওয়া ৯জন ডাক্তারকে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে পুরনো রুমগুলোতে। হাসপাতালে সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অঞ্চলটি দুর্ঘটনা প্রবণ অঞ্চল হওয়ায় নতুন ভবনের অভাবে সমস্যা প্রকট হয়ে উঠছে। প্রতিদিন ভর্তি হতে আসা অসংখ্য রোগীকে বেডের অভাবে ফিরিয়ে দিতে গিয়ে বিব্রত হচ্ছেন ডাক্তাররা। থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবু তাহের বলেন, দীর্ঘ সময়েও হাসপাতালটির নতুন ভবন নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে সরকারি এই হাসপাতালে। দুর্ঘটনাপ্রবণ অঞ্চল, পাহাড়ী অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল, শিল্পাঞ্চল ইত্যাদি ঝুঁকি ও গুরুত্বের কারণে সীতাকুণ্ডের হাসপাতাল ভবনটি দ্রুত নির্মাণ সম্পন্ন করা জরুরি।
যদিও সাইট ম্যানেজার আবদুল লতিফ ৩/৪ মাসেই নির্মাণ সম্পন্নের আশা করছেন, তবে দৈনিক ৫০/৬০ জন শ্রমিক কাজ না করলে আরো এক বছরেও দ্বিতল ভবনটির নির্মাণ সম্পন্ন হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল।

তথ্য সূত্র: যায়য়ায়দিন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন