সোমবার, ৮ মার্চ, ২০১০

ক্ষতবিক্ষত চট্টগ্রাম মহানগরী

ক্ষতবিক্ষত চট্টগ্রাম মহানগরী
রাস্তা সংস্কারে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় নেই : দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরবাসী
হেলাল উদ্দিন চৌধুরী


চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নে সমন্বয়ের বালাই নেই। নগর এলাকায় সেবা সংস্থা সমূহের মধ্যে কাজের কোন সমন্বয় না থাকায় সরকারের ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বেড়েই চলেছে নাগরিক দুর্গতি। এ সাথে নগর হয়ে পড়ছে শ্রীহীন। সমন্বয়হীনতায় অর্থ শ্রাদ্ধ হয় প্রচুর।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকা ষাট বর্গমাইল এলাকা নিয়েই বিস্তৃত। চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যু উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), টিএন্ডটি, বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম্স লিমিটেড (বিজিসিএল) নগর এলাকায় ব্যাপী রয়েছে তাদের সেবা কার্যক্রম। এ সাথে হালে যুক্ত রয়েছে গ্রামীণ ফোন, একটেল, সিটি সেল, বাংলা লিংক এর কার্যক্রম। এসব সংস্থার সার্ভিস লাইন নিয়ে যাওয়া হয়েছে মহানগরীর প্রধান সড়ক ও গলি, উপ-গলি দিয়ে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখার প্রাক অনুমতি ও নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ফি জমা দিযেই সার্ভিস লাইন, পাইপ সমূহ স্থাপনের অনুমতি লাভ করে সংস্থারসমূহ। মহানগরীতে ওয়াসা, টিএন্ডটি, বিজিসিএল এর রাস্তা খুড়াখুড়ির কাজ থাকে বছর জুড়েই। সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর সড়কগুলো বর্ষা মৌসুমের পর পরই প্রয়োজন অনুসারে মেরামত ও সংস্কার কাজ করা হয়। এসব কাজ করার পূর্বেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়েই সংস্থা সমূহকে তাদের পাইপ লাইন বা অন্য কোন কাজে রাস্তা কাটার প্রয়োজন হলে তা সেরে নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু, সংস্থাগুলো এ দিকে কখনো নজর দেয়নি।
ওয়াসার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যখনই কোন পানির লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে রাস্তা কাটার দরকার হয়। নতুন পানির সংযোগ লাইন স্থাপনেও রাস্তা কাটতে হয়। এজন্য তারা যথা নিয়মে সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে থাকে। টিএন্ডটি বিভাগও বলছে একই কথা। বিজিসিএল ও গ্যাস লাইন নিয়ে কাটাকাটিতে ব্যস্ত থাকে বছর জুড়ে। নগরীর ব্যস্ততম নিউমার্কেট, স্টেশন রোড, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি, আগ্রাবাদ, মোমিন রোড, জামাল খান, সিরাজদ্দৌলা সড়ক, ওআর নিমাজ রোড, সিডিএ এভেন্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বছর জুড়েই থাকে কোন না কোন সংস্থার রাস্তা কাটাকাটি। বিশেষ করে বর্ষা মওসুমের শুরু থেকে এ প্রবণতা দেখা দেয় বেশি। দেখা যায়, এক সংস্থার খুঁড়াখুঁড়ি শেষে সিটি কর্পোরেশন স্ফল প্ল্যান্ট ঐ অংশ সংস্কার কাজ শেষ করতে না করতেই আর একটি সংস্থা খনন কাজ করছে। এতে নগর জুড়ে যানজট চরম আকার ধারণ করে। পথচারী চলাচলে বিঘœ ঘটে। কোন কোন সংস্থার পাইপ লাইন অপরিসর সড়কের প্রায় মাঝ বরাবর হওয়াতেই অনেক সময় যানবাহন চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়। পক্ষান্তরে সমন্বয় হীনতার কারণে সরকারের এখাতে বিরাট অংকের অর্থ বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে ফি বছর।
সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় রাস্তা কাটাকাটির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করেও পরে জনস্বার্থে রাস্তা কাটার অনুমতি দিতে হয়। সেবা সংস্থা সমূহের কাজে সমন্বয় থাকলে এ অবস্থা এড়ানো যেত। এতে নাগরিক দুর্ভোগ যেমন কমত, তেমনি সরকারি অর্থের সাশ্রয় হত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন