সোমবার, ৮ মার্চ, ২০১০

বাঁশের সাঁকোটিই কেবল ভরসা


বাঁশের সাঁকোটিই কেবল ভরসা



ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলার মাতুভূইয়া ও জায়লস্কর ইউপির ১০ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের জন্য আলী মোহাম্মদ সাঁকোই একমাত্র ভরসা। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে উভয় পাড়ের গ্রামগুলোতে। তাই শিল্প, চিকিৎসা, ব্যবসাসহ সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ।
জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছোট ফেনী নদীর ওপর একটি সেতু হোক। এ দাবি প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ পথে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ছোট ফেনী নদীর দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে হীরাপুর, লালপুর, মহেষপুর, বদরপুর ও চাঁদপুর গ্রাম। উত্তর পাড়ে নেয়াজপুর, মাছিমপুর, খুশিপুর, আলমপুর গ্রাম। নদীর দক্ষিণ পাড়ে হীরাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরপুর ইসলামীয়া মাদ্রাসা। উত্তরে দারুল মাকসুদ প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা, মাকসুদা রশীদ এতিমখানা, মকবুল আহাম্মদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়। এসব গ্রামের শিক্ষার্থীকে নদী পার হয়ে জায়লস্কর ইউপিতে আসতে হয় অথবা মাতুভূইয়া যেতে হয়। এ কারণে অন্তত ১০ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ লোকজনের যাতায়াতের জন্য সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, ১৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সাঁকোটি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এলাকাবাসী সহজ যাতায়াতের জন্য তৈরি করে।
হীরাপুরের ওবায়দুল হক (৬৫) জানান, গবাদিপশু পারাপারে কৃষকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। স্থানীয় নুরুল ইসলাম (৭০) জানান, ২৫০টি বাঁশ দিয়ে জনউদ্যোগে সাঁকোটি তৈরি করা হয়েছে। বছর বছর মেরামতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ছোট শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হয়। সবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে এ এলাকার খ্যাতি রয়েছে। কৃষিপণ্য বিক্রিতে কৃষকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
মাতুভূইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন খাজু জানান, নদীর উভয় পাড়ে রাস্তা থাকলেও সেতু না থাকায় তা কাজে আসছে না। এ ব্যাপারে নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা কথা দিলেও কেউ কথা রাখেননি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল হয়নি।

তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন