কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার দরিদ্র জনগোষ্ঠির কাছে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রির জন্য নিয়োগ দেয়া ৫ ডিলারের মধ্যে কয়েকজন ডিলার চাল উত্তোলন করে খোলা বাজারে বিক্রি না করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ডিলার তাদের নির্ধারিত দোকানে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রির ব্যানার টাঙিয়ে বসলেও সিদ্ধ চাল হওয়ায় হতদরিদ্ররা চাল কিনতে যাচ্ছে না। এ সুযোগে ডিলারেরা খোলাবাজারে বিক্রি করতে প্রতিদিনের উত্তোলিত চাল বিক্রি দেখানোর জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও নিজেদের লোকজন দিয়ে ভূয়া টিপসইও নিচ্ছে মাষ্টার রোলে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস তদারকির কথা বললেও ডিলারেরা এসব কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, পৌর এলাকার মগবাজার, দক্ষিণ বাটাখালী, বিমানবন্দর সড়ক, ঘনশ্যাম বাজার ও বালিকা বিদ্যালয় সড়কে পাঁচ ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ করা হয়। এ ডিলার নিয়োগেও নিয়মনীতি মানা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার পৌর এলাকার বিমান বন্দর ও বালিকা বিদ্যালয় সড়কে নিয়োগ দেয়া ন্যায্যমূল্যের চাল বিক্রির দোকানে গিয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে আলাপে জানা গেছে, উত্তোলিত চাল বিক্রি দেখানোর জন্য ডিলার নিজেই প্রকাশ্যে ভুয়া নাম লিখে দিয়ে তাতে বেশ কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের টিপসই নিয়ে মাস্টার রোল সম্পাদন করছেন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।
হতদরিদ্রদের মতে, সরকার ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠির উপকারের চেষ্টা করলেও এ সুযোগ নিচ্ছে ডিলারেরা। তাদের মতে, এ অঞ্চলের লোকজন সিদ্ধ চাল খেতে অভ্যস্ত নয়। ফলে, লোকজন ওএমএস’র ডিলারদের কাছ থেকে চালও কিনতে যাচ্ছে না।
এলাকার সচেতন মহল জানিয়েছেন, সরকার ন্যায্যমূল্যে আতপ চাল ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করলে দরিদ্র জনগোষ্ঠির উপকারে আসবে এবং বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। তা না হলে দরিদ্রদের পরিবর্তে উপকৃত হবে ডিলাররা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি হয়ে আসছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত শুধুমাত্র পৌর এলাকার পাঁচ ডিলার উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেছেন ৩৭ টন চাল। তন্মধ্যে বিমানবন্দর ও বালিকা বিদ্যালয় সড়কের দুই ডিলার ১৭ টন চাল উত্তোলন করলেও এসব চাল কালোবাজারে বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের উপ-খাদ্য পরিদর্শক শামীম উদ্দিন জানান, হতদরিদ্রদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রয় সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য টেক অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু তৈয়বকে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও তৎপর রয়েছে বলে দাবি করলেও শামীম উদ্দিন স্বীকার করেছেন সিদ্ধ চাল হওয়ায় ডিলারেরা তেমন সাড়া পাচ্ছে না ক্রেতাদের।
তথ্য সূত্র: আজাদী
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন