শনিবার, ৬ মার্চ, ২০১০

নিয়ম উপেক্ষা করে ট্রাকে লবণ পরিবহন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে ঝুঁকির সম্মুখীন

নিয়ম উপেক্ষা করে ট্রাকে লবণ পরিবহন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে ঝুঁকির সম্মুখীন

আবেদুজ্জমান আমিরী

নীতিমালা না মেনে ট্রাকে করে লবণ পরিবহনের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রোড দুর্ঘটনার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাইওয়ে পুলিশ এসব লবণবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট অংকের টাকা নিয়ে এসব গাড়ি চলাচলে সাহায্য করে থাকে। ফলে লবণের পানির সাথে সড়কে গাদ জমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ সড়ক। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে প্রথম কাল বৈশাখীর ঝড়ের কারণে রাসত্মার উপর জমে থাকা লবণের আস্তরণ ও তৈরী হওয়া গাদ অনেকটা ধুয়ে গেছে। সড়ক থেকে চলে গেছে জমে থাকা গাদের তেলতেলে ভাব। ফলে আপাতত লবণাক্ততা ঝুঁকিমুক্ত হয়েছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে সড়ক।

সূত্র জানায়, শুকনো মৌসুমে খোলামেলাভাবে লবণ পরিবহনের কারণে সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে এবং যত্রতত্র ঘটে দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত মারা গেছে এবং পঙ্গুত্ব বরণ করছে অসংখ্য মানুষ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে সড়কে স্থানভেদে এক ইঞ্চি পর্যন্ত গাদের স্তর জমাট বাঁধে। একাধিক মহল থেকে অভিযোগ নিয়ম মোতাবেক ট্রাকের বডির নিচে ও উভয় পার্শে দুই স্তর বিশিষ্ট পলিথিন দিয়ে লবণ লোড করার পর উপরে আবারও পলিথিন দিয়ে ঢেকে পরিবহনের নিয়ম আছে। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা করেনা ট্রাক চালকরা ও লবণ ব্যবসায়ীরা। লবণ ব্যবসায়ীরা তাদের খেয়াল খুশিমত লবণ পরিবহন করছে। ফলে রাস্তার উপর লবণের পানির সাথে ধুলিযুক্ত হয়ে মহাসড়কে লবণ গাদের আসত্মর জমে পিছালো হয়ে উঠে। সড়ক পিচ্ছিল হওয়ায় গাড়ি হঠাৎ ব্রেক করতে চাইলেও রাস্তা তেলতেলে হওয়ায় গাড়ি উল্টে যায় বা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি ছিটকে পড়ে যায় রাস্তার বাইরে। বিকাল গড়াতে সড়কের অবস্থা আরো ভয়ানক হয়ে ওঠে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে জমাটকৃত গাদ ধুয়ে যাওয়ার ফলে সড়ক পরিষ্কার হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে গাড়িগুলো কিছুটা মুক্ত হয়।

বিশেষজ্ঞমহল ট্রাকে করে লবণ পরিবহনের ক্ষেত্রে নীতিমালা মানা হচ্ছে না অভিযোগ করে বলেন, যেসব ট্রাক লবণ পরিবহণ নীতিমালা পরিপন্থি কাজ করছে সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রতি বছর লবণাক্ততা ঝুঁকি থেকে সড়ক মুক্ত থাকত। কোন কোন মহল বলেছেন, লবণ পরিবহনে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণে সভা ও সেমিনারের আয়োজন করে সচেতনতা সৃষ্টি করা যেত। এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ থানা, উখিয়া থানা ও কক্সবাজার থানা ট্রাকে লবণ লোড করার সময় পলিথিন ব্যবহারে তদারকি ও কড়াকড়ি আরোপ করলে খোলা ট্রাকে করে লবণ পরিবহণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বন্ধ করা সম্ভব হতো। এ ব্যাপারে রেঞ্জের ডিআইজির হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।

খোলা লবণ পরিবহণ ও এর কারণে দুর্ঘটনার আধিক্যের কথা স্বীকার করে জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম ফারুক বলেছেন, ট্রাফিক আইনে এসব গাড়ির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোন আইন না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। মোটরযান আইনে ১৩৭ ধারার যে একটি আইন রয়েছে সেটি প্রয়োগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। এসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে যেখান থেকে গাড়িতে লবণ লোড হয় সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার উপর তিনিও গুরুত্ব আরোপ করেন। অথবা মোটর যান আইনে কঠোর আইনী সংশোধনী আনা ব্যতিত অন্য কোন পথ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন