বুধবার, ১০ মার্চ, ২০১০

চট্টগ্রামে ১৪নাম্বার ওয়াডে পানি সঙ্কটই প্রধান সমস্যা


চট্টগ্রামে ১৪নাম্বার ওয়াডে পানি সঙ্কটই প্রধান সমস্যা স্বপন মল্লিক



১৪ নাম্বার লালখান বাজার ওয়ার্ডের প্রথম ওয়ার্ড কমিশনার (মেম্বার) মরহুম আলহাজ সিরাজুল ইসলাম টিকে।
সীমানা
উত্তরে জাকির হোসেন রোড, দক্ষিণে টাইগার পাস, পূর্বে সিভিএ এভিনিউ, পশ্চিমে আমবাগান রোড, আয়তন প্রায় ৩ বর্গমাইল, লোকসংখ্যা ২ লাখ প্রায়, স্থানীয় ৮০ হাজার, অস্থানীয় ১২০ হাজার। মহল্লা ১২টি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে উঁচু-নিচু পাহাড়ঘেরা মনোরম প্্রাকৃতিক পরিবেশে এটি অবস্থিত।
লালখান বাজার ওয়ার্ডটি ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়। অব্যবহৃত পাহাড়ি এলাকায় আবাসিক এলাকা গড়ে উঠতে উঠতে লালখানবাজার ওয়ার্ডটি ক্রমেই ঘনবসতিপূর্ণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থানস্থল হয়ে উঠে। চট্টগ্রামের প্রধান পুলিশ ব্যারাক দামপাড়া পুলিশ লাইন এই ওয়ার্ডে অবস্থিত। এই ওয়ার্ডে জাকির হোসেন রোডের প্রখ্যাত হজরত গরিব উল্লাহ শাহ (র.) টাইগার পাসের মামা-ভাগিনা মাজারে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর ভক্ত অনুরক্তের আগমন ঘটে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ওয়ার্ডের মানুষ ব্যাপকভাবে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাজার হাজার লোককে হত্যা করা হয় দামপাড়া পুলিশ লাইনে এনে। এই ওয়ার্ডে শহীদদের ¯ৃ§তির উদ্দেশে সিডিও এভিনিউয়ের পাশে এক স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। এটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম।
পানি সরবরাহ ভবনের পাশেই পানি সঙ্কট
লালখানবাজার ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা পানীয় জলের অপ্রতুলতা, চট্টগ্রাম ওয়াসা ভবনের মাত্র ১০০ গজ দূরে অবস্থিত এ ওয়ার্ডের সুউচ্চ পাহাড়ে স্থাপন করা হয় বিশাল পানির ট্যাঙ্ক। অথচ এই ওয়ার্ডের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ভুগছে তীব্র পানি সঙ্কটে। ওয়ার্ডের প্রায় সর্বত্র পানির লাইন স্থাপিত হলেও প্রায় ১৫ থেকে ২০ ভাগ অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে পানির সংযোগ নিতে পারেনি।
এছাড়াও অধিকাংশ এলাকায় পানির প্রেসার না থাকায় দিনের অধিকাংশ সময় লাইনে পানি আসে না। কোথাও কোথাও লাগাতার ২/৩ দিন পানি আসে না। সবচেয়ে বেশি পানি সঙ্কটে ভুগছে বাঘঘোনা, চানমারি রোড, মতিঝর্ণা, টাংকির পাহাড় ও পোড়া কলোনি এলাকার অধিবাসীরা। লালখানবাজার ওয়ার্ডটি মহানগরীর অন্যতম উঁচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় পানির চাপ কম বলে জানিয়েছেন ওয়াসার পক্ষ থেকে।
মহানগর এলাকায় সরকারিভাবে কোনো নলকূপ বসানোর বিধান না থাকায় ওয়াসা ছাড়া কেউ এ কাজটি করতে পারে না। পুরনো যেসব নলকূপ আছে, পানির স্তর ভূগর্ভে কম হওয়ায় সেগুলোতে পানি ওঠে না।
এদিকে এলাকাবাসী ইতোপূর্বে পানির অভাব পূরণের দাবিতে এলাকার মহিলারাসহ সবাই মিলে মিছিল করে ওয়াসা অফিস ঘেরাও করেছে। প্রতিবছরই কয়েক দফা এই কর্মসূচি থাকে এলাকাবাসীর।
সিটি করপোরেশনের মাঝখানে অবস্থিত এই ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা পানি সঙ্কট হলেও কমবেশি সমস্যা বিদ্যমান অন্য ক্ষেত্রেও।
যোগাযোগের ক্ষেত্রেও লালখানবাজার ওয়ার্ডে রয়েছে সঙ্কট। একে তো রাস্তার সংখ্যা স্বল্প আবার যেগুলো আছে সেগুলোর অধিকাংশই অপ্রশস্ত। সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এখানে দীর্ঘদিনেও সরু সড়কগুলো প্রশস্ত করা হয়নি।
্এছাড়া এখানে রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ইতিমধ্যে সমাধান হলেও রয়ে গেছে আরো কিছু সমস্যা।
বিশেষ করে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের হতাহত হয়ার বিয়য়টি পুরো সিটি করপোরেশনেরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালখানবাজার ওয়ার্ডের অধিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩০/৪০ হাজার বস্তিবাসী রয়েছে। এদের অধিকাংশই বেকার, অর্ধবেকার ও একেবারে নিম্ন আয়ের। অনেকের পেশা এখনো ভিক্ষাবৃত্তি। এ ধরনের উল্লেখযোগ্য স্পটগুলোর মধ্যে পোড়া কলোনি, ভোতাইয়া কলোনি, ঢেবার পাড়, বাঘঘোনা টাংকীর পাহাড়।
পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কয়েকটি ওয়ার্ডের মধ্যে লালখানবাজার অন্যতম। শহরের সবচেয়ে উুঁচ স্থান বলে খ্যাত বাটালী হিলে দাঁড়িয়ে পুরো শহরের প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করা যায়। দেখা যায় সাগর ও সূর্য ডোবার দৃশ্যও। এখানে আরো দুটি সম্ভাবনাময় স্পটের মধ্যে রয়েছে জিলাপি পাহাড় ও ইস্পাহানি পাহাড়।
কমিশনার যা বলেছেন
ওয়ার্ড কমিশনার এ এফ কবির আহম্মদ মানিক বলেছেন, এলাকার পানি সমস্যা সমাধানে মাননীয় মেয়র ডিপটিউবওয়েল বসানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। কিন্তু জায়গা পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে এ ব্যাপারে সহায়তা চেয়েছি। প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সাংবাদিকদের প্রতি অত্যন্ত আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ভাই চট্টগ্রাম শহরে পাহাড়ধসে মৃত্যুর একটি আজাব তো আছে; এর থেকে বড় আজাব অপেক্ষা করছে বেসরকারি টেলিফোনের টাওয়ার বসানের বিষয়টি। একই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে সড়ক মোড়ে মাত্রাতিরিক্ত বিলবোর্ডও।
আমার এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে টাওয়ার বসছে যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট ভবন লোড নিতে না পেরে অকুস্থলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ করেই আমি এ আশঙ্কার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদেরসহ আপনাদের অবহিত করছি।
তিনি বলেন, পরিতাপের বিষয় হলো যে কোনো দুর্ঘটনা যখন সংঘটিত হয়ে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন সাংবাদিকরা তৎপর হয়ে পড়েন বেশি।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন