মোরশেদা নাসির
হঠাৎ করেই যেন উড়ে এসে পড়ল ছেলেটি গাড়ির সামনে এমইএস কলেজ ও জিইসি মোড়ের মাঝামাঝি রাস্তায়। রোড ডিভাইডার থেকে লাফিয়ে গাড়ির সামনে চাকার পাশে। ড্রাইভার হার্ডব্রেক করতে করতে ততক্ষণে ছেলেটি আহত আর চারপাশে জড়ো হয়েছে অন্য ছাত্ররা। ইতোমধ্যে ড্রাইভারকে উত্তম মধ্যম দেয়া শুরু হয়ে গেছে, কেউ গাড়িতে কিল ঘুষি মারছে, দুটো সাইডগ্লাস কুপোকাৎ আর আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। ততক্ষণে মারমুখী ছাত্র-জনতা পাঁয়তারা করছে গাড়ি ভাঙার। যাই হোক, ট্রাফিক পুলিশ ও এমইএস কলেজের দু-তিন জন ছাত্র নেতার হস্তক্ষেপে আমি আহত ছেলেটিকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটলাম। সঙ্গে ছিল এমইএস কলেজের কিছু নেতা শুকরিয়া এক্সরে-তে কোন হাড় ভাঙার আলামত পাওয়া যায় নি। হাল্কা চোট পেয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত ছেলেটির কিছু হয়নি।
বলা বাহুল্য, এমইএস কলেজের কলেজ সংসদের নেতারা ঐদিন এরকম উত্তেজনাকর মুহূর্তে সুন্দরভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তারা বিবেকপ্রসূত কাজটিই করেছেন। ইচ্ছে করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ করতে পারতেন। অথচ তা না করে সুন্দরভাবে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। একটি ছাত্র সংসদ ছাত্রদের উত্তেজনাকে তীব্রও করতে পারে আবার এমনকি প্রশমিতও করতে পারে চমৎকারভাবে। তাদের এ ধরনের ক্রিয়াকর্মে আমি মুগ্ধ। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমইএস কলেজের সকল ছাত্র ও ছাত্র সংসদকে। ওমর গণি কলেজ ছাত্র সংসদ সমাজকল্যাণ অবদান রাখবে এই কামনা করছি।
আমি এত গল্পের অবতারণা করলাম এই জন্য যে, বাসায় ফেরার পথে লক্ষ্য করলাম ইস্পাহানী ও এমইএস কলেজের রাস্তায় কোন জেব্রা ক্রসিং কিংবা স্পিডব্রেকার নেই অথচ এই রাস্তাটিতে প্রতিদিন পার হচ্ছে শত শত কিশোর- যুবা-অভিভাবকরা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত বাস, ট্রাক, মাইক্রো, কার, টেক্সিসহ ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচল করে। অতি ব্যস্ত এ সড়কে স্পিডব্রেকার থাকা দরকার। ন্যূনতম জেব্রাক্রসিং।
তাই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি এমইএস কলেজ গেটে একটা জেব্রা ক্রসিং অথবা স্পিডব্রেকার দেয়ার জন্য।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন