সোমবার, ৮ মার্চ, ২০১০

চট্টগ্রাম জেলায় ভোটার বেড়েছে ৩ লাখের বেশি

জেলায় ভোটার বেড়েছে ৩ লাখের বেশি




চট্টগ্রাম জেলার হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা) দেশের মোট ১৭ টি জেলায় একযোগে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এবারের হালনাগাদ তালিকা অনুসারে চট্টগ্রাম জেলায় মোট ভোটার বেড়েছে তিন লাখ পাঁচ হাজার আটশ ৮৭ জন। শতকরা হিসেবে ভোটার বৃদ্ধির হার সাত দশমিক ১৭ শতাংশ।


হালনাগাদ শেষে চট্টগ্রাম জেলার মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৯৪ হাজার পাঁচশ তিন জন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে করা ভোটার তালিকা অনুসারে চট্টগ্রাম জেলার মোট ভোটার ছিল ৪৩ লাখ ৮৮ হাজার ছয়শ ১৬ জন। বাদপড়া ভোটাররা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।


নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ভোলা জেলা বাদে দেশের ৬৩ জেলার হালনাগাদ ভোটার তালিকা তিন ধাপে প্রকাশ করা হবে। ৮ মার্চ ১৭ টি জেলার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ মার্চ ২০ টি জেলা এবং ২২ মার্চে ২৬ টি জেলার খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে।’ খবর বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কমের। গতকাল সোমবার প্রথম পর্যায়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নোয়াখালী, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা) এবং চট্টগ্রাম জেলার খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সারাদেশে হালনাগাদ তালিকায় আগের চেয়ে ৩৬ লাখ ৮৯ হাজারেরও বেশি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। নবম সংসদ নির্বাচনের সময় প্রথমবারের মতো ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮ জন ভোটার চবিসহ তালিকাভুক্ত হন।


চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম জেলার ১৪ টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকার হালনাগদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকা জামালখানস্থ জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। খসড়া তালিকার দাবি, আপত্তি ও সংশোধনী শেষে আগামী ১৫ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।


জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন গতকাল সোমবার সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যারা বাদ পড়েছেন তারা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে ভোটার হতে পারবেন। এছাড়া যাদের কোনো তথ্য খসড়া তালিকায় ভুল ছাপা হয়েছে তাও সংশোধন করতে পারবেন। এজন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।


সূত্র জানায়, উপজেলাগুলোতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চসিক এলাকায় উপ নির্বাচন কমিশনার, চট্টগ্রাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন। দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য দরখাস্ত দাখিলের শেষ সময় ২৩ মার্চ। এরপর ৩০ মার্চের মধ্যে সংশোধনী কর্তৃপক্ষ দাখিল করা দরখাস্ত যাচাই বাছাই করবে। আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে সংশোধনীর বিষয়ে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ১৫ এপ্রিল প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত তালিকা।


এবারের খসড়া তালিকা অনুসারে চসিকের ৪১ টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার বেড়েছে এক লাখ ২৪ হাজার পাঁচশ ৯০ জন। এত মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ লাখ দুই হাজার নয়শ ১৭ জন। ২০০৮ সালের ভোটার তালিকা অনুসারে চট্টগ্রাম মহানগরীর ভোটার ছিল ১৫ লাখ ৭৮ হাজার তিনশ ২৭ জন। শতকরা হিসেবে মহানগরীতে এবারের ভোটার বৃদ্ধির হার ছয় দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার বেড়েছে ৫৬ হাজার নয়শ ৩৪ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬৭ হাজার ছয়শ ৫৬ জন। আগের তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে যাদের বয়স ১৭ বছর ১০ মাস হয়েছিল তাদের এবারের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।


এদিকে চট্টগ্রাম জেলার ১৪ টি উপজেলার হালনাগাদ খসড়া তালিকায় ভোটারে বেড়েছে এক লাখ ৮১ হাজার দুইশ ৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৬ হাজার নয়শ ৩৪ জন এবং নারী ভোটার ৬৭ হাজার ছয়শ ৫৬ জন।শতকরা হিসেবে ভোটার বৃদ্ধির হার সাত দশমিক ৮৯ শতাংশ। আগের তালিকা অনুসারে ১৪ উপজেলার মোট ভোটার ছিল ২৮ লাখ ১০ হাজার দুইশ ৮৯ জন। খসড়া তালিকা অনুসারে মোট ভোটার ২৯ লাখ ৯১ হাজার পাঁচশ ৮৬ জন। হালনাগাদে সবচেয়ে বেশি ভোটার বেড়েছে পটিয়া উপজেলায়। এই উপজেলার ২২ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় মোট ভোটার বেড়েছে ১৯ হাজার চার জন। সবচেয়ে কম ভোটার বেড়েছে চন্দনাইশ উপজেলায়। এই উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটার বেড়েছে মোট ছয় হাজার নয়শ ৫৫ জন।


উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রাম জেলার ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ শুরু করে নির্বাচন কমিশন। চার পর্যায়ে ভাগ করে সবগুলো উপজেলা এবং চসিক এলাকার হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে এবং বেশ কয়েকটি উপজেলায় রোহিঙ্গা ভোটারের সন্ধান পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা যাচাই বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন