কক্সবাজার থেকে আসা সাব মেরিন ক্যাবলের অপটিক্যাল ফাইবার লাইনটি মারাত্মক রকমের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। নগরীর মীর্জাপুলে সিটি কর্পোরেশনের ব্রিজ নির্মাণ কার্যক্রমের ফলে অপটিক্যাল ফাইবারের লাইনটি একেবারে খোলা অবস্থায় ঝুলছে। দফায় দফায় তাগাদা দেয়া স্বত্ত্বেও টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ লাইনটি স্থানান্তরিত না করায় ঝুঁকির মাত্রা প্রতিদিনই বাড়ছে। খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা লাইনটি কেটে গিয়ে পুরো বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষ আশংকার কথা স্বীকার করে বাজেট না থাকায় লাইনটি সরাতে পারছে না বলে জানিয়েছে। অপরদিকে বিভিন্ন সার্ভিস লাইনের ফলে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার ফলে নির্মান শেষ হলেও ব্রিজটির সুফল জনগন পাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, গত বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ব্রিজটি নির্মান প্রকল্প হাতে নেয়। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার এ প্রকল্পটি মেজবা এসোসিয়েটস নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাসত্মবায়িত করছে। ৮৫ ফুট লম্বা এবং ৫৫ ফুট প্রস্থের চার লেন বিশিষ্ট এ ব্রিজটি প্রি স্ট্রেজড কংক্রিট গার্ডার ব্রিজ প্রযুক্তিতে তৈরী করা হচ্ছে। গত জুলাই মাসে শুরু হওয়া ব্রিজটির নির্মাণ কাজ আগামী জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রিজটি নির্মাণের শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রতিকুলতা কাজ করছে। ইতোমধ্যে ব্রিজের এলাইমেন্ট থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের ১১ হাজার এবং ৩৩ হাজার ভোল্টের ফিডার লাইন, বাখরাবাদ গ্যাসের মুল সরবরাহ লাইন এবং ওয়াসার ১০ ইঞ্চি ব্যসের সরবরাহ লাইন সরাতে হয়েছে। পিডিবি, বাখরাবাদ এবং ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বেশ ঢিমে তালে তাদের লাইনগুলো সরিয়ে নিলেও টিএন্ডটি কর্তৃপক্ষ তাদের মুরাদপুর এক্সচেঞ্জের টেলিফোন ক্যাবল এবং সাবমেরিণ ক্যাবলের অপটিক্যাল ফাইবার লাইন স্থানান্তর করেনি। এতে করে টেলিফোন এবং অপটিক্যাল ফাইবার লাইনটি অনেকটা উন্মুক্ত অবস্থায় নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচে ঝুলছে। কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে তারগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যে কোন সময় এ তার কেটে গেলে বাংলাদেশই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বিশেষ করে সারা দেশের ইন্টারনেট যোগাযোগ এ ক্যাবল লাইনের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম টিএন্ডটির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাইনটি খোলা অবস্থায় ঝুলছে। আমরা সরজমিনে গিয়ে কোন রকমে ঠেস দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছি। ঢাকায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখান থেকে বাজেট অনুমোদন এবং অর্থ পাওয়া না গেলে লাইনটি সরানো সম্ভব হবে না। লাইনটি সরাতে দশ লাখ টাকারও বেশি অর্থের প্রয়োজন।টাকা পাওয়া গেলে লাইনটি সরাতে আট দশদিন সময় লাগতে পারে বলেও তিনি জানান।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই নানা ধরনের প্রতিকুলতা দেখা দিয়েছে। শুরুতে প্রায় আড়াইশ’ বছরের পুরাতন একটি ব্রিজের ফাইন্ডেশন তুলতে হয়েছে মাটির নিচ থেকে। এর পরই বাখরাবাদ, পিডিবি এবং ওয়াসার লাইন সরানোর জন্য সিটি কর্পোরেশনকে দফায় দফায় যোগাযোগ এবং তাগাদা দিতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে। এতে করে পুরোদমে ব্রিজের কাজ চালানো যায়নি। তবুও আগামী জুন মাসের মধ্যে মুল ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন ইতোমধ্যে ব্রিজটির নির্মাণ কাজের সত্তর শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
জুন মাসের মধ্যে মূল ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এটির সুফল জনগন পাবে না বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিজটির এপ্রোচ রোডে এখনো বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা রয়ে গেছে। এগুলো সরানোর ব্যবস্থা করা না গেলে চার লেনের ব্রিজ করেও সুষ্ঠুভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব হবে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন