মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০১০

সদরঘাট কালিবাড়ি মোড়ে সিডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান


সদরঘাট কালিবাড়ি মোড়ে সিডিএ’র উচ্ছেদ অভিযান

নগরীর ব্যস্ততম সদরঘাট কালিবাড়ি মোড়ে অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সদরঘাট রোড সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কালিবাড়ি’র তিনদিকে গড়ে উঠা দোকানঘরগুলোর অর্ধেকাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কালিবাড়ির সেবায়েত ও এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অভিযোগ করেছেন, হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলার রায় ঘোষণার খবর পাওয়া মাত্রই সিডিএ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। তারা রায়ের কপি দেখতে চাইলেও অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা অন্য কোন কর্মকর্তা তা দেখাতে পারেন নি। তড়িঘড়ি করে অভিযানে নামার কারণে দোকানদারেরা তাদের মালামাল সরাতে পারে নি। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া, নিজস্ব জায়গায় কালি মন্দিরের প্রধান ফটকের (গেট) অবস্থান হওয়া সত্ত্বেও সিডিএ বেআইনিভাবে তা ভেঙ্গে দিয়েছে। ফলে, তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।


অপরদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাছাড়া, জনগণের স্বার্থেই সড়ক সম্প্রসারণ করতে এ অভিযান চালানো হয়’। কালিবাড়ির গেট ভাঙ্গা হল কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেবল গেট নয়। তার পাশাপাশি চারিদিকের সীমানা প্রাচীরও আমরা সিডিএ’র পক্ষ থেকে নতুনভাবে করে দেব’।


গতকাল মঙ্গলবার দুপুর বারোটার দিকে সিডিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মামুন মিয়া, প্রধান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা বুলডোজার, শ্রমিক ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে সদরঘাট মোড়ে আসেন। এরপর যানবাহন চলাচল সীমিত করে কালিবাড়ির দু’পাশে গড়ে উঠা ৭/৮ টি দোকানঘরের অর্ধেকাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। এসময় কালিবাড়ির গেটও ভেঙ্গে ফেলা হয়। শ্রমিকেরা টিনের চালা ও দেয়ালের কিছু কিছু অংশ মাস্তুল দিয়ে ভেঙ্গে। কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য অভিযান চলাকালীন সময়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।


ঘটনাস্থলে কালিবাড়ির সেবায়েত স্বপন ভট্টাচার্য্যসহ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ সিডিএ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রায়ের কপি দেখতে চান। তারা মন্দিরের গেট ভেঙ্গে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, সিডিএ সড়কের পাশে নালা’র জন্য তিন ফুট জায়গা নেয়ার কথা বলে এখন গেট পর্যন্ত ভেঙ্গে দিয়েছে।


পরিচালনা কমিটির সদস্য বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র মন্দিরে আঘাত করা হয়েছে। এতে, আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। আন্দরকিল্লার পঞ্চানন ধামসহ অন্য জায়গায় মসজিদ কিংবা মন্দির ভাঙ্গার আগে সিডিএ ভেতরের দিকের অংশের কাজ নিজেরাই করে দিয়েছে। তারপর রাস্তার দিকের অংশ পরিষ্কার করেছে। কিন্তু, সদরঘাট কালিবাড়ির ক্ষেত্রে উল্টোটি করা হয়েছে’।


বিক্ষুব্ধ লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন মজুমদারের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করেন। তাদেরকে শান্ত করতে তিনি বলেন, ‘মন্দিরের গেট ও সীমানা প্রাচীর নতুনভাবে এবং আরও সুন্দরভাবে করে দেয়া হবে। তাছাড়া, অধিগ্রহণকৃত জায়গার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণও প্রদান করা হবে। অসাবধানতাবশত গেটটি ভাঙ্গা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি উপস্থিত সংখ্যালঘু লোকজনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিডিএ সদরঘাট রোড সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বছরখানেক আগে থেকে কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যানজট কমিয়ে আনাসহ নগরীর সড়ক নেটওয়ার্ক সুচারু করার লক্ষ্যে সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সদরঘাট মোড়ে সরকারি সিটি কলেজ, সিটি কর্পোরেশনের মেমন মাতৃসদন হাসপাতাল ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রক্ষাকালি বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনার কারণে প্রায়শ যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া, সড়ক দখল করে ব্যবসা ও ভাসমান হকারের আধিক্যও রয়েছে। সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে অধিগ্রহণকৃত জায়গা থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সিডিএ নোটিশ দিলে তারা উস্ত আদালতে রিট করে। দীর্ঘদিন শুনানি শেষে মঙ্গলবার উস্ত আদালতের দেয়া রায় সিডিএ’র পক্ষে যায়। ফলে, সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় আইনি বাধা দূর হয়।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন