মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০১০

দীঘিনালায় খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ


দীঘিনালায় খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা আবাসিক বিদ্যালয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাসি খাবার থেকে এ বিষক্রিয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাসি খাবার পরিবেশনের জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষককে দায়ী করেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়,গতকাল মঙ্গলবার সকালের নাচ্চা দেওয়া হয়েছে পরোটা ও বাসি সবজি দিয়ে। সবজি দুর্গন্ধ হওয়ায় তাঁরা প্রধান শিক্ষাকে জানানোর পর তিনি এ সবজি খেলে কিছুই হবে না বলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে খেতে বলেন। সবজি ও পরোটা খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সবার পেট ব্যাথা,মাথা ব্যাথা ও বমি শুরু হয়। পরে সহকারী শিক্ষকরা তাদেরকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃতরা হলো তৃতীয় শ্রেণীর আরিফ হোসেন,উষাপ্রু মারমা,রনেল ত্রিপুরা,সৈকত ত্রিপুরা,সাহিনা চাকমা,মান্নাতি চাকমা,শুভ্রা চাকমা,কৃপা ত্রিপুরা,জুয়েল চাকমা,রুপম চন্দ্র নাথ,অন্তর চাকমা,চিক্কু চাকমা,নয়ন মনি আক্তার,নয়ন চাকমা,রুবেল চাকমা,মিশন ত্রিপুরা এর, চতুর্থ শ্রেণীর উত্তম চন্দ্র নাথ,জাহাঙ্গীর আলম,সঞ্জয় চক্রবর্তী,মামুন মিয়া ও উজ্জল চাকমা পঞ্চম শ্রেণীর আকিব মিয়া ও নূরুল ইসলাম জানায়, ‘প্রায় সময় আমাদেরকে পচা বাসি খাবার খেতে দেয়। প্রধান শিক্ষককে বললেও কোন লাভ হয় না। স্যার শুধু যা দিয়েছে তাই খেতে বলেন। এমনকি গত রমজানের ঈদে আমাদের মরা ছাগলের মাংস পর্যন্ত খেতে বাধ্য করেছেন প্রধান শিক্ষক’। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজ্জাক জানান,ছাত্র,ছাত্রীরা যা অভিযোগ করেছে একটিও মিথ্যা নয়। খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম দেখেও আমরা অসহায়,কিছু বলতে পারি না। প্রধান শিক্ষকই সব দেখা-শুনা করেন। প্রধান শিক্ষক রুপন কান্তি চাকমা তার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,খাদ্য সরবরাহ করছে ঠিকাদার,আমি কিছু জানি না। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আপনার দেখার দায়িত্ব রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র এদিকে জানায়,১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা জানান,বিদ্যালয়টিতে খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম দীর্ঘদিনের । জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আমাদের করার কিছুই নেই। তবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদকে অবহিত করা হয়েছে।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন