মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০১০

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে দুর্ঘটনা বাড়ছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে দুর্ঘটনা বাড়ছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে ট্রেন দুর্ঘটনার ঘটনা। চলতি মাসের শুরুতে পাঁচদিনে চারটি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ ঘণ্টা বন্ধ ছিল রেল পথ। পথে পথে আটকা পড়ে আন্তঃনগর, মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। সবগুলো দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে গুডস ও কনটেইনার ট্রেনকে। পুরনো ওয়াগন নিয়ে চলাচলের কারণেই দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশিষ্টরা। আর তাতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। 
দুর্ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন দাবিতে রেল পথে ট্রেন আটকের ঘটনায় স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার নরসিংদীতে জনতা কম্পিউটার ট্রেন অবরোধ করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম সিলেট রেল পথে সাড়ে তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। রেলওয়ে সূূত্র জানায়, পুরনো বগি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ইঞ্জিন নিয়ে ৩২০ কিলোমিটার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথে চলাচল করছে কনটেইনার ও গুডস ট্রেন। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা খাদ্য বিভাগের একটি বড় অংশের চালান নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রেল পথে চলাচল করে গুডস ট্রেন। আর বন্দর ইয়ার্ড থেকে নানা ধরনের পণ্য নিয়ে কমলাপুর আইসিডিতে চলাচল করে কনটেইনার ট্রেন। এসব ট্রেনগুলোর গতি স্বাভাবিকের চেয়ে কমিয়েও দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। চলন্ত অবস্থায় একটি ওয়াগন কিংবা বগি লাইনচ্যুত হলেই পুরো রেল পথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য তিন কিংবা ছয় ঘণ্টার রেল পথ অতিক্রম করতে লেগে যায় ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা। একারণে যাত্রীরা এখন রেল পথে চলাচলে বিমুখ হয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, ২৮ ফেব্র“য়ারি গভীর রাতে ৩১টি ওয়াগন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ড থেকে ঢাকা রওয়ানা দেয় একটি গুডস ট্রেন। এটি ভোর রাত তিনটা ৪০ মিনিটে ফেনীর ফাজিলপুর পৌঁছলে হঠাৎ মাঝখানের তিন বগি বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়। দুটি বগি রেল লাইন থেকে কিছু দূর ছিটকে পড়ে। এসময় ঢাকা ও চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী তিনটি ট্রেন আটকা পড়ে। এগুলো হচ্ছে তুর্ণানিশিথা, মেইল ও মেঘনা এক্সপ্রেস। অপরদিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী চারটি ট্রেন আটকা পড়ে। এগুলো হচ্ছে সুবর্ণ, মহানগর প্রভাতি, সাগরিকা ও কর্ণফুলী এক্সপ্রেস। ৭ ঘণ্টা পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার শেষে আবার সচল হয় রেল পথ।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দভাগে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল পথে একটি কনটেইনার ট্রেনের দুটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। এর পর বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম সিলেট পথে ট্রেন চলাচল। সাড়ে ৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বিকালে লাইনচ্যুত ওয়াগন উদ্ধারের পর সচল হয় ট্রেন চলাচল। এসময় রেল পথের উভয় দিকে আটকা পড়ে ৮টি ট্রেন। এর আগে রেল পথের কুমিলা অংশে আরও দুটি কনটেইনার ট্রেন দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে। একজন যাত্রী জানান, চলতি মার্চ মাসের শুরু থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে ট্রেন চলতে পারেনি। ঘন ঘন দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে পূর্ব রেলওয়ের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার ইব্রাহিম খলিল যুগান্তরকে বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৪৫ কিলোমিটার বেগে চলছে কনটেইনার ও গুডস ট্রেন। কিন্তু এর পরও ঘন ঘন দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব ট্রেনে নতুন ওয়াগন ও ইঞ্জিন সংযোজন করা হলে দুর্ঘটনা কিছুটা কমে আসতে পারে। তিনি স্বীকার করেন চলতি মাসের শুরু থেকে ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনায় যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে রেলওয়ের মাসিক পর্যালোচনা সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে শুক্রবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট পথে আড়াই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নরসিংদীর খানাবাড়ি স্টেশনে ক্ষুব্ধ জনতা একটি কমিউটার ট্রেন আটকে দিলে রেল পথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খানাবাড়ি স্টেশনে কমিউটার ট্রেন থামার দাবিতেই ট্রেনটি জনতা অবরোধ করে রাখে ।


তথ্য সূত্র: যুগান্তর 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন