২৯ বছরেও গড়ে ওঠেনি বান্দরবানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ
জেলা হবার দীর্ঘ ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বান্দরবানে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি, আলীকদম ও লামা উপজেলার লোকজনকে জেলা সদরে আসতে হয় কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি উপজেলা পাড় হয়ে। এ দূরত্ব পার হতে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতিরও শিকার হচ্ছেন যাতায়াতকারীরা।
১৯৮১ সালে বান্দরবান জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জেলা হবার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বেশ কয়েক দফায় পরিকল্পনা নেয়া হয়। কিন্তু এ পরিকল্পনা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
বান্দরবান জেলা সদর থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি, আলী কদম, লামা ও রুমা উপজেলার দূরত্ব যথাক্রমে ১২০, ১১৫, ৯৫ ও ৫৪ কিলোমিটার। অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ চালু না হওয়ায় এ সকল উপজেলার লোকজনকে কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, চকরিয়া, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে কয়েক দফা গাড়ি বদলে আসতে হয়।
আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ না থাকায় এ উপজেলার লোকজনকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলীকদম-থানছি সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই উপজেলার লোকজনের মধ্যে যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় আমাদের উপজেলার লোকজনকেই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলা সদরে মামলাসহ যে কোন কাজে যেতে হলে ঘর থেকে বের হতে হয় কমপক্ষে ৪/৫ ঘণ্টা আগে। এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের সাথে ঘুমধুম ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ নেই। উপজেলা সদর থেকে এ ইউনিয়নে যেতে হয় কক্সবাজারের রামু ও উখিয়া উপজেলা ডিঙ্গিয়ে।
অন্যদিকে, জেলা সদরের সাথে রুমা উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও ৩য় সাঙ্গু ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় লোকজন ভোগান্তির শিকার। তবে থানছি উপজেলার সাথে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।।
লামা-আলীকদম উপজেলার সাথে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে লামা-সুয়ালক সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হলেও কবে তা শেষ হবে, নিশ্চিত করে কেউ তা বলতে পারছে না। তার ওপর আলীকদম-বাইশারী-ঘুমধুম সড়কের কাজ এখন থমকে আছে।
উপজেলার বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর অবস্থাও নাজুক। থানছি উপজেলা সদরের সাথে তিন্দু, রেমাক্রী ও মদক এলাকার কোনো সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌ-পথই একমাত্র ভরসা। কিন্তু বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে কিংবা শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে এ এলাকার লোকজনদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। বিভিন্ন নির্বাচন ও জাতীয় টিকা দিবসে এ সকল এলাকায় মালামাল পাঠাতে হয় হেলিকপ্টারে। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষে এ এলাকায় যথাযথভাবে নজর রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে থানছির এ এলাকা অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসীদের।
আলীকদম উপজেলার পোয়ামুহুরী ও কুরুকপাতা এলাকার সাথেও উপজেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ওই সব এলাকায় নির্বাচন ও জাতীয় টিকা দিবসগুলোতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়। জেলা সদর থেকে টংকাবতী ইউনিয়নে পৌঁছাতে লোকজনকে এখনও অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বান্দরবান সদর উপজেলার মনজয়পাড়াতে যাওয়ার সড়কটিও এখনও নির্মিত হয়নি। এ এলাকায় ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ভাবক অংথুই খয় এর মনজয় পাড়ায় বালাঘাটা-চড়ুইপাড়া হয়ে যেতে এখনও কয়েক ঘণ্টা লেগে যায়। উজি হেডম্যান পাড়ায় খালের উপর একটি ব্রিজের অভাবে জেলা সদর থেকে এক রকম বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে মনজয় পাড়া।
রোয়াংছড়ির মুন্নম পাড়া, রনিনপাড়া ও রুমা উপজেলার পাকনিয়ার পাড়াসহ অনেক এলাকার সাথে এখনও উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি। তবে বান্দরবান-থানছি সড়ক, বান্দরবান-বাঘমারা সড়ক, বান্দরবান-গোয়ালিয়াখোলা সড়ক, রোয়াংছড়ি-কচ্ছপতলী সড়ক, রোয়াংছড়ি-ঘেরাউ সড়ক, রুমা-বগালেক সড়ক বাস্তবায়িত হওয়ায় জনগণের কষ্ট অনেকটা লাঘব হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, সরকার জেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তরিক।।
তথ্য সূত্র: শীর্ষ নিউজ থানছিতে সাঙ্গু নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ হওয়ার ফলে লোকজনের অনেক দিনের কষ্ট লাঘব হয়েছে ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি ও সড়ক বিভাগ অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন