চট্টগ্রামে সাতটি মিল পুরোদমে চালু নেই ।। লিজ দেয়া জুট মিল ফিরিয়ে আনতে বিজেএমসির উদ্যোগ
আলীউর রাহমান
সোনালী আঁশের সেই সুদিন ফিরে আসলেও বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম এম এম জুট মিল। চট্টগ্রামের বাকি সাতটি জুট মিলও পুরোদমে চালু নেই। চট্টগ্রামের আটটি জুট মিল ও দুইটি কার্পেট মিলের মধ্যে ছয়টি জুট মিল পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি)। বাকি চারটি মিল বিএনপি সরকার আমলে লিজ দেয়া হয়েছিল। পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে লিজ দেয়া মিলগুলো ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিজেএমসি। চট্টগ্রামের দশটি জুটমিল পুরোদমে চালু হলে আরও বিশ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে সিবিএ নেতারা জানান। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ আন্দোলন জোরদার হওয়ায় সারা বিশ্বে সিনথেটিক ফাইবারের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। সেই সাথে পাল্ল দিয়ে পাটের চাহিদা বাড়ছে।
২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশের অধিকাংশ পাটকলকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসাবে চিহ্নিত করে বেশকিছু মিল বন্ধ করে দেয়া হয়। বাকি মিলের অধিকাংশ লিজ প্রদান করা হয়। দেশের অধিকাংশ মিল বন্ধ থাকায় কৃষক পাট চাষ বন্ধ করে জমিতে বিকল্প চাষাবাদ করতে থাকে। দেশের মিলে চাহিদা না থাকার সুযোগে উৎপাদিত পাটের বাজার দখল করে নেয় ভারত। ভারত বাংলাদেশে উৎপাদিত পাটের বাজার দখল করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে নেয়। এদিকে বর্তমানে বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ থেকে পাট রপ্তানি বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বন্ধ পাটকল চালু করার পাশাপাশি লিজ দেয়া পাটকল ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ গ্রহণ করে।
চট্টগ্রামে দশটি পাটকলের মধ্যে সবকটিতে এককালে তিন শিফট চালু ছিল। বর্তমানে একটি মিলেও তিন শিফট নেই।। তবে দুইটি ইউনিট পুরোদমে চালু হয়নি। তবে আশার কথা হচ্ছে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে মিলটি। আমিন জুট মিল জানুয়ারিতে ৫ লাখ ও ফেব্রুয়ারিতে ৭ লাখ টাকা লাভ করেছে। বর্তমানে আমিন জুট মিলে এক ইউনিট বন্ধ থাকা সত্বেও ৮ হাজার শ্রমিক কর্মচারী কর্মরত আছে। পুরোদমে চালু করা সম্ভব হলে এ মিলে আরও চার হাজার শ্রমিক কাজ করতে পারবে। সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থিত আর আর জুট মিল ও এম এম জুট মিল বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে লিজ দেয়া হয়। ন্যাচার বেগ নামের একটি প্রতিষ্ঠান মিল দুইটি লিজ নেয়। লোকসানের কারণে বর্তমানে এম এম জুট মিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিজেএমসি মিল দুইটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ইতোমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিজেএমসি চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ফসিউর রহমান বলেন, উক্ত মিল দুইটি মাসিক ভাড়ায় লিজ দেয়া হয়েছিল। এখন তা বিজেএমসিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। মিলটির পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য আতাউর রহমান খান কায়সার বলেন, কোম্পানির সিংহভাগ অর্থের যোগানদাতা অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানি। তারা মিল দুইটি লিজ নেয়ায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। পাটের বাজার চাঙ্গা হলে বন্ধ মিলও নিশ্চয় চালু করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
দেশের অন্যতম আধুনিক জুট মিল কর্ণফুলী জুট মিলও তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে লিজ দেয়া হয়েছে। সাদ মুসা গ্রুপ কর্ণফুলী জুট ও কর্ণফুলী ফোরাত কার্পেট মিল ৫ বছর মেয়াদে লিজ নেয়। বিজেএমসি চেষ্টা করলেও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এ মিল দুইটি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আমিন জুট মিলের সিবিএ নেতা আবদুল খালেক বলেন, ৮ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠান আমিন জুট মিলের শ্রমিকরা এখনও বঞ্চিত। ২০০৭ সালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শ্রমিকদের ৫৭ বছরে অবসর দেয়ায় অধিকাংশ দক্ষ শ্রমিক অবসরে চলে গেছে। মিলে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা পে স্কেল পেলেও শ্রমিকদের পে স্কেল প্রদান করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে লাভজনক হলেও শ্রমিক অসন্তোষ থেকেই গেছে। হাফিজ জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বলেন, বিজেএমসি সব সময় শ্রমিকদের বঞ্চিত করেছে। হাফিজ জুট মিলে তিনজন শ্রমিকদের তদারকি করতে তিনজন কর্মকর্তা রয়েছে। ২৮ জন ওয়ার্কারের সাথে ৪ ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে। কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা বেতন দিলেও শ্রমিকদের পে স্কেল প্রদান করা হচ্ছে না। এম এম জুট মিল ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কাসেম জুট মিল বন্ধ করা হলেও শ্রমিকদের প্রাপ্য প্রদান করা হয়নি। বেকার অসহায় দরিদ্র শ্রমিকরা নিজেদের পাওনা টাকা পাওয়ার আসায় দিনের পর দিন মিল কর্তৃপক্ষের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। অনাহারে অর্থ কষ্টে অনেক শ্রমিক ইতোমধ্যে মারাও গেছে। বিজেএমসি পরিচালিত দেশের অন্যতম আমিন জুট মিলের তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুইটি চালু হলেও একটি এখনও বন্ধ রয়েছে
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন