এখনো সব পাঠ্যবই পায়নি শিক্ষার্থীরা প্রথম সাময়িক পরীক্ষা আসন্ন
॥ শুকলাল দাশ ॥
নতুন শিক্ষাবর্ষের দুটি মাস কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার অধিকাংশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা সবগুলো পাঠ্যবই এবং সহায়ক বই (বাংলা-ইংরেজি ব্যাকরণ, রচনা এবং দ্রুত পঠন) হাতে পায়নি। আর দেড় মাস পর প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এখনো পর্যন্ত বিদ্যালয়ে গুলোতে বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ-রচনা এবং দ্রুতপঠন কোনটি পড়ানো হবে সরকারি ভাবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
নগরীর বিভিন্ন স্কুলের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য-কর্মকর্তাদের সাথে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর গোপন সিন্ডিকেটের কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণে এই হ-য-ব-র-ল অবস্থা।
সরজমিনে চট্টগ্রাম মহানগরী বেশ কিছু স্কুল ঘুরে এবং জেলার আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ ও বোয়ালখালীর কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, এখনো পর্যন্ত বাংলা-ইংরেজি ব্যাকরণ ও রচনা এবং দ্রুত পঠন নির্ধারণ করা হয়নি। সরকার তাদেরকে সহায়ক পুস্তক নির্ধারন না করার জন্য বলেছে। অথচ বোর্ড থেকেও এখনো নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি।
সরজমিনে নগরীর বই বিপনী কেন্দ্র আন্দরকিল্লায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা বাংলা-ইংরেজি ব্যাকরণ ও রচনা এবং দ্রুতপঠন ছাপিয়ে স্কুলে-স্কুলে সরবরাহ করছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রকাশনা সংস্থাগুলো বিদ্যালয়ে তাদের সহায়ক পুস্তকগুলো তালিকাভূক্ত করে থাকে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) থেকে এখনো সহায়ক পুস্তকের তালিকা কোন বিদ্যালয়ে আসেনি। এখনো পর্যন্ত সহায়ক পুস্তকের তালিকা হয়নি বলে জানা গেছে। এনসিটিবি এখনো পর্যন্ত সহায়ক পুস্তকের তালিকা না করায় এই সুযোগে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা স্কুলে-স্কুলে সহায়ক পুস্তক তালিকাভূক্ত করিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও আন্দরকিল্লায় একেবারে গোপনে মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন পাঠ্যবই বিক্রি হচ্ছে। একই সাথে সহায়ক বই নাম দিয়ে বিভিন্ন নোট বই অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ পরিচালক মনোয়ারা বেগম জানান, কোন স্কুল কি বই পায়নি তা মনিটরিং হচ্ছে। কোন স্কুলে যদি কোন বই না পেয়ে থাকে খুব সহসা পেয়ে যাবে।
এদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার হোসনে আরা বেগম জানান, অনুমোদিত সব স্কুলে সব বই পেয়ে গেছে। অনুমোদনহীন স্কুল গুলো এখনো বই পায়নি। আমরা এই ব্যাপারে চিঠি লিখেছি। অনুমোদনহীন স্কুল গুলো প্রথমে আমাদের কাছে বইয়ের জন্য আবেদন করেনি। এখন আবেদন করেছে।
গত ১৫ দিন ধরে নগরী এবং জেলার বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবক টেলিফোন করে দৈনিক আজাদীতে তাদের ছেলে-মেয়েরা মূল পাঠ্যবই এবং সহায়ক বই না পাওয়ার ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বলেছেন মাস দেড়েক পর বাচ্চাদের পরীক্ষা শুরু হবে অথচ সব পাঠ্যবই এখনো পাওয়া যায়নি।
এ বছর মাধ্যমিক স্কুলের কোন প্রকার পাঠ্যবই প্রকাশ করেনি বলে উল্লেখ করে আন্দরকিল্লা পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির কয়েকজন নেতা জানান সরকার নিজস্ব উদ্যোগে এবার প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্কুল পর্যন্ত পাঠ্যবই সরবরাহ করায় আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এটি সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এবার আমরা কোন শ্রেণীর পাঠ্যবই বিক্রি করছিনা। সাম্প্রতিক সময়ে র্যার প্রায় ২ কোটি টাকার বই জব্দ করার ব্যাপারে সমিতির নেতারা বলেন, বাজারে পাঠ্য বইয়ের চাহিদা থাকায় হয়ত সমিতির সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ-কেউ বিক্রি করতে চেষ্টা করেছিল। এখন আন্দরকিল্লার কোন বইয়ের দোকানে পাঠ্যবই এবং নোট বই বিক্রি হচ্ছেনা। অবশ্য বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ এবং রচনা বই একই সাথে দ্রুত পঠন আন্দরকিল্লায় বিক্রি হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ঐ নেতারা কোন উত্তর দেননি।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন