বুধবার, ১০ মার্চ, ২০১০

চট্টগ্রামে পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটের ডাক

পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘটের ডাক
আলী হায়দার


দেশের প্রায় ৪ হাজার পেট্রোল পাম্প মালিক ও ট্যাংক লরি শ্রমিকরা তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি, ডাকাতি রোধ ও পাম্পের নিরাপত্তা প্রদান, ট্যাংক লরি শ্রমিকদের জন্য দুর্ঘটনা বীমা চালুসহ ১৩ দফা দাবিতে ১৪ মার্চ ধর্মঘটে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের সাথে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করেছেন ধর্মঘট আহ্বানকারীরা।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হক সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গত প্রায় ১ বছর ধরে সরকারে কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেও দাবি জানান হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে এতদিন কোন উদ্যোগ নেয়নি। তবে গতকাল বিপিসি থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠি অনুযায়ী বিপিসি চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক। এর ফলাফল নিয়ে আমরা খুব একটা আশাবাদি হতে পারছি না। তাই সরকার যদি দাবি পূরণ না করে তবে ধর্মঘট হবে।


এ সেক্টরের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে মোট পেট্রোল পাম্পের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০টি। কমপক্ষে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের এ খাতে কর্মসংস্থান রয়েছে প্রায় ৭৭ হাজার লোকের। এ ছাড়াও ধর্মঘটের আওতায় থাকবে ৩ হাজার ৪২ জন জ্বালানি তেলের ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর ও এজেন্ট।


সূত্র জানায়, দেশের পেট্রোল পাম্প মালিক ও ডিলার-ডিস্ট্রিবিউটররা জ্বালানি তেল বিক্রির উপর বর্তমানে কমবেশি ২ শতাংশ কমিশন পেয়ে থাকেন। ১৯৯০ সালের আগে এ কমিশন ছিল ৫ শতাংশের কাছাকাছি। এমনকি সে সময় পাম্প স্থাপনের যাবতীয় খরচ, যন্ত্রপাতি এমনকি জমির ভাড়া তেল কোম্পানি দেয়ার পরও কমিশন ছিল ৫ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে ১০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করে একটি পেট্রোল পাম্প করে তার যাবতীয় খরচও মালিককে বহন করতে হয়। এসব কারণে পেট্রোল পাম্প মালিকরা সব চেয়ে কম মুনাফা নিয়ে ব্যবসা করছে। দীর্ঘকালে এ মুনাফায় বিনিয়োগ সম্ভব নয় বলেই মালিকরা ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছে।


মালিকদের মতে, বর্তমানে অপারেশনাল ও ইভাপোরেশন লোকসান বাদ দিয়ে তেল বিক্রির কমিশন ডিজেলে দুই দশমিক ০৬ শতাংশ এবং পেট্রোল ও অকটেনে এক দশমিক ৯৬ শতাংশ। এত অল্প মুনাফায় ব্যবসায় করার নজির আর কোন খাতে নেই। তারা জানান, পেট্রোল পাম্প স্থাপনের নিদিষ্ট কোন নীতিমালা নেই। ফলে জোট সরকারের সময় মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের নামে-বেনামে চারশতাধিক ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যেখানে ছয় কিলোমিটারে দুটি ফিলিংস্টেশন যথেষ্ট সেখানে ৪৭টি স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে।এর ফলে জ্বালানি খাতে অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।


এ অবস্থা থেকে পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীদের রক্ষার জন্য তেল বিক্রির কমিশন ৭ শতাংশে বাড়ানো, অপারেশনাল লস প্রদান, পাম্প মালিকদের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান, তেলে ভেজাল রোধে ডিপোতে টেস্টিং ল্যাবরেটরী স্থাপন করা, ট্যাংক লরি ভাড়া বৃদ্ধি, ট্যাংক লরির মডেল ( তৈরীর সময়) শিথিল করা, রাস্তায় কাগজ পরীক্ষার নাম করে পুলিশের হয়রানি বন্ধ, পেট্রোল পাম্প ডিসপেন্সিং ইউনিটের রক্ষাণাবেক্ষণ তেল বিপণন কোম্পানির কাছে দেয়া, পাম্প স্থাপনের নীতি প্রনয়ণ, মাপে কারচুপি রোধে মনিটরিং সেল গঠন, ট্যাংক-লরী চালকদের জন্য পাম্পে বিশ্রামের ব্যবস্থা করা, লরি চালকের পাঁচ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রদান করা সহ এবং পাম্পে ডাকাতি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন পাম্প মালিকরা।


একই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার অ্যসোসিয়েশনের সভাপতি এ্হসানুর রহমান চৌধুরী সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, একদিকে নুন্যতম কমিশন অন্যদিকে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ অবস্থায় সরকার আমাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও নানা অজুহাতে তা পূরণ করছে না। সময় কমে আসছে সরকার দাবি মেনে না নিলে আমাদের পক্ষে ধর্মঘটে যাওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই।


উল্লেখ্য, গত ৭ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯ পেট্রোল পাম্পে ৯৬টি ডাকাতির ঘটনায় ডাকাতরা লুটে নিয়েছে ১৫ কোটি টাকা। সরকার ২০০৩ সাল থেকে নিরাপত্তার জন্য মালিকদের আগ্নোয়ান্ত্র দেয়ার কথা বলে আসলেও এখনও তা পাওয়া যায়নি।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন