
ফটিকছড়ির ইটভাটায় পুড়ছে কাঠ দূষিত হচ্ছে পরিবেশ
পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বৃদ্ধাঙুল প্রদর্শন করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৩৫টি ইটভাটা। এজন্য যত্রতত্র মাটি কাটায় নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা শক্তি। জ্বালানি কাঠ পোড়ানোয় ভয়াবহ পরিবেশের বিপর্যয়। বাড়ছে নানা প্রকার রোগ-ব্যাধি।
সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে ৩৫টি ইটভাটায় অবৈধভাবে পোড়ানো হচ্ছে লাখ লাখ মণ জ্বালানি কাঠ। উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত ও ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে ওঠা বনাঞ্চল । ধানী জমি থেকে যত্রতত্র উর্বর মাটি কেটে নেয়ায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতাশক্তি।
বয়লার পদ্ধতির ভাটায় ১২০ ফুট উঁচু চিমনি ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও নবসৃষ্ট ইটভাটাগুলোতে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ৫০-৬০ ফুট উঁচু ড্রাম সেট চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর বয়লার পদ্ধতির ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে হয় কয়লা। কিন্তু এখানে লোক দেখানোভাবে ইটভাটার সামনে কিছু কয়লা মজুদ রেখে জ্বালানি কাঠই পোড়ানো হচ্ছে। গ্রামীণ সড়কে অতিরিক্ত ইট-কাঠ বোঝাই ট্রাক-জিপে চলাচল করাতে রাস্তা-ঘাটে উড়ছে ধূলা-বালি। ইটভাটাগুলোর কালো ধোঁয়া মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সালফার এবং কার্বন ছড়াচ্ছে। তাতে হাঁপানি, এলার্জি, চর্ম, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মসহ নানান প্রকার রোগ-ব্যাধি বাড়ছে।
সূত্র আরো জানায়, ১৬টি বনবিট এবং পাঁচটি রেঞ্জ অফিসের আওতাধীন বনাঞ্চল থেকে ফটিকছড়ি থানা ও ভূজপুর থানা প্রশাসন, পার্বত্য এলাকার সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ এবং জেএসএসকে বৃহৎ অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে অবৈধ কাঠ পুড়িয়ে চলছে এসব ইটভাটা।
বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক বাবুল অভিযোগ করেন, শুধু ফটিকছড়ি নয় ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার ইটভাটার জন্য আমার এলাকার সহজ-সরল কৃষকদেরকে অতিরিক্ত টাকা অগ্রিম দিয়ে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক চলাচল করায় সড়কগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক।
সবচেয়ে বেশি ইটভাটা পাইন্দং ইউনিয়ন। তাই পাইন্দং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম সিকদার এ দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এখানে ১২টি ইটভাটা চলছে। আরো দু-তিনটির জন্য প্রস্তুতি চলছে। রাস্তার অবস্থা নিজ চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না এখানকার মানুষ কি কষ্টে আছে। ইটভাটাগুলোর অতিরিক্ত কাঠ-ইট-মাটি বোঝাই জিপ-ট্রাকের অবাধ চলাচলে রাস্তায় বালি আর বালি উড়ছে। জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে সরল কৃষকের মাথায় হাত বুলিয়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েক দিন আগে এখানকার ছয়টি ইটভাটাকে ১০/১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
ফটিকছড়ি ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইছমাইল অবৈধ লেনদেন বিষয়ে বলেন, ব্যবসাতো করতে হবে। তাই যাকে যা পারি তা দিয়ে সন্তুষ্ট করি।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহমানের কাছে অবৈধ লেনদেন করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
হেঁয়াকো বনবিট কর্মকর্তা মো. মুহসিন জানান, এক মাস পূর্বে এখানে আমি যোগদান করেছি। আগে কোনো রকম অনিয়ম হলেও আমি আসার পর এরকম কোনো অনিয়ম দেখছি না।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাউছুল আজম বলেন, কদিন আগে পাইন্দং এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইট পোড়ানোর জন্য ছয়টি ইটভাটাকে জরিমানা করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারাই এসব অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন