বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০

উখিয়ায় পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির অভিযোগ

উখিয়ায় পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির অভিযোগ


উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা বন বিভাগের জায়গা জবরদখল ও পাহাড় কেটে রাস্তার তৈরি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জামবাগান গ্রামের জামবাগান জামে মসজিদের পাশে বন বিভাগের হলদিয়াপালং বিটের আওতাধীন পাহাড়ি বনভূমিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার-পাঁচ কর্মী কাঁচাঘর তৈরি করেন। আবার দখল করা জায়গায় যাতায়াত করতে তাঁরা পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করছেন। এতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে বাধা দিলে তাঁরা কমিটির সভাপতিকে হত্যা করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৬ মার্চ ঘটনাস্থলে দেখা যায়, পাহাড়ের ওপর সমতল মাঠের মাঝখানে দখলকারীরা কাঁচা বেড়ার ঘর তৈরি করেছেন। ঘরের ওপর এখনো ছাউনি দেওয়া হয়নি। সেখানে যাতায়াত করতে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রতিবেদককে দেখে পাঁচ-ছয়জন শ্রমিক পালিয়ে যান। জামবাগান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী নুর আহাম্মদ (৫০), যুবলীগকর্মী আবুল কাশেম (৩৫), আবুল কালাম (৩২) ও জাহাঙ্গীর আলম (৩০) মসজিদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে পাহাড়ের ওপর খোলা মাঠে কাঁচা ঝুপড়িঘর তৈরি করেন এবং অপর পাশে পাহাড় কেটে রাস্তা বানাচ্ছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দখলদারদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তিনি এই ব্যাপারে চিহ্নিত চারজনের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তারপরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুল জব্বর (৬০) বলেন, ‘পাহাড়ের মাঠে প্রতিবছর দুটি ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে বেদখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে ঈদের নামাজের জায়গার সংকট দেখা দেবে।’ আওয়ামী লীগের কর্মী নুর আহামদ ও যুবলীগ কর্মী আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মসজিদের তো এত জমির প্রয়োজন নেই তাই ছোট একটা ঘর করেছি। তা ছাড়া অনেকে তো পাহাড় কাটছে আপনারা এগুলো দেখেন না। শুধু আমাদেরটা চোখে পড়ে।’
হলদিয়াপালং বিট কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলিউল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আসলে বিষয়টি বিস্তারিত জানতাম না। এখন আপনার মাধ্যমে জেনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গোলাম মুস্তাফা বলেন, ‘বনভূমি জবরদখল ও পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেব। লোকবলসংকটের কারণে একটু দেরি হচ্ছে।

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন