বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০

পথ দেখালেন মঞ্জুর আলম

পথ দেখালেন মঞ্জুর আলম
মাইনউদ্দিন হাসান

চকরিয়ার বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়ারকুল গ্রামের মঞ্জুর আলম (৫২) সংসার চালাতে ছোট ব্যবসা, মুদির দোকান কত কিছুই না করেছেন। কিন্তু সব শ্রম ও পুঁজিই বৃথা যায় একসময়। পরিবার নিয়ে হিমশিম খেতে থাকেন। তাঁর ভাষায়, ‘সংসারের বোঝা সামলাতে আমি একসময় হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কত জায়গায় ধার-দেনা করে ছোট হয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না।’ অবশেষে সবজিচাষে হাত দেন মঞ্জুর। আসে সফলতা এবং আকাশছোঁয়া সেই সফল্যে বদলে যায় তাঁর আর্থিক অবস্থা। বদলে যেতে থাকেন আশপাশের মানুষগুলোও। মঞ্জুর আলমকে এখন বলা হয় ‘সবজিচাষের কারিগর’। কারণ তাঁকে দেখেই এগিয়ে এসেছেন অনেকে। পেয়েছেন সফলতা এবং স্বাচ্ছন্দ্য।
১৯৯৫ সালের কথা। এলাকার কৃষক আবু তাহের মঞ্জুর আলমকে সবজিচাষের পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই সময় তাঁর অবলম্বন বলতে ছিল কেবল ৪০ শতক জমি। এরপর তিনি কিছু জমি বর্গা নেন। ধার করে কিছু টাকাও জোগাড় করেন। পরে দেড় কানি জমিতে টমেটো ও মরিচ আবাদে নেমে পড়েন। প্রথম বছরেই লাভ হয় ৫২ হাজার টাকা। পরের বছর দ্বিগুণ চাষ করে দেড় লাখ টাকা আয় হয়। এভাবে ধারাবাহিক সাফল্যে তাঁর অবস্থা পাল্টে যেতে থাকে। প্রাচুর্য আসে সংসারে।
মঞ্জুর আলম জানান, সবজিচাষ করেই তিনি পাকা বাড়ি করেছেন, জমি কিনেছেন, বড় ছেলেকে বিয়ে করিয়েছেন, নিজের জন্য মোটরসাইকেল নিয়েছেন। চার ছেলের মধ্যে মেজ ছেলে মোহাম্মদ রিদুয়ান উচ্চমাধ্যমিক (আইএ) পাস করে বাবাকে চাষাবাদে সহযোগিতা করছেন। তৃতীয় ছেলে সাহাদাত্ হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। ছোট ছেলে মোহাম্মদ নওশেদ এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সব মিলিয়ে তাঁর সুখের সংসার। আর আজকের এই জায়গায় আসতে তাঁকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন স্ত্রী খালেদা বেগম। তিনিই হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে এগিয়ে নিয়েছেন তাঁকে।
মঞ্জুর আলম এ বছর নয় কানি জমিতে টমেটো, হাইব্রিড মরিচ, ফুলকপি, আলু, শিমসহ মিশ্র সবজির চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এ পর্যন্ত এক লাখ ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন বলে জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মঞ্জুরের দৃষ্টিনন্দন পাকা বাড়ি। চারপাশে সবজিবাগান। উঠোনে ঢুকতেই চোখে পড়ে গোয়াল ভরা গরু। সেখান থেকেই দেখা যায় তাঁর সবজিবাগানের কর্মযজ্ঞ। শ্রমিকেরা কেউ জমি থেকে টমেটো, কেউ মরিচ এনে উঠোনে মজুদ করছেন।
মঞ্জুর আলম জানালেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা উঠোন থেকেই সবজি কিনে নিয়ে যাবেন। তবে এ বছর সবজির দাম কম। হিমাগারের অভাবে এখানকার কৃষকেরা সবজি সংরক্ষণ করতে পারছেন না।
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘মঞ্জুর আলমকে এই এলাকায় সবজিচাষের কারিগর বলা যায়। তাঁকে দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং সবজিচাষে সাফল্য পেয়েছেন।’
বিএমচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ বলেন, ‘মঞ্জুর আলম সফল কৃষক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর সফলতা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন