চিনি সিন্ডিকেটের মাথায় হাত
মঈন সৈয়দ
চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে চিনির দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি কমে গেছে প্রায় ৪০০ টাকা। মঙ্গলবার প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) চিনি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারেদর পতনের কারণে পাইকারি বাজারেও প্রতিদিন দাম কমছে। বাজারের এ পরিস্থিতিতে এখন চিনি সিন্ডিকেটের মাথায় হাত পড়ার অবস্থা।
ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে চিনির বাজারের নিয়ন্ত্রক হাতেগোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী। মিলের পাশাপাশি পাইকারি বাজার থেকে ডিও কিনে তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পরিস্থিতি বুঝে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে এ সিন্ডিকেট। দাম কমলে মজুদ, বাড়লে বিক্রিÑ এ কৌশলে চলে ব্যবসা।
বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বাড়িয়ে দেয়া হয় দাম। গত বছরজুড়ে বাজারে ছিল সিন্ডিকেটের এ ধরনের কারসাজি।
আন্তর্জাতিক দাম কমছে এমন ইঙ্গিত পেয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে বেড়ে যায় সিন্ডিকেটের তৎপরতা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির মিথ্যা প্রচার চালিয়ে তারা চিনির কেজি ৬০ টাকায় নিয়ে যান। অন্যদিকে কমদামে চিনি আমদানি করতে বেড়ে যায় দৌড়ঝাঁপ।
দাম কমা শুরু হওয়ায় অনেকে মজুদ গড়ায় চেষ্টায় ছিলেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম প্রতিদিন কমতে থাকায় এখন তারা হতাশ হয়ে মজুদ থাকা চিনি কমদামে বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ কারণে পাইকারি বাজারে দিন দিন দাম কমছে বলে ব্যবসায়ী সূত্র জানায়।
আমদানিকারকরা জানান, একমাস আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটন চিনির বুকিং রেট ছিল সাড়ে ৮০০ ডলার। মঙ্গলবার তা নেমে আসে ৬৫০ ডলারে। অর্থাৎ বুকিং রেট কেজিতে কমেছে প্রায় ১৪ টাকা। দাম কমায় গত মাসের মাঝামাঝি থেকে আমদানিও বেড়ে যায়। বর্তমানে অশোধিত চিনি নিয়ে ছয়টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার অপেক্ষায় আছে। প্রায় ৫০ হাজার টন অশোধিত চিনি নিয়ে মঙ্গলবার ভিড়েছে একটি জাহাজ। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী ক’দিনে দাম আরো কমবে।
চিনির পাইকারি বিক্রেতা খাতুনগঞ্জ লোকমান ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ লোকমান বলেন, দু’সপ্তাহ আগে চিনির মণ ছিল দুই হাজার টাকার বেশি। এখন সবচেয়ে দামি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬২০ টাকায়। সরবরাহ বেড়েছে, চাহিদা কম। আগামীতে দাম আরো কমতে পারে। খাতুনগঞ্জে চিনির অন্যতম ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম কমছে।
সূত্র জানায় বর্তমানে চিনির বার্ষিক চাহিদা ১২ থেকে ১৩ লাখ মেট্রিকটন। আখের অভাবে একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের চিনিকলগুলো। ১৫টির মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে আটটি। গত অর্থবছরে দেশে উৎপাদন ছিল মাত্র ৭৯ হাজার মেট্রিকটন। এ কারণে চিনির জন্য দেশ এখন পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বাজার-নির্ভর।
তবে রেডি চিনিতে টনপ্রতি ৩ হাজার টাকা শুল্ক থাকায় অশোধিত চিনি আমদানি করে দেশীয় মিলগুলোতে শোধন করে তা বাজারজাত হচ্ছে বেশি।
বর্তমানে চিনি পরিশোধনে পাঁচ মিলের হাতে রয়েছে একক নিয়ন্ত্রণ। সেগুলো হলো সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, দেশবন্ধু ও ঈগলু রিফাইনারি।
গত বছর চিনি আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২০ হাজার টন। এর মধ্যে শোধিত চিনি এসেছে মাত্র ৫০ হাজার টনের মতো। বছরের শেষ পাঁচ মাসে সবচেয়ে বেশি অশোধিত চিনি এনেছে সিটি সুগার।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন