
টেকনাফ-শাপলাপুর সড়ক দ্রুত নির্মাণ ও শতবর্ষী গর্জন বাগান রক্ষার দাবি
জাবেদ ইকবাল চৌধুরী
টেকনাফে জোয়ার-ভাটায় যাতায়াতকারী উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন টেকনাফ-শাপলাপুর সড়ক। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে এলজিইডি কাজ শুরু করে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এসড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে। সম্প্রতি এ নির্মাণ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বন বিভাগ।
তাদের দাবি, ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বন বিভাগের জমির মধ্যে দেড় কিলোমিটার সড়ক অন্য দিক দিয়ে গেলে রক্ষা পাবে দেশের একমাত্র স্যাম্পল গর্জন বাগানটি। এই বাগানটি কয়েকশ’ বছর আগে এখানে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে। এখানে রয়েছে ৫ হাজার ২৪টি মাদার ট্রি। যেখান থেকে পুরো দেশে বীজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গেম রিজার্ভ এলাকার অন্তর্ভুক্ত এ গর্জন বাগানটি দেখতে দেশী-বিদেশী পর্যটক, গবেষক ও পরিবেশবাদীরা প্রতিনিয়ত ভিড় জমায়। এ প্লটটি রক্ষা ও আকর্ষণীয় করতে বন বিভাগ বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেয়। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে অভ্যর্থনা কেন্দ্র। এলজিইডি জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক প্রকল্প হাতে নিলেও বন বিভাগের জমি ব্যবহারের অনুমোদন নেয়নি। এতে প্রথম থেকে বন বিভাগ এ নিয়ে আপত্তি করে আসছিল। তারা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলাও রুজু করেছে। সড়কের উভয় পাশ দিয়ে বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করে এখন থমকে আছে গর্জন স্যাম্পল প্লটে। ওই অংশে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় বন বিভাগ ও জনতা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এলজিইডি ঠিকাদারের সহায়তায় জনগণকে লেলিয়ে দিয়ে বন বিভাগের দায়িত্বশীলদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি রেঞ্জার তাপস স্যানাল অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, স্যাম্পল গর্জন প্লটটি রক্ষা করেই এলজিইডি পাশ্ববর্তী পুরাতন সড়কটি মেরামত বা নির্মাণ করতে পারত। এতে প্লটটিও রক্ষা পেত জনদাবিও পূরণ হতো। কিন্তু তা না করে অযৌক্তিকভাবে বন বিভাগের জমির উপর রাস্তা নির্মাণ করায় দুর্লভ এ গর্জন বাগানটি বনখেকোদের আয়ত্বে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী মমতাজ আহমদ জানান, ১ থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তাটি ঘুরিয়ে নিলে দীর্ঘদিনের পুরাতন জাহাজপোড়া বাজারটি প্রাণ ফিরে পেত। ওই বাজারে রয়েছে ভূমি অফিসসহ কয়েকটি স্থাপনা। সড়কের দু’ পাশের শত শত বসত বাড়ির জনসাধারণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটতো। তা না হলে বাগানটি রক্ষা করা দুস্কর হয়ে যাবে।
বাহারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ কোম্পানি বলেন, উপকূলীয় জনসাধারণকে দীর্ঘদিন ধরে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হয়। এতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাটি দ্রুত নির্মিত হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ লাভ করবে। এদিকে, দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবিতে স্থানীয় এলাকাবাসী সম্প্রতি মিছিল সমাবেশ করে এবং রাস্তা নির্মাণে প্রতিবন্ধক ৩৬টি মাদার ট্রি (গর্জন) কেটে ফেলারও হুমকি দেয়। এ নিয়ে বন বিভাগও জনগণ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
এ ব্যাপারে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী আমিন উল্লাহ জানান, জনগণের জন্যই আমরা ওই রাস্তাটি নির্মাণ করতে যাচ্ছি। এখানে বন বিভাগের আপত্তি থাকার কথা নয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন