শনিবার, ৬ মার্চ, ২০১০

আড়াই মাস ধরে অচল চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ।। অনড় দুপক্ষ!!

আড়াই মাস ধরে অচল চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ।। অনড় দুপক্ষ
সবুর শুভ





শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে নিয়মিত পশুদের চিকিৎসাও হচ্ছে না। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা এরকমই। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ভিসি বিরোধী আন্দোলন থেকে সূত্রপাত হওয়া গত দু’মাস ২০ দিনের এই অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এই পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে কেউ জানে না। ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো দুই মেরুতে অবস্থান করছে। বিশ্ববিদ্যালয় সচল করতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবকরা।

এদিকে গত বুধবার আন্দোলনকারীদের কয়েকজন ক্যাম্পাসে ভিসির বাংলাতো গিয়ে হাঙ্গামা করেছেন বলে জানা গেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে প্রশাসনিক কাজ করতেও মানা করেছেন। এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম বন্ধ ছিল।

এ ব্যাপারে ভিসি ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘যতদ্রুত সম্ভব আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছি। কিন্তু ওরা (আন্দোলনকারীরা) তা চায় না। আর চায় না বলেই আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য আমি ঢাকায় এসেছি। এদিকে অচলাবস্থার মধ্যে আগামী ৭ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত আগ্রাবাদ হোটেলে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কনফারেন্সের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছর এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে আগামী ১৮ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় একটি ওয়ার্কশপের প্রস্তুতিও চলছে। এ অবস্থায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বর্তমান ভিসির তত্ত্বাবধানে এই কনফারেন্স ও কর্মশালা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ক্যাম্পাসে দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছেন। পোস্টারে বর্তমান ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলে আখ্যায়িত করে ওই অনুষ্ঠানগুলো প্রতিহত করার কথা বলা হয়েছে।

ওই কনফারেন্সে ভারত, যুক্তরাজ্য, ডেনমার্কসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের পোস্টার সাঁটানোর কারণে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এক বৈঠক গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় ৬ মাস বন্ধ রাখার কথাও উঠে আসে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে আবুল কালাম নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘সামান্য কারণে এতদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। ভিসির অনিয়ম থাকলে তাকে অপসারণ করা হোক। আর অনিয়ম না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া হোক। এ ব্যাপারে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ জানা গেছে অচলাবস্থা শুরু হওয়ার পর হাসপাতালের কার্যক্রম বেলা দুটো পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো দিনের পরিবর্তে বেলা ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কার্যক্রম চলার কারণে অনেক খামারি পশুর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। পশু নিয়ে আসা দূরের খামারিরা পড়ছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ড. একেএম সাইফুদ্দিন বলেন, ‘দূর থেকে আনা অনেক পশু চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়ার ব্যাপার আন্দোলনকারীদের নেতা ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কমল কান্তি মজুমদার বলেন, ‘যার (ভিসি) কারণে আমাদের শিক্ষা জীবন থেকে (দুই মাস বিশ দিন) চলে গেছে তাকে আর মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সমস্যা ওই একজনকে নিয়েই। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ তারাতো আমাদের কাজগুলোই করেন। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মুখে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ২৩ ডিসেম্বর আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু হল ত্যাগের জন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশ শিক্ষার্থীরা না মানলে অচলাবস্থা বর্তমান সময় পর্যন্ত গড়ায়। বর্তমানে দুইপক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে জানা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন