শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০১০

স্থবির সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন

স্থবির সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন



সন্দ্বীপ উপজেলায় ২৩টি সরকারি বিভাগের মধ্যে ১৩টিই দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা শূন্য। উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে মোট জনবলের ঘাটতি রয়েছে ২৫৮ জনের মত। এমন অনেক সরকারি বিভাগ আছে যাদের কোন কর্মকাণ্ডই চোখে পড়ে না। এ তালিকায় আছে জনস্বাস্থ্য, পরিসংখ্যান, সড়ক ও জনপথ, মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন। মাঠ পর্যায়ে কাজের বিস্তৃতি রয়েছে এমন বিভাগের মধ্যে সমাজসেবা, সমবায়, কৃষি, বিআরডিপি এবং পশুপালন বিভাগেও লোকবল সংকট চরম।


সবচেয়ে বেশি কর্মীনির্ভর বিভাগ স্বাস্থ্য ওপরিবার পরিকল্পনা এবং কৃষিতে লোকবলের সংকট বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে মোট লোকবলের সংকট ৯৬ জন। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে ৭০ জন এবং কৃষিতে ১৮ জন। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা বিভাগের অবস্থাও করুণ। এ বিভাগে পদশূন্য রয়েছে ৫৮টি। অন্যদিকে মৎস্য বিভাগে ৩ জন, এলজিইডিতে ৯জন, মহিলা বিষয়ক বিভাগে ২জন, পশুসম্পদ বিভাগে ২ জন, যুব উন্নয়নে ২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ শূন্য রয়েছে। এদিকে, প্রশাসনের শীর্ষ পদ ইউএনওসহ বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, কৃষি, হিসাবরক্ষণ, ভূমি অফিসার, আনসার-ভিডিপি, সমবায়, খাদ্য ও থানা কর্মকর্তাসহ ১০টি পদে কর্মকর্তা থাকলেও অন্য সব বিভাগের লোকবল সংকটের কারণে উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। জনবল সংকটে কারণে নিম্নপদের কর্মচারীরা কাজের চাপে হাঁফিয়ে উঠছেন। বিশেষ করে সমাজসেবার কাজের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা’র মত কার্যক্রম প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য ও মহিলা বিষয়ক বিভাগের কোন কার্যক্রমই সন্দ্বীপে দেখা যায় না। যুব উন্নয়ন দপ্তর ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে।


এদিকে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতেই সচিব পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। উপজেলার বেশির ভাগ সরকারি শূন্য পদের কয়েকটিতেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন নিম্ন পদস্থ কর্মকর্তারা। বিশেষ করে উপজেলার শিক্ষা বিভাগে বর্তমানে শিক্ষা অফিসার, সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ ৪ জন কর্মকর্তাই সম্প্রতি বদলি হয়ে গেছেন, আছেন শুধু একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার। এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় দ্বীপের ২৮টি হাই স্কুলের দেখভাল করাও ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার দ্বারা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানা গেছে। অতি সম্প্রতি বদলি হয়ে গেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও। বর্তমানে এটিও চলছে সীতাকুণ্ড উপজেলার পিআইও’র অতিরিক্ত দায়িত্বে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদগুলো ভারপ্রাপ্ত দিয়ে পরিচালনা করায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ঢিলেঢালাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সময় মতো অফিসে না আসা, মধ্যাহ্ন বিরতির পর কর্মস্থল থেকে চলে যাওয়া, ইচ্ছে মতো ছুটি কাটানো সহ নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।


এ ব্যাপারে সন্দ্বীপ উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান বিএ জানান, নির্বাচিত হয়েই তিনি উপজেলার সার্বিক কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নিয়েছেন। একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা প্রশাসন চালাতে বিশেষ করে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের শূন্য পদগুলো পূরণে তিনি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানিয়েছেন। তিনি আশা করেন অচিরেই সরকার সন্দ্বীপ উপজেলায় শূন্য পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা নেবে।

তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন