শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০১০

পাহাড়ি এলাকার পরোপকারী কৃষকের লাশ পাহাড়েই গুম?


পাহাড়ি এলাকার পরোপকারী কৃষকের লাশ পাহাড়েই গুম?


পাহাড়ের উঁচু ঢালুতে একটি টঙ ঘর। টঙ ঘরের দেয়ালে, ভাতের হাড়িতে এবং টঙ ঘরে পড়ে থাকা লুঙ্গি-শার্টে ছোপ ছোপ রক্ত। রান্না করা টক বেগুনের চাটনি আর ভাত পড়ে আছে। নেই দরিদ্র কৃষক মো. এয়াকুব। এই দৃশ্য দেখেই বাড়িতে খবর পাঠিয়েছে এয়াকুবের বন্ধু কৃষক জসিম। খবর পেয়ে দুই বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকাজুড়ে কমপক্ষে ৩ শত প্রতিবেশী ও গ্রামবাসী খোঁজাখুঁজি করেছেন তাকে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে শুধু রক্তের ছোপ ছোপ দাগ ছাড়া তারা কিছুই পাননি তারা। এতেই তারা নিশ্চিত হয়, কে বা কারা মো. এয়াকুবকে হত্যা করে তার লাশটি গুম করে ফেলেছে। ঘটানাটি ঘটেছে গত সোমবার দিন বা রাতের কোন এক সময় বাঁশখালীর পূর্বচাম্বল পাহাড়ি এলাকায় । গত বৃহস্পতিবার বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভায় চাম্বল ইউপি চেয়ারম্যান ফজল কাদের চৌধুরী ঘটনাটি বর্ণনা করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।


কৃষক এয়াকুব পূর্ব চাম্বল ছাদেক ফকির পাড়ার জব্বর মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র। পরিবারের ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে এয়াকুব সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন। তরুণ কৃষক মো. এয়াকুব প্রকাশ লেডু ছিল খুবই পরিশ্রমী। পাহাড়ের বুকে শিম, বেগুন, কাকরোল ও ফল চাষাবাদ করে দরিদ্র পরিবারে কিছুটা সুখের সন্ধান খুঁজে পান তারা। সবজি আর ক্ষেত রক্ষার্থে এয়াকুব একাই পাহাড়ের উঁচু ঢালুতে টঙ ঘর তৈরি করে থাকতেন। শ্বাপদসংকুল পাহাড়ে অধিকাংশ রাত কাটাতেন তিনি। ঘটনার দিনও রাতে পাহাড়ে থাকার কথা। এ কারণেই পাহাড়ে ভাত তরকারি রান্না করেছিলেন। সেই রান্না আর খাওয়া হল না তার। এয়াকুবের পরিশ্রম আর সবজি ফলনের জন্য অন্য কৃষকদের কাছে খুবই প্রিয় ছিলেন। বৃদ্ধ কৃষকরা কাঁধে ভার করে পাহাড় থেকে কিছু আনার সময় এয়াকুব খালি হাতে থাকলেই মালামাল তিনি নিজেই কাঁধে করে পৌঁছে দিতেন। পরোপকারী মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন সবার প্রিয়।


এয়াকুবের সত্তরোর্ধ্ব পিতা জব্বর মিয়া আর মা জোহরা বেগমের বিলাপ থামানো যাচ্ছে না। বুকভরা আর্তনাদ নিয়ে ছেলের লাশের খোঁজে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। পিতা জব্বর মিয়া জানান, ছেলেদের মধ্যে এয়াকুব ছিল অন্যরকম। লেখাপড়া করাতে না পারলেও এয়াকুব পরিশ্রম করে সংসারে সুখের প্রদীপ জ্বেলেছিল। প্রশাসনের নিকট তার দাবি ছেলের লাশটি অন্ততঃ খুঁজে দেয়া হোক।


স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফজল কাদের চৌধুরী জানান, এয়াকুবকে কেউ হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলতে পারে। এলাকায় ঘটনাটি জানার পর থেকে লোক লাগানো হয়েছে তার লাশের সন্ধানে।


বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আতাউর রহমান বলেন, ঘটনাটি উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভায় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনেছি। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।



তথ্য সূত্র: সুপ্রভাত

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন