শনিবার, ৬ মার্চ, ২০১০

চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি সড়কে নির্বিঘ্নে চলছে কাঠ পাচার

চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি সড়কে নির্বিঘ্নে চলছে কাঠ পাচার


 চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মূল্যবান বনজসম্পদ সমৃদ্ধ বিভিন্ন এলাকা ক্রমে বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে। এমনকি যেসব ফরেস্ট বিট থেকে বনাঞ্চল কাছে সে সব বনাঞ্চলে ব্যাপকহারে বৃক্ষ নিধন চলছে। এতে শুধু সরকারি সম্পদই লোপাট হয় না, প্রাকৃতিক পরিবেশও মারাত্মকভাবে বিপন্ন হয়। সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী কাঠচোর চক্রের লাগামহীন অপতৎপরতায় ছোট-বড় মূল্যবান গাছ কেটে বনাঞ্চল উজাড় করার ফলে এলাকা বৃক্ষশূন্য হওয়ার পাশাপাশি বনভূমি অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যায়। এসব বনভূমি বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের পেছনে স’মিল বা ইটভাটা জড়িত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এদের সাথে আঁতাত রয়েছে ১১ মাইলের ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। প্রতিদিন অবৈধভাবে কাঠ পাচার হয় এ ফরেস্ট বিট দিয়ে। চোরাই গাছ ক্ষেত্রবিশেষে ধরা পড়ার আশংকা থাকলেও চিরাই কাঠের ক্ষেত্রে ধরা পড়ার আশংকা কম। ফলে চোরাই গাছের সিংহভাগই রাতারাতি চেরানোর ব্যবস্থা নেয়া হয় করাতকলের সাহায্যে। এপথে হাটহাজারী সদর, রাঙ্গামাটি সড়কের ইংলিশ স্কুলের পাশে অবস্থিত একটি স’মিলে প্রতিমাসে অবৈধ উপায়ে কয়েক লাখ টাকার মূল্যবান কাঠ আমদানি করা হয়। এসব কাঠ বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকযোগে চোরাই পথে নিয়ে আসা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বলেছে। এসব কাঠ আমদানি বাবদ স’মিলের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোটা অংকের উৎকোচ দেয়া হয় বলে জানা গেছে। এদিকে প্রভাবশালী কাঠ ব্যবসায়ীরা ১১ মাইলের ফরেস্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ পাচার করছে। সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক শ্রেণীর অসাধু কাঠ চোর বনভূমি থেকে কাঠ কেটে চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাটহাজারী সদরের পশ্চিমের পাহাড়গুলো ঘুরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করার দৃশ্য দেখা গেছে। প্রতিদিন এভাবে হাটহাজারী বাজারে লাখ লাখ টাকার চোরাই কাঠ আমদানি হলেও কর্তৃপক্ষ এখনও রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ।


তথ্য সূত্র: আলোর মিছিল

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন