শনিবার, ৬ মার্চ, ২০১০

চট্টগ্রাম সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে অনিয়মই যেখানে নিয়ম

চট্টগ্রাম সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে অনিয়মই যেখানে নিয়ম

ইসমত মর্জিদা ইতি


নানা অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে। মহিলা কর্মজীবী হোস্টেলবাসীদের স্বার্থ যার দেখভাল করার কথা, তিনি চলেন অন্যের অঙ্গুলি হেলনে।
হোস্টেল সুপারের কথায় হোস্টেল চলার নিয়ম থাকলেও চট্টগ্রাম সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল চলে ক্যান্টিন মালিকের কথায়। সেই ক্যান্টিন মালিক হলেন এডি হোম সার্ভিস। বোর্ডারদের ক্যান্টিনে খেতে বাধ্য করার জন্য তিনি নিজে বোর্ডারদের রুমে স্টোভ জ্বালানোসহ বোর্ডারদের আচরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। রুমে গিয়ে প্রতিদিন তল্লাশি চালাচ্ছেন। হোস্টেল সুপার ক্যান্টিন মালিকের স্বার্থের দিকে মনোযোগী হলেও বোর্ডারদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার ও পানির ব্যবস্থা, ভাঙা টয়লেট ও সিট মেরামত, লাইট সংস্কার ইত্যাদির দিকে মনোযোগী নন বলে জানা গেছে।
কর্মজীবী ও চাকরি অনুসন্ধানকারী মহিলাদের জন্য চট্টগ্রামে ১৯৮৪ সালে মহিলা অধিদপ্তরের অধীনে এ হোস্টেলটি তৈরি করা হয়। বর্তমানে এ হোস্টেলের আসনসংখ্যা ২১৫। চাকরিজীবী মেয়ের সংখ্যা কম থাকায় এ হোস্টেলে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া মেয়েরাও থাকার সুযোগ পায়। ৫০ টাকা দিয়ে ফরম কিনে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট, স্থায়ী ঠিকানার চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট, স্থানীয় অভিভাবকের একজনের সুপারিশ নিয়ে এ হোস্টেলে ভর্তি হওয়া যায়। তিন সিটের রুমে সিট ভাড়া ৪৫০ টাকা ও চার সিটের রুমে সিট ভাড়া পড়ে ৪১০ টাকা। জানা যায়, নিজস্ব আয়ে এ হোস্টেলটি চলে। কিন্তু এ আয় থেকে কোনো অংশই এ হোস্টেলের উন্নয়নখাতে ব্যয় হয় না। সব চলে যায় হোস্টেল সুপারের হাতে।
এডি হোম সার্ভিস এ হোস্টেলের খাবারের টেন্ডার পাওয়ার পর খাবারের আইটেমে পরিবর্তন আসলেও খাবারের মানে পরিবর্তন আসেনি। বাবুর্চি আলম ভালো রান্না পরিবেশনের দাবি করলেও বোর্ডারদের অভিযোগ, আলম বাইরের খোলাবাজার থেকে মসলা কিনে রান্নার কাজ সারেন। তরকারিতে উৎকট মসলার গন্ধ থাকায় বোর্ডাররা খেতে পারেন না। সকাল, দুপুর, রাতে খাবারের মেন্যুতে মাছ-মাংস থাকলেও সেগুলো মুখরোচক না হওয়ায় মেয়েদের খাবারের টাকা অপচয় হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। নিয়ম অনুয়ায়ী এ হোস্টেল থেকে বোর্ডারদের ৪০০ টাকা দিয়ে বাধ্যতামূলক টোকেন নিতে হয়। খাবারের মেন্যুর দাম বেশি পড়ায় এ টোকেনে এক সপ্তাহও চলে না বোর্ডারদের। ছাত্রীদের সীমিত টাকায় চলার জন্য তাদের কেউ কেউ রুমে স্টোভে নিজেদের মতো কিছু ভাজি-ভর্তা করে খেয়ে নিতে চায়। কিন্তু এতে এডি হোম সার্ভিসের দিলরুবা বেগম হোস্টেল সুপারকে হাত করে মেয়েদের রুমে স্টোভে জ্বালাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিয়েছেন। তার কাজে সহযোগিতা করছেন হোস্টেল সুপার। এদিকে হোস্টেল সুপার ফেরদৌসী বেগম অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকলেও হোস্টেলের বিভিন্ন সমস্যায় আন্তরিক নয়। গত মঙ্গলবার চান্দগাঁও আবাসিক ২ নাম্বার রোডে অবস্থিত এ হোস্টেলে গিয়ে দেখা গেছে এর দুরবস্থা। বেশির ভাগ রুমের সিট ভাঙা এবং টয়লেটের পাইপ কাটা থাকায় টয়লেটের নোংরা পানি মেয়েদের গায়ে পড়ে। বারান্দা ও বাথরুমের লাইট নষ্ট হওয়ায় বোর্ডাররা রাতে বের হয়ে বাথরুমে যেতে পারেন না। এ হোস্টেলের ওয়াসার পানি সার্বক্ষণিক থাকলেও তা খাওয়ার যোগ্য নয়। ফলে এ হোস্টেলের বোর্ডারদের সন্ধ্যার পর পাশের মাজারের ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে আসতে হয়। তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বখাটে ছেলেদের ইভটিজিংয়ের স্বীকার হতে হয় মেয়েদের। হোস্টেলের দুরবস্থা ও ক্যান্টিন মালিকের আধিপত্য নিয়ে হোস্টেল সুপার ফেরদৌসী বেগম যায়যায়দিনকে বলেন, এডি হোম সার্ভিসের স্বার্থটাও আমাদের দেখতে হয়। হোস্টেলের উন্নয়ন হোস্টেলের আয় থেকে করা সম্ভব হয় না। সরকারকে এ ব্যপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

এডি হোম সার্ভিসের মালিক দিলরুবা বেগম বলেন, আমি টাকা বিনিয়োগ করে এখানে ব্যবসা করতে এসেছি। মেয়েরা যদি রুমে রান্না করে খায়, তাহলে আমার ব্যবসা চলবে কি করে?


তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন