শনিবার, ৬ মার্চ, ২০১০

চট্টগ্রামে ৪০ কোটি টাকার ‘হালদা প্যারালাল প্রজেক্ট’ দুই যুগেও চালু হয়নি

চট্টগ্রামে ৪০ কোটি টাকার ‘হালদা প্যারালাল প্রজেক্ট’ দুই যুগেও চালু হয়নি


হাটহাজারী উপজেলার বৃহত্তম সেচ প্রকল্প ‘হালদা প্যারালাল প্রজেক্ট’ প্রায় দীর্ঘ দুই যুগেও চালু করা সম্ভব হয়নি। ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পটি কৃষকের কোন কাজেই আসছে না। ফলে ৫ হাজার একর আবাদি জমির কৃষক একদিকে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে, প্রকল্প ক্যানালে নির্মিত ুইস গেইট ও মেশিন ঘর থেকে মুল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোন মাথাব্যথা নেই।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাটহাজারী উপজেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। উপজেলার পশ্চিমের পাহাড়ি উঁচু এলাকার অনাবাদি জমিতে সারা বছর চাষাবাদের জন্য বৃহত্তর ইরিগ্রেশন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর আর্থিক সহায়তায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। হালদা নদীর বোয়ালিয়া ুইস গেইট সংযোগ মূল থেকে পশ্চিম ও উত্তরে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘এল’ আকৃতির এ প্রকল্পের কৃত্রিম খালকে দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়। সেচ সহজ করার জন্য প্রকল্পের মোহনায় স্থাপন করা হয় রিভার পাম্পিং প্ল্যান্ট। প্যারালাল খালে প্রায় ১৭টি ুইস গেইট নির্মাণ করা হয়। এছাড়া ৫০০ ফুট পর পর স্থাপন করা হয় সেতু। পাশাপাশি অসংখ্য ড্রেনেজ রাখা হয় প্রকল্পের দু পাশের জমিতে পানি সেচের জন্য। ১৯৯৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করা হয়।


এদিকে, প্রকল্পটির নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় শুরুতেই এটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এই প্যারালাল খালের পুরোটাই আন্ডার ফোবিংয়ের কথা থাকলেও করা হয়েছে মাত্র ৪ কিলোমিটার। এছাড়া খালের বাঁধ নিচু হওয়ায় পানি উপচে পড়ে যায়। এসব কারণে প্রকল্পটি চালুর পরপরই পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকে। এরপর ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে প্রকল্পের কিছু সেকেন্ডারি কাজ শুরু হয়। ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি তৎকালীন পানি সম্পদমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এই সেচ প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধন করে মন্ত্রী চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই আবার বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ। পরে মন্ত্রী আবার প্রকল্পটির কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেও তা আর হয়নি। গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এলাকাবাসী হালদা সেচ প্রকল্প চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবরে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক বশীর উদ্দীন আহ্মেদ ২০০৫ সালের ১২ ডিসেম্বর এই সেচ প্রকল্প চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ প্রদান করে। এরপরও কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি। অথচ এই সেচ প্রকল্পটি চালু হলে এই বোরো মৌসুমে চাষ হত প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি। বর্তমানে চাষ হচ্ছে ১৫০০ হেক্টরের মত। এদিকে, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা সেচ প্রকল্পটির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং সুইচ গেইটসহ বিভিন্নস্থানে স্থাপিত যন্ত্রপাতি খোয়া যাচ্ছে।

তথ্য সূত্র: দৈনিক সুপ্রভাত

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন