শনিবার, ৬ মার্চ, ২০১০

কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র আটক, পরে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি

কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র আটক, পরে মুচলেকা নিয়ে মুক্তি

কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে পুলিশ ৩৭ জন ছাত্রকে আটক করে। গতকাল শনিবার কাপ্তাই থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুরোধে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে চলমান পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন।


জানা গেছে, কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিকের পরীক্ষা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্ররা কতিপয় শিক্ষকের অপসারণ দাবি করলে গত ৪ মার্চ থেকে কাপ্তাই বিএসপিআইতে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের মারমুখী আচরণে শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।


জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পলিটেকনিকে পরীক্ষা চলাকালীন কম্পিউটার বিভাগের কতিপয় ছাত্র অন্যায়ভাবে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষকরা কঠোর হওয়ায় ছাত্ররা ক্ষেপে যায়। ওই সময়ে মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন কবীর এক জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে উত্তরপত্র কেড়ে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। ছাত্রদের দাবি, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষক হুমায়ুন কবীর এক ছাত্রকে ‘কিভাবে পাশ করবে দেখে নেব’ বলে শাসিয়ে গালিগালাজ করায় ঘটনার সূত্রপাত হয়। ছাত্ররা শিক্ষক হুমায়ুন কবীর ও শহীদুল ইসলামের অপাসরণ দাবিতে অনড় থাকলে গত বৃহস্পতিবার পুরো পলিটেকনিকজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ও বিডিআর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। বিকাল ৪টায় কাপ্তাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. খালেদ রহীম ও কাপ্তাই এএসপি সার্কেল মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরদিন শুক্রবার উপজেলা চেয়ারম্যান বিকাল ৪টায় প্রশাসন-পুলিশ কর্মকর্তা, পলিটেকনিক্যালের অধ্যক্ষ, শিক্ষকসহ জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সৃষ্ট ঘটনা সমঝোতা করার চেষ্টা করলেও ছাত্ররা তা মেনে নেয়নি। রাতে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন ছাত্রদের ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান না করার জন্য নির্দেশ দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে কিছু ছাত্র ক্যাম্পাসের বাইরে যায়। এ সময় পুলিশ ক্যাম্পসের বাইরে থেকে ৩৭ জন ছাত্রকে আটক করে। এ ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পলিটেকনিক্যালের অনুষ্ঠিত পরীক্ষা সমূহ আজ রোববার থেকে কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজে অনুষ্ঠিত হবে। পরিস্থিতি শান্ত হলে আলোচনা সাপেক্ষে স্থান পরিবর্তন করে পুনরায় পলিটেনিক্যালে পরীক্ষা কেন্দ্রে নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

তথ্য সূত্র: দেনিক সুপ্রভাত

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন