
চন্দনাইশ কৃষকের মুখে হাসি-স্ট্রবেরি চাষে সফলতা
চন্দনাইশে স্ট্রবেরি চাষ করে সফল হয়েছেন ষাটোর্ধ্ব কৃষক আহমদ কবির তালুকদার। ১৯৭২ সালে বিএ পাস করে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। ছাত্রজীবনে তিনি একজন ভালো ফুটবল খেলোয়াড়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি বয়সের ভারে নুয়ে না পড়ে নিজ পৈতৃক জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। বিশেষ করে চ্যানেল আইতে মাটি ও মানুষ কৃষিভিত্তিক এ অনুষ্ঠান দেখে চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় তার। তিনি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও স্ট্রবেরি চাষে হাত দেন। স্ট্রবেরি চাষ ব্যয়বহুল এবং এ চাষে সফল হবেন কি না দ্বিধায় ছিলেন প্রথমদিকে। বিশেষ করে আবহাওয়া ও মাটির রকমভেদ নিয়ে শঙ্কায় ছিল। এরপরও তিনি স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেন এবং সফলতার মুখ দেখেনÑ কথাগুলো একনাগাড়ে স্ট্রবেরি ক্ষেতে বসে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলেন আহমদ কবির তালুকদার। উপজেলার দুর্গম এলাকা ধোপাছড়ি ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংজুরী এলাকায় আলু, টম্যাটো চাষের পাশাপাশি ৮ শতক জমিতে তিনি স্ট্রবেরি চাষ করেন। পরে উপজেলার পাঠানদ-ি ও কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের মিলখান ও রাফি নামে দু’ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শেয়ারভিক্তিক চাষাবাদ শুরু করেন।
গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে তিনি ৮ শতক স্ট্রবেরি (১ হাজার চারা), ১৬০ শতক আলু, ১৬০ শতক টম্যাটো ও ৫ শতক মিষ্টি কুমড়ার চারা রোপণ করেন। বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদের করলে ফলনও ভালো হয়। ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬০ শতক আলু মাঠে থাকা অবস্থায় ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেন। অন্যদিকে স্ট্রবেরি বিক্রি করেও ১ লাখ টাকা লাভের আশা করেন বৃদ্ধ আহমদ কবির। স্ট্রবেরি ও অন্যান্য ফসলের এ ব্যাপক সফলতা আহমদ কবির ও তার দুই সঙ্গীর জীবনে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে। বর্তমানে স্ট্রবেরি চাষে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে তিনজনই রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৮০ শতক জমি স্ট্রবেরি চাষের জন্য উপযোগী করে তুলেছেন। স্ট্রবেরি চাষের জন্য বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোরঞ্জন ধর, কর্মকর্তা ড. সাবজল উদ্দীন তাকে সহযোগিতা করেন বলে জানান। ধোপাছড়িতে তাদের এ ব্যাপক সফলতা দেখে আশপাশের কৃষক ও ছাত্ররা স্ট্রবেরি চাষে এগিয়ে আসছেন। এতে জনসাধারণের অর্থনৈতিক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোরঞ্জন ধর জানান, এদেশের কৃষকরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সমাজ ও দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে।
তথ্য সূত্র: যায়যায়দিন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন