
দেওয়ানবাজারে জলাবদ্ধতাই অন্যতম প্রধান সমস্যা
স্বপন মল্লিক
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একবারে সন্নিকটে অবস্থিত ২০ নাম্বার দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। ওয়ার্ডটি অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় হওয়ায় এনায়েতবাজার, লালখানবাজারসহ উঁচু স্থানের ওয়ার্ডগুলোর পানি এ ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে বর্ষাকালে এখানে গুরুতর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে করে ওয়ার্ডের বিশেষ করে বলুয়ার দিঘীর পাড়, মাছুয়া ঝর্ণা ও রুমঘাটা জেলেপাড়াসহ বেশকিছু নিম্ন এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।।
দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের প্রথম কমিশনার (চেয়ারম্যান) ছিলেন মরহুম আকবর আলী। ওয়ার্ডটির সীমানা-পশ্চিমে সিরাজুদ্দৌল্লা রোড, দক্ষিণে টেরীবাজার, পূর্বে- চাক্তাই খাল ও উত্তরে চকবাজার। আয়তন .১৫০ বর্গমাইল। লোকসংখ্যা- ১ লাখ ২০ হাজার। মহল্লা পাঁচটি। ভোটারসংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। ছোট-বড় রাস্তা আটটি। প্রাইমারি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন কয়েকটি। উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলুয়ারদিঘীপাড় উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে কোনো বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৬০ শতাংশ।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়ও এ ওয়ার্ড পিছিয়ে নেই। এতদঞ্চলের প্রাচীনতম হাসপাতাল চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি ২০ নাম্বার ওয়ার্ডেই। এখানে রয়েছে প্রসূতিসহ মহিলাদের চিকিৎসায় জেমিসন মাতৃসদন হাসপাতাল, দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড কার্যালয়েই রয়েছে মাত্র ২০ টাকা ফি-তে ব্যবস্থাপত্রসহ বিনামূল্যে ওষুধের আয়োজন। দাতব্য চিকিৎসালয়ের সামান্য পূর্বদিকে অগ্রসর হতেই পাওয়া যাবে আরবান হেলথ ক্লিনিক। তাছাড়া চট্টগ্রামের অন্যতম টিবি (যক্ষা) চিকিৎসা কেন্দ্রটিও দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডে অবস্থিত।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এ ওয়ার্ডে মোটামুটি সন্তাষজনক, তবে মাঝেমধ্যে ছিঁচকে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে ওয়ার্ডের কুয়ারপাড় ও সাব এরিয়া এলাকার চৌমুহনীতে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এ ওয়ার্ডের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এ ২০ নাম্বার ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মোহাম্মদ হাসনী। এ ওয়ার্ডে পরিবারপিছু ১৫ টাকা চাঁদা নিয়ে তিনি যে বিশেষ পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু করা হয়েছে তাতে এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা পাচ্ছে- এমন মন্তব্য করেছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার বিশ্বাস। যদি ও ১৫ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে আদায় করতে গিয়ে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতিরও শিকার হতে হচ্ছে কাউন্সিলরের চাঁদা কালেক্টরদের।
কাউন্সিলর যা বলেছেন, কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মোহাম্মদ হাসনী বলেন, জলাবদ্ধতা আমার ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা হলেও চাক্তাই খাল নিয়মিত খনন ও অপেক্ষাকৃত উঁচুতে অবস্থিত লালখানবাজার, এনায়েতবাজার ও জামালখান ওয়ার্ড থেকে নালা উপচেপরা পানি গড়িয়ে আসা রোধ করা গেলে- সমস্যা কিছুটা সমাধান হতো। যেমন গত দুবছর চাক্তাই খাল খনন হওয়াতে জলাবদ্ধতা কোন কোন স্থানে হয়নি।
দিদার মার্কেটের সামনে তথা ওয়ার্ডের কোনো কোনো স্থানে ময়লা জমে থাকা এবং সিসিসির পরিচ্ছন্নতা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দায়িত্বে থাকলেও দায়িত্ব পালনের আনুষঙ্গিক সহযোগিতা পাচ্ছি না বেশ কিছুদিন থেকে। ফলে কর্তব্যকর্ম যথাযথভাবে পালন সম্ভব হচ্ছে নাÑ এতে দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর ক্ষতি হচ্ছে। অদৃশ্য কারো ইঙ্গিতে কমিটির মিটিং আহ্বান করলে সংশ্লিষ্টরা অসহযোগিতা করেন। তবে আমার বক্তব্য হলোÑ আমাকে অপছন্দের কারণে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রেখেÑ পক্ষান্তরে নগরবাসীকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে। এ অচলাবস্থার অবসান চাই। এখানে আরো একটি সমস্যাÑ এ ওয়ার্ডে কোনো ডাকঘর নেই, ফলে জেনারেল পোস্ট অফিস অথবা জামালখান ওয়ার্ডের আন্দরকিল্লা ডাকঘরে গিয়ে অধিবাসীদের চিঠিপত্র পাঠাতে করতে হয়
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন