
ওয়ার্ড কার্যালয় অন্য ওয়ার্ডে! মঈন সৈয়দ
আদালত ভবন থেকে হাতের বামে সামান্য এগুলে বান্ডেল রোড সেবক কলোনি। নেশার অন্ধকার জগত। এ কলোনি কয়েকমাস আগেও ছিল চট্টগ্রাম মহানগরীর নেশার এক বড় আখড়া। এখানকার মাদক আড্ডার কারণে সম্মানহানি হতো পুরো আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডবাসীর। নিজের পাঁচ বছরের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী শুরুতেই বললেন, মাদক আখড়া বন্ধ করার কথা।
গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে বন্ধ হয় সেবক কলোনির মাদকের কারবার। অন্ধকার জগতে আলোর আভা ছড়াতে সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে একটি ইবাদতখানা। সেবক কলোনির বাড়িগুলোর দুর্দশা ও নানা সমস্যা থেকে পশ্চাৎপদ এসব মানুষকে মুক্তি দিতে দুটি ছয়তলা হাইরাইজ ভবনের কাজ শুরু হয়েছে।
এক বর্গকিলোমিটারের বেশি আয়তন নিয়ে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড। এর জনসংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। যার মধ্যে ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার। ওয়ার্ডের অনেক সমস্যার মধ্যে বড় সমস্যাটি হলো অন্য ওয়ার্ডে কমিশনারের কার্যালয়টি বর্তমানে পার্শ্ববর্তী পাথরঘাটা ওয়ার্ডের আনসার ক্লাবে অবস্থিত। ওয়ার্ডের একেবারে পূর্বপ্রান্তে কার্যালয় হওয়ায় সেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করতে স্থানীয়দের ভোগান্তি পোহাতে হয়। কাউন্সিলরও বলেছেন, কার্যালয়টি সিটি করপোরেশনের সামনের সুপার মার্কেট অথবা করপোরেশনের পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। বর্তমানে হাজারী গলির ৬৫ নম্বর রণধীর বিল্ডিংয়ের অস্থায়ী একটি অফিস থেকে জম্ম ও নাগরিক সনদসহ নানা কাজ সম্পন্ন হয় বলে এলাকাবাসী জানান।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহর লাল হাজারীর মতে পানি সঙ্কট তার ওয়ার্ডের এক নাম্বার সমস্যা। রাজাপুকুর লেইন, সতীশ বাবু লেইন, টিএন্ডটি কলোনি, বদরপাতিতে চলছে পানির হাহাকার। তিনি বলেন, ওয়াসা পানি দিতে না পারায় কয়েকটি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। কিন্তু যত্রতত্র গড়ে ওঠা হাইরাইজ ভবনের মোটরের কারণে সেগুলো থেকে পর্যাপ্ত পানি মিলছে না।
তার দায়িত্বকালীন পাঁচ বছরে এলাকায় রাস্তাঘাট অনেক উন্নত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সমস্যার মধ্যেও আশার কথা হচ্ছে এলাকার সৌন্দর্য বাড়াতে লালদীঘিতে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল হতে যাচ্ছে। এজন্য দুই কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, সাড়ে ৩০০ বছর আগে ১৬৬৬ আলে মোগলদের চট্টগাম বিজয়ের পর সেনাপাতি উমেদ খান চট্টগ্রাম কিল্লার নাম দেন আন্দরকিল্লা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়, আদালত ভবন, কেন্দ্রীয় কারাগার, লালদীঘি, জেলা পরিষদ ভবন, বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ভবন, জেনারেল পোস্ট অফিস (জিপিও), মুসলিম ইন্সটিটউট হল, ওষুধ ও স্বর্ণ ব্যবসার কেন্দ্র হাজারী গলি, হযরত শাহ আমানত (র.) ও হযরত বদর শাহর (র.) মাজারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে এ ওয়ার্ডে। বহুকাল আগে থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত। আন্দরকিল্লা দিন দিন হারিয়ে ফেলছে তার অভিজাত্য ও ঐতিহ্য।
যানজট ও ময়লা আবর্জনার স্তুপ এখানকার সুনাম ক্ষণœœ করছে। আন্দরকিল্লা থেকে বক্সিরহাট সড়কটি ওয়ানওয়ে করার পরও যানজট কমছে না। হাজারীগলির ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, যানজট নিরসনে বদরখাল থেকে লালদীঘির পূর্ব পাড়ের ওরিয়েন্টাল টাওয়ার পর্যন্ত খালের ওপর স্ল্যাব দিলে এবং একমুখী যানবাহন চলাচল করলে যানজট অনেকটা কমে আসবে।
আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে নিয়মিত আটটি ভ্যান গাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করলেও আবর্জনার স্তূপ কমছে না। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও নজির আহমদ চৌধুরী সড়কের আইন কলেজের সামনে এবং সিনেমা প্যালেসের মোড় ও লালদীঘির উত্তর পশ্চিম পাড় এলাকাসহ একাধিক স্থানে রাস্তার ওপর সব সময় ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়। আর এ আবর্জনা সঠিক সময়ে সরিয়ে না ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে সর্বত্র। এতে পথচারীসহ সর্বসাধারণের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন