মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০১০

চট্টগ্রাম নগরীতে বিদ্যুতের সব মিটার ডিজিটাল করার নির্দেশনা

নগরীতে বিদ্যুতের সব মিটার ডিজিটাল করার নির্দেশনা ।। পৌনে তিন লাখ এনালগ মিটার পাল্টানোর ব্যয় ভার গ্রাহকদেরই বহন করতে হবে
॥ হাসান আকবর ॥





চট্টগ্রাম মহানগরীর পৌনে তিন লাখ বৈদ্যুতিক গ্রাহকের বিদ্যমান এনালগ মিটার পাল্টে ডিজিটাল মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। আগামী দশ দিনের মধ্যে এনালগ মিটার পাল্টে ডিজিটাল মিটার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে কোন কোন এলাকায় নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। একই সাথে নতুন সব ধরনের সংযোগে ডিজিটাল মিটার স্থাপনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। বিদ্যমান মিটারগুলো পাল্টে নতুন মিটার স্থাপন করতে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিজেদের পকেট থেকেই পঞ্চাশ কোটিরও বেশি টাকার যোগান দিতে হবে। মিটার পাল্টে ফেলার নির্দেশনায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পিডিবি বলেছে এতে সুফল মিলবে।

সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রায় তিন লাখ আবাসিক এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। প্রি পেইড এবং পোস্ট পেইড সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হয়। একইভাবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ডিজিটাল এবং এনালগ দুই ধরনের মিটার রয়েছে। বছর দুয়েক আগে নগরীর খুলশী, পাঁচলাইশ, মেহেদীবাগ, দামপাড়া, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, আমবাগান, জালালাবাদ এবং আগ্রাবাদের বেপারী পাড়া এলাকায় প্রি-পেইড সিস্টেমে বিল আদায় শুরু হয়। এই সব এলাকার প্রায় ১৫ হাজার গ্রাহকের নিকট ডিজিটাল মিটার রয়েছে। এসব মিটারে কাগজে তৈরী কোন বিল আসে না। বিল পরিশোধের জন্য ব্যাংকেও যেতে হয় না। নিজেদের বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত প্রি পেইড মিটারে আগে থেকেই কার্ড রিফিল করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকে। মিটারের টাকা ফুরিয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আবার আগাম টাকা প্রদান করলে সরবরাহ শুরু হয়। পরীক্ষামূলকভাবে বছর দুয়েক আগে ডিজিটাল পদ্ধতির মিটারের মাধ্যমে প্রি পেইড সিস্টেম চালু করা হলেও নগরীর বিশাল এলাকায় এনালগ পদ্ধতির মিটার রয়েছে। প্রি-পেইড মিটারগুলো ডিজিটাল। চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় ১৫ হাজার ডিজিটাল মিটারের বাইরে প্রায় দুই লাখ পচাত্তর হাজার বিদ্যুত গ্রাহকের বাসা বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত এনালগ মিটারের রিডিং অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা বিল তৈরী করে গ্রাহকদের নিকট সরবরাহ করেন। গ্রাহকেরা ব্যাংকের মাধ্যমে সেই বিল পরিশোধ করেন। ডিজিটাল মিটার স্থাপন করা হলেও সেই আগের প্রক্রিয়ায় বিল পরিশোধ করতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ এসব মিটার পাল্টে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রি পেইড এলাকাধীন গ্রাহকদের বিদ্যমান মিটারগুলো প্রি-পেইড কোম্পানি নিজেরা পাল্টে দিয়েছিলেন। এখন নগরীর যে বিশাল এলাকার প্রায় দুই লাখ পচাত্তর হাজার বিদ্যুৎ মিটার পাল্টানোর প্রক্রিয়া বিদ্যুৎ বিভাগ শুরু করেছে সেগুলোতে মিটার গ্রাহকদেরকেই পাল্টাতে হবে বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের মাত্র দশ দিন সময় দিয়ে এর মধ্যে এনালগ মিটার বাতিল করে ডিজিটাল মিটার প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একজন বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান, আমাদের মিটারে কোন সমস্যা নেই। বিলিং সিস্টেমেও কোন পরিবর্তন আসেনি। তাহলে শুধু শুধু আমি দেড় দুই হাজার টাকা খরচ করে মিটার পাল্টাতে যাবো কেন? সরকারী কোন গেজেটও এই ব্যাপারে প্রকাশ করা হয়নি। কেবল বিদ্যুৎ বিভাগ বাসায় বাসায় যেই বিল পাঠাচ্ছে তার উপর ডিজিটাল মিটার প্রতিস্থাপনের নির্দেশনাটি রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে সীল মেরে দেয়া হয়েছে। এটি কার নির্দেশে করা হচ্ছে বা বিশেষ কোন কোম্পানির সুবিধার জন্য কেউ করছে কিনা সেই সম্পর্কেও সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল একজন প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডিজিটাল মিটারের সুবিধা অনেক। এই মিটারের মাধ্যমে গ্রাহক যেমন তার বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন তেমনি আমরাও নানা তথ্য পেয়ে যাবো। এনালগ মিটার কখনো আবার কখনো ফাস্ট চলে। এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মানুষের আর কোন অভিযোগ থাকবে না। আরো বিভিন্ন সুবিধা থাকার ফলে আমরা বিদ্যমান এনালগ মিটার পাল্টে ডিজিটাল মিটার প্রতিস্থাপন করতে নির্দেশ দিয়েছি। এই প্রক্রিয়ায় চট্টগ্রাম শহরে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকের মিটার পাল্টে ফেলা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবাসিক এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের মিটার গ্রাহককেই পাল্টাতে হবে। তবে শিল্প গ্রাহকদের মিটার বিদ্যুৎ বিভাগ পাল্টে দিচ্ছে। মিটার উৎপাদনকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ডিজিটাল মিটার তৈরী করছে এবং তারা এনালগ মিটার তৈরী বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবি করে উক্ত প্রকৌশলী জানান এক একটি ডিজিটাল মিটারের দাম বারোশ’ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা।

ডিজিটাল পদ্ধতির মিটার সংযোজন করা হলেও বিলিং সিস্টেমে আপাতত কোন পরিবর্তন আসছে না। ডিজিটাল মিটারেই যা বিল আসবে ব্যাংকে গিয়ে সেই বিলই পরিশোধ করতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন