অপ্রতুল লোকবল ও পুরানো যন্ত্রপাতি নিয়ে ধুঁকছে চট্টগ্রাম বেতার ।। আঞ্চলিক পরিচালকসহ ১৩০টি পদই শূন্য, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সমিটার
॥ ফেরদৌস শিপন ॥
আঞ্চলিক পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রধান পদটিসহ বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুমোদিত পদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন যাবত শূন্য। ফলে বর্তমানে কর্মরতদের অতিরিক্ত চাপ সহ্য করে এখানকার নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে আসতে হচ্ছে। শুধু লোকবল সংকটই নয়, এই কার্যালয়ে বিরাজ করছে আরো নানা সমস্যা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পুরাতন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার। দীর্ঘদিন আগে স্থাপিত ট্রান্সমিটার দুর্বল হয়ে যাওয়ার ফলে শ্রোতা মহলে অনুষ্ঠান কার্যক্রম ঠিকভবে পৌঁছে না। আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডস্থ বাংলাদেশ বেতারের চট্টগ্রাম প্রধান কার্যালয়টির অবস্থাও জরাজীর্ণ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে আঞ্চলিক পরিচালকসহ অনুমোদিত ২১৭টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৩০টি পদই শূন্য রয়েছে। এখানকার আঞ্চলিক পরিচালক হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সোহরাব হোসেনকে সংযুক্তির মাধ্যমে ঢাকায় বদলি করা হয় গত ডিসেম্বরে। অপরদিকে এখানকার অনুষ্ঠান শাখায় অনুমোদিত ৯৫টি পদের মধ্যে কাজ করছেন ৩৩ জন। বাকি ৬২টি পদই শূন্য। প্রকৌশল বিভাগে অনুমোদিত ৬৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৪ জন। বাকি ৪৫টি পদই শূন্য। বার্তা বিভাগ শাখায় অনুমোদিত ১০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩ জন। এখানে ৭টি পদই শূন্য রয়েছে। এছাড়াও বেতার আঞ্চলিক শাখার নিজস্ব ৪৩ জন অনুমোদিত শিল্পীর মধ্যে আছেন ২৭ জন। বাকি ১৬টি পদ খালি আছে।
শূন্য পদগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠান শাখায় রয়েছে উপ আঞ্চলিক পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৬টি পদ, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ৭টি, প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ ১টি, উচ্চমান সহকারী ২টি, অনুষ্ঠান সচিব ৬টি, স্টেনো ২টি, অফিস সহকারী ৯টি, হিসাব সহকারী ১টি, মটর চালক ৩টি, স্টুডিও কর্মচারী দুটি, মেশিন অপারেটর ১টি, এমএলএসএস ১৩টি, ফরাশ ৩টি, মালী ৩টি, চৌকিদার ২টি এবং ঝাড়ণ্ডদারের একটি পদ।
প্রকৌশল বিভাগে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬৯টি। তার মধ্যে শূন্য আছে ৪৫টি। গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদগুলো হচ্ছে, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৭টি, উপ-আঞ্চলিক প্রকৌশলী ৭টি, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ৬টি, রেডিও টেকনেশিয়ান ৬টি, ইকুইপমেন্ট এটেন্ডেন্ট পদে একটি, উচ্চমান সহকারী ১টি, অফিস সহকারী ৪ জন, মোটর চালক ১টি, এমএলএসএস ৫টি, ফরাশ ১টি, চৌকিদার ২টি এবং ঝাড়ণ্ডদারের একটি।
বার্তা বিভাগে অনুমোদিত পদসমূহের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ১টি পদ। তৃতীয় শ্রেণীর পদ ১টি এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদের ৫টি পদ শূন্য আছে।
চট্টগ্রাম বেতারের কয়েকজন শ্রোতা অভিযোগ করে বলেন, এই কেন্দ্রের কোন অনুষ্ঠানই ভালোভাবে শোনা যায় না। সূত্র জানায়, ২ বছর আগে বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রান্সমিটার। এছাড়াও কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিটারের আয়ুস্কাল কমে যাওয়ায় সম্প্রচারে ব্যাঘাত ঘটে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হলে মৃতপ্রায় বেতার কেন্দ্রটি যৌবন লাভ করবে। নগরীর আগ্রাবাদ প্রচার ভবনের এফএম ট্রান্সমিটারটিও বদলানো দরকার।
কয়েকজন শ্রোতার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আধুনিক যুগে এসেও পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে খুবই নাজুকভাবে সম্প্রচারিত হচ্ছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিটার স্থাপন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করলে চট্টগ্রাম বেতার আবারো জনপ্রিয় প্রচার কেন্দ্রে পরিণত হবে।
এখানকার আঞ্চলিক প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলামের সাথে এসব প্রসঙ্গে কথা হলে তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম বেতারের প্রধান সমস্যাই হচ্ছে অপ্রতুল লোকবল। এ সংকটের কারণে বর্তমানে কর্মরতদের অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি।
চট্টগ্রাম বেতারের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, আমরা চাই চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান কতো সুন্দর করা যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল সংকটের কারণে এখানে যারা কর্মরত আছে তাদের খুবই কষ্টের মধ্যে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন